২০ অক্টোবর ২০২৬

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কী পেলেন ইসরায়েলের নেতানিয়াহু
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি প্রকাশ ও স্বাক্ষর করেছেন, তাকে কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু চার মাস পর দেশটির নির্বাচনের ঠিক আগে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারক মেনেই তাকে শান্ত থাকতে হচ্ছে; সেই সঙ্গে হজম করতে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘন ঘন সমালোচনা।

আন্তর্জাতিক মহলে নেতানিয়াহু এখন প্রায় একা, যিনি বিশ্বাস করেন এই চুক্তি একটি ভুল এবং যুদ্ধ আরও চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কট্টরপন্থি সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই চুক্তির পক্ষে আঞ্চলিক ঐকমত্যে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওয়াশিংটনেও নেতানিয়াহুর রিপাবলিকান মিত্র এবং গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা এই চুক্তির পুরোপুরি সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান চুক্তির বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু যেভাবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন, এবার আর তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়াতে না চাইলে নেতানিয়াহু এখন কেবল টেলিভিশনগুলোতে গিয়ে এই চুক্তির সোজাসুজি বিরোধিতাও করতে পারছেন না।

প্রকাশ্যে নিন্দা না জানালেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া ব্রিফিংয়ে এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থি গণমাধ্যমগুলো—যার বেশির ভাগই এতদিন কট্টর ট্রাম্প-ভক্ত ছিল—তারা এখন ট্রাম্প ও তার টিমের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। নেতানিয়াহুপন্থি চ্যানেল ১৪-এর প্রাইম টাইম শো-এর এক সঞ্চালক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘লম্পট’ বলে গালি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আর্থিক সুবিধার জন্য ইসরায়েলকে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন বলে একটি ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য ব্যবহার করে অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সহযোগিতার জন্য নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর কিছু খোঁচাও মেরেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিবি একজন ভালো মানুষ। তিনি মাঝে মাঝে একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তবে আমাদের অংশীদারত্ব চমৎকার। আমরা হলাম বড় অংশীদার, আর তিনি হলেন খুবই ছোট অংশীদার।’

এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে বৈরুতে একটি হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু এই চুক্তিটি প্রায় ভেস্তেই দিয়েছিলেন, তার আসলে কোনও ‘বিচারবুদ্ধি নেই’।


রবিবার ট্রাম্প যখন এই চুক্তির ঘোষণা দেন, তখন নেতানিয়াহু বেশ চমকে যান। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েলকে এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বুধবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, নেতানিয়াহু হয়তো চূড়ান্ত দফাগুলো দেখেননি, তবে ইসরায়েলিরা কখনোই তা দেখতে চায়নি এবং পুরো আলোচনাকালীন হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহুকে বিস্তারিত অবহিত করেছিল।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পও বলেন, তিনি একটি কপি পাঠিয়েছেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সংশয় থাকা সত্ত্বেও তিনি ভ্যান্স, কুশনার ও উইটকফকে বলেছিলেন যে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাজি হওয়া পারমাণবিক ছাড়গুলো মেনে চলে, তবে এটি হবে একটি দারুণ চুক্তি।

নেতানিয়াহুর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো লেবানন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও অন্তর্ভুক্ত এবং যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই সমঝোতা স্মারকের লেবানন অংশটি মানতে বাধ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্ট বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরবে না। বুধবার ট্রাম্পও স্বীকার করে বলেন, ‘লেবানন নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ রয়েছে।’

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, এটি কোনও ‘একপেশে যুদ্ধবিরতি’ হবে না এবং হিজবুল্লাহ হামলা চালালে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, ইসরায়েল আগামী ৬০ দিন লেবাননের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কাজে লাগাবে এবং এই আলোচনার মাধ্যমেই ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হতে পারে, ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কারণে নয়। বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধকৌশলের আবারও সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি আস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মূল বিষয় হলো, যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতীতে নেতানিয়াহুর প্রায়ই ঝগড়া হতো, তারাও ইসরায়েলের বিষয়ে এতটা সরাসরি ও কঠোর সমালোচনা করেননি। নিজের সবচেয়ে অপরিহার্য মিত্রের কাছ থেকে এমন আঘাত হজম করা নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।

একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে সেগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

তিনি লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কিছু করতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

এ সিদ্ধান্তের জেরে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তা ইউক্রেনের ক্ষতি করবে। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমার সঙ্গে পুতিনের তুলনা চলে না। পুতিন একজন আগ্রাসী, যিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছেন এবং তার বাহিনী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছে। পুতিনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও অভিযোগ করেন, কিয়েভ রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যদিও এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, এমনকি শুরু থেকেই হয়তো তা চাননি।

৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

রুশ জ্বালানি গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিয়েভের পাশাপাশি ইউরোপীয় অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এমন পদক্ষেপ মস্কোকে পুরস্কৃত করার শামিল।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নিযুক্ত দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় অবিরাম যোগাযোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য কূটনীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।

জেলেনস্কি লেখেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায়। রাশিয়া ছাড়া বাকি সবাই গত সাড়ে চার বছর ধরে এমন শান্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের আলোচনা চলার সময়ও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকির পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোমানিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ফ্লাইট ওএস৮২-এর ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। পরে বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় উড়োজাহাজটি সোফিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের নামানোর পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়।

অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। তবে এই হুমকির সঙ্গে এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিব থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ায় অবতরণ করে।

ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

ফ্রান্স ও স্পেনে উত্তাপ ছড়ানো বিক্ষোভ ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মিলানে পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই কারণে লিসবনে তাঁবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে তোলা একটি ছবিতে পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেলোনি লিখেন, শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করতে একটি পক্ষ বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

এদিকে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে লিসবনে বিক্ষোভকারীরা একটি তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের বিক্ষোভে একই ধরনের শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল।

লিসবনের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কোয়ারে শনিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ পদযাত্রা করেন। অনেকে সারা রাত সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতির সমালোচনা করেন ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো। তিনি বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থকে রক্ষা করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসনে ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করে।

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ক্ষোভের দিকটি বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।’ মূলত ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন মন্টিনিগ্রো।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শিক্ষানীতি ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারের এসব বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাসেলস পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং ৩২ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

বিক্ষোভে পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বেলজীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং পাঁচজনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

শনিবার সন্ধ্যায় শহরটির বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস সাঁ-ল্যামবার চত্বরে জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী প্রিন্স-বিশপস প্যালেস লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এ সময় আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন তাদের বন্ধুদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

জর্জিয়ার ডালটনে সমবেত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু 'মোহাম্মদ' বলে ডাকবেন। ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। "হ্যালো, মোহাম্মদ।" আমি বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছি। কখনো ভুল হয়নি।'

মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত পুরুষের নামগুলোর একটি মোহাম্মদ। ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে অনেক মুসলিম পরিবারে ছেলেসন্তানের এই নাম রাখা হয়।

গত শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ নাম নিয়ে রসিকতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর কয়েকজন মোহাম্মদ নামের ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভান করে উপস্থিত জনতার সামনে রসিকতা করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি।

মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মুসলিম, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় ও অবমাননা করছেন।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাকালে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তার বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক করেছেন; বিশেষ করে মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলছেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ওপর কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।