৩ আগস্ট ২০২৬

আসিয়ানের সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ, যে কারণ দেখাল জোট

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬
আসিয়ানের সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ, যে কারণ দেখাল জোট

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (ASEAN) সদস্য হওয়ার আশা কার্যত ভেঙে গেল বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি)। জোটটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় এই দুই দেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই বললেই চলে।

ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই আঞ্চলিক জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও পেয়েছিল পোর্ট মোর্সবি। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, পূর্ব তিমুরই হতে যাচ্ছে আসিয়ানের শেষ বা ১১ তম সদস্য রাষ্ট্র। এরপর জোটের পরিধি আর বাড়ানো হবে না।

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে কাও কিম হোর্ন সরাসরি বলেন, ‘জোটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া এখানেই শেষ। আসিয়ান সনদের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কেবল ১১টি দেশকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত বলে বিবেচনা করা হয়। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমানার বাইরে।’

আসিয়ান সনদের মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন সদস্য নেওয়ার নিয়ম নির্ধারিত হয়। সেই সনদের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—আবেদনকারী দেশকে অবশ্যই স্বীকৃত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক হিসেবে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ, আর বাংলাদেশ অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়।

এখন ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ খোলা রয়েছে—যদি আসিয়ান তাদের মূল সনদ সংশোধন করে ভৌগোলিক সীমানার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। তবে সেই সংশোধনীর জন্য জোটের প্রতিটি সদস্য দেশের সম্মতি পাওয়া আবশ্যক।

আসিয়ান মহাসচিব এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানান, ‘যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ পরিবর্তন করছে এবং নতুন করে ভূগোলের সংজ্ঞা দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আসিয়ান বলতে কেবল এই ১১টি দেশকেই বোঝাবে।’

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের আসন নিশ্চিত করে পূর্ব তিমুর। ২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসা দেশটি সদস্যপদ পেতে কতটা কঠিন পথ পার হয়েছে, তা নিয়ে রসিকতা করে তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার বলেছিলেন, ‘আসিয়ানের ফটক পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ!’

আসিয়ানে ঢোকার জন্য বাংলাদেশও চেষ্টা কম করেনি। গত বছর মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল, তখন দেশটির সমর্থন আদায়ে বেশ কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রকাশ্যেই পাপুয়া নিউ গিনির পক্ষে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন।

২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর সম্মেলনে প্রাবোও বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাপুয়া নিউ গিনির অংশগ্রহণ প্রস্তাব করতে চাই। তারা আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বর্তমানের বিশ্বরাজনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আসিয়ান যত শক্তিশালী হবে, বিশ্বশক্তির দরবারে আমাদের কথা তত বেশি গুরুত্ব পাবে।’

উল্লেখ্য, পাপুয়া নিউ গিনি ১৯৭৬ সাল থেকেই আসিয়ানে ‘পর্যবেক্ষক’ দেশের মর্যাদা ভোগ করে আসছে, যার ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পায়। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের ক্ষেত্রে মূল বাধাই এখন দাঁড়িয়েছে আসিয়ানের ভৌগোলিক সীমান্ত নিয়মাবলী।

আসিয়ানের সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ, যে কারণ দেখাল জোট

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬
আসিয়ানের সদস্য হতে পারছে না বাংলাদেশ, যে কারণ দেখাল জোট

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (ASEAN) সদস্য হওয়ার আশা কার্যত ভেঙে গেল বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি)। জোটটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় এই দুই দেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই বললেই চলে।

ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই আঞ্চলিক জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও পেয়েছিল পোর্ট মোর্সবি। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, পূর্ব তিমুরই হতে যাচ্ছে আসিয়ানের শেষ বা ১১ তম সদস্য রাষ্ট্র। এরপর জোটের পরিধি আর বাড়ানো হবে না।

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে কাও কিম হোর্ন সরাসরি বলেন, ‘জোটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া এখানেই শেষ। আসিয়ান সনদের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কেবল ১১টি দেশকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত বলে বিবেচনা করা হয়। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমানার বাইরে।’

আসিয়ান সনদের মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন সদস্য নেওয়ার নিয়ম নির্ধারিত হয়। সেই সনদের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—আবেদনকারী দেশকে অবশ্যই স্বীকৃত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক হিসেবে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ, আর বাংলাদেশ অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়।

এখন ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ খোলা রয়েছে—যদি আসিয়ান তাদের মূল সনদ সংশোধন করে ভৌগোলিক সীমানার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। তবে সেই সংশোধনীর জন্য জোটের প্রতিটি সদস্য দেশের সম্মতি পাওয়া আবশ্যক।

আসিয়ান মহাসচিব এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে জানান, ‘যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ পরিবর্তন করছে এবং নতুন করে ভূগোলের সংজ্ঞা দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আসিয়ান বলতে কেবল এই ১১টি দেশকেই বোঝাবে।’

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ানের আসন নিশ্চিত করে পূর্ব তিমুর। ২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসা দেশটি সদস্যপদ পেতে কতটা কঠিন পথ পার হয়েছে, তা নিয়ে রসিকতা করে তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা একবার বলেছিলেন, ‘আসিয়ানের ফটক পার হওয়ার চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ!’

আসিয়ানে ঢোকার জন্য বাংলাদেশও চেষ্টা কম করেনি। গত বছর মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল, তখন দেশটির সমর্থন আদায়ে বেশ কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রকাশ্যেই পাপুয়া নিউ গিনির পক্ষে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন।

২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর সম্মেলনে প্রাবোও বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাপুয়া নিউ গিনির অংশগ্রহণ প্রস্তাব করতে চাই। তারা আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বর্তমানের বিশ্বরাজনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আসিয়ান যত শক্তিশালী হবে, বিশ্বশক্তির দরবারে আমাদের কথা তত বেশি গুরুত্ব পাবে।’

উল্লেখ্য, পাপুয়া নিউ গিনি ১৯৭৬ সাল থেকেই আসিয়ানে ‘পর্যবেক্ষক’ দেশের মর্যাদা ভোগ করে আসছে, যার ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পায়। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের ক্ষেত্রে মূল বাধাই এখন দাঁড়িয়েছে আসিয়ানের ভৌগোলিক সীমান্ত নিয়মাবলী।

বাংলাদেশে ৩৮০ পরিবারকে স্বাবলম্বী করল কাতার চ্যারিটি

বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিক পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন এবং তাদের টেকসই জীবিকা অর্জনে সহায়তা করতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ‘কাতার চ্যারিটি’ (Qatar Charity)। সংস্থাটির এই আয়বর্ধক সম্পদ বিতরণ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৩৮০টি পরিবার—অর্থাৎ প্রায় ১,৯০০ জন মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

দরিদ্রতার চক্র ভেঙে স্বাবলম্বী জীবন গড়ার লক্ষ্যে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মাঝে ১৪০টি মোটরচালিত রিকশা, ১৪০টি কার্গো ট্রাইসাইকেল এবং ১০০টি গ্রাইন্ডিং মেশিন টুলস বিতরণ করা হয়েছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব আধুনিক জীবনধারণ সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক, স্থানীয় কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল কাতার চ্যারিটির এই উদ্যোগের উচ্চসিত প্রশংসা করে বলেন:

"সাহায্যকে শুধু সাময়িক ত্রাণ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবারগুলোকে আয়বর্ধক সম্পদ প্রদান করা দারিদ্র্য মোকাবিলার একটি অত্যন্ত টেকসই পদ্ধতি। এটি অসহায় পরিবারগুলোকে মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেয়। বাংলাদেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাতার চ্যারিটি ও কাতারের উদারমনা জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"

কাতার চ্যারিটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জাকারিয়া আল-মুতাইরি জানান, সহায়তানির্ভরশীলতা কমিয়ে মানুষকে উৎপাদনশীল সম্পদের মালিক বানানোই কাতার চ্যারিটির মূল লক্ষ্য।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কাতার চ্যারিটি সাময়িক ত্রাণের চেয়ে টেকসই আয়ের উৎস তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেয়, যাতে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। ভবিষ্যতেও সারা বাংলাদেশে এ ধরনের জীবনমান উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উৎপাদনশীল সম্পদ হস্তান্তরের এই অনন্য উদ্যোগটি স্থানীয় দারিদ্র্য হ্রাস, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সৌদির নেতৃত্বে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২৬

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ সুরক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন এই জোট গঠন করা হয়েছে।

জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির একটি বড় অংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হলেও সেখানে চলমান অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব-লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর রুটও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, এই জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। অবশ্য লোহিত সাগরে ইইউর ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগেই চালু রয়েছে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন এই জোটের কার্যক্রম কীভাবে পৃথক হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

সৌদি আরব ছাড়া জোটের অন্য সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

তবে একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখনো এই জোটে যোগ দেয়নি। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেকোনো দেশের জন্য পরবর্তীতে এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বিশ্বাস করে যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা করা একটি যৌথ দায়িত্ব। আন্তঃদেশীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নতুন এই জোটে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা বিমান পাঠাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা তৈরি, সমন্বিত মহড়া ও সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, জোটটির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে, তবে সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে লোহিত সাগরমুখী তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের সাহায্যে পূর্বাঞ্চলের তেল শোধনাগার থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।

কিন্তু সেই তেলের বড় অংশ রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথের ইয়েমেন অংশটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বর্তমানে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
শাহজালালে বিমানের গাড়ির ধাক্কায় হাসপাতালে প্রবাসী যাত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি গাড়ি ধাক্কায় একজন দুবাই প্রবাসী যাত্রী আহত হয়েছেন।

এ দুর্ঘটনা ঘটে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে। আহত ওই যাত্রীর নাম জানা যায়নি, তবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সেই যাত্রী একটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দুবাই থেকে ছুটিতে এসে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি বিমান থেকে নামার পর দুর্ঘটনার শিকার হন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের র‍্যাম্পের অপারেটর হিসাবে ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেছেন, এয়ার এয়াবিয়ার ফ্লাইট থেকে নামার পরে ওই যাত্রী অসুস্থ বোধ করছিলেন। ওই ফ্লাইটের একজন স্টাফ তাকে বেরিয়ে বসার জন্য সাহায্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে র‍্যাম্প অপারেট সাইফুল গাড়ি পিছনে দিতে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ওই যাত্রী পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বিমানের এই কর্মকর্তা।

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের 'সিকিউরিপোর্ট'

চলতি সপ্তাহে সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় আসছেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের 'সিকিউরিপোর্ট'

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ঢাকায় একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিকিউরিপোর্ট নামে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে। ওই সময় একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে তারা। বর্তমান সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে চায়। এখনও টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গতকাল সোমবার রাতে সমকালকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল চালু করার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা রয়েছে।’

সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের ব্যাপারে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টির ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে হয়তো জানাতে পারব।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরার এ সপ্তাহে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

সিকিউরিপোর্ট মূলত সফটওয়্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। সিকিউরিপোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিপোর্টের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদান করে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য হলো স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে সক্ষম করে তোলা। অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও তারা কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিকিউরিপোর্ট আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সীমান্ত ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে তারা মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণসহ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটির ৯০ ভাগ কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেষ হয়। তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। এর বেশির ভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সংস্থাটি সহজ শর্তে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এসেছে।

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে থাকায় জাপানি কোম্পানির কাছে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল। জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। এরপর সিদ্ধান্ত।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আলহামুদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনার সময় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত রাজধানীর আসন্ন তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ডানাটার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন।

ডানাটা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, পণ্য পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ফলে প্রায় দেড় বছর বিমানবন্দরের এই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কাজ থমকে থাকে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। টার্মিনালটি চালু না হলেও গত জুন থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে।