১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে নাটকীয় লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করল ইরান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ জি’র ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে দারুণ এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলে ড্র হয়ে, যেখানে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। এর ফলে গ্রুপ 'জি'-এর দুইটি ম্যাচই ড্র হলো, এতে এই গ্রুপের চার দলই সমান ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে।

এদিন লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই ফুটবলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল রাজনীতি। শুরু হয় প্রতিবাদও। অন্যদিকে গ্যালারিতে উড়ছিল নানা পতাকা, জাতীয় সংগীতে শোনা গেছে দুয়ো ও সমর্থনের মিশ্র সুর। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই মাঠে রোমাঞ্চ ছড়াল ইরান ও নিউজিল্যান্ড। দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি ইরান। এলিজাহ জাস্টের জোড়া গোলে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বির গোলে দুবারই ম্যাচে ফিরে আসে ইরান। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ‘জি’র ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে।

ম্যাচের আগে থেকেই নজর ছিল গ্যালারিতে। ইরানি সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় তিন ধরনের পতাকা, ইরানের বর্তমান সরকারি পতাকা, প্রাক-বিপ্লবী ‘সান অ্যান্ড লায়ন’ পতাকা এবং প্রতীকবিহীন সবুজ-সাদা-লাল পতাকা। ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা গেছে গ্যালারির এক পাশে।

ইরানের জাতীয় সংগীত বাজতেই স্টেডিয়ামের এক অংশ থেকে দুয়ো ভেসে আসে। আবার অনেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। মাঠের বাইরে প্রতিবাদ থাকলেও মাঠে ইরান শুরু করে দারুণ উদ্দীপনায়। কিক-অফের পরপরই উচ্চ প্রেসে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে তারা।

কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লম্বা বল ধরে রাখেন ক্রিস উড। এরপর ডান পাশে থাকা এলিজাহ জাস্টকে পাস দেন তিনি। জায়গা বের করে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান জাস্ট। শুরুতে ভালো খেলেও পিছিয়ে পড়ে ইরান।

গোলের পরও ম্যাচের গতি কমেনি অবশ্য। ১২ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে সেটি লক্ষ্যে ছিল না। ১৫ মিনিটে নিউজিল্যান্ড কর্নার পায়। ছোট পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে উড দ্রুত ঘুরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইরানের রক্ষণ সেটি আটকে দেয়।

১৭ মিনিটের পর থেকে ম্যাচ আরও খোলা হয়ে ওঠে। দুই দলই দ্রুত আক্রমণে উঠছিল। ১৯ মিনিটে দূর থেকে শট নেন সারপ্রিত সিং, তবে বেইরানভান্দ সহজেই বল ধরেন। ২৩ মিনিটে ইরান পায় বড় সুযোগ। মাঝপথ দিয়ে উঠে দূরপাল্লার শট নেন তারেমি। ক্রোকম্বকে হারালেও বল ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

২৫ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেক হয়। বিরতির পরও ইরানের চাপ চলতে থাকে। ২৯ মিনিটে তারেমির চাপের মুখে ক্রোকম্ব বল থেকে দূরে সরে যান। সুযোগ দেখে সামান ঘোদ্দোস দূর থেকে ভলিতে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু শট ঠিকমতো জমেনি।

অবশেষে ৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে ইরান। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ড রক্ষণকে চাপে রাখছিল তারা। ঘোদ্দোস সামনে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন, মোগানলু পড়ে যান। কাছেই থাকা রেজাইয়ান দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় ডান পায়ে বল জালে পাঠান। ক্রোকম্বকে ফাঁকি দিয়ে বল যায় নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন হয় ১-১।

ইরানের সমতার পর গ্যালারির এক অংশ থেকে দুয়ো শোনা যায়। তবে একই সঙ্গে ইরানি সমর্থকদের উল্লাসও বাড়তে থাকে। শেষ ১০ মিনিটে তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়।

৩৮ মিনিটে নিউজিল্যান্ড খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে পেছন থেকে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে। ৪৪ মিনিটে ইরানি রক্ষণ কাকাচেকে ফাউল করলে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় নিউজিল্যান্ড। ৪৫ মিনিটে উডের নিচু শট সরাসরি বেইরানভান্দের হাতে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ৪৫+১ মিনিটে দূর থেকে শট নেন ম্যাককোয়াট, তবে সেটি ছিল দুর্বল। ৪৫+৩ মিনিটে লং থ্রো থেকে পেছন ঘুরে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন মোগানলু, বল জালের ওপর দিয়ে যায়। ৪৫+৫ মিনিটে প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল ইরান। প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে হেড করেন নেমাতি। বল জালে গেলেও অফসাইডের পতাকায় থেমে যায় ইরানের উদযাপন।

প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। শুরুতে ইরানের উচ্চ প্রেস, নিউজিল্যান্ডের পাল্টা আঘাত এবং পরে রেজাইয়ানের গোলে ম্যাচ তখনই জমে ওঠে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। ৪৬ মিনিটে তারেমির দিকে পাঠানো লম্বা বল দারুণভাবে ক্লিয়ার করেন ফিন সারম্যান। ৪৭ মিনিটে দূর থেকে শট নেন উড, তবে বল পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৪৯ মিনিটে রেজাইয়ানের কর্নার হেড করে ফেরান সারম্যান। ফিরতি আক্রমণে ঘায়েদির শটও আটকে যায়।

৫১ মিনিটে ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন মোগানলু, কিন্তু বল দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে ইরান। মোগানলুর জায়গায় নামেন আলি আলিপুর।

এর এক মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উডের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন জাস্ট। সামনে এগিয়ে আসা বেইরানভান্দের ওপর দিয়ে তুলে দেন বল। সেটি জালে জড়ালে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল পান জাস্ট, আর নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

গোলের পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও দ্রুত আক্রমণে ফেরে ইরান। ৫৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে হেড নেন তারেমি। ক্রোকম্ব এগিয়ে এসে প্রথম হেড ঠেকান। বল কাছেই থাকা মোহেব্বির দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু আবারও ঝাঁপিয়ে বিপদ দূর করেন নিউজিল্যান্ড গোলরক্ষক। পরে অফসাইডের বাঁশি বাজে।

৬০ মিনিটের পর ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ড তখন বল ছাড়া অপেক্ষা করে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ইরান বারবার চাপ বাড়াতে থাকে। ৬৪ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় তারা। ডান দিক থেকে রেজাইয়ানের ক্রসে দারুণ হেড করেন মোহেব্বি। বল যায় গোলের নিচের বাঁ কোণে। স্কোরলাইন ২-২।

গোলের পর ইরানি সমর্থকেরা আবারও গর্জে ওঠেন। ৬৫ মিনিটে ঘোদ্দোসের জায়গায় এহসান হাজসাফিকে নামায় ইরান। ৬৯ মিনিটে ক্রোকম্বের চিকিৎসার সময় কুলিং ব্রেক হয়। নিউজিল্যান্ডও তখন পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেয়।

শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচে শারীরিক লড়াই বাড়তে থাকে। ৭৫ মিনিটের দিকে ইরান আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল, আর নিউজিল্যান্ড তুলনামূলক ধৈর্য ধরে শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। ৭৮ মিনিটে টিম পেইনের জায়গায় কালান এলিয়টকে নামায় নিউজিল্যান্ড।

৮০ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করেন তারেমি, কিন্তু বল অনেক ওপর দিয়ে যায়। এরপরই তাকে তুলে নিয়ে আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহকে নামায় ইরান।

৮৩ মিনিটে উডের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে আঘাত পান খালিলজাদে। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন এজাতোলাহি, কিন্তু বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়। ৮৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে কার্লিং শট নেন মোহেব্বি, তবে সেটি সরাসরি ক্রোকম্বের হাতে যায়।

৮৯ মিনিটে খারাপ ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন হাজসাফি। একই মিনিটে কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে আসা কর্নারের পর বল বক্সের ডান পাশে পড়ে, কিন্তু শেষ শটটি ঠিকমতো নিতে পারেনি তারা। দ্রুত বল ক্লিয়ার করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড।

যোগ করা সময় ছিল পাঁচ মিনিট। ৯০+৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস পেয়ে বল লক্ষ্যে পাঠানোর চেষ্টা করেন উড। তবে তার চেষ্টা সহজেই ধরে ফেলেন বেইরানভান্দ। ৯০+৪ মিনিটে শেষবারের মতো কর্নার পায় ইরান। বাঁ দিক থেকে উড়ে আসা বলে দূরের পোস্টে হেড করেন একজন ইরানি খেলোয়াড়। বল আবার গোলমুখে ফিরছিল, কিন্তু থমাস পেছনের দিকে হেড করে বিপদ সরিয়ে দেন। আর কোনো ইরানি খেলোয়াড় বল ছুঁতে পারেননি।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে শেষ বাঁশি বাজে। ২-২ ড্র নিয়েই শেষ হয় ইরান-নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর লড়াই।

উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে ফর্মে এগিয়ে ছিল ইরান। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের ফর্ম ছিল জয়-জয়-জয়-হার-ড্র। মালি, গাম্বিয়া ও কোস্টারিকার বিপক্ষে শেষ তিন প্রীতি ম্যাচ জিতেছিল তারা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ফর্ম ছিল হার-হার-হার-হার-ড্র। ২০২৫ সালের জুনে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর আর কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা।

এবার উরুগুয়েকে রুখে দিলো সৌদি আরব

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
এবার উরুগুয়েকে রুখে দিলো সৌদি আরব

গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই দিয়েছিল। এবার লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল সৌদি আরব। সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। তবে উরুগুয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে হার ঠিকই এড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

মিয়ামি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের দাপুটে খেলা ম্যাচে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সৌদি আরব। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে দুই দল।

ম্যাচে ২৭টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখলেও একটির বেশি গোল আদায় করতে পারেনি উরুগুয়ে। অন্যদিকে ৭ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে একটি গোল করে সৌদি আরব।

শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকা দলের জন্য হতাশার এক রাতই গেলো! স্পেনকে রুখে গোলশূন্য দিলো কেপ ভার্দে। মিসরের সঙ্গে ড্র করলো বেলজিয়াম। এবার সৌদি আরব ড্র করলো উরুগুয়ের সাথে।

মিয়ামি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে প্রায় সমানে সমান লড়াই হয়েছে। অবশ্য প্রথম ১০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ ছিল উরুগুয়ের হাতেই। ৩০তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় উরুগুয়ে। তবে ফেদেরিকো ভিনাসের ডাইভিং হেড দারুণ দক্ষতায় হাত দিয়ে ক্রসবারের ওপরে বের করে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল ওয়াইজ।

ম্যাচের ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। কর্নার থেকে চমৎকার বল ভাসিয়ে দেন আল জুয়াইর। বলটি পেছনের পোস্টে থাকা আবদুলহামিদের কাছে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনি শক্তিশালী শট নেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরার দিকে। মুসলেরা প্রথম শটটি ঠেকাতে সক্ষম হলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি।

সুযোগ বুঝে দ্রুত বলের কাছে পৌঁছে যান আল আমরি। রিবাউন্ড থেকে সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে সৌদি আরবকে মূল্যবান লিড এনে দেন তিনি। দুর্দান্ত কর্নার রুটিন এবং আল আমরির ক্ষিপ্রতায় গোল করে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সৌদি আরব।

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই বলতে গেলে খেলেছে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ করেই গেছে। তবে সৌদি গোলরক্ষক আর রক্ষণে বারবার আটকে যাচ্ছিল আক্রমণগুলো।

অবশেষে ৮০ মিনিটে এসে ডেডলক ভাঙেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। প্রথমে ভিনাসের হেড থেকে আসা বল দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস। তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে না পারায় তা গিয়ে পড়ে আরাউহোর সামনে।

সুযোগ হাতছাড়া করেননি এই উইঙ্গার। গোলরক্ষক আল-ওয়াইস তখন অবস্থানের বাইরে থাকায় সহজ একটি টোকায় বল জালে পাঠিয়ে দেন আরাউহো।দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে সৌদি রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম হয় উরুগুয়ে।

জয় তুলে নিতে এরপর আরও আক্রমণের চেষ্টা করেছে উরুগুয়ে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একবার নিজের দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন সৌদি আরবের গোলরক্ষক আল-ওয়াইস। এবার তিনি গোলবঞ্চিত করেন উরুগুয়ের মিডফিল্ড তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দেকে।

শেষ মুহূর্তে প্রায় ম্যাচ জিতিয়েই দিচ্ছিলেন ভালভার্দে। দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শটটি নিচের ডান কোণে ঢুকে যাচ্ছিল বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ডাইভ দিয়ে বলের নাগাল পান আল-ওয়াইস। এক হাতের স্পর্শে বলটিকে পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন তিনি, ফলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায়ই শেষ হয় ম্যাচ।

প্রথমার্ধে উরুগুয়ের বিপক্ষে ০-১ গোলে এগিয়ে সৌদি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
প্রথমার্ধে উরুগুয়ের বিপক্ষে ০-১ গোলে এগিয়ে সৌদি

উরুগুয়ের জালে বল পাঠিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করলো সৌদি আরব। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আল আমরি।

কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে শক্তিশালী হেড করেছিলেন হাসান আল তামবাকতি। তবে সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা।

তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে গেলে সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি আল–আমরি। কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান সৌদি সমর্থকদের।

গোলটি উরুগুয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের ভুলেরই মাশুল। ম্যাচজুড়ে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি স্টেডিয়ামে পয়েন্ট বাগিয়ে নেয়ার মিশনে নেমেছে দুই দল। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিলো সৌদি।

মাঠে নামার আগেই সৌদি কোচ বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার মতো করেই এবার তারা উরুগুয়েকে হারাতে চান। সৌদির খেলার প্রথমার্ধে অন্তত সেই আভাষই পাওয়া গেলো।

বিশ্বকাপের গ্রুপ এইচের লড়াই জমে উঠেছে। স্পেনকে রুখে দিয়ে ১ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়েছে উরুগুয়ে। শীর্ষে থাকার লড়াইয়ে দুদলই চাচ্ছে এগিয়ে থাকতে।

মিশরের সাথে আত্মঘাতী গোলে ড্র করল বেলজিয়াম!

আজ যেন এক রূপকথার লড়াই দেখছে ফুটবল বিশ্ব। পরপর দুইটা ম্যাচই ড্র। কেপ ভার্দে লড়াই করে স্পেনকে রুখলেও মিশর যেনো জয় পেলো না নিয়তির খেলায়। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সময়তায় শেষ হয় মিশর-বেলজিয়ামের মহারণ!
প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
মিশরের সাথে আত্মঘাতী গোলে ড্র করল বেলজিয়াম!

ম্যাচের বড় একটা সময় দাপট দেখিয়েও গোল পাচ্ছিল না বেলজিয়াম, কিন্তু বদলি হিসেবে রোমেলু লুকাকু মাঠে নামতেই বদলে গেল সমীকরণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই কেভিন ডি ব্রুইনদের আক্রমণাত্মক ফুটবলে কাঁপছিল মিশর। তবে স্রোতের বিপরীতে ২০ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর জাদুকরী এক অ্যাসিস্ট থেকে ইমাম আশওয়ারের বুলেট গতির শট বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেয়। গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া ঝাপিয়ে পড়লেও বলের গতিপথ রুখতে পারেননি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল আশওয়ারের ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম মরিয়া হয়ে উঠলেও বারবার বাধা পাচ্ছিল মিশরের জমাট রক্ষণে। দ্বিতীয়ার্ধে ডি ব্রুইনের একটি দারুণ ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে এলে বেলজিয়ামের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ। মনে হচ্ছিল, সালাহদের কাছেই হয়তো হার মানতে হচ্ছে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কোচ রুডি গার্সিয়া তুরুপের তাস হিসেবে মাঠে নামান রোমেলু লুকাকুকে। আর লুকাকু নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভাগ্য মুখ তুলে তাকালো বেলজিয়ামের দিকে। মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি ক্রস থেকে বল পেয়ে লুকাকু যখন শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন মিশরের মোহাম্মদ হানি। আর আত্মঘাতী গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়লো বেলজিয়াম।

বিশ্বকাপ না জিতেও জার্সিতে সাত তারকা, মিশরকে সতর্ক করল ফিফা

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
বিশ্বকাপ না জিতেও জার্সিতে সাত তারকা, মিশরকে সতর্ক করল ফিফা

কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি, কিন্তু জার্সিতে রয়েছে সাত তারকা। আর তাতেই মিশর ফুটবল দলকে সতর্ক করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। জানিয়েছে, সাত তারকা সম্বলিত জার্সি পরে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবে না মিশর। খবর ইএসপিএনের।

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে সাতবার জয়ী হয়েছে মিশর। তাই মিশরের জার্সিতে সাত তারকা রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতেই এ নিয়ে মিশরকে সতর্ক করে দেয় ফিফা। এমনকি ফিফার গাইডলাইন মেনে পুমাকে ডিজাইনে পরিবর্তন আনতেও বলা হয়।

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মিডিয়া কর্মকর্তা মোহামেদ মোরাদ ছাবেত বলেন, এটি ছিল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। চার মাস আগে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে জাতীয় দলের জার্সিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের তারকা চিহ্ন প্রদর্শন না করার বিষয়টি নিয়ে ফিফা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করেছিল।

তিনি বলেন, এটি ছিল শুধু একটি নোটিফিকেশন, অর্থাৎ একটি নিয়মিত আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ মাত্র। জাতীয় দল আগে থেকেই বিষয়টি অনুমান করেছিল এবং অনেক আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল।

সাধারণত, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য স্মরণে জার্সিতে তারকা যুক্ত করার বিষয়টি জাতীয় দলগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন এ সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলোকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।

তবে বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে, ফিফা জোর দিয়ে বলে যে জাতীয় দলের জার্সিতে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবেই তারকা ব্যবহার করা যাবে।

এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো উরুগুয়ে। দেশটি তাদের জার্সিতে চারটি তারকা ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছে—এর মধ্যে দুটি ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য, আর বাকি দুটি ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ের জন্য। ওই দুটি অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতাও ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়েছিল।

২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে মিশর। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে তারা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, কারণ প্রথম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচই হেরেছিল। এর আগে তারা ১৯৩৪ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।

সিয়াটলে সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশরের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ছয় দিন পর ভ্যানকুভারে তারা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘জি’-তে সিয়াটলেই নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামবে মিশর।

মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
মরক্কোর গতি বনাম ব্রাজিলের সাম্বা; বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল দুই পরাশক্তি

মাঠের তুমুল লড়াই আর রোমাঞ্চকর ফুটবলের পর শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে অমীমাংসিত রইল ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। প্রথমার্ধেই দুই দল জালের দেখা পেলেও ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাতিন আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার এই দুই পরাশক্তিকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে খেলতে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। বিশেষ করে প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে তাদের আক্রমণাত্মক ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। এই সময়ের মধ্যে মরক্কোর আক্রমণভাগ ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দুটি বিপজ্জনক শট নিলেও ব্রাজিলিয়ানরা পাল্টা কোনো জোরালো আক্রমণ করতে পারেনি।

শুরুর সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ব্রাজিল যখনই নিজেদের চিরচেনা গোছানো ফুটবল খেলা শুরু করে, ঠিক তখনই উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার থ্রু পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি। সামনে থাকা ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়া ব্রাজিলের ত্রাণকর্তা হিসেবে তখন আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেলেসাওদের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলতে নামা এই তারকা ৩২ মিনিটে একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে ভিনিসিয়ুস যেভাবে গোল করতে অভ্যস্ত, আজ যেন ঠিক সেই চেনা রূপেরই প্রতিফলন দেখা গেল বিশ্বমঞ্চে।

ভিনিসিয়ুসের এই জাদুকরী গোলের পর ম্যাচে সমতা ফিরলেও পরবর্তী সময়ে দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।