১৪ অক্টোবর ২০২৬

পিটিআই ঠেকাতে ইসলামাবাদ এখন ‘কনটেইনারাবাদ’

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
পিটিআই ঠেকাতে ইসলামাবাদ এখন ‘কনটেইনারাবাদ’

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন সাধারণ কোনো শহর নয়, সাধারণ মানুষের ভাষায় এর নতুন নাম দাঁড়িয়েছে ‘কন্টেইনারাবাদ’। রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও বিরোধী দলের দীর্ঘযাত্রা (লং মার্চ) ঠেকাতে সরকারের বসানো হাজার হাজার ভারী শিপিং কন্টেইনারের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো রাজধানী। এতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর প্রতিদিন কোটি কোটি রুপির আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

পরিবহন সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসলামাবাদের সড়ক অবরোধে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ভারী কনটেইনার ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর অনেকগুলোই ব্যক্তিমালিকানাধীন ট্রাক ও কনটেইনার। আবার কিছু কনটেইনার বিদেশি শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের সড়কে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ভারী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। প্রায় চার টন ওজনের এসব কনটেইনারের কিছুতে বালু ভরে ভারী করা হয়েছে, যাতে সহজে সরানো না যায়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে এমন পরিস্থিতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেইনারে ঘেরা ইসলামাবাদকে অনেকে ‘কনটেইনারাবাদ’ নামেও অভিহিত করছেন।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিকল্পিত ইসলামাবাদমুখী মিছিলকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। দলটি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও পরে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করে। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিও দলটির কর্মসূচির অন্যতম বিষয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির তারিখ বিবেচনায় নিয়ে নয়, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে এই নিরাপত্তাব্যবস্থার অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

উত্তরমুখী ট্রাক চলাচল বন্ধ

কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহন খাতে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে কর্তৃপক্ষ ২ হাজারের বেশি যানবাহন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসব গাড়ির অনেকগুলোতেই তখন পণ্য ছিল।

এতে ট্রাকচালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ বা পাঞ্জাবের দিকে গেলে তাদের গাড়ি ও কনটেইনারও জব্দ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চালক উত্তরমুখী যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, জেহলাম, পেশোয়ার ও অ্যাটকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এর প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো পরিবহনকারী বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রা থামিয়ে দিচ্ছেন। এতে ট্রাকচালকদের আয় কমার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে।

দিনের পর দিন ট্রাক আটকে থাকায় চালকদের স্বাভাবিক আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে মালিকদের। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও।

করাচি বন্দরে জমছে কনটেইনার

রাজধানীর সড়ক অবরোধের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে করাচি বন্দরে। ইসলামাবাদমুখী পথে কনটেইনার জব্দ হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাকচালকদের একটি অংশ উত্তর দিকে যাওয়া বন্ধ রাখায় বন্দরে পণ্যবোঝাই কনটেইনারের জট তৈরি হচ্ছে।

এর ফলে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহনকারীদের ব্যয়ও বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জব্দ থাকা একটি কনটেইনারের জন্য প্রতিদিন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত ডেমারেজ দিতে হতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে না পারার ক্ষতি এবং ট্রাক অলস পড়ে থাকার ব্যয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত পরিবহন ব্যবসা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর গিয়ে পড়ছে।

বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ের চাপ

পাকিস্তানের পরিবহন খাত এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে রয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে পরিবহন মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ রুটে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিবহনকারীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। চালকদের আয় কমার পাশাপাশি অলস ট্রাকের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে গাড়ির মালিকদের। পণ্য পরিবহনে বিলম্বের কারণে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

শুধু পরিবহন নয়, ক্ষতি নগর অর্থনীতিতেও

অর্থনীতি ও নগর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর এই অচলাবস্থার ক্ষতি কেবল কন্টেইনার ভাড়া বা সরাসরি পরিবহন খাতের লোকসানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজধানীর ব্যবসা, পর্যটন ও বিনিয়োগ পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ে।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, একটি দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র দীর্ঘদিন অচল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও সার্বিক বাজার ব্যবস্থার ওপর তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি মিলে পাকিস্তানের অন্যতম বড় মহানগর অঞ্চল। নগরবিষয়ক গবেষক ড্যানিয়াল আদম খানের মতে, রাজধানীর যোগাযোগ ও ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হলে এর প্রভাব দেশের অন্য অঞ্চলগুলোর সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে কনটেইনারগুলো এখন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ঠেকানোর ব্যারিকেড নয়, রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনেরও অংশ হয়ে উঠেছে। তরুণ পার্কুর ও ক্যালিসথেনিকস খেলোয়াড় মুজাদ্দাদ আসরার সেসব কনটেইনারের ওপর কসরতের ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, প্রতিবছরই কোনো না কোনো সময় ইসলামাবাদে কনটেইনার আসে—এ কারণেই অনেকে মজা করে রাজধানীটিকে এখন ‘কনটেইনারাবাদ’ বলে ডাকছেন।

তবে কনটেইনারের ওপর কসরত করা তরুণদের কাছে এটি নিছক বিনোদন হলেও, সেগুলোর পাশে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা ট্রাকচালকদের কাছে এটি জীবিকা ও অনিশ্চয়তার গল্প।

সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ!

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং যাত্রার নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

এর আগে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করার কথা ছিল।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটটির যাত্রার নতুন সময়সূচি ও এই সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা নাগাদ জানিয়ে দেওয়া হবে।

রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট নিয়ে সর্বশেষ আপডেট

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট নিয়ে সর্বশেষ আপডেট

বিমান জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইট দুটি সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে আগামীকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা নাগাদ পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানোর কারণে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট দুটি হলো ঢাকা-রিয়াদগামী বিজি-৫৩৯ এবং ঢাকা-দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা আগামী ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা (২১:০০ UTC) পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিজি-৫৩৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়।

বিমান জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইট দুটি সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে আগামীকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা নাগাদ পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

ফ্লাইট দুটি স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

জ্বালানি সংকট কাটাতে কাতার ও সৌদি আরবের কাছে যে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
জ্বালানি সংকট কাটাতে কাতার ও সৌদি আরবের কাছে যে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তরের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে সৌদি আরবের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগে রিয়াদ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম আসরের ফাঁকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবের বিদ্যুৎ-বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

একই ফোরামে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে, যা বর্তমান সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রতি বিদেশি আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করতে এবং দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গেও কৌশলগত বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।

বৈঠকে কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি উৎস বহুমুখী করে দেশের জ্বালানি সংকট চিরতরে দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের বর্বরোচিত হামলায় হতাহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

বিমানবন্দরে হামলাস্থলে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। এদের একজন ছিলেন ওমরাহ যাত্রী। অন্যজন চাকরি করতেন রিয়াদে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি।

সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকায়ও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। এতে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন দেশে।

ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আটকা পড়াদের অনেকেরই সৌদি আরবে প্রবেশের সময়সীমা শেষের দিকে থাকায় তৈরি হয়েছে তাদের কাজের অনিশ্চয়তা। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২টি, ইউএস-বাংলার ১টি, সৌদিয়ার ৩টি, রিয়াদ এয়ারের ২টি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ দুপুর ১২টায় পরবর্তী ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করবে।

শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বাতিল করা হয় তিন শতাধিক ফ্লাইট। এ ছাড়াও হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও বগুড়ার শাহজাহানপুরে মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম।

গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।

ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড, অনিশ্চয়তায় ৩ হাজার বাংলাদেশি :

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে ফ্লাইট শিডিউল।

গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। কারও গন্তব্য কর্মস্থল, কারও ফেরার কথা পরিবারের কাছে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবার যাত্রাই আটকে গেছে অনিশ্চয়তায়।

গতকাল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দেখা যায়, রিয়াদগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব প্রবাসীর অনেকেই জানেন না, কবে আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, কিংবা টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফ্লাইট বাতিলের পর বিকল্প যাত্রার নিশ্চয়তা না পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বিদেশে কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার আশঙ্কার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচের চাপ।

বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে রিয়াদ প্রবাসী শাহ আলম বলেন, রিয়াদে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কেটে আগস্টে দেশে এসেছিলাম। রবিবার দুপুরে আমার ফ্লাইট ছিল। এখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। দেশের বাড়ি কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার কাজ আছে, সময়মতো ফিরতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে।

যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ফ্লাইটের সময়সূচি আজ দুপুরে জানাবে বিমান :

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পুনর্র্নির্ধারণের সময়সূচি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা ১১ অক্টোবর ইউটিসি ২১টা পর্যন্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকা রিয়াদ ও রিয়াদ ঢাকা রুটের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট এবং সময়সূচি সম্পর্কে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সবাইকে অবহিত করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা :

বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের বিস্তারিত তথ্য পেতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এ ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানানোর পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাধান বের করার আহ্বান আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় মারা যান তিনি। মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর পুত্র।

চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রবিউল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার পিতা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ 'ইসলামিয়া আরাবিয়া ফয়জুল উলুম সিঙ্গরিয়া মাদ্রাসা'র মুহতামিম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বদরপুরে তাদের গ্রামের বাড়িটি 'ওলামা বাড়ি' হিসেবে পরিচিত। মারা যাওয়া মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক।

নিহত নাসরুল্লাহর ভাই আতিকুল্লাহ জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বিমানে বসেই তিনি ইহরাম পরিহিত ছবি শেয়ার করে অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন।

রিয়াদ বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে একটি পোস্টে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ জানিয়ে সফর যেন নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার পথে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আকস্মিক হামলায় তিনি প্রাণ হারান।