২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার শেষ সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদন বাতিল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার শেষ সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদন বাতিল

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেও বায়োমেট্রিক না দেওয়ায় ১৪ হাজারের বেশি প্রবাসীর ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। এসব আবেদন কার্যকর রাখতে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে বায়োমেট্রিক গ্রহণ শেষ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না হলে আবেদনগুলো বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি, মাঠপর্যায়ের কার্যালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারকি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও ফরম-২ আপলোডের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে গতি আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সভায় নিবন্ধন ও প্রবাসী অধিশাখার পরিচালক খান আবি শাহানুর খান জানান, অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪ হাজার ১৯৯ প্রবাসী ভোটারের বায়োমেট্রিক এখনো সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে গ্রহণ করা হয়নি। তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে তিন মাসের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার জন্য চিঠি পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রবাসীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো বাতিল করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া; সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনসহ মোট ১৭টি দেশের ২৭টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। প্রবাসে এনআইডি কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪১৯ জন প্রবাসী।

ফরম-২ আপলোড ও এনআইডি সংশোধনে গতি

ফরম-২ আপলোড ও এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এনআইডির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সভাকে জানান, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ফরম-২-এর মোট সংখ্যা ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮টি। এর মধ্যে স্ক্যান করা হয়েছে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫টি ফরম। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আপলোড করা হয়েছে ৫ কোটি ২৩ লাখ ২৫৩টি ফরম।

আপলোড করা ফরম-২-এর বিচারিক সিদ্ধান্ত বা অ্যাডজুডিকেশন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সিস্টেম ম্যানেজার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ভবনগুলোর মেরামতসংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রির জন্য সফটওয়্যার প্রস্তুতের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় গাইডলাইন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা। ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন তৈরি করে কমিশন সভায় উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাসভিত্তিক অফিস পরিদর্শনসূচি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অফিস পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় মালামাল দ্রুত নিষ্পত্তি

মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের গোডাউনে সংরক্ষিত অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্পত্তিযোগ্য মালামাল দ্রুত সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানান উপসচিব (সাধারণ সেবা-২)। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি সেগুলো মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী ও সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কমপ্লেক্সে ইসির কক্ষ

নতুন সৃষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপপ্রধান (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সভাকে জানান, প্রয়োজনীয় কক্ষ বরাদ্দের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সভা আয়োজনের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। সভায় এ যোগাযোগ অব্যাহত রেখে দ্রুত সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে তাগিদ

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ায় নিরীক্ষা শাখার কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে ব্রডশিট জবাব যথাযথভাবে ও নির্ধারিত সময়ে সচিবালয়ে পাঠানোর বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনার প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১ তারিখে আগের মাসের তথ্য হিসেবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সকাল ৯টার মধ্যে সব অফিসিয়াল যানবাহন সচিবালয়ে প্রবেশ এবং সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে আগে জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ যথাযথভাবে প্রতিপালন এবং বদলি-সংক্রান্ত তদবিরের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষ-এ সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে অতিরিক্ত সচিব আলোচ্যসূচির বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেন। এ সময় গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরা হয়।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।

প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের সময় বিপজ্জনক ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবাতিহ জেলার জওতার আল-শারকিয়াহ, মেফাদুন এবং নাবাতিহ আল-ফাওকার বহির্ভাগে এই গোলার আঘাত হানে। বিশেষ করে নাবাতিহ আল-ফাওকায় সরাসরি ফসফরাস শেল ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীতে জওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়। পাশাপাশি, টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাসার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা বর্ষণ করে ইসরায়েল।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবানন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকা থেকে ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা দুটি অবিস্ফোরিত বিমান বোমা নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪,৩৮৬ জন নিহত, ১২,৪০৭ জন আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুনে একটি সমঝোতা হয়েছিল— যার শর্ত ছিল সংঘাতপূর্ণ লেবাননি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্রে সাময়িকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেল গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি। এতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থানও দেখা গেছে। যদিও পরে মানচিত্রে গাজার অংশগুলো আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক মানচিত্র সেবা গভম্যাপে এই ভুলটি গত সোমবার একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে।

গভম্যাপে সাধারণত পুরো গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থান ঝাপসা রাখা হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকা দেখা যায়। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তবে এসব ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা দেখা গেছে।

আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র উঠে এসেছে, এসব ছবির সঙ্গে তার মিল রয়েছে।

বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকায় পুরো ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার চিত্র দেখা যায়। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

ছবিতে গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কার্নি ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিও দেখা যায়। পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানবাহনের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, আলাদা এক প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, গাজার কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ থাকার ৪৩টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সামরিক প্রয়োজন ও সেনাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নির্দেশনা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও ইরানের ছিল না। তবে বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা মোকাবিলায় নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের হাতে ‘চমক’ রয়েছে।

শেকারচি আরো দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি, বরং দেশটির পাল্টা হামলাগুলো ওই সব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকেই তাদের জন্য নিরাপদ পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়বে, তাদের ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে নৌঅবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের অন্য প্রস্তাব মেনে নিলেও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব শর্তের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে মে মাসে রয়টার্স জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন। রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।