২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে ফিরছে আমিরাত, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা
ছবি: দ্য ক্রেডলের সৌজন্যে

ইয়েমেন সংঘাতে আবারও সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে, হুতিবিরোধী বাহিনীকে বিমান সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমতে শুরু করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সহযোগিতাকে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হুতিদের ক্রমবর্ধমান সামরিক অগ্রযাত্রা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বাহিনী আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পেয়েছে। এসব বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর অন্তর্ভুক্ত, যাদের হুতিবিরোধী সামরিক জোটের কার্যকর শক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে গত জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সব সামরিক সম্পদ প্রত্যাহার করে এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়। নতুন করে অর্থায়নের উদ্যোগ সেই অবস্থান থেকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ইয়েমেন স্বাধীন হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান পৃথক রাষ্ট্রের সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনী এখনো সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে গিয়ে লড়াই করার অনুমতি পায়নি। সৌদি আরব গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে অভিযানটি এখন পর্যন্ত সীমিত সাফল্য পেয়েছে।

এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি ও সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে জুবাইদি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।

এর জবাবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এসটিসি বাহিনীর জন্য পাঠানো আমিরাতের অস্ত্রের একটি চালানে বিমান হামলা চালানো হয়। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে তাদের সব কার্যক্রম থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের কথা জানায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে অবস্থিত তাইজ ও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য ধরে রেখেছে।

এদিকে, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দিতে তিনি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সিসি জোর দিয়ে বলেছেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। দেশটির ভূমিকা হবে সৌদি আরবকে রক্ষা করা। ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের এই অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদির ৯৯ তলা কিংডম সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদির ৯৯ তলা কিংডম সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ৯৯ তলাবিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসকর্মীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের কোনো কারণ জানানো হয়নি। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের বড় ধরনের হামলার একসপ্তাহ পর এ নির্দেশ এল।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে আবারও তীব্র হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই নিয়মিত হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কিংডম সেন্টারে মেরিল লিঞ্চের মতো আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা ম্যাককিনজি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কার্যালয় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক ইমেইলে ভবনটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, অবিলম্বে সব অফিসকর্মীর জন্য দূর থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে কর্মীদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত না হতেও বলা হয়েছে। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে।

এদিকে, স্কুলগুলোতে দূরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহের হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এখনো বন্ধ রয়েছে।

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান অঞ্চলে সৌদি জোটের দুই হেলিকপ্টার পাইলটের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পরপরই কিংডম সেন্টারে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি জোট ঘটনাটিকে কারিগরি ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা বললেও হুথিরা দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের একটি এএইচ-৬আই নজরদারি হেলিকপ্টার নাজরান অঞ্চলে সৌদি ভূখণ্ডের ভেতরে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়।

এতে হেলিকপ্টারের দুই কর্মকর্তা নিহত হন।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

অন্যদিকে, শনিবার গভীর রাতে হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা একই এলাকায় সৌদি বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন।

সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক পর্যবেক্ষণকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকদলের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।ঘড়ি কিনুন

কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের মালিকানাধীন হেলিকপ্টারটি নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় নাজরান অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি এলাকায় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়ে এবং আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই হেলিকপ্টারে থাকা ক্রু দলের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মদিনায় হুতি বিদ্রোহীদের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহতের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আজ বৃহস্পতিবার তারা এ দাবি করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এক পোস্টে বলেছেন, সৌদি আরব মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এদিকে জোটটি বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, তারা পূর্বাঞ্চলেও একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

অন্যদিকে হুতি আনসার আল্লাহ আন্দোলনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সৌদি ভূখণ্ডে এ ধরনের কোনো হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মদিনার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার যে অভিযোগ সৌদি আরব করেছে, তা মিথ্যা।

ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা আজ সৌদি আরবের ভূখণ্ডে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি এবং মদিনায় হামলার দাবি একটি নির্লজ্জ এবং মিথ্যা অপপ্রচার।

তিনি আরও বলেন, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং সেটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সারি আরও দাবি করেন, সাদা প্রদেশের আকাশসীমায় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের একটি টাইফুন যুদ্ধবিমানে আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এটি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটেও হুতি হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: সিএনএনের বিশ্লেষণ

গত বছর প্রতিরক্ষায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রও কিনেছে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যার একটি সৌদির বিশাল ভূখণ্ড ও তিন দিকের হুমকি। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে। বহু স্থাপনা রক্ষায় সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। নিচু দিয়ে ওড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। অনেক হামলা ঠেকানো গেলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগেই ইয়েমেনে ইরানি অস্ত্রের প্রমাণ পেয়েছিলেন। হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গেও ইরানি অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

তবে তেহরানের মিত্র হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের যুদ্ধের পরও তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ চলেছে। জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এরপর শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তায় সৌদি বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। সোমবার ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, মধ্যস্থতায় রিয়াদ রাজি হলেও হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার আগে ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরে তা চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেয়েছে সিএনএন।

স্থল অভিযানে হুথিদের হারানোর সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহের অভিযানে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেও গোষ্ঠীটিকে সরাতে পারেনি। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানিয়েছে, হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ ঘিরে ফেলেছে।

সৌদি এখন আন্তর্জাতিক জোট গড়তে চাইছে। পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিসর প্রয়োজনমতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাসরঞ্জামেও ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নতুন সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প। সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনির মতে, শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতেই ফিরতে হতে পারে।

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুকে কেন বাধা দিলেন সৌদি যুবরাজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুকে কেন বাধা দিলেন সৌদি যুবরাজ

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।

তবে সৌদি জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় যুবরাজ এতে আপত্তি জানান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু সরকারের ধারণা ছিল যে ইয়েমেনে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথও তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

রিয়াদের অবস্থান হলো, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর মধ্যেই হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করে।

সৌদি আরবের যুবরাজের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ফলে তার সম্মতি ছাড়া ইয়েমেনের যুদ্ধে ইসরায়েলের অংশ নেওয়ার অনুমতি পাওয়া কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ওই বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ানো এড়াতে চেয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে প্রথম সতর্ক করেছিলেন সৌদি যুবরাজ নিজেই। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ কার্যত থমকে যায়। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়াকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখেছিল ইসরায়েল। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহের পেছনেও এই হিসাব কাজ করে থাকতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ইরান রিয়াদকে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এ প্রস্তাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আরাগচি বলেন, ‘সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, অঞ্চলের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত।

সূত্র : মিডলইস্ট আই