১৪ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণ! অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও অবরুদ্ধ আকাশপথ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণ! অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও অবরুদ্ধ আকাশপথ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলীফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের এই বিস্ফোরণের পর পুরো বিমানবন্দর এলাকা থেকে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

শনিবার বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই রিয়াদের মূল এই বিমানবন্দরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভ্রমণে বের হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার হুথিদের চালানো দুটি পৃথক হামলায় এক পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া গত ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদির দুটি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় আরও তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই হামলাগুলো ঘটছে। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই হামলা চালাচ্ছে।

ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো হুথিরা দখল করার পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এবং লোহিত সাগরের সংকীর্ণতম বিন্দু বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মোখা বন্দরও রয়েছে। পরবর্তীতে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করে।

সূত্র: বিবিসি

যে কারণে নেদারল্যান্ডসকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষের কেন্দ্রস্থল’ আখ্যা দিল ইসরায়েল

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
যে কারণে নেদারল্যান্ডসকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষের কেন্দ্রস্থল’ আখ্যা দিল ইসরায়েল

ইউরোপা লিগের একটি ম্যাচে ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় নেদারল্যান্ডসকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষের কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নিরাপত্তা শঙ্কায় ইউরোপা লিগের ম্যাচে হাপোয়েল বিয়ের শেভা সমর্থকদের উপস্থিতির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ডাচ শহরটি, এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগামী ১৫ অক্টোবরের এজেড আলকমারের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইসরায়েলি ক্লাব হাপোয়েল বিয়ের শেভার সমর্থকদের মাঠে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিবাদ ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ম্যাচটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, এই সিদ্ধান্ত যারা হুমকি দেয় এবং সহিংসতা উসকে দেয় তাদের পুরস্কৃত করে এটি খেলাধুলার মূল চেতনার পরিপন্থি।

মন্ত্রণালয় ডাচ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণকারীদের বাদ দিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগ তোলে। এখানে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমস্টারডামে ইসরায়েলি ফুটবল ভক্তদের জড়িয়ে পড়া সংঘাতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, নেদারল্যান্ডসের রাজনীতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের ইসরায়েলবিরোধী মন্তব্যের কারণে দেশটিতে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা উসকে উঠছে।

গাজা যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের উপস্থিতির কারণে ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টি এবং এই নিষেধাজ্ঞাকে নেদারল্যান্ডসের জন্য আরও একটি কলঙ্ক হিসেবে বর্ণনা করেছে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে দেশটি বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে ইসরায়েলি এই অভিযোগের বিষয়ে ডাচ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার তার ডাচ সমকক্ষ টম বেরেন্ডসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আলকমার পৌরসভার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তারা ইসরায়েলি সমর্থকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আমস্টারডামে ম্যাকাবি তেল আবিব ও আয়াক্সের মধ্যকার ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রায় দুই বছর পর নতুন এই বিতর্ক দেখা দিল। সে সময় উক্ত সংঘাতের পূর্বে ইসরায়েলি সমর্থকদের পক্ষ থেকে বর্ণবাদী ও ফিলিস্তিনবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ফিলিস্তিনের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে গত আগস্টে ডাচ সম্প্রচারমাধ্যম 'এভিআরওটিআরওএস' ২০২৭ সালের ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দেয়। এটি ছিল টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

ইয়েমেনে সরকারি অভিযানে ৯৫০ হুথি যোদ্ধা নিহত

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেনে সরকারি অভিযানে ৯৫০ হুথি যোদ্ধা নিহত

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার পরিচালিত ডন অব ইয়েমেন বা ফজর আল-ইয়েমেন সামরিক অভিযানের আওতায় চলমান হামলায় ৯৫০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৩৮০টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনীয় সরকারি বাহিনী।

সরকারি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি জানান, বিভিন্ন ফ্রন্টে মোট ১ হাজার ৮৭৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামানের গোলা এবং রকেট লঞ্চারের সাহায্যে চালানো এই হামলায় হুথিদের একাধিক অস্ত্রাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

গত ৫ অক্টোবর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি এই অভিযানের সূচনা করেন।

হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধার এবং রাজধানী সানা মুক্ত করার লক্ষ্যে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মানদেবে এ সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর এসব দাবির বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র: গালফ নিউজ

সৌদি আকাশসীমায় সরাসরি নো-ফ্লাই জোন ডিক্লেয়ার করল হুতিরা!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সৌদি আকাশসীমায় সরাসরি নো-ফ্লাই জোন ডিক্লেয়ার করল হুতিরা!

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এবার সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য এয়ারলাইনস, শিপিং কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আকাশসীমা বা বিমানবন্দর ব্যবহার করলে তারা হুতি বাহিনীর সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সারি এয়ারলাইনস, জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠান, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সৌদি আরবে কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মী এবং পর্যটকদের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সারি দাবি করেছেন, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিরা কয়েকটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং এটি এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই হামলার দায় স্বীকার করেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং আরামকোর দুটি স্থাপনায়ও হামলার দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে হুতিদের টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববারও সারি একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এগুলো তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। তবে মক্কা ও মদিনাকে এই হুমকির বাইরে রাখার কথা তিনি নিশ্চিত করেন।

সে সময় ওই দুই পবিত্র শহর ছাড়া অন্যান্য স্থানে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এবারের বার্তায় সৌদি আকাশসীমা পুরোপুরি এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।

হুতিদের এই হুমকির প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আকাশ অনেকটাই ফাঁকা। উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়। সোমবার দেশজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি চলাচল না করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর হিসাবে রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

রোববারের হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়। এর আগের দিন হুতিদের দাবি করা আরেকটি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনার জেরে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) দেশটির এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আরবে যাওয়া বা আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ানের সময় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাওয়া-আসার ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়িয়ে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত করেছে।

সৌদি-হুতি সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের, কূটনীতির আহ্বান

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি-হুতি সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের, কূটনীতির আহ্বান

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংলাপ শুরুর উদ্যোগে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সময় রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর সামরিক কোনো সমাধান নেই।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন নিয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেন। ইরানের ওপর আবার হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আবার হামলা চালানো হবে না। নতুন বক্তব্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেখা গেছে।

দীর্ঘদিনের মতবিরোধ সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। এর আগে সাত বছর ধরে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ওই যুদ্ধের পর ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সূত্র: আলজাজিরা

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।

গত সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিমানবন্দরটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেও বিমানবন্দরটিতে আরও দুটি হামলার দাবি করেছে হুথিরা। রোববার সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলতে মানুষকে সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর অধিকারী। দেশটির রয়েছে একাধিক স্তরের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এরপরও কীভাবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দেশটির প্রতিরক্ষা ভেদ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হুথিদের অস্ত্রভান্ডার কতটা শক্তিশালী?

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরব লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথিরা।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটির অস্ত্রভান্ডারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

হুথিরা বিভিন্ন গতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সব হামলা শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইয়েমেনের স্থলযুদ্ধেও একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। সরকারি বাহিনীর অবস্থানে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর পর গত মাসে দ্রুত অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা দখল করে তারা।

গোষ্ঠীটির উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’। দুই ধাপের এই কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। এটি হাইপারসনিক গতিতে চলতে সক্ষম বলেও দাবি রয়েছে।

আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হলো ‘তুফান’। এটি ইরানের ‘ঘদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ কিলোমিটার।

কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে গুচ্ছবোমা বহনের সক্ষমতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া হুথিদের হাতে ‘বুরকান’ ও ‘বাদর’ সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলোও ইরানি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদের মতে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডারের বড় অংশই ইরানের অস্ত্রপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এতে চীনা প্রযুক্তিরও কিছু প্রভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উদ্ভাবনের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ হুথিদের ক্ষেত্রে খুব কম। তাদের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা মূলত অপেক্ষাকৃত কম উন্নত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

গত মাসে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযোগ করে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুথিদের নতুন ধরনের অস্ত্র—লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘোরাফেরা করে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—উন্নয়নে সহায়তা করছে।

কেন সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হচ্ছে?

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তাদের বাহিনী বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। তবে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানা বস্তুটি প্রতিহত করতে পারেনি তারা।

নওয়াফ ওবায়েদ আল জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরবের আয়তন এবং ইয়েমেনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্তের কারণে মাঝেমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তার ভাষায়, একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও কোনো না কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারে। তার মতে, হুথিদের বহু হামলা প্রতিহত করার পরও কিছু হামলা সফল হতে পারে।

নিরাপত্তানীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই বলেন, সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করা। তবে হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ইয়েমেনের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কিছু অংশের অবস্থান ও ব্যবহার পরিবর্তন করছে বলে তার ধারণা।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মিত্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুর মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল। ফলে মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

গত মাসে হুথিদের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কয়েকটি বন্ধুদেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছিল রিয়াদ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদেরও রয়েছে সীমাবদ্ধতা

হুথিরা শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করলেও তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে একসঙ্গে লড়াই করার চাপ তাদের জন্য বড় বাধা।

নওয়াফ ওবায়েদের মতে, সামরিক শক্তির দিক থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও হুথিরা মাঝেমধ্যে সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে পারছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি এবং জি-২০-এর সদস্য হওয়ায় সৌদি আরবের ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে দেশটির বিমানবন্দর বা তেল স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

তবে হুথিদের হাতে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা জানা যায়নি। একই সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইয়েমেনের স্থলযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র তাদের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ওবায়েদ বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলার বড় লক্ষ্য হচ্ছে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও ড্রোন তৈরির কারখানা ধ্বংস করা। তাঁর মতে, এসব হামলায় হুথিদের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

পুস্তাইয়ের ধারণা, হুথিদের হাতে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সম্ভবত সীমিত হয়ে এসেছে। এ কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলার মতো বড় আকারের হামলা চালানো তাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে।

এর পরিবর্তে তারা কম সুরক্ষিত বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একটি বা অল্প কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত করে বড় ধরনের কৌশলগত প্রভাব তৈরির চেষ্টা করতে পারে তারা।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দেশটির নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু হামলা সফল হওয়া মানেই সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘ সীমান্ত, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার এবং প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা