২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ০৫, ২০২৬
পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ
টপ স্টোরিজ

আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি ক্রয়ে কোনো ধরনের অফলাইন বা ম্যানুয়াল (কাগজে-কলমে) দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। দেশের ক্রয় খাত সংস্কারের যাত্রায় এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ১ জুলাই, ২০২৬ এর আগে ম্যানুয়ালি শুরু হলে সেই প্রক্রিয়ার বাকি ধাপগুলো ম্যানুয়ালি চলতে পারে। তবে ওই তারিখের পর নতুন কোনো অফলাইন টেন্ডারিং প্রক্রিয়া অনুমোদিত হবে না। ই-জিপি ব্যবহার থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনও ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর আর অনুমোদিত হবে না।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সরকারি ক্রয়: একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সুশাসনে সরকারি ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ সরকারি ক্রয়ে ব্যয় হয়। তাই জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সেবা প্রদানের মান বাড়াতে এই খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

ক্রয় ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে, যা ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হয়। এর পাশাপাশি, পিপিআর-২০০৮-এর পরিবর্তে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ প্রবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ক্রয় ব্যবস্থায় একটি ব্যাপক সংস্কার হয়েছে।

ই-জিপি: ক্রয় খাত সংস্কারের মেরুদণ্ড
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের অধীনে সবচেয়ে যুগান্তকারী সংস্কারগুলোর অন্যতম হলো সব ধরনের ক্রয় কার্যক্রমে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রবর্তিত এই ই-জিপি ব্যবস্থা দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে চুক্তি সম্পাদন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া—অর্থাৎ সম্পূর্ণ ক্রয় চক্রকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ক্রয় ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়নের এই পদক্ষেপের ফলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতির দরপত্রের সাথে জড়িত দীর্ঘদিনের বহু সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কাজের দীর্ঘসূত্রতা, স্বচ্ছতার অভাব, মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং অনিয়মের সুযোগ।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংস্কারের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি:
দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের গড় সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিআর, ২০২৫ বাস্তবায়নের আগে যেখানে দরপত্র প্রতি গড় দরদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ২.২ জন, সেখানে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪ জনে।

ই-জিপি নিবন্ধনের জোয়ার:
নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর দৈনিক ই-জিপি নিবন্ধনের আবেদন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি আবেদন জমা পড়ত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টিতে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তারাও এখন সরকারি ক্রয়ে ক্রমবর্ধমান হারে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে ই-জিপি সিস্টেমে ৭ হাজার ৪০৮ জন নারী দরদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন, যার মধ্যে পিপিআর, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭ জন।

মূল্যের যৌক্তিকতা বৃদ্ধি:
নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কাজের ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের সাথে দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্যের গড় পার্থক্যের হার ঋণাত্মক ১০ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। মূল্যের এই উন্নতি অস্বাভাবিক কম মূল্যে দরপত্র দাখিলের আশঙ্কা বা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করেছে।

‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫’ এ ১৫৪টি বিধি এবং ২১টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাজের পরিবর্তে কৌশলগত সুশাসনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সংস্কারগুলো হলো: জাতীয় কাজের ক্রয়ে ১০ শতাংশ মূল্যসীমা বাতিল করে বাজারভিত্তিক মূল্য নিশ্চিতকরণ; সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি ব্যবহার; চুক্তি সম্পাদনকারী বা কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার তথ্য প্রকাশ; টেকসই সরকারি ক্রয় (এসপিপি) প্রবর্তন; ক্রয় কৌশল ও প্রাথমিক বাজার সম্পৃক্ততা; ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ও দর-কষাকষি প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ; নারী, ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালন ক্রয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ; প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ‘ক্রয় ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ই-জিপির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি
২০১১ সালে দেশে ই-জিপি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সরকারি ক্রয়ে অভূতপূর্ব দক্ষতা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ক্রয়ের গড় সময়সীমা কমে ৫৪ দিনে নেমে এসেছে। মূল দরপত্রের বৈধতার মেয়াদের মধ্যেই ৯৯ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি এবং কার্যাদেশ বা চুক্তি অনুমোদনের তথ্য শতভাগ অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই অর্জনগুলো দেশের ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ
ক্রয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দরদাতাদের দক্ষতার অভাব, দুর্বল চুক্তি ব্যবস্থাপনা, নৈতিক দুর্বলতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত যোগাযোগ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

আগামীর পথচলা
বিপিপিএ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, নীতি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্রয় ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (আইপিপি) জাতীয় পর্যায়ে ক্রয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সার্বিকভাবে যেভাবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ক্রয় ব্যবস্থায় রূপান্তর হচ্ছে, তা কেবল একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, বরং স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক শাসনতান্ত্রিক সংস্কার।

বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শতভাগ ই-জিপি বাধ্যতামূলক এবং সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে ডিজিটাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রূপান্তরের অন্যতম অগ্রগণ্য দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ক্রয় সংস্কারের বিভিন্ন অর্জন টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের আগে তাদের জন্য ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিপিপিএ সিইও আরও জানান, প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (আইপিপি)-কে ভবিষ্যতে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারি ক্রয় এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সকল অংশীজনদের সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক
টপ স্টোরিজ

মরুময় আবহাওয়া ও তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের শহরাঞ্চলকে আরও বসবাস উপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে কাতার। দেশজুড়ে পার্ক, উদ্যান এবং গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাতারের মোট সবুজ এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ বর্গমিটারে, যেখানে মাথাপিছু সবুজ জায়গার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬.৮ বর্গমিটার।

পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার পার্ক নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণে এই বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। ন্যাশনাল প্ল্যানিং কাউন্সিলের উন্মুক্ত উপাত্তেও চাষযোগ্য সবুজ ভূমি, গাছপালা, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, খেজুর বাগান এবং রাস্তার ডিভাইডারে থাকা উদ্ভিদের বার্ষিক অগ্রগতির চিত্র নিয়মিত তুলে ধরা হয়।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় জমা দেওয়া কাতারের ‘ন্যাশনাল্লি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন ৩.০’ (NDC 3.0)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশের সবুজ এলাকা ছিল ৩.৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৭ বর্গকিলোমিটারে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এবং ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া ‘এক মিলিয়ন গাছ রোপণ কর্মসূচি’-র পাশাপাশি সড়ক, শিল্পাঞ্চল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের সফলতার পর কাতার ২০২২ সালে ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’ শুরু করে, যা বর্তমানেও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে জমাকৃত কাতারের ২০২৫ সালের স্বেচ্ছামূলক জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫৯টি পার্ক এবং প্রায় ৩০ লাখ বর্গমিটারের উন্নত সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’-এর আওতায় ইতোমধ্যেই ৩ লাখ ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। দেশের মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বা ১২টি সুরক্ষিত এলাকার প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার অংশকে প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট স্থল ও সামুদ্রিক এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার।

কাতারের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই সবুজায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। গ্রীষ্মকালে এখানকার চরম তাপমাত্রা এবং প্রখর রোদ প্রায়ই মানুষের বহিরাঙ্গন চলাচল ও বিনোদনকে কঠিন করে তোলে। তবে গাছপালা ও সবুজ বেষ্টনী ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

দোহা ও আল দাইয়েন এলাকার ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা রাস্তা বা কংক্রিটের কাঠামোর তুলনায় সবুজ এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। কাতারের উপযোগিতা বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় গাছপালা ও বড় আকারের সবুজ পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কাতার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, খোলা বালি বা শিল্পাঞ্চলের তুলনায় গাছপালা সমৃদ্ধ নিম্নমানের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেশ সহনীয় থাকে।

সবুজায়নের এই প্রচেষ্টার পেছনে ঐতিহাসিক কিছু পটভূমিও রয়েছে। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাতারের মোট সবুজ এলাকা বৃদ্ধিতে ৭৩ শতাংশেরও বেশি ভূমিকা রেখেছিল। এই আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের ন্যূনতম সুযোগ প্রায় ৯ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের ভূমিকা শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা ও সংযুক্ত সবুজ করিডোর পাখি, পোকামাকড় এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান দেয়। কাতার তার জাতীয় কৌশলের আওতায় বড় পরিসরে বনায়ন, ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন পুনরুদ্ধার এবং নগর উন্নয়নে প্রকৃতির সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
শিকার মৌসুম শুরু হওয়ায় সুক ওয়াকিফে বাজপাখির বিক্রি বেড়েছে ৬০ শতাংশ
টপ স্টোরিজ

কাতারের ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের বাজপাখি বা ফ্যালকন মার্কেটে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি শিকারের মৌসুম শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় বাজার বেশ জমে উঠেছে। গত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাজপাখির বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মূলত কাতারসহ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রেতারা শিকার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই পাখি কিনতে শুরু করেছেন। সশরীরে দোকানে এসে কেনার পাশাপাশি অনেক উপসাগরীয় ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেও অর্ডার করছেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অন্য দেশেও পাখি পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাজারে আসা বিভিন্ন জাতের বাজপাখির দাম মূলত সেগুলোর ধরন ও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। শাহিন ফ্যালকনের দাম শুরু হয় ৩০ হাজার রিয়াল থেকে এবং গারফ্যালকনের দাম প্রায় ২০ হাজার রিয়াল। এছাড়া গার-শাহিন হাইব্রিড ফ্যালকনের দাম অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল থেকে শুরু হয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের মধ্যে ওয়াকরি বা ল্যানার ফ্যালকন পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার রিয়ালের মধ্যে। সুদানি ওয়াকরি ফ্যালকনের দাম প্রায় ২ হাজার রিয়াল, ব্রিটিশ গারমুশা ফ্যালকন ৪ হাজার রিয়াল এবং স্প্যানিশ গারফ্যালকন মিলছে ১০ হাজার রিয়াল থেকে। তবে ভালো মানের ও বিশেষ জাতের বাজপাখির দাম আরও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

বাজপাখির পাশাপাশি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণের চাহিদাও এখন অনেক বেশি। হাতমোজা, হুড, বহন করার বাক্স, পাখির স্ট্যান্ড, ছুরি, জাল, শিকারের পোশাক এবং বাইনোকুলারসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের তাকে। সাধারণ মানের হাতমোজা ৫০ রিয়াল থেকে শুরু হলেও আমদানিকৃত ডাচ মডেলের হাতমোজার দাম ৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া হুড ৩০ থেকে ১৫০ রিয়াল, বহন করার বাক্স ৬০ থেকে ৭০ রিয়াল এবং জার্মান প্রযুক্তির ভালো মানের বাইনোকুলারের দাম ২ হাজার ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন কেনা বাজপাখিকে শিকারের উপযোগী করতে সাধারণত ১৫ দিন পর্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হয়। নতুন মালিকের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং শিকারের সময় সঠিকভাবে পারফর্ম করতে এই প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। এছাড়া আগে থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিও বাজারে পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের কাজ আরও সহজ করে দেয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া থেকে বাজপাখির নতুন চালান আসার কথা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বাজারের এই চাঙ্গা ভাব আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফিটনেস সুবিধার সমন্বয়ে কাতারে উন্মুক্ত হলো নতুন তিনটি পার্ক
টপ স্টোরিজ

আল উকাইর এলাকায় সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা, খেলাধুলা ও অবসরে সময় কাটানোর জন্য নতুন তিনটি পার্কের উদ্বোধন করেছে পৌর মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মানের এই পার্কগুলো তৈরি করেছে পাবলিক পার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং পাবলিক ওয়ার্কস অথরিটি (আশগাল)।

উদ্বোধন হওয়া নতুন পার্কগুলোর নাম রাখা হয়েছে স্থানীয় পরিবেশের সাথে মিলিয়ে—আল ওয়াকরাহ এলাকায় ‘আল মাশমুম’ ও ‘আল খুজামা’ এবং আল উকাইর এলাকায় ‘আল আরাক’। জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং স্থানীয় পরিচয় তুলে ধরতে এই নামকরণ করা হয়েছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২০৩০ কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কাতার জাতীয় ভিশন ২০৩০ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল মিউনিসিপাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিন আলী আল-আতবে এবং পৌর মন্ত্রণালয়ের পাবলিক সার্ভিস অ্যাফেয়ার্সের সহকারী আন্ডারসেক্রেটারি আবদুল্লাহ আহমেদ আল-করানিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পৌর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পার্কগুলোতে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পথ, দৌড়ানোর ট্র্যাক, শিশুদের খেলার জায়গা এবং ব্যায়ামের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন পার্কগুলোর বিবরণ:

আল মাশমুম পার্ক: মোট আয়তন ৪,৩৯৪ বর্গমিটার, যার মধ্যে প্রায় ২,৩৯৬ বর্গমিটারে গাছপালা ও সবুজায়ন করা হয়েছে। এখানে ৬৮টি গাছ, ২০৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং শিশুদের খেলার আলাদা জায়গা রয়েছে।

আল খুজামা পার্ক: ৩,২৮৪ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৯টি গাছ এবং ১,৩৬৭ বর্গমিটার সবুজ এলাকা রয়েছে। এখানে ১৭৮ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক ও আধুনিক ফিটনেস সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।

আল আরাক পার্ক: ৩,৯৩৬ বর্গমিটার আয়তনের এই পার্কে ৫৬টি গাছ ও ২,১২৬ বর্গমিটার সবুজ জায়গা রয়েছে। এছাড়া ১৬৪ মিটার দীর্ঘ রানিং ট্র্যাক এবং খেলাধুলার নানা সুবিধা রাখা হয়েছে।

মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ"

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ
টপ স্টোরিজ

বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন নামের একটি নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র।

সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।

কাতারের এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বা অতীত থেকে চলে আসা কাজের ধারাগুলোকে নথিবদ্ধ করা। এ উদ্যোগের আওতায় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একটি যৌথ বিশ্বকোষ তৈরিতে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে “ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন”—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। এর বিপরীতে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব, রাজনীতি, অর্থনৈতিক জীবন ও পরিবারে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি এবিষয়ে বলেন, আজকালকার তরুণীদের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়—এ নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই এই উদ্যোগের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আলফু মুসলিমাহ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসব ইতিহাসকে আরো সহজলভ্য করে তোলা এবং ‘রিআয়া’ (رعاية) বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা।”

এছাড়াও বলেন, “মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও জ্ঞান হস্তান্তর, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনৈতিক জীবন এবং পরিবারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ করে আসছে।”

মুসলিম নারীদের এসব অবদান নথিবদ্ধ করা ইসলামের আরও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অর্ধেকই নারী।

ইতিহাসের যেসব অংশ এতদিন উপেক্ষিত ছিল, এই উদ্যোগ সেসব অংশকে সামনে আনতে, নতুন প্রজন্মকে মুসলিম নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের চিনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বিস্তৃত ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব অঞ্চল ও সময়ের নারীদের, যারা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং যাদের নিয়ে একাডেমিক গবেষণা বা জনপরিসরে আলোচনা কম হয়েছে।

আলফু মুসলিমাহ ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্ব ও মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে—আরবি ভাষাভিত্তিক ও ফার্সি-প্রভাবিত বিশ্ব, তুর্কি অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশগুলো, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

ব্যক্তিবিশেষ নারীদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মুসলিম নারীদের কীভাবে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে নথিবদ্ধ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো ও বর্ণনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তাও এই প্রকল্পে পর্যালোচনা করা হবে।

আল মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ আরো বলেন, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।” তিনি জানান, মুসলিম নারীদের ইতিহাস কীভাবে সংরক্ষিত ও এর ব্যাখ্যা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্যোগটি সেটিও পর্যালোচনা করতে চায়।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাছে একটি উন্মুক্ত প্রস্তাবনাও চাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডির বাইরে গিয়ে প্রত্যেক মুসলিম নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, নেতৃত্বের ধরন ও উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সময়কাল এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে।

একই সময়ে, আকর্ষণীয় লেখা, গল্প বলা, মৌখিক ইতিহাস এবং ভিজ্যুয়াল উপকরণের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

আল মুজাদিলাহ জানায়, এই গবেষণায় ৫০০টির বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং বিপুলসংখ্যক ধ্রুপদি ও সমকালীন উৎস ব্যবহার করা হবে।

ড. নাজাহর মতে, এই বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের উদ্দেশ্য হলো ‘আলফু মুসলিমাহকে’ শুধু পৃথক নারীদের জীবনী সংকলনের উৎস হিসেবে নয়, মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বহু সংখ্যক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আর বৃহত্তর পাঠকসমাজের জন্য এর লক্ষ্য হলো, আরো বিস্তৃত পরিসরের নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সহজবোধ্য বিবরণ তুলে ধরা।

ড. নাজাহ বলেন, “কাতার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রস্তাবনা আরবি ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে যেকোনো নারীকে বেছে নিতে পারবেন অথবা নিজেদের অঞ্চল কিংবা গবেষণার ক্ষেত্র থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।” প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা জমা দিতে পারবেন।

উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ড. নাজাহ জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, মুসলিম নারীদের অবদানের আরো সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করা এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা।

সূত্র: দ্যা পেনিনসুলা

দোহা মেট্রোর আল সাদ্দ স্টেশনকে সাজিয়ে তোলা হলো দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রে

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
দোহা মেট্রোর আল সাদ্দ স্টেশনকে সাজিয়ে তোলা হলো দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রে
টপ স্টোরিজ

দোহা মেট্রোর 'আল সাদ্দ' (Al Sadd) স্টেশনটি পাবলিক আর্টের এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামসের (Qatar Museums) যৌথ উদ্যোগে তৈরি দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্রগুলো (Murals) শিল্প, ঐতিহ্য এবং দৈনন্দিন যাত্রার চমৎকার সংযোগ ঘটিয়েছে।

কাতার রেলের (Qatar Rail) এক বার্তায় জানানো হয়, এই দেয়ালচিত্রগুলো যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় শিল্প ও সংস্কৃতির এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুরো স্টেশন এলাকাটি একটি উন্মুক্ত গ্যালারির রূপ নিয়েছে, যা পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলের মাঝে শিল্পকর্মগুলো উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

কাতার মিউজিয়ামসের বৃহত্তর পাবলিক আর্ট উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি এই দেয়ালচিত্রগুলোতে কাতারি ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পের সংমিশ্রণ দেখা যায়:

ঐতিহ্যবাহী প্রতিকৃতি: একটি চিত্রে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরিহিত ব্যক্তিত্ব, উট এবং বাজপাখির (Falcon) সাথে গাঢ় জ্যামিতিক নকশার মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সৃজনশীল শিল্পকর্ম: আরেকটি প্রাণবন্ত চিত্রে চিত্রকর্মে মগ্ন বিভিন্ন স্টাইলাইজড চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সামাজিক আবহাওয়া: অন্য একটি দেয়ালচিত্রে প্রথাগত 'থোব' (Thobe) পরিহিত মানুষকে পাত্র থেকে তরল ঢালার দৃশ্য ঘিরে একত্রিত হতে দেখা যায়, যা কাতারি আতিথেয়তা ও সামাজিক ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করে।

দোহা জুড়ে গণপরিবহন ও শহুরে স্থানগুলোতে শিল্পকে যুক্ত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গোল্ড লাইনে (Gold Line) অবস্থিত ব্যস্ত আল সাদ্দ স্টেশনটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে চালু হয়। দোহার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এই দেয়ালচিত্রগুলো স্থানীয় অধিবাসী ও পর্যটক—উভয়ের কাছেই বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।