১৪ আগস্ট ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' (Makkah Joint Deterrence Agreement) কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই সমঝোতাকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জোটে আরও বেশি সংখ্যক মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে চায় আঙ্কারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই জোটকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাতার রূপ দেওয়া হবে।

কী রয়েছে 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স' চুক্তিতে?

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো হলো:

  • যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি: জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের যেকোনো সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পদ্ধতিতে, কতখানি এবং কী ধরনের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে—তা তাৎক্ষণিক ট্রিপক্ষীয় পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

  • কাউকে লক্ষ্য না করা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো দেশ আক্রান্ত না হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই জোটের হুমকি হিসেবে ধরা হবে না। এছাড়া ন্যাটোর (NATO) সক্রিয় সদস্য তুরস্ক এবং সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ (যেমন: ইরান)-কে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি বিদ্যমান কৌশলগত জোটের বিকল্প নয়।

পরবর্তী সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে কাদের নাম আলোচনায়?

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈশ্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পরবর্তী ধাপে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে:

সম্ভাব্য সদস্য দেশ যোগদানের সম্ভাবনা ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
মিসর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মতে, মিসর এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’। কায়রোকে নিয়ে 'আর-৪' (R-4) ফ্রেমওয়ার্কে কাজ চলছে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলেই মিসর এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে, যা জোটের সামরিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
কাতার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারে কাতারকে সবচেয়ে স্বাভাবিক সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসির সকল দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুয়েত কাতার ও কুয়েত উভয় দেশেরই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় দেশই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত যৌথ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নিশ্চিতে আগ্রহী।
অন্যান্য দেশ কৌশলগত কারণে আজারবাইজান, জর্ডান এবং নতুন গতিপথের সিরিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

মিসরের যোগদানে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামনে কিছু আইনি ও কূটনৈতিক বাধা রয়েছে:

১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংক্রান্ত নীতি: কায়রো এমন কোনো কঠোর সামরিক বাধ্যবাধকতায় যাবে না যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক, বিদ্যমান সামরিক সহায়তা এবং পূর্বের শান্তিকৌশলকে সংকটে ফেলে।

২. নিজেদের শর্ত ও অবস্থান: লিবিয়া বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অবস্থান কিংবা অন্য দেশের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর মতো বাধ্যবাধকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে কায়রো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ন্যাটোর মতো কঠোর কোনো একীভূত সামরিক কমান্ড অর্গানাইজেশন হবে, নাকি 'ইচ্ছুক দেশগুলোর' (Coalition of the Willing) একটি নমনীয় কিন্তু কার্যকর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে মিসর, কাতার ও কুয়েতের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ওপর। তবে এটি যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

(তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি)

ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, ইমরান খান জীবিত আছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।

গুজবের সূত্রপাত
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দুটি ভিডিও প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এই গুজবের সূত্রপাত হয়। ‘ইজ খান স্টিল উইথ আস’ এবং ‘হোয়াট হ্যাপেন্স আফটার খান’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে ওয়াজাহাত দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের (জিএইচকিউ) তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ইমরান খান আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে খোদ সেনাবাহিনীর ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি ওই কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান।

এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পরে সাংবাদিক ওয়াজাহাত নিজেই স্পষ্ট করেন, ইমরান খানের মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। তাঁর সূত্রগুলো মূলত ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তার কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের কথাই তাঁকে জানিয়েছিল।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইএসপিআর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করে। অন্যদিকে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোও তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এক সাক্ষাৎ পর্বে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়, যেখানে ইমরান খানকে নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

মৃত্যুর গুজব থামলেও ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে পিটিআই নেতাদের উদ্বেগ কাটেনি। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বোন ও আইনজীবীদের অবাধে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইমরান খানের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দলের কর্মী-সমর্থকদের রাওয়ালপিন্ডিমুখী মিছিলের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন নেতারা।

এরই মধ্যে পিটিআইয়ের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে ইমরান খানের চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা এবং কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত আবেদনের দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছেন।

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক সুস্থতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী দাবি করলেও, তাঁর দৃশ্যমান বেশ কিছু শারীরিক উপসর্গ ও প্রকাশিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের অসংগতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এক খ্যাতনামা মার্কিন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির ২৭ বছরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জোনাথন রেইনার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু অনুত্তরিত প্রশ্ন সামনে এনেছেন।

ডা. জোনাথন রেইনারের তোলা প্রধান প্রশ্নসমূহ
হাতে কালশিটে দাগ: ট্রাম্পের হাতে ফুটে ওঠা কালশিটে নিয়ে হোয়াইট হাউস ঘন ঘন হাত মেলানো ও ‘অ্যাসপিরিন’ সেবনকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। তবে ডা. রেইনার প্রশ্ন তোলেন, উভয় হাতের সমান বিবর্ণতা ও কালশিটে দাগকে কেবল এই দুটি সাধারণ কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা চিকিৎসার দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়।

পা ফুলে যাওয়া (ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি): প্রেসিডেন্টের পা ফুলে যাওয়াকে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সি’ (শিরাগত রক্তের সঞ্চালন দুর্বলতা) বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু গত মে মাসের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই সমস্যার কোনো উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে কীভাবে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলো, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা (Daytime Drowsiness): বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জেগে থাকতে কষ্ট হওয়া এবং দৃশ্যমান ঘুমঘুম ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. রেইনার। তাঁর মতে, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা কোনো গভীর চিকিৎসাগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

ওয়াল্টার রিডে রহস্যময় ইমেজিং পরীক্ষা: ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্পের হৃদ্‌যন্ত্র ও পেটের উন্নত ইমেজিং পরীক্ষা করানো হয়। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা একে সাধারণ আগাম পরীক্ষা বললেও, ঠিক কী কারণে এত বিস্তৃত ও জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছিল তা জনসমক্ষে খোলাসা করা হয়নি।

২৫তম সংশোধনী ও স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রস্তাব
ডা. রেইনার স্বীকার করেছেন যে রাষ্ট্রপতির সব গোপনীয় চিকিৎসা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভব নয়। তবে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং দায়িত্ব পালনের যথার্থতা নিশ্চিত করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী (25th Amendment) অনুযায়ী কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি 'স্বাধীন চিকিৎসা প্যানেল' গঠনের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

ডা. রেইনারের মতে, মূল বিষয়টি কোনো ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম কি না—সে বিষয়ে আমেরিকার জনগণ কতটুকু নিশ্চিত হতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় করা সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মতি জানিয়েছে।

আনাদোলুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই নতুন করে সংঘাত এড়াতে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের সম্মতির কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল স্থায়ী একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালু রাখা। কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ছিল না। গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে হামলা চালায় বলে জানানো হয়।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি দেখো দিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ২ সেনাসদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ২ সেনাসদস্য মারা গেছেন। গত বুধবার রাজ্যটির বেল কাউন্টির একটি উন্মুক্ত মাঠে আঘাত হানার পর সামরিক যানটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তৎক্ষণাৎ আশপাশের ঘাসের জমিতে তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

রাজ্যটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলেই সামরিক হেলিকপ্টারে থাকা দুজন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান রয়টার্সকে জানান, টেক্সাসের রাজধানী অস্টিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বেল কাউন্টির একটি ফাঁকা মাঠে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বেল কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনাস্থলেই বিমানে থাকা দুই আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ওই স্থানে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়।

ক্লিফ কোলম্যানের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে পোড়া ঘাসের বিশাল অংশ এবং পুরো এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। ঘটনার পর স্থানীয় বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ফোর্ট হুড ঘাঁটির নিয়মিত সামরিক অভিযান চলাকালে বেল কাউন্টিতে আজ একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দুই বীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ফোর্ট হুড ঘাঁটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের ঘাঁটির অধীনস্থ একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক সামরিক হেলিকপ্টার নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। মৃত সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নারী কেবিন ক্রুদের দায়ের করা এক দশকের পুরোনো একটি মামলা ৪.৫ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারে নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সোমবার সমঝোতার শর্ত অনুমোদন করেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি আদালত।

২০১৬ সালে ওয়েস্টজেটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সাবেক কেবিন ক্রু ম্যান্ডালেনা লুইস।

তার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালে হাওয়াইয়ে একটি লে-ওভারের সময় ওয়েস্টজেটের এক পাইলট তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তার দাবি, একই পাইলট এর আগে ২০০৮ সালে আরেক নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকেও যৌন নির্যাতন করেছিলেন।

লুইস অভিযোগ করেন, তিনি ঘটনাটি ওয়েস্টজেটকে জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট পাইলটকে কাজে বহাল রাখা হয়। এমনকি তিনি দাবি করেন, পুলিশ যাতে হাওয়াইয়ে ওই পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে, সে জন্য তাকে অন্য রুটে পাঠানো হয়েছিল।

পরে ২০১৬ সালে লুইসকে ‘চরম অবাধ্যতার’ অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে লুইস ও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২০১৮ সালে ইউএস অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কেবিন ক্রুর ওপর একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মজীবনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সাবেক কেবিন ক্রু লুইসের নিপীড়নের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতা কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওয়েস্টজেট।

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট বলেছে, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা ওয়েস্টজেটের প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।