১৪ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন।

তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুবরাজ নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন। রিয়াদে একের পর এক হামলায় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের সর্বশেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল মঙ্গলবার। সেদিন তিনি একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করেন।

শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালাও ছিলেন। হামলায় তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারও হামলা অব্যাহত ছিল। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া যায়। এতে টার্মিনাল ৪-এ আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। শহরের আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আকাশে প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেসামরিক স্থাপনা যে ঝুঁকিমুক্ত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকায় রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিও চাপে পড়েছে। পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওমের মতো ভবিষ্যৎনির্ভর নগর প্রকল্প এবং রিয়াদে একাধিক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে সৌদি আরব। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হুমকি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। হামলার কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হয়েছে অথবা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপদেষ্টা দিলেও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি সহায়তার সৌদি অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। বিমানবন্দরে হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে, তা খুবই খারাপ।’

এদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছেও সহায়তা চেয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানও খতিয়ে দেখছে দেশটি।

সব মিলিয়ে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানো, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সূত্র: ওয়াইনেট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল সৌদি আরব

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল সৌদি আরব

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই বিষয়ে রিয়াদের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও সৌদি আরব তা নাকচ করে দিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদ প্রিন্স ইসরায়েলের এই সামরিক সহায়তায় কোনো আগ্রহ দেখাননি। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন যে, ইসরায়েলের এমন সামরিক সহযোগিতা সৌদি জনগণের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।ঘড়ি কিনুন

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চেয়েছিল ইসরায়েল যা ভবিষ্যতে দুদেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম করতে পারত।

তবে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। রিয়াদ শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে আসছে যে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা ও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানোর প্রেক্ষাপটে এই তথ্য সামনে এসেছে।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। পরদিন রবিবারে একই বিমানবন্দরে সংঘটিত আরেকটি হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে সৌদি সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর অঞ্চলটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও গত জুলাই মাস থেকে সংঘাত পুনরায় চরম রূপ নেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নিলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে পুনর্দখলে সহায়তা করতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজন্সি

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন।

তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুবরাজ নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন। রিয়াদে একের পর এক হামলায় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের সর্বশেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল মঙ্গলবার। সেদিন তিনি একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করেন।

শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালাও ছিলেন। হামলায় তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারও হামলা অব্যাহত ছিল। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া যায়। এতে টার্মিনাল ৪-এ আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। শহরের আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আকাশে প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেসামরিক স্থাপনা যে ঝুঁকিমুক্ত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকায় রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিও চাপে পড়েছে। পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওমের মতো ভবিষ্যৎনির্ভর নগর প্রকল্প এবং রিয়াদে একাধিক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে সৌদি আরব। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হুমকি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। হামলার কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হয়েছে অথবা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপদেষ্টা দিলেও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি সহায়তার সৌদি অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। বিমানবন্দরে হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে, তা খুবই খারাপ।’

এদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছেও সহায়তা চেয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানও খতিয়ে দেখছে দেশটি।

সব মিলিয়ে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানো, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সূত্র: ওয়াইনেট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল রিয়াদ ও বিমানঘাঁটি: ফ্লাইট স্থগিত করল ইত্তিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল রিয়াদ ও বিমানঘাঁটি: ফ্লাইট স্থগিত করল ইত্তিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ

ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ কেঁপে উঠেছে এবং আকাশসীমায় নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় ইত্তিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের প্রধান প্রধান শহরে তাদের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবারে স্থানীয় সময়ে রাতে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করে। রিয়াদে অবস্থানরত এক পশ্চিমা কর্মকর্তা পুরো শহরজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির কারণে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কাতার এয়ারওয়েজও রিয়াদ ও দাম্মামগামী তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইয়েমেন যুদ্ধের এই ভয়াবহ বিস্তৃতি সৌদি আরবের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য ইরান বিরোধিতার মধ্য দিয়ে আরও উসকে উঠেছে।

একই সময়ে ইসলামি রেভল্যুশারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা একটি সুপারট্যাংকরে আঘাত হেনেছে, যা দুই দিনের ব্যবধানে জলযানে তৃতীয় হামলার ঘটনা।

হুথিদের ‘সমান কঠোর’ জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদির মন্ত্রীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
হুথিদের ‘সমান কঠোর’ জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদির মন্ত্রীর

সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান।

রিয়াদে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল (ডব্লিউপিসি) এনার্জি কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। ফলে আমাদের জবাবও সমানভাবে কঠোর হতে হবে।’

সৌদি সরকারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এর আগের দিন শনিবার বিমানবন্দরটির অন্য একটি টার্মিনালে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হন এবং ওই টার্মিনালটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়।

এদিকে হুথিদের দাবি, পশ্চিম ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাব হিসেবেই তারা সৌদি ভূখণ্ডে এসব পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। অপরদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার রাজধানী সানায় একটি আবাসিক ভবনে সৌদি বিমান হামলায় এক শিশু নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দীর্ঘদিন ধরে বিমান সহায়তা দিয়ে আসছে।

২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি জোট সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

রিয়াদ বিমানবন্দর আরো ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখার ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দর আরো ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখার ঘোষণা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা যাচাই এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানবন্দরটি কবে চালু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ কারণে কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে সাম্প্রতিক হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের আকাশপথে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। জেদ্দা, মদিনা ও দাম্মামগামী এবং এসব শহর থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটও এর প্রভাবে পড়েছে।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, সোমবার পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে চলাচলের কথা থাকা ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে অবতরণের কথা থাকা বহু ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হয়েছে।

এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৭৪টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার ও দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, আল আরাবিয়া