২৫ জুলাই ২০২৬

দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে একমত ঢাকা-সিঙ্গাপুর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে একমত ঢাকা-সিঙ্গাপুর

আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুরের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

বৈঠকে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি বিনিময় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টিকে স্বাগত জানান।

এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার বাংলাদেশের আগ্রহ এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)-এ যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সিঙ্গাপুরের সমর্থন চান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করার চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তার কার্যকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের ইতিহাস তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি একই মেয়াদে আলাদা সময়ে ৩ জন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

বাংলাদেশে বি‌নি‌য়োগ চে‌য়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চি‌ঠি

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বাংলাদেশে বি‌নি‌য়োগ চে‌য়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চি‌ঠি

কাতারের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল জানায়, ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

বৈঠককালে খালিলুর রহমান কাতারের আমিরের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে বাংলাদেশে কাতারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসীর বাড়ির খাটের নিচ থেকে স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়ির খাটের নিচ থেকে স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিককে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগে লিজা বেগম নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মারুফ মাতুব্বর (২৬) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের হায়দার মাতুব্বরের ছেলে এবং অভিযুক্ত লিজা নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে ও কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের স্ত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মারুফের সঙ্গে লিজার ৬ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে ৪ বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে কুয়েত প্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর স্বামী কামরুল মাতুব্বর কুয়েত চলে যায়। এর মধ্যে প্রেমিক মারুফ মাতুব্বরও ইতালি উদ্দেশে যাওয়া লিবিয়ায় অবস্থান থেকে প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরত আসেন। এরপর থেকে মারুফ ও লিজার মধ্যে আবারও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে প্রেমিক মারুফকে প্রেমিকা লিজা ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন এবং আসার পর দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় প্রেমিকা লিজা প্রেমিক মারুফের মাথায় আয়রন মেশিন (ইস্ত্রি) দিয়ে আঘাত করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মারুফ।

পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো উপায় না দেখে গলায় ক্যাবল পেঁচিয়ে খাটের নিচে লুকিরে রাখে। কিন্তু ঘরের ভেতরের হট্টগোল ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি টের পান আশপাশের লোকজন। পরে তারা সন্দেহের জেরে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে লিজার খাটের নিচ থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং লিজাকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত মারুফের বাবা হায়দার মাতুব্বর বলেন, ‘আমার ছেলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

রাজৈর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের মরদেহ মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত লিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের শাটল বাস সার্ভিস। বয়স্ক, শিশু নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার, শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চালুর পর বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। লাগেজ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, বাসের দীর্ঘ বিরতি এবং প্রচারণার ঘাটতির কারণে অধিকাংশ যাত্রী এখনও হেঁটেই বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন।

গত ৮ জুলাই বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এই সেবার উদ্বোধন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি বাস টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বিমানবন্দর বাসস্টেশন, জসিম উদ্দীন সড়ক, বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও কাওলা হয়ে পুনরায় বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পুরো সেবাই বিনামূল্যে।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের নকশা বিমানবন্দরের যাত্রীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদেশফেরত ও বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সাধারণত বড় বড় লাগেজ থাকে। কিন্তু বাসে লাগেজ রাখার আলাদা কোনো র্যাক বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো কোলে বা চলাচলের পথেই রাখতে হয়। এতে যাত্রীদের ওঠানামা যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক সময় বাসে মাত্র একজন বা দু-একজন যাত্রী থাকছে। আবার বাসের জন্য আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না চেয়ে বেশিরভাগ যাত্রী ভারী লাগেজ কাঁধে নিয়েই বিমানবন্দর সড়ক বা রেলস্টেশনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

অনেক যাত্রী জানান, তারা শাটল বাস সেবা চালুর বিষয়টিই জানতেন না। বিদেশফেরত এক প্রবাসী বলেন, পাঁচ মিনিট হেঁটেই বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছানো যায়, তাই আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। তার মতে, ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর বাস চললে যাত্রী বাড়বে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বাস চালু করলেই হবে না, যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনাও নিশ্চিত করতে হবে। বাসে লাগেজ রাখার আলাদা ব্যবস্থা, কম সময়ের ব্যবধানে সার্ভিস পরিচালনা এবং বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় কার্যকর প্রচারণা চালানো হলে এই সেবা প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সত্যিকারের স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও সেবাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রচারণা ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী ২৯ জুলাই থেকে ঢাকা-দিল্লি রুটে সপ্তাহের প্রতিদিন (৭ দিন) নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনটি। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটন এবং পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে AI 237 নম্বর ফ্লাইটটি প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে এবং দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অন্যদিকে, ঢাকার AI 238 নম্বর ফিরতি ফ্লাইটটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছাবে। এই নতুন সূচির ফলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতের চাহিদা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারত এখনও বাংলাদেশি যাত্রীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। এছাড়া উচ্চশিক্ষা, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে ভ্রমণ করেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও যাত্রীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা। অনেকের মতে, পর্যাপ্ত ফ্লাইট থাকলেও ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাই ভ্রমণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ভারতীয় ভিসা পরিষেবা দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে। তবে ট্রাভেল এজেন্ট ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও বিস্তৃত করা গেলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে যাত্রী চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শুধু আকাশপথ নয়, স্থলপথেও ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিদিনের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত ঢাকা-দিল্লি রুটে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণ সুবিধা বাড়াবে এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে এই রুটে ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।