২৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি আছে, কোথায় সেগুলোর অবস্থান?

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি আছে, কোথায় সেগুলোর অবস্থান?
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ও এর দক্ষিণে নির্মাণাধীন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বুধবার ৩০ বছরের একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। তবে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির ধরন ভিন্ন ভিন্ন।

ইরান
ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক। ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দেশটির কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পর পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ তোলে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে ইরান সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ায়।

ইসরায়েল
ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, দেশটির কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য নয় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকেও তাদের কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ দেয় না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে দেশটি। বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ তদারকিতে পরিচালিত হয় এই কর্মসূচি।


তুরস্ক
তুরস্কের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে রাশিয়ার সহায়তায় আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে দেশটি, যা জাতীয় বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন।


মিসর
রাশিয়ার সহযোগিতায় এল-দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে মিসর। এটি চালু হলে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। অতীতে সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির চেষ্টা থাকলেও বর্তমানে দেশটির কর্মসূচি বেসামরিক।


ইরাক
সাদ্দাম হোসেনের আমলে ইরাক গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেছিল। তবে বিভিন্ন সামরিক হামলা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের পর সেই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অংশীদার খুঁজছে দেশটি।

সৌদি আরব
সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে। চুক্তিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অঞ্চলটির প্রতিবেশী পাকিস্তানও একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ভারতের সঙ্গে প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে দেশটি কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

৭৪ বছর পর মিলল নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ

যে বিমান দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল আকাশপথের নিরাপত্তা

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
যে বিমান দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল আকাশপথের নিরাপত্তা

প্রায় সাড়ে সাত দশক আগে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হওয়া প্যান অ্যাম এয়ারওয়েজের ‘ক্লিপার এন্ডেভার’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। পুয়ের্তো রিকোর উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে এ ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও উচ্চ-রেজ্যুলেশনের সোনার প্রযুক্তির সহায়তায় এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং ডিপ সি ভিশনের যৌথ অনুসন্ধানকারী দল বিমানটির অবস্থান নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনার ৭৪ বছর পর এ আবিষ্কার সম্ভব হলো।

১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল ডগলাস ডিসি-৪ মডেলের বিমানটি ৬৪ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু নিয়ে পুয়ের্তো রিকো থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ডান পাশের দুটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পাইলট বাধ্য হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন।

প্রাথমিক আঘাতে বিমানের সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও কার্যকর উদ্ধারব্যবস্থার অভাব, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং উড্ডয়নের আগে জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে যাত্রীদের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই বিমানটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত হন। জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ১৭ জনকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার, জরুরি নির্গমন পথ এবং লাইফ র‍্যাফট সম্পর্কে যে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়, তার প্রচলন এই দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়।

বর্তমানে এয়ার/সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন পুয়ের্তো রিকো সরকারের সহযোগিতায় ধ্বংসাবশেষের স্থানটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ফুটবলের বাইরে কেপ ভার্দে, আগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা এক দেশের গল্প

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ০৪, ২০২৬
ফুটবলের বাইরে কেপ ভার্দে, আগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা এক দেশের গল্প


আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দশটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম কাবো ভার্দে। বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি নতুন করে আলোচনায় এলেও এর পরিচয় শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগুন, সমুদ্র এবং টিকে থাকার এক অনন্য ইতিহাস বহন করে এই দ্বীপদেশ।

লাখ লাখ বছর আগে সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্টি হয় কেপ ভার্দের দ্বীপগুলো। সেই ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাক্ষী ফোগো দ্বীপের পিকো দো ফোগো আগ্নেয়গিরি। প্রায় তিন হাজার মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিতে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। লাভার স্রোতে গ্রাম বিলীন হয়েছে, মানুষ হারিয়েছে ঘরবাড়ি। তবু প্রতিবারই তারা ফিরে এসেছে, নতুন করে ঘর বানিয়েছে, আঙুরের বাগান করেছে এবং জীবন শুরু করেছে।

প্রকৃতির দিক থেকেও কেপ ভার্দে বৈচিত্র্যে ভরপুর। কোথাও খাড়া পাহাড়, কোথাও শুষ্ক আগ্নেয় সমভূমি, আবার কোথাও নীল সমুদ্রঘেরা বালুকাবেলা। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটি খরা ও পানির সংকটের সঙ্গে লড়াই করেছে। তবু সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এখানকার মানুষ গড়ে তুলেছে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ, যা আফ্রিকার অন্যতম সফল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত।

দেশটির আরেকটি বিশেষ পরিচয় এর মানুষ। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশের চেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ানের সংখ্যা আরও বেশি। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা এখনও মাতৃভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

এই আবেগের প্রতিফলন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কেপ ভার্দের সংগীতে। দেশটির কিংবদন্তি শিল্পী সিজারিয়া এভোরা, যিনি দ্য বেয়ারফুট ডিভা নামে পরিচিত, তাঁর গানে উঠে এসেছে সমুদ্রযাত্রা, অপেক্ষা, ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের গল্প। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে একটি জাতির স্মৃতি ও আত্মপরিচয়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দে হয়তো ফুটবলের নতুন বিস্ময়। তবে মাঠের বাইরের গল্পটি আরও গভীর। এটি এমন এক দেশের গল্প, যার জন্ম আগুনে, জীবন সমুদ্রের সঙ্গে এবং যার মানুষেরা বারবার প্রমাণ করেছে প্রতিকূলতার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে আশা ও সাহস।

ব্যাখ্যা দিলেন বিশেষজ্ঞরা

যে কারণে ভেনেজুয়েলায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
যে কারণে ভেনেজুয়েলায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি: বিবিসি

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পের পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল চাপ। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানই এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বাইরের স্তর বা ভূত্বক কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এগুলো অনেকটা জিগস পাজলের খণ্ডের মতো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্রমাগত খুব ধীর গতিতে সরে যাচ্ছে। বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার করে এই সঞ্চালন ঘটে, যা মানুষের নখ বৃদ্ধির গতির কাছাকাছি।

উত্তর ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি প্লেট একে অপরের তুলনায় ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তাদের কিছু অংশ আটকে যায়।

এর ফলে বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে প্লেটগুলো হঠাৎ সরে যায় বা নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

এই আকস্মিক নড়াচড়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয়, যা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক জোড়া ভূমিকম্পের পেছনেও একই প্রক্রিয়া কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।