২৫ জুলাই ২০২৬

বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

জোর করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকেছে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা।

ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর এটিই মসজিদটিতে ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর পুলিশ পাহারায় আল-আকসায় ঢোকেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

প্রাচীনকালে জেরুজালেমে ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়। সেই মন্দির মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেই ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি ও শিক্ষার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অনেকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে চরম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। বয়স্করা ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার তল্লাশিচৌকিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।

টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক নগরী ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরো বিধ্বংসী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ইরানে টানা ১৩ রাতের মতো অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার জেরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে পর পর বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরের একটি এলাকায় শত্রুপক্ষের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ ও কোনারাক শহরেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ ও আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায়, রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে উচ্চ সতর্কতাবস্থায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকা ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’-এ চালানো হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন।

হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতিকে উদ্ধৃত করে ফারস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে মেহর বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের প্রধান শহর আহভাজেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি উড়ন্ত বস্তু বা ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও পাওয়া গেছে।

আরো বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আক্রমণ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে।

ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিবার আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সামনে আরো শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

পারমাণবিক চুক্তি ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস; সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
পারমাণবিক চুক্তি ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস; সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন সমীকরণ

সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে বলেন যে, সৌদি আরবের সাথে একটি যুগান্তকারী চুক্তি হয়েছে। এটি রিয়াদকে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দিচ্ছে। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশটি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের শর্তে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কী

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’।

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাব্য শর্ত হিসেবে "সব দেশকে অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করার" আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে করা একগুচ্ছ চুক্তি, যা ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।

এর আগে বুধবার চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অবশ্য বলেননি যে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমঝোতা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের স্বাক্ষরকারী দেশ।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সৌদি আরবের যোগদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তেলবাহী জাহাজে আগুন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
তেলবাহী জাহাজে আগুন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করল ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রণালিটির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা একটি পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে এক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে থাকা আরও দুটি জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় পড়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে অন্য জাহাজগুলোর পরিণতিও একই হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট ও সার সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। তাদের ২৫তম পর্বের 'অপারেশন নাসর ২'-এর অংশ হিসেবে ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই জোরালো আঘাত হানা হয়। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল শহরে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পরপরই অন্তত ছয়টি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

পাশাপাশি জর্ডানের বাদশাহ ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-ফিফটিন প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র এবং কনটেইনারে থাকা আটটি নতুন এমকিউ-নাইন ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, একটি হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় দুটি ভারি মার্কিন হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সামরিক আউটপোস্টে আঘাত হানার ফলে বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে।

সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি কংগ্রেসে জমা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এতে এমন সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে উপকরণ ব্যবহারের পথ রোধ করার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে আসছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যেই কংগ্রেসে ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নথি জমা দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুলআজিজ বিন সালমান সই করবেন।

গত বছর রিয়াদে তারা এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৪ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার উল্লেখ করে তৈরি করা হয়েছে। সৌদি আরবে বহু বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক শিল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দিতে এ ধরনের চুক্তি বাধ্যতামূলক।

পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে সৌদি

চুক্তিতে তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই মানদণ্ড থাকলে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে পারত না। অথচ এই দুটি কার্যক্রমই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে চুক্তি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এছাড়া চুক্তিতে ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রটোকল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) কোনো দেশের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর আরও বিস্তৃত ও কঠোর তদারকির ক্ষমতা দেয়। এর মধ্যে ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।

একটি সূত্র জানায়, প্রশাসন বুধবারের মধ্যেই চুক্তিটি কংগ্রেসে জমা দিতে পারে। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, এটি এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়া হবে। তৃতীয় একটি সূত্র, যা সুরক্ষাব্যবস্থা অনুপস্থিত কি না সে বিষয়ে কিছু বলেনি, শুধু জানিয়েছে যে চুক্তিটি খুব শিগগিরই জমা দেয়া হবে।

ক্রিস রাইট আগে বলেছিলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নয় এবং এতে অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টে উল্লেখিত সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধী মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর মানদণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তবে একটি সূত্র জানায়, চুক্তিটি পারমাণবিক জ্বালানি চক্রে—যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও রয়েছে—সহযোগিতার জন্য একটি আইনি পথ তৈরি করে। তবে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সংশ্লিষ্ট কোনো সক্ষমতা বা প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে না।

অস্ত্র বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এ কারণে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২০১৮ সালে সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেছিলেন, “সৌদি আরব কোনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে চায় না। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করব।”

হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন খলিল আল-হাইয়া।

সোমবার ফিলিস্তিনের ইসলামি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে।

গত বছর তেহরানে শীর্ষ হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ, গাজায় সিনওয়ার এবং সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর আল-হাইয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণকারী আল-হাইয়া ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত রয়েছেন।