২০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?
টপ স্টোরিজ

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হতে পারে। এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানা গেল, যখন লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে বোমাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করতে পারবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল-জাজিরাকে বলেছেন, এমওএবি ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হবে না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য পূরণে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এমওএবি ব্যবহার করলেই ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, এ ধরনের হামলা সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

কী এই ‘মাদার অব অল বম্বস’

এমওএবির পূর্ণ নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি বা সাড়ে ৮ টন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক রয়েছে। বোমাটির মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১০ টন। চারটি সাধারণ সেডান গাড়ির মোট ওজনের কাছাকাছি এটি। এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি, প্রায় ৩০ ফুট।

বোমাটি সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। আকার বড় হওয়ায় এটি স্টেলথ বোমারু বিমানে বহন করা যায় না। শত্রুর রাডার এড়িয়ে চলার উপযোগী এসব বিমানের বদলে এ বোমা বহনে ব্যবহার করা হয় বড় পরিবহন বিমান।

২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম বোমাটি তৈরি করা হয়। এরপর এর ১২টি বিস্ফোরণ পরীক্ষা হয়েছে। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামটি এসেছে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ‘মাদার অব অল বাটলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ কথাটি থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাত্র একবার এমওএবি ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের (আইএসকেপি) যোদ্ধাদের একটি গুহা ও সুড়ঙ্গের জটিল নেটওয়ার্কে হামলা চালাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই বিস্ফোরণে আইএসকেপির ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হননি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে কিছু অসমর্থিত খবর পাওয়া গিয়েছিল। বিস্ফোরণে অনেক বাড়িঘরও ধ্বংস হয়।

কতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে

এমওএবি এমনভাবে তৈরি, যাতে মাটির কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর এর প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবন, গুহার প্রবেশপথ এবং শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, বিস্তৃত এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রভাব সৃষ্টি করাই এই বোমার উদ্দেশ্য।

সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জায়েদ আল-জাজিরাকে বলেন, বিস্ফোরণের জন্য বোমাটির সরাসরি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভূপৃষ্ঠের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকার সবকিছু ধ্বংস হতে পারে।

আবু জায়েদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের ভূপৃষ্ঠে থাকা স্থলবাহিনীর অবস্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহারের কথা ভাবছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানার চেষ্টা করা হতে পারে। এসব স্থাপনার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে এই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূপ্রকৃতি এবং সেখানে জনবসতি কতটা ঘন, তার ওপর। ম্যাগনিয়ার বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই বোমা খুব কার্যকর নাও হতে পারে।

ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে চাইতে পারে, সেগুলোর মধ্যে ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা এবং নির্মাণাধীন পিক্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত।

ম্যাগনিয়ার বলেন, এমওএবির বিপুল বিস্ফোরকশক্তি খোলা জায়গায় থাকা সেনাসদস্য, সরঞ্জাম ও দুর্বল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। আফগানিস্তানে এর ব্যবহার গুহা ও সুড়ঙ্গের অবস্থানে হামলার ক্ষেত্রে বোমাটির কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে তাতে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়নি।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে অন্য বোমা বেশি কার্যকর

এমওএবির বিস্ফোরণের প্রভাব ভূগর্ভে পৌঁছাতে পারে। তবে গভীর কংক্রিট বা পাহাড়ের পাথর ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি নয়। এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো উপযোগী অস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসকারী বোমা হলো জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। এর ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি বা ৩০ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কেজি বা ৬ হাজার পাউন্ডের বিস্ফোরক অংশ রয়েছে।

বোমাটি উচ্চশক্তির ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণের আগে এটি মাটির প্রায় ৬১ মিটার বা ২০০ ফুট গভীরে প্রবেশ করতে পারে। গভীরে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

ইরানে কি সত্যিই ব্যবহার করা হবে এই বোমা

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আফগানিস্তানে এমওএবি ব্যবহার করেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের পথে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ম্যাগনিয়ারের মতে, ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় বিমান মোতায়েন করাই কঠিন হতে পারে। স্টেলথ বোমারু বিমান এসব এলাকায় অভিযানের জন্য বেশি উপযোগী হলেও সেগুলো এমওএবির মতো বড় বোমা বহন করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এই বোমা ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তাতে ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পরও ওয়াশিংটন রাজনৈতিকভাবে সামান্য ফল পেতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, যে সামরিক কমান্ডার এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে, তাকে একটি সরল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে যে কাজ করা সম্ভব নয়, এই অস্ত্র দিয়ে ঠিক কী অর্জন করা যাবে? আর সেই ফল কীভাবে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করবে?

তার ভাষায়, যদি এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে শুধু বিস্ফোরণের দৃশ্যমান ব্যাপকতাকে তুলে ধরা হয়, তাহলে প্রস্তাবটি সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবেই বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প এমন একটি ‘চূড়ান্ত’ পরিণতি চাইছেন, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে পরাজিত হয়নি—এমন প্রমাণও দেখানো যায়।

ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না সিআরসেভেন? ৬ মাসের শাস্তি
টপ স্টোরিজ

পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্বাসনের মুখে। পর্তুগালের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সমর্থক এবং সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, তাকে জরিমানা করা হলে তিনি সেটা মেনে নেবেন।

তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সিআরসেভেন। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনও ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ বা দলের কোনও কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাকে এক থেকে ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’-র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আলমেইদা ফিফার বিচারকও। তিনি জানিয়েছেন, গত মাসে জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার মুহূর্ত থেকেই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

আলমেইদা বলেন, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। রোনালদোকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে রোনালদোর জন্য স্বস্তির জায়গাও রয়েছে।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুটবলার তদন্তের আওতায় থাকা ঘটনার কথা স্বীকার করলে, শাস্তির সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হল, স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে। তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা চলবে না।

আলমেইদার মতে, রোনালদো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুলের কথা কোনওরকম শর্ত ছাড়াই স্বীকার করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নির্বাসন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শাস্তি কার্যকর হলে, সেটা সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।

প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
প্রধমার্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দিলো না বেনিন
শেষ ম্যাচে মেসিকে ঘিরে ধরেছেন বেনিনের ডিফেন্ডাররা
টপ স্টোরিজ

জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেও জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, বেনিনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে সক্রিয় ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম কয়েক মিনিটেই বেনিনের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। ২ ও ৩ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।

তবে ৪ মিনিটে উল্টো আক্রমণ থেকে ফাউলের শিকার হয় বেনিন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলে ফ্রি-কিক পায় আফ্রিকার দলটি। ৫ম মিনিটেই বেনিনকে আক্রমণে দেখা যায়। জুনিয়র ওলাইতানের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আর্জেন্টিনার রক্ষণে আটকে যায়। একই মিনিটে মোহামেদ তিজানির পাস থেকে ইয়োহান রোশের বক্সের মাঝামাঝি থেকে নেওয়া শটও ব্লক হয়ে যায়।

৭ম মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় সুযোগটি আসে মেসির কাছ থেকে। রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে বাম পায়ের শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু নিচের বাঁ দিকে যাওয়া শটটি বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ঠেকিয়ে দেন।

একই মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া ডান পায়ের শটও বেনিন গোলরক্ষক রক্ষা করেন।

১৭ মিনিটে আবারও সুযোগ পায় বেনিন। কর্নার থেকে জুনিয়র ওলাইতানের ক্রসে তসিন আইয়েগুনের হেড লক্ষ্যের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। রোদলফো আলোকোর ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৫ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে বক্সের ডান দিকে রদ্রিগো দে পল শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৪ মিনিটে মেসি আবারও গোলের খুব কাছে চলে যান। ডি পলের থ্রু বল থেকে বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট সামান্য বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মেসির ওপর বেনিনের রক্ষণও বেশ চাপ তৈরি করছিল। ২৫ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি। এক মিনিট পর আবারও মেসির শট। বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও নিচের বাঁ দিকে যাওয়া বলটি দান্দজিনু অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৯ মিনিটে ডি পলের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেড বেনিনের রক্ষণে আটকে যায়। একই সময়ে কর্নারও পায় আর্জেন্টিনা। ৩২ মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে আবারও মেসির সামনে সুযোগ আসে। লাওতারো মার্তিনেজের সহায়তায় বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শট নেন তিনি। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ অফসাইডে ধরা পড়েন। ৩৭ মিনিটে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান হ্যান্ডবলের কারণে ফাউল করেন।

৪৩ মিনিটে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয় হুলিয়ান আলভারেজের জন্য। বক্সের ডান দিক থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট গোলের বাঁদিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু দান্দজিনু আবারও দুর্দান্তভাবে সেই বল ঠেকিয়ে দেন।

এরমাত্র কিছুক্ষণ পরই বেনিনের পাল্টা আক্রমণ। ইয়ামিরু ওউরুর বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাম পায়ের শট নিচের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের শেষ প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন। ৪৩ মিনিটেই বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেটিও নিচের বাঁ দিকে যাচ্ছিল, তবে মার্তিনেজ আবারও সেটি ধরে ফেলেন।

এরপর ৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনা আরেকটি কর্নার পায়। প্রথমার্ধে কয়েক দফা ভালো সুযোগ তৈরি করেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। মেসি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে বেনিনের জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু ওউরুও আর্জেন্টিনার গোলমুখে বিপদ তৈরি করেছেন।

তবে দুই দলের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মেসির বিদায়ী ম্যাচে তাই দ্বিতীয়ার্ধেই এখন নির্ধারিত হবে ম্যাচের ভাগ্য।