১৩ আগস্ট ২০২৬

মালদ্বীপে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মালদ্বীপে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা!
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রাশীদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন

মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রাশীদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষ করে পর্যটন, মানবসম্পদ ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক কল্যাণমূলক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

মানবসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে হুমায়ুন কবির মালদ্বীপকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানান।

দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালানো কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অপরাধীদের জন্য পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ই-গেট ও বডি স্ক্যানারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে থাকা কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হলে এআই-চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে তার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর মধ্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহজালালে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, কার্গো এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মুখমণ্ডল শনাক্ত করে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা যায়।

এআইভিত্তিক ভিডিও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্বাভাবিক আচরণও শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সন্দেহজনকভাবে একই স্থানে অবস্থান করলে, অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে কিংবা কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করতে পারে আধুনিক প্রযুক্তি। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতেও প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীরা লাগেজ, পোশাক বা শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বর্ণ লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করলে বডি স্ক্যানারসহ আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বেবিচকের এভসেক নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বেবিচকের নিজস্ব এভসেক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে গত দুই থেকে আড়াই বছরে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, অপরাধী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সংস্থাগুলো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ!

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তফসিলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এনআইডিতে জন্মতারিখ, নিজের ও পিতা-মাতার নাম সংশোধনে নতুন নিয়ম

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
এনআইডিতে জন্মতারিখ, নিজের ও পিতা-মাতার নাম সংশোধনে নতুন নিয়ম

জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন মাঠপর্যায়ের নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে নিজের নাম ও পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালকরা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

তবে শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণাদি বা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন নম্বর ১৭,০০,০০০০,০৬৪.২২.০৪৫.১৯ (অংশ-১)-৩০৫১ অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশোধনের আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিল করার ক্ষেত্রে কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (CMS) আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের তাঁদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পন্ন করা কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।

এ জন্য দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম তিনটি আবেদন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে সংযুক্ত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালক (অপারেশন্স)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। একইভাবে জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম এবং পিতা বা মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনও মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

নতুন নিয়মে জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিদেশফেরত শ্রমিকদের সরকারি ভাতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
বিদেশফেরত শ্রমিকদের সরকারি ভাতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিদেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য দেওয়া সরকারি ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে শ্রম অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী ও ফেরত আসা শ্রমিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশ থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একইসঙ্গে ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা থেকে দেওয়া ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বক্তারা বলেন, শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিদেশ যেতে অতিরিক্ত খরচ, দক্ষতার ঘাটতি, সীমিত শ্রমবাজার এবং বিদেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।


শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যেই এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির বড় সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির বড় সিদ্ধান্ত

দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে, সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।