১৯ অক্টোবর ২০২৬

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

কাতারে বাণিজ্যিক, শিল্প ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট ও পুনর্নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। মন্ত্রীর ২০২৫ সালের ৮০ নম্বর সিদ্ধান্তটি দাপ্তরিক গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অধীনে জুমার নামাজের সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন জারি করা এই বিধিমালার প্রধান ধারাসমূহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

ধারা (১): সাধারণ কর্মঘণ্টা নির্ধারণের অধিকার

বাণিজ্যিক, শিল্প ও সমমানের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের সুবিধাজনক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে পারবে এবং ইচ্ছা করলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বা জনস্বার্থের প্রয়োজনে, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মন্ত্রীর পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বা খাতের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

ধারা (২): জুমার নামাজের সময় দেড় ঘণ্টার বাধ্যবাধকতা

নতুন আইন অনুযায়ী, সকল বাণিজ্যিক, শিল্প ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানকে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের প্রথম আযানের পর থেকে টানা ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (দেড় ঘণ্টা) তাদের প্রধান দরজা বন্ধ রাখতে হবে এবং সব ধরণের বেচা-কেনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে।

জরুরি ছাড়প্রাপ্ত খাতসমূহ:

জনজীবন স্বাভাবিক রাখা ও জরুরি চিকিৎসা/পরিষেবা বহাল রাখার স্বার্থে বেশ কিছু সংস্থাকে এই দেড় ঘণ্টার বাধ্যতামূলক বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ছাড় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • স্বাস্থ্যসেবা: ফার্মেসি, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি চিকিৎসালয় (ক্লিনিক)।

  • আবাসন ও ভ্রমণ: হোটেল, মোটেল, অন্যান্য আবাসন সুবিধা, বিমান সংস্থার কার্যালয়, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরে অবস্থিত সকল দোকানপাট।

  • জ্বালানি ও পরিবহন: পেট্রোল/জ্বালানি স্টেশন, স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা।

  • জরুরি সংযোগ ও সেবা: তারযুক্ত ও তারবিহীন টেলিযোগাযোগ সংস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ সংক্রান্ত চালুকৃত যন্ত্রপাতির কার্যালয়।

  • অন্যান্য সেবা: বেকারি, যেসকল কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিফট-ভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয় এবং জনস্বার্থে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত অন্যান্য কার্যক্রম।

ধারা (৩): আইন প্রয়োগ ও কার্যকারিতা

প্রাসঙ্গিক সকল সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বের আওতায় এই সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিশিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরদিন থেকেই কাতারজুড়ে আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

ফ্রান্সে স্কুলে বিদ্যমান সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য।

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশটির সরকার।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।

সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কয়েক ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

প্রথমত, প্যারিসসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরো শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।

চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শিক্ষানীতি ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারের এসব বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাসেলস পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং ৩২ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

বিক্ষোভে পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বেলজীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং পাঁচজনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

শনিবার সন্ধ্যায় শহরটির বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস সাঁ-ল্যামবার চত্বরে জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী প্রিন্স-বিশপস প্যালেস লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এ সময় আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন তাদের বন্ধুদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

জর্জিয়ার ডালটনে সমবেত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু 'মোহাম্মদ' বলে ডাকবেন। ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। "হ্যালো, মোহাম্মদ।" আমি বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছি। কখনো ভুল হয়নি।'

মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত পুরুষের নামগুলোর একটি মোহাম্মদ। ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে অনেক মুসলিম পরিবারে ছেলেসন্তানের এই নাম রাখা হয়।

গত শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ নাম নিয়ে রসিকতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর কয়েকজন মোহাম্মদ নামের ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভান করে উপস্থিত জনতার সামনে রসিকতা করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি।

মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মুসলিম, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় ও অবমাননা করছেন।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাকালে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তার বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক করেছেন; বিশেষ করে মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলছেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ওপর কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

বিশ্ব মানচিত্রে এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে ভোটযুদ্ধে দাঁড়ালে ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব অনায়সেই যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে জিততে পারেন, এবং তিনি নিজেও বিষয়টি খুব ভালো করেই জানেন।

"আমি চাইলে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে পারি," গত মে মাসে কৌতুকের ছলে এ কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ! যদিও কোনো জনমত জরিপেই এ ধরনের ৯৯ শতাংশ সমর্থনের অঙ্ক মেলেনি। কিন্তু তাঁর এই কৌতুকটি ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ এটি নেহাৎ রসিকতা ছিল না—এর পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর এক রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। তবে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পুরো নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প—যদিও ব্যালট পেপারে তাঁর কোনো নাম নেই! থাকার কথাও নয়, যেহেতু তিনিই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু, যে ব্যক্তি বিগত এক দশক ধরে ট্রাম্পের সাথে গভীর সখ্য তৈরি করে নিজের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—তিনি আজ তিক্তভাবে আবিষ্কার করছেন যে, ট্রাম্পের সেই উষ্ণ আলিঙ্গন এখন অনেকটাই আলগা হয়ে এসেছে।

এক বছরের 'বীর বন্দনা' ও সখ্যতা

ট্রাম্প ও ইসরায়েলি রাজনীতির মধ্যকার এই মধুচন্দ্রিমার সম্পর্ক গত বছরের এই সময়ে এক চরম শিখরে পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাম্পের টিমের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এক গাজা চুক্তির আওতায়, হামাসের কাছে বন্দি জীবিত থাকা শেষ ২০ জন ইসরায়েলি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং একই দিনে ট্রাম্প ইসরায়েলি সংসদ 'নেসেট'-এ ভাষণ দেন।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ট্রাম্পের সেই ভাষণ এবং জিম্মিদের পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের দৃশ্য একইসঙ্গে সম্প্রচার করেছিল। ফলে সাধারণ ইসরায়েলিদের কাছে এই দুটি দৃশ্য যেন এক ও অভিন্ন হয়ে ফুটে উঠেছিল।

এর পরপরই শুরু হয় ট্রাম্পকে সম্মান জানানোর পালা। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের "ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু" হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কেবল নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা 'ইসরায়েল পুরস্কার' একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান—ট্রাম্পকে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর আসে ২০২৬ সাল: ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুলাই মাসে ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত হামাসের অস্ত্রসংবরণ চুক্তি।

অর্থাৎ, ইসরায়েলের চাহিদামাফিক তেল আবিবের চিহ্নিত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেছেন। আবার হামাসের হাত থেকে ইসরায়েলি বন্দি মুক্তিতেও ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েল যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়েও সফল হয়নি, হামাসের থেকে সেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে ট্রাম্পের কূটনীতিক চাপ। তাই তাঁর প্রতি ইসরায়েলিদের সমর্থন কম তো হওয়ার নয়।

আর সেটা ৯৯ শতাংশ না হলেও, মোটেও কম নয়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের ওপর গভীর আস্থা রাখেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট'-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সাধারণ প্রেসিডেন্টের চেয়ে বহুগুণ ভালো বলে মনে করেন।

তেল আবিব ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একে বর্ণনা করেছেন "ট্রাম্প ইফেক্ট" হিসেবে: ইসরায়েলের সাধারণ ইহুদিরা—বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থীরা—ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় হয়ে ওঠেন, যখন তাদের বলা হয় যে এই শান্তি প্রস্তাবের নেপথ্যে ট্রাম্প রয়েছেন। এভাবে কোনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতা যা করতে পারেননি, ট্রাম্প তা অনায়াসেই করে দেখিয়েছেন।

যে সমর্থন আর কখনোই মিলছে না

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল 'লিকুদ পার্টি' আয়ালোন মহাসড়কে বিশাল আকারের বিলবোর্ড ঝুলিয়েছিল: সেখানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু হাত মেলাচ্ছেন এবং নিচে লেখা ছিল "অন্য উচ্চতার নেতৃত্ব" (ইন অ্যানাদার লিগ)। ট্রাম্প নিজেও সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন।

সমীকরণটা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট: বিবি (নেতানিয়াহু) ট্রাম্পের জৌলুস ধার করে নিজের রাজনীতি চালাতেন, আর ট্রাম্প সেই প্রশংসা ও শ্রদ্ধা উপভোগ করতেন।

কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন তাঁর হাত দুটি নিজের পকেটেই গুটিয়ে রেখেছেন!

গত জুনে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে প্রতিপক্ষের ওপর ভিত্তি করে তিনি "সম্ভবত" নেতানিয়াহুকেই সমর্থন করবেন। কিন্তু যখন গাদি আইজেনকোট নির্বাচনী ময়দানে নামলেন, ট্রাম্প মন্তব্য করে বসলেন যে আইজেনকোটের বিরুদ্ধে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থনের প্রশ্নটি তিনি অন্তত তিনবার কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

গত মঙ্গলবার 'মেরিন ওয়ান' হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প কেবল রহস্যময়ভাবে এটুকুই বলেন: "আমরা হয়তো কাউকে সমর্থন দিতে পারি।" কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম তিনি মুখে আনেননি।

সবচেয়ে কাছাকাছি তিনি যেটি করেছিলেন তা হলো—গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ নিউজম্যাক্স-এর একটি খবরের লিঙ্ক শেয়ার করা, যেখানে এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প নিজে সেটি পোস্ট করেছিলেন কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

এর মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকোট এবং নাফতালি বেনেটের শিবিরগুলো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের সাথে গোপনে কথা বলে তাঁকে এই নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। আর এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সেই অনুরোধ পূরণ হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

ইসরায়েলের এই জাতীয় নির্বাচন এতটাই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের এই নীরবতা একটি বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে। গত মাসের পাঁচটি পৃথক জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইজেনকোটের দল ইয়াশার গড়ে ২২.২টি আসন পেতে যাচ্ছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পাচ্ছে ২১.২টি আসন।

আর জোটের হিসাবে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পাচ্ছে গড়ে ৫৪.৪টি আসন এবং বিরোধী জায়নবাদী জোট পাচ্ছে ৫১টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কিন্তু কোনো পক্ষই এককভাবে ছুঁতে পারছে না।

বেদিতে দেখা দেওয়া ফাটল

এই দূরত্ব কিন্তু কেবল একতরফা নয়, দুই তরফ থেকেই তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি ও দরকষাকষি নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন তিনি লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে এবং সিরিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে সরে আসতে ইসরায়েলের ওপর মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

এক উত্তপ্ত ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহুকে "পাগল" বলেও ডাকার কথা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। ইসরায়েলঘনিষ্ঠ মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে নাকি প্রায়ই বলেন— "বিবি (নেতানিয়াহু) নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু।"

ইসরায়েলি জনগণও বিষয়টি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-এর গ্রীষ্মকালীন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন বলে বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা মে মাসের ৪৪ শতাংশ থেকে কমে জুনে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেবল ইহুদি উত্তরদাতাদের মধ্যে, ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারে—এই বিশ্বাসের হার মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৩৮ পয়েন্টের বিশাল পতন ঘটেছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরান যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান ভালো রয়েছে।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, নীতিগত বিষয়ে অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিন্তু ইসরায়েলে এক চুলও কমেনি! ইসরায়েলিরা তাঁর নীতিকে সন্দেহ করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি ট্রাম্পকে তারা ঠিকই ভালোবাসে।

নেতানিয়াহুর নিজের প্রচারণাতেই এর প্রমাণ মেলে: সম্প্রতি লিকুদ পার্টির প্রার্থী তালিকায় নেতানিয়াহু এক ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যিনি অতীতে ট্রাম্পকে "নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে সমালোচনা করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান এবং ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে আখ্যা দেন।

এভাবে ইসরায়েলে বসে ট্রাম্পের সামান্য সমালোচনা করাও এখন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

তাহলে এই দেশ আসলে কার?

ইসরায়েলের ওপর একচ্ছত্র ট্রাম্পের মালিকানা, "ট্রাম্পের দেশ" উক্তি আসলে সেটা বোঝায় না। এর অর্থ হলো—ট্রাম্প এখন এমন এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন, যাকে ঘিরে সব ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের ঘুরতে হয়। নেতানিয়াহু নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয়ে।

আবার আইজেনকোট নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের শত্রু না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পুরো রাজনীতির ময়দান এখন কেবল একটি বিতর্ক নিয়েই ব্যস্ত—কে ট্রাম্পকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামলাতে পারবেন?

আন্তর্জাতিক স্তরে ও জাতীয়ভাবে দম্ভ ও অহমিকার এক দেশ ইসরায়েল; যার রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মতভেদে বিভক্ত, কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি ইহুদিবাদী সমাজব্যবস্থা। তাদের জন্য এই ধরনের অন্ধ পরনির্ভরতা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা। এবং এটি অদ্ভুত কিছু বার্তাও দিচ্ছে।

ট্রাম্প একসময় নেতানিয়াহুকে এমন এক ২০ দফার গাজা পরিকল্পনা মানতে বাধ্য করেছিলেন, যা কোনো ইসরায়েলি শাসক জোট কখনোই মেনে নিত না। আবার তিনিই প্রেসিডেন্ট হারজগকে চিঠি লিখে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলায় তাঁর খাস ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছিলেন—যে ধরনের হস্তক্ষেপ অন্য কোনো বিদেশি নেতার কাছ থেকে এলে তেল আবিবে চরম হট্টগোল পড়ে যেত।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলিরা তাদের নিজেদের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার জন্য ভোট দেবেন। তবে ভোট দিতে যাওয়ার সময় অনেক ইসরায়েলির মনেই নীরবে একটি অভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে: বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওয়াশিংটন থেকে কার কাছে আগে ফোন আসবে?

অতএব, স্বাগতম ইসরায়েলে—যেখানে নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দিকনির্ণায়ক মানুষটি (ট্রাম্প) নিজে কোনো ভোট দিতে পারবেন না, এবং আপাতত তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করছেন না!

লেখক: লিওন হাদার একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, ব্লগার, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গ্রন্থকার এবং পরামর্শক।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে যা খুশি করা এবং যা ইচ্ছা দখল করে নেওয়ার নীতি দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির জন্য সুফল বয়ে আনবে না। বরং এতে নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক আলোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে ইসরায়েলের ইতিহাস, ফিলিস্তিনিদের ভূমির অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কঠিন বাস্তবতা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট গ্রহণ করতে গিয়ে সাংবাদিক সুসান ম্যাকের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন ওবামা। সেখানে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ইতিহাসজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দেশটির আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসরায়েল ‘মানুষের কাছ থেকে জমি কেড়ে নিয়েছে এবং বাড়াবাড়ি করেছে’।

ফিলিস্তিনিদের এই অভিজ্ঞতা থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের জন্ম হয়েছে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওবামা বলেন, ইসরায়েলে ইহুদিদের সাংস্কৃতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনিরা স্বাভাবিকভাবেই বলেছে, ‘এটা অবিচার, আমি আমার জমি ফেরত চাই।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাকের প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে বৈরিতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি ‘প্রকৃত বিরতি’ বা সংঘাত থামানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, সামরিক শক্তি দিয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা অর্জন আর স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠা এক বিষয় নয়।

ওবামা স্মরণ করিয়ে দেন, হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিরা নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর বড় অংশের জন্য দায়ী ছিল ইউরোপ। নিপীড়নের সেই ইতিহাস থেকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার ইহুদিদের আকাঙ্ক্ষাকে তিনি স্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেন। কিন্তু অতীতের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বর্তমানের সব কর্মকাণ্ডের অবাধ অনুমতি হতে পারে না।

ওবামার ভাষায়, ইসরায়েল যদি মনে করে, এখন তারা অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ; তাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, তা-ই করবে এবং অন্যদের কাছ থেকে যা ইচ্ছা কেড়ে নেবে, কোনো ছাড় দেবে না—তাহলে স্বল্প মেয়াদে হয়তো সেই নীতি কাজ করতে পারে। কিন্তু এমন অবস্থান নিলে দেশটি ‘নৈতিক অবস্থান হারাবে’।

‘দ্য আইরিশ টাইমস’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় ওবামা এ কথাও উল্লেখ করেন যে অঞ্চলটির লাখ লাখ ইহুদি ও ফিলিস্তিনি কোথাও চলে যাচ্ছে না। অর্থাৎ, কোনো পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে কিংবা জোর করে সরিয়ে দিয়ে এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ইসরায়েলের নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা এই অঞ্চলে কীভাবে জীবন কাটাবে, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তারা কি দেয়ালের আড়ালে থেকে চারপাশের সবাইকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে, নাকি নৈতিকতা ও ন্যায়বোধ বজায় রেখে আত্মরক্ষার কোনো পথ খুঁজবে?

ফিলিস্তিনিদের প্রতিও ওবামার বার্তা ছিল বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। ইসরায়েলিদের চেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করে কিংবা আরও বেশি অস্ত্রের অধিকারী হয়ে ফিলিস্তিনিরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

পরিবর্তনের জন্য অন্য পথ খুঁজতে হবে, যার মধ্যে অহিংস কৌশলও রয়েছে। তবে এমন পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না—এ কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ওবামার বক্তব্যে তাই দুটি বিষয় পাশাপাশি এসেছে: ইহুদিদের ঐতিহাসিক নিপীড়নের স্বীকৃতি এবং ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ন্যায়বিচারের দাবির স্বীকৃতি। তার যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে এই উপলব্ধি—নিরাপত্তা কেবল সামরিক আধিপত্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যে শান্তিতে অন্য পক্ষের অধিকার ও অস্তিত্বের স্বীকৃতি নেই, তা শেষ পর্যন্ত সংঘাতকেই দীর্ঘায়িত করে।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট

নবীদের হত্যা থেকে সুদ ও ওয়াদা ভঙ্গ! যেভাবে অভিশপ্ত হলো ইহুদি জাতি

এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব

ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?