যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে নৌঅবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের অন্য প্রস্তাব মেনে নিলেও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব শর্তের কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে মে মাসে রয়টার্স জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন। রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।