২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

প্রকাশ: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে নতুন পথে হাঁটছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে ১০ বছরের আবাসিক ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ ঘোষিত এই কর্মসূচি কাদের জন্য, কীভাবে আবেদন করা যাবে এবং কারা সুবিধা পাবেন— সবকিছুই স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ্য করে দেশটি ১০ বছরের আবাসিক ভিসা কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘ওয়েব সামিট কাতার ২০২৬’–এ এই ঘোষণা দেয়া হয়।


কারা আবেদন করতে পারবেন

এই কর্মসূচি কেবল দুই শ্রেণির জন্য। তারা হলেন— উদ্যোক্তা এবং শীর্ষ নির্বাহী। সাধারণ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার কিংবা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।


উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা

উদ্যোক্তাদের এমন উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন বা উদ্ভাবননির্ভর ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে, যা কাতারের বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এই ক্যাটাগরিতে যোগ্যতা অর্জন করতে হলে কাতার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক (কিউএসটিপি)–এর মতো স্বীকৃত কাতারি ব্যবসা ইনকিউবেটরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে।

এছাড়া আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে গত তিন মাস ধরে ন্যূনতম ৩৬ হাজার ৫০০ কাতারি রিয়াল (প্রায় ১০ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখেরও বেশি টাকা) ব্যালান্স থাকা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এটি বিনিয়োগের বিকল্প নয়; বরং মৌলিক আর্থিক সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্যই নির্ধারিত।

শীর্ষ নির্বাহী

এই ক্যাটাগরিতে চেয়ারম্যান, সিইও, সিএফও, সিওও, সিটিও এবং নির্বাহী পরিচালকরা অন্তর্ভুক্ত। আবেদনকারীর কাতারের ভেতরে বা বাইরে যেকোনও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ বছরের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে বৈধ স্থানীয় চাকরির চুক্তি বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নির্বাহীরা আবেদন করতে পারবেন, সেগুলো হলো— কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংক বা কাতার ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস অথরিটি নিয়ন্ত্রিত বীমা কোম্পানি এবং সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা, আর্থিক, আইনি বা হিসাবসেবা দেয়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

এই ভিসার বেতনসীমাও বেশি। চেয়ারম্যান ও সি-সুইট পদে ন্যূনতম মাসিক আয় হতে হবে ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ১৭ লাখ টাকা)। অন্য নির্বাহী পরিচালক পদে এই সীমা বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ হাজার রিয়াল (প্রায় ২২ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা)।

কীভাবে আবেদন করবেন

কর্মসূচিটি বর্তমানে চালুর পর্যায়ে রয়েছে। অবশ্য কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে তার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইনভেস্ট কাতার–এর মাধ্যমে যোগ্যতার শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতারের বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক ভিসার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির চুক্তি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ পেশাগত ও আর্থিক নথি প্রস্তুতের মতো বিষয় থাকতে পারে।

উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ইনকিউবেটর বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন লাগবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Hukoomi পোর্টাল, ‘Start from Qatar’ বা Jusoor (Qatar Manpower Solutions & Co.) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। কারণ এখানে মেডিকেল পরীক্ষা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও যাচাই করা হয়ে থাকে। বিদ্যমান পাঁচ বছরের ভিসাধারীরা নতুন ১০ বছরের ভিসায় আপগ্রেড করতে পারবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

অন্য কোনও বিকল্প আছে?

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতারে আবাসিক ভিসার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে। অনুমোদিত ফ্রি-হোল্ড আবাসিক এলাকায় ৭ লাখ ৩০ হাজার কাতারি রিয়াল (প্রায় ২ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা) বিনিয়োগ করলে স্পনসর ছাড়াই নবায়নযোগ্য আবাসিক ভিসা পাওয়া যায়।

আর ৩৬ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল (প্রায় ১০ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ২৪ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট কোটা সাপেক্ষে স্থায়ী আবাসনের আবেদন করা যায়।

স্থায়ী বসবাসকারীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুবিধাও থাকে। নতুন উদ্যোক্তা ও নির্বাহী ভিসার থেকে এটি আলাদা হলেও কাতারের সামগ্রিক দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক কৌশলের অংশ।

কাতারে পশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন কঠোর আইন চালু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে পশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন কঠোর আইন চালু

কাতারে প্রাণী সম্পদের সুরক্ষা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কঠোর বিধান যুক্ত করে নতুন আইন জারি করা হয়েছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের অফিশিয়াল গেজেটের ১৭তম সংখ্যা প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে জারি করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১২ নম্বর ‘পশু স্বাস্থ্য আইন’ (Law No. 12 of 2026)। এই আইনে পশুপালনের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, খামারি বা পশুর মালিক এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে মোট ৪৯টি সংক্রামক, মহামারী ও জুনোটিক (প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে এমন) রোগের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের জন্য জেল ও লাখ লাখ রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব: আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পশুর রোগ নির্ণয়ে রোগতাত্ত্বিক নজরদারি (epidemiological surveillance) পরিচালনা করবে। এছাড়া পশুর রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদানের তালিকা প্রণয়ন, পশুর গায়ে ট্যাগ লাগানোর জন্য ডেটাবেজ তৈরি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

২. পশুর মালিকদের দায়িত্ব ও সতর্কতা:

  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ: কোনো পশুর শরীরে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে মালিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হবে এবং পশুকে পরীক্ষার জন্য ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

  • সংক্রমিত পশু আলাদা রাখা: সংক্রামক বা মহামারী রোগে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন পশুকে মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্থানে আলাদা করে (কোয়ারেন্টাইন) রাখতে হবে। মালিক নিজ দায়িত্বে পশুর খাদ্যের খরচ বহন করবেন এবং মন্ত্রণালয়ের যৌথ অনুমোদন ছাড়া পশু বা এর উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না।

  • নির্ধারিত সময়ে পশু ফিরিয়ে নেওয়া: সুস্থ প্রমাণিত হওয়ার পর মালিককে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজ দায়িত্বে পশু ফিরিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় সেগুলো বিক্রি করে প্রয়োজনীয় খরচ কেটে রাখা হতে পারে।

৩. ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব: আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ভেটেরিনারি চিকিৎসক সংক্রামক রোগের উপস্থিতি পেলে রোগাক্রান্ত পশু, এর বর্জ্য ও পরিচর্যার সরঞ্জাম জব্দ করা, পশুর পণ্য বিক্রি বা পরিবহন নিষিদ্ধ করা এবং খামারে স্বাস্থ্যগত ও জীবাণুমুক্তকরণের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

৪. রোগনিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ কার্যক্রম:

  • মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশ থেকে রোগের নমুনা আনা-নেওয়া বা পশুর ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • আক্রান্ত পশু, এর মৃতদেহ বা বর্জ্য পদার্থ বেচাকেনা বা অনুমোদন ছাড়া পরিবহন করা যাবে না।

  • সংক্রামক রোগে মারা যাওয়া পশুর মৃতদেহ নিরাপদে ধ্বংস করার বিষয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের নির্দেশনা মানতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানেই কেবল পশু জবাই বা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করা যাবে।

  • মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে পশুর রোগ বা স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

৫. ক্ষতিপূরণ কমিটি: মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অ্যানিমেল হেলথ কম্পেনসেশন কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশে মৃত বা ধ্বংস করা পশুর মালিকদের ক্ষতিপূরণের আবেদন যাচাই করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে।

৬. কঠোর শাস্তি ও জরিমানা:

  • কারাদণ্ড ও জরিমানা: কোনো খামারি নির্দিষ্ট রোগগুলোর বিরুদ্ধে পশুকে টিকা না দিলে অথবা আইনের ৮ ও ৯ ধারা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ (২০০,০০০) কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা অথবা যেকোনো একটি দণ্ড হতে পারে।

  • সাধারণ জরিমানা: ৩, ১২ বা ১৩ ধারা লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ (১০০,০০০) কাতারি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

  • এছাড়া আইনি অপরাধ পুনরাবৃত্তি (recidivism) হলে শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে।

আইনের আওতায় উল্লেখযোগ্য রোগসমূহ: নতুন এই আইনে আফ্রিকান হর্স সিকনেস, র্যাবিস (জলাতঙ্ক), অ্যানথ্রাক্স, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (খুরা রোগ), লাম্পি স্কিন ডিজিজ, ব্রুসেলোসিস, বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা), ক্যামেল পক্স, ক্রিমিয়ান-কঙ্গো হেমোরেজিক ফিভারসহ মোট ৪৯টি সংক্রামক রোগকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে খামার ব্যবস্থাপনা ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় এই যুগান্তকারী আইন বড় ধরনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

কাতারের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও শৃঙ্খলিত করতে লিমোজিন ও ট্যাক্সি সেবায় কঠোর নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে কাতারের কর্তৃপক্ষ।

প্রখ্যাত আরবি পত্রিকা ‘আল শার্ক’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমোজিন কোম্পানিগুলোর জন্য গাড়ির ভেতরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, সব ধরনের ট্যাক্সির ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের আইনি লঙ্ঘন রোধ করতে মাঠে কঠোর তদারকি ও পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ও সুবিধাসমূহ:

  • যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: গাড়ির ভেতরের ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি ট্রিপ বা যাত্রা রেকর্ড করা হবে। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ হিসেবে এটি কাজ করবে।

  • অধিকার সুরক্ষা: যেকোনো বিরোধ বা অভিযোগের দ্রুত ও সঠিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে চালক এবং যাত্রী উভয়েরই আইনগত অধিকার সুরক্ষিত হবে।

  • সেন্ট্রাল অপারেশন রুমের সাথে সংযোগ: এই ক্যামেরাগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় অপারেশন রুমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

কঠোর পরিদর্শনের মুখে অবৈধ চালক ও যানবাহন:

নতুন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি বা অবৈধ উপায়ে ট্যাক্সি চালানো ব্যক্তিদের ধরতে আকস্মিক ও নিয়মিত পরিদর্শন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিদর্শকরা গাড়ির অনুমোদিত প্রযুক্তিগত মান ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার পাশাপাশি চালকদের বৈধ পারমিট ও রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখছেন।

কাতারের পরিবহন খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং যাত্রীসাধারণের মনে শতভাগ স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের এই কড়া নজরদারি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক অ্যাপসের মাধ্যমে কাতারে ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বা যাত্রী পরিবহন সেবা পরিচালনার জন্য অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই তালিকায় মোট ১১টি অ্যাপসকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো কোম্পানি বা অবৈধ যানবাহন এই সেবা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা:

* Uber
* badrgo
* Aabir
* Karwa
* Ryde
* EzGo
* Wer2GO
* iDriver
* WaselGo
* QGlide
* BDrive

যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই যাতায়াতের সময় যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত অ্যাপসগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার এই যুগে অন্যের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা বা তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া বড় ধরনের আইনি বিপদের কারণ হতে পারে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ রোধে দেশের প্রচলিত আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাসিন্দাদের প্রতি কড়া সতর্কতা জারি করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI)।


দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারার গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান:

কাতারের পেনাল কোড বা দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ, গোপনে বা বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ কিংবা ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ বা দণ্ডনীয় বিষয়গুলো হলো—

  • কোনো ব্যক্তির সম্মতি বা অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বা গোপনীয় মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
  • কারও মানহানি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতিসাধনের মানসে ছবি বা ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করা।
  • সড়ক দুর্ঘটনা বা জরুরি কোনো উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভুক্তভোগী বা আহতদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা।
কঠোর শাস্তির বিধান:

আইন অমান্যকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। এছাড়া ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও অনলাইনে বা সাইবার মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দেশটির কঠোর সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।

নিরাপদ ও সচেতন থাকার উপায়:

  • ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন: ব্যক্তিগত ছবি বা ছোট কোনো দলের ছবি তোলার পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিষ্কার অনুমতি নিয়ে নিন।
  • দুর্ঘটনার দৃশ্য ধারণ থেকে বিরত থাকুন: যেকোনো দুর্ঘটনা বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন পকেটেই রাখুন; কারণ দুর্ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীদের ভিডিও করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • জনপরিসরে সচেতন থাকুন: জনবহুল স্থানে ছবি তোলার সময় লক্ষ্য রাখুন যেন আশপাশের সাধারণ মানুষ আপনার ছবির মূল বিষয়বস্তু বা ফ্রেমে চলে না আসে।
কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটলে কিংবা এসংক্রান্ত কোনো অপরাধের মুখোমুখি হলে তা সরাসরি ‘মেট্রাশ২’ (Metrash2) অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার ক্রেম বিভাগে রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের গণপরিবহন বা বাণিজ্যিক গাড়ি চালনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ট্যাক্সি, লিমুজিন এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাস চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিটি যানবাহনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ও আলাদা পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত শর্ত ও নিয়মাবলী পূরণ না করে এই ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপযুক্ত লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন কিংবা যাত্রীবাহী বাস রাস্তায় নামানো ২০০৭ সালের ১৯ নম্বর ট্রাফিক আইনের ৩০, ৩১ এবং ৩২ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের শর্ত ও নীতিমালা:

কাতারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমার্শিয়াল বা পাবলিক চালকের লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রার্থীকে অবশ্যই একটি বৈধ 'পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট' বা সচ্চরিত্রের সনদ (Certificate of Good Conduct) জমা দিতে হবে।

  • আবেদনকারীর কাছে অন্তত দুই বছরের পুরনো সাধারণ মোটরযান চালনার লাইসেন্স থাকতে হবে।

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হওয়া আবশ্যক।

  • স্বাস্থ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ফিট থাকতে হবে এবং মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • কাতারের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার বিষয়ে চালকের স্পষ্ট ও পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে।

  • পেশাটি ফুল-টাইম বা পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

  • চালককে অবশ্যই কোনো অনুমোদিত লিমুজিন, ট্যাক্সি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাস সার্ভিস পরিচালনাকারী কোম্পানির অধীনে স্পন্সরপ্রাপ্ত হতে হবে।

  • আবেদনকারীর ইকামা বা রেসিডেন্স পারমিটে (RP) পেশা হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে ‘ড্রাইভার’ (Driver) উল্লেখ থাকতে হবে।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নজরদারি বর্তমানে আরও জোরদার করা হয়েছে।