১৪ অক্টোবর ২০২৬
সিএনএন এক্সপ্লেইনার

হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল সৌদি আরব। কিন্তু সেই পরিকল্পনাতেই এখন বড় ধাক্কা দিচ্ছে ইয়েমেনের নতুন সংঘাত। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে জোটে ফাটল, হুতিদের মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত অবস্থান রিয়াদকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বড় ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইয়েমেন থেকে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই পরিকল্পনার জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রায় ১১ বছর ধরে ইয়েমেনের সংঘাত সামরিক অভিযান ও কূটনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। ইরানের মিত্র হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে রিয়াদ তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যায় এবং তেহরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর চলতি গ্রীষ্মে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত মাসে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের ধারাবাহিক কিছু ভুল হিসাব-নিকাশ বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইয়েমেনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বছরের শেষ দিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে ফাটল দেখা দেয়। পাশাপাশি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র কতটা পাশে থাকবে, তা নিয়েও রিয়াদের মূল্যায়নে ভুল ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

ইউএইর সঙ্গে জোটে ফাটল

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো সামরিক যানবহরে গত বছর সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলার পর দুই দেশের প্রায় এক দশকের পুরোনো জোটে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। একসময় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইউএই ইয়েমেনে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর আবুধাবি তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর ফলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউএইর সেনা সরে যাওয়ার পর যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি রিয়াদ। আবুধাবির অধীনে দীর্ঘদিন লড়াই করা হাজারো যোদ্ধাও সৌদির নতুন কৌশলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইউএইর সেনারা চলে যাওয়ার সময় দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএইর বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছিল দক্ষ; কিন্তু সৌদি আরব তার কার্যকর বিকল্প গড়ে তুলতে পারেনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ এবং লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলজুড়ে অভিযান শুরু করে তারা। কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২০২২ সালের পর এটিই ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও পাইপলাইনে হামলা চালায়। এতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনীও হুতিদের লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি সিএনএনকে বলেন, হুতিদের আকস্মিক হামলার জন্য সৌদি আরব প্রস্তুত ছিল না। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গেও যথাযথ সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, কয়েকটি অঞ্চল হারানোর কারণে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের হাতে এখন এমন উন্নত অস্ত্র রয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার খেসারত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভর করে আসাও সৌদি আরবের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা পাওয়ার পরও নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়েছে রিয়াদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গত মাসে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলেন। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বরং ওয়াশিংটন ওমানে হুতিদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করে।

হুতিরাও স্পষ্ট করে জানায়, তাদের মূল লড়াই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এর ফলে লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজগুলো বাধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ পায়।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, সৌদি সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বকে ভিত্তি করে নিজেদের সামরিক কৌশল সাজিয়েছে। ফলে এককভাবে যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

বিকল্প মিত্র খুঁজছে সৌদি

পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন অন্য দেশগুলোর সহযোগিতাও চাইছে রিয়াদ। গত মাসে সৌদি যুবরাজ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেন। পরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে ফ্রান্স সৌদি আরবে সামরিক কর্মী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য উড়োজাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদি আরবে কাজ করছেন।

রিয়াদে জরুরি বৈঠকের পর গত সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়। এ বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো।

অন্যদিকে ইউএই-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুতিবিরোধী অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামরিক সাফল্য কি আনবে স্থায়ী সমাধান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দেশগুলোর সামরিক সহায়তা কিংবা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সাময়িক সাফল্য দিয়ে ইয়েমেন সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো বড় বাধা। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিণতিও এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিশাম আল-ওমাইসি সিএনএনকে বলেন, জোটের বিভিন্ন অংশের কমান্ড সেন্টারগুলোকে একীভূত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধও মেটাতে হবে। তাঁর মতে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করা অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে সামরিক অর্জনগুলো শেষ পর্যন্ত অর্থহীন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবকে চাপে রাখতে হুতিদের সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ ইরানের আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলাদা কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে পারে। অন্যদিকে হুতি নেতৃত্বকে দুর্বল করতে সামরিক অভিযানও আরও জোরদার হতে পারে। তবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, নিকট ভবিষ্যতে এই দুই পথের কোনোটিই ইয়েমেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে না।

ফলে সৌদি আরবের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—নিজেদের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে ইয়েমেনের নতুন যুদ্ধের মোকাবিলা করবে রিয়াদ। মিত্রদের বিভক্তি, হুতিদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত ভূমিকার মধ্যে সৌদি আরবকে আপাতত আরও জটিল ও অনিশ্চিত পথেই এগোতে হচ্ছে।

সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ!

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং যাত্রার নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

এর আগে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করার কথা ছিল।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটটির যাত্রার নতুন সময়সূচি ও এই সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা নাগাদ জানিয়ে দেওয়া হবে।

রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট নিয়ে সর্বশেষ আপডেট

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট নিয়ে সর্বশেষ আপডেট

বিমান জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইট দুটি সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে আগামীকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা নাগাদ পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানোর কারণে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট দুটি হলো ঢাকা-রিয়াদগামী বিজি-৫৩৯ এবং ঢাকা-দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা আগামী ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা (২১:০০ UTC) পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিজি-৫৩৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়।

বিমান জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ফ্লাইট দুটি সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে আগামীকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা নাগাদ পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।

ফ্লাইট দুটি স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

জ্বালানি সংকট কাটাতে কাতার ও সৌদি আরবের কাছে যে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
জ্বালানি সংকট কাটাতে কাতার ও সৌদি আরবের কাছে যে সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তরের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে সৌদি আরবের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগে রিয়াদ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম আসরের ফাঁকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবের বিদ্যুৎ-বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

একই ফোরামে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে, যা বর্তমান সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রতি বিদেশি আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করতে এবং দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গেও কৌশলগত বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।

বৈঠকে কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি উৎস বহুমুখী করে দেশের জ্বালানি সংকট চিরতরে দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের বর্বরোচিত হামলায় হতাহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

বিমানবন্দরে হামলাস্থলে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। এদের একজন ছিলেন ওমরাহ যাত্রী। অন্যজন চাকরি করতেন রিয়াদে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি।

সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকায়ও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। এতে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন দেশে।

ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আটকা পড়াদের অনেকেরই সৌদি আরবে প্রবেশের সময়সীমা শেষের দিকে থাকায় তৈরি হয়েছে তাদের কাজের অনিশ্চয়তা। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২টি, ইউএস-বাংলার ১টি, সৌদিয়ার ৩টি, রিয়াদ এয়ারের ২টি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ দুপুর ১২টায় পরবর্তী ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করবে।

শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বাতিল করা হয় তিন শতাধিক ফ্লাইট। এ ছাড়াও হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও বগুড়ার শাহজাহানপুরে মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম।

গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।

ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড, অনিশ্চয়তায় ৩ হাজার বাংলাদেশি :

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে ফ্লাইট শিডিউল।

গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। কারও গন্তব্য কর্মস্থল, কারও ফেরার কথা পরিবারের কাছে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবার যাত্রাই আটকে গেছে অনিশ্চয়তায়।

গতকাল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দেখা যায়, রিয়াদগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব প্রবাসীর অনেকেই জানেন না, কবে আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, কিংবা টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফ্লাইট বাতিলের পর বিকল্প যাত্রার নিশ্চয়তা না পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বিদেশে কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার আশঙ্কার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচের চাপ।

বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে রিয়াদ প্রবাসী শাহ আলম বলেন, রিয়াদে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কেটে আগস্টে দেশে এসেছিলাম। রবিবার দুপুরে আমার ফ্লাইট ছিল। এখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। দেশের বাড়ি কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার কাজ আছে, সময়মতো ফিরতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে।

যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ফ্লাইটের সময়সূচি আজ দুপুরে জানাবে বিমান :

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পুনর্র্নির্ধারণের সময়সূচি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা ১১ অক্টোবর ইউটিসি ২১টা পর্যন্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকা রিয়াদ ও রিয়াদ ঢাকা রুটের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট এবং সময়সূচি সম্পর্কে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সবাইকে অবহিত করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা :

বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের বিস্তারিত তথ্য পেতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এ ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানানোর পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাধান বের করার আহ্বান আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় মারা যান তিনি। মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর পুত্র।

চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রবিউল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার পিতা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ 'ইসলামিয়া আরাবিয়া ফয়জুল উলুম সিঙ্গরিয়া মাদ্রাসা'র মুহতামিম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বদরপুরে তাদের গ্রামের বাড়িটি 'ওলামা বাড়ি' হিসেবে পরিচিত। মারা যাওয়া মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরী দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক।

নিহত নাসরুল্লাহর ভাই আতিকুল্লাহ জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বিমানে বসেই তিনি ইহরাম পরিহিত ছবি শেয়ার করে অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন।

রিয়াদ বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে একটি পোস্টে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ জানিয়ে সফর যেন নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার পথে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আকস্মিক হামলায় তিনি প্রাণ হারান।