২০ অক্টোবর ২০২৬
পর্দার আড়ালে পাকিস্তান-চীন-কাতার জোট;

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যেভাবে মধ্যস্থতা করল পাকিস্তান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যেভাবে মধ্যস্থতা করল পাকিস্তান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার শেষ পর্যায়ে একাধিকবার সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিবারই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির হস্তক্ষেপ করে আলোচনা সচল রাখেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

শেহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা যখনই অচলাবস্থার মুখে পড়েছে, তখনই আসিম মুনির সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ ও সমন্বয় চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে সেনাপ্রধান দিন-রাত কাজ করেছেন এবং হাল ছাড়েননি বলেই শান্তি প্রক্রিয়া টিকে ছিল।

জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন মনে হচ্ছিল আলোচনা থেমে যাবে। তার মতে, সেই পর্যায়গুলোতে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত না থাকলে শান্তির সম্ভাবনাও ভেঙে পড়ত।

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু দিক প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত এবং তাতে বিপুল প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান কীভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে, সে সম্পর্কেও এতে ধারণা পাওয়া যায়।

শেহবাজ শরিফ এ সময় উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তার কূটনৈতিক দল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও চীনের নেতাদেরও মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধবিরতির খবর প্রথম জানান শেহবাজ শরিফ। এর কিছু সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

পাকিস্তানের আয়োজনে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির আশপাশে মোতায়েন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথাও রয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আপাতত এই আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আলোচনা পরিচালিত হয়েছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেন। জাতীয় পরিষদে শেহবাজ শরিফ তার নাম উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ‘অসাধারণ প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের’ পরিচয় দিয়েছেন।

পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার পথ সহজ ছিল না। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার আগে ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে আসিম মুনির একাধিকবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, পরে ইসলামাবাদের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।

এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই আলোচনায় অংশ নিলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

সরাসরি আলোচনা কয়েক সপ্তাহ স্থগিত থাকলেও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। প্রকাশ্যে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত না থাকলেও নেপথ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলতে থাকে।

সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক জওহর সেলিমের মতে, ইসলামাবাদের এই ভূমিকা কেবল কৌশলগত সমন্বয়ের বিষয় ছিল না; এটি ছিল ‘কখনো হাল না ছাড়ার কূটনীতি’র উদাহরণ। তার মূল্যায়নে, উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য সৎ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা আস্থার সংকট কাটাতে সহায়তা করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান একা ছিল না। গত ৩১ মার্চ পাকিস্তান ও চীন যুদ্ধ বন্ধে যৌথ পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে বেইজিংয়ের উদ্বেগও এ উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মে মাসে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একাধিকবার ইসলামাবাদ সফর করে আসিম মুনির ও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার এক সফরে তিনি বলেছিলেন, ‘ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’

শেষ পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়। শনিবার (১৩ জুন) ইসহাক দার সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, কারণ তখন আলোচনা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষায় ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছে যায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও অবিচ্ছিন্ন মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

একই দিন শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত সম্মতিপ্রাপ্ত খসড়ায়’ পৌঁছেছে। তিনি তখন বলেন, ‘শান্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছে।’ তবে ওই সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি সইয়ের জন্য তাদের আলোচক দলের বিদেশ সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় ছিল।

রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ইসরাইলি হামলার পর তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রশ্ন তোলেন, ওয়াশিংটনের আদৌ চুক্তি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা বা সক্ষমতা আছে কি না। তবু কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে থাকেনি এবং শেষ পর্যন্ত শেহবাজ শরিফের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্পও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাতীয় পরিষদে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদানের জন্য পাকিস্তান যে সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছে, তা অর্জনের চেষ্টা বহু দেশ দশকের পর দশক ধরে করে আসছে।’

শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘অনেক সময় মনে হয়েছিল যে আলোচনা থেমে যাবে। কিন্তু সেনাপ্রধান হাল ছাড়েননি। এই যাত্রা যদি অব্যাহত না থাকত, তাহলে শান্তির স্বপ্ন ভেঙে যেত।’

আব্বাস আরাঘচির ভাষ্য ছিল, ‘ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’

গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত, নৌ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা, স্থগিত সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারসহ একাধিক দেশ নেপথ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। সোমবার শেহবাজ শরিফের বক্তব্যে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ভূমিকার বেশ কিছু নির্দিষ্ট দিক সামনে আসে।

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।

একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে সেগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

তিনি লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কিছু করতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

এ সিদ্ধান্তের জেরে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তা ইউক্রেনের ক্ষতি করবে। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমার সঙ্গে পুতিনের তুলনা চলে না। পুতিন একজন আগ্রাসী, যিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছেন এবং তার বাহিনী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছে। পুতিনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও অভিযোগ করেন, কিয়েভ রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যদিও এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, এমনকি শুরু থেকেই হয়তো তা চাননি।

৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

রুশ জ্বালানি গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিয়েভের পাশাপাশি ইউরোপীয় অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এমন পদক্ষেপ মস্কোকে পুরস্কৃত করার শামিল।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নিযুক্ত দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় অবিরাম যোগাযোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য কূটনীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।

জেলেনস্কি লেখেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায়। রাশিয়া ছাড়া বাকি সবাই গত সাড়ে চার বছর ধরে এমন শান্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের আলোচনা চলার সময়ও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকির পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোমানিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ফ্লাইট ওএস৮২-এর ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। পরে বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় উড়োজাহাজটি সোফিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের নামানোর পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়।

অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। তবে এই হুমকির সঙ্গে এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিব থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ায় অবতরণ করে।

ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

ফ্রান্স ও স্পেনে উত্তাপ ছড়ানো বিক্ষোভ ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মিলানে পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই কারণে লিসবনে তাঁবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে তোলা একটি ছবিতে পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেলোনি লিখেন, শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করতে একটি পক্ষ বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

এদিকে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে লিসবনে বিক্ষোভকারীরা একটি তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের বিক্ষোভে একই ধরনের শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল।

লিসবনের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কোয়ারে শনিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ পদযাত্রা করেন। অনেকে সারা রাত সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতির সমালোচনা করেন ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো। তিনি বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থকে রক্ষা করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসনে ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করে।

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ক্ষোভের দিকটি বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।’ মূলত ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন মন্টিনিগ্রো।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

ফ্রান্সে স্কুলে বিদ্যমান সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য।

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশটির সরকার।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।

সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কয়েক ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

প্রথমত, প্যারিসসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরো শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।

চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শিক্ষানীতি ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারের এসব বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাসেলস পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং ৩২ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

বিক্ষোভে পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বেলজীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং পাঁচজনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

শনিবার সন্ধ্যায় শহরটির বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস সাঁ-ল্যামবার চত্বরে জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী প্রিন্স-বিশপস প্যালেস লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এ সময় আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন তাদের বন্ধুদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।