১০ আগস্ট ২০২৬

টয়লেটে ফোন নিচ্ছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
টয়লেটে ফোন নিচ্ছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি!

সকালে টয়লেটে ঢুকে মাত্র দুই মিনিট ভেবে ফোন হাতে নেন। এরপর ফেসবুক, রিলস বা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে ১৫–২০ মিনিট কেটে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা— টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই অভ্যাস শুধু সময় নষ্টই নয়, এটি পাইলস, অ্যানাল ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে মলদ্বার ও পেলভিক অংশের শিরাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে ফোন ব্যবহার করলে মানুষ শরীরের স্বাভাবিক মলত্যাগের সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকে। এতে মল কোলনে বেশি সময় থেকে শক্ত হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।হিন্দুস্তান টাইমসের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন তথ্য।

১০ মিনিটের বেশি টয়লেটে থাকলে যা হতে পারে

পাইলস (হেমোরয়েড): দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যেতে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।

অ্যানাল ফিশার: শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বারে ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য: স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস ব্যাহত হলে মল আরও শক্ত হয়ে যায়, ফলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

পেলভিক ফ্লোরের ওপর চাপ: একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পেলভিক পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতার কারণ হতে পারে।

পাইলস কি কোলন ক্যানসারে পরিণত হয়?

চিকিৎসকদের মতে, পাইলস থেকে কোলন ক্যানসার হয় না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগ।তবে সমস্যাটি অন্য জায়গায়। অনেক সময় কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ— যেমন মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য— মানুষ ভুল করে পাইলস ভেবে অবহেলা করেন। ফলে প্রকৃত রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং ক্যানসার অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যদি দীর্ঘদিন রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন

টয়লেটে ফোন বা অন্য কোনো স্ক্রিন ডিভাইস ব্যবহার না করাই ভালো।

৫–১০ মিনিটের মধ্যে মলত্যাগের কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খান।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জায়গা নয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় সেখানে বসে থাকা একটি ছোট অভ্যাস মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি পাইলস, ফিশার ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। পাশাপাশি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে কখনোই শুধু পাইলস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে গুরুতর রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।

আইনি ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা

কাতারে আপনার নিয়োগকর্তা কি আপনার পাসপোর্ট রেখে দিতে পারেন?

কাতারে আপনার নিয়োগকর্তা কি আপনার পাসপোর্ট রেখে দিতে পারেন?
কাতারে বসবাসরত দেশি-বিদেশি সকল শ্রমিকের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির কঠোর শ্রম আইন রয়েছে। ক্ষতিপূরণ, কর্মঘণ্টা, কিংবা কাজের পরিবেশের পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংরক্ষণের বিষয়েও আইন অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

অনেক প্রবাসী কর্মীরই একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—নিয়োগকর্তা বা কফিল কি আইনিভাবে কর্মীর পাসপোর্ট নিজের কাছে জমা রেখে দিতে পারেন? কাতার শ্রম আইন অনুযায়ী এর স্পষ্ট উত্তর ও করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো।

নিয়োগকর্তা কি কাতারে পাসপোর্ট আটকে রাখতে পারেন?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।

২০১৫ সালে কাতার সরকার ২০১৫ সালের ২১ নং আইন জারি করে, যা দেশটির কর্মীদের প্রবেশ, প্রস্থান এবং বসবাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ন্ত্রণ করে (আইনটি ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়)। এই আইনে কর্মীদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্তকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনের ধারা ৮(৩)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি পারমিট (আকামা/ভিসা) প্রক্রিয়াকরণ বা নবায়নের কাজ শেষ হওয়ার পর অবিলম্বে প্রবাসী কর্মীকে তাঁর পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। কেবল যদি কর্মী নিজে লিখিতভাবে আবেদন করে তাঁর পাসপোর্ট নিয়োগকর্তার কাছে গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ জানান, তবেই তা রাখা যাবে। তবে কর্মী যেকোনো সময় তা ফেরত চাইলে নিয়োগকর্তা তা ফেরত দিতে বাধ্য।

আইন লঙ্ঘন করলে বা পাসপোর্ট ফেরত না দিলে শাস্তি কী?

যদি কোনো নিয়োগকর্তা কর্মীর সম্মতি ছাড়া বা কর্মীর চাওয়ার পরও পাসপোর্ট ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

  • জরিমানা ও শাস্তি: ২০১৫ সালের ২১ নং আইনের বিধান অনুযায়ী, ধারা ৮(৩) লঙ্ঘনকারী কোনো নিয়োগকর্তা বা কোম্পানিকে কর্মী প্রতি সর্বোচ্চ ২৫,০০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

আপনার পাসপোর্ট ফেরত না পেলে করণীয় কী?

আপনার নিয়োগকর্তা যদি বেআইনিভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখেন, তবে আপনি নিচের দুটি উপায়ে প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা পেতে পারেন:

১. নিজ দেশের দূতাবাস: প্রথম দফায় আপনার নিজ দেশের দূতাবাসে বিষয়টি অবহিত করে কূটনৈতিক সহায়তা চাইতে পারেন।

২. শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ (Ministry of Labour): সরাসরি কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়ে আইনি অভিযোগ দায়ের করা।

শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি

কাতারের 'শ্রম মন্ত্রণালয়' (MoL)-এর নির্ধারিত হটলাইন (১৬৫০৫)-এর তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো শ্রম-সম্পর্কিত অভিযোগ বা পাসপোর্ট আটকে রাখার বিষয়টি সমন্বিত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে দায়ের করা যায়:

  • প্রথম ধাপ: প্রথমে প্রশাসনিক সেবার অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে আপনার কাতার আইডি (QID) বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে সাইন-ইন (Sign-in) করুন।
  • দ্বিতীয় ধাপ: শ্রম বিরোধ ব্যবস্থাপনা (Labor Dispute) বিভাগে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিবরণ ও তথ্যাদি পূরণ করে পাসপোর্ট না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে অভিযোগ সাবমিট করুন।
  • তৃতীয় ধাপ: সফলভাবে আবেদন জমা হওয়ার পর শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আপনার মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস (SMS) পাঠানো হবে, যেখানে নির্দিষ্ট শ্রম কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ বা শুনানির তারিখ উল্লেখ থাকবে।
  • চূড়ান্ত ধাপ: নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে আপনার অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রম মন্ত্রণালয় উক্ত নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং আপনার পাসপোর্ট উদ্ধারে সহায়তা করবে।
কাতারের আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি আইন ভেঙে এটি নিজের কাছে আটকে রাখতে পারে না। এ ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলে কোনো ভয় না পেয়ে সরাসরি শ্রম মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ধূমপান করেন? মুখের এসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
ধূমপান করেন? মুখের এসব লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত

ধূমপান যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে, এমন ধারণা অনেকেরই। অথচ প্রতিদিন অতিরিক্ত সিগারেটের ধোঁয়া নীরবে আঘাত হানতে পারে মুখ, জিভ, মাড়ি ও গলাতেও। শুরুতে মুখে ছোট একটি ঘা, গলা ব্যথা বা স্বরের পরিবর্তনের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের কিছু কিছু মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই বিশেষ করে নিয়মিত ধূমপায়ীদের এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবন এ ধরনের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। কারণ শুরুতে যে উপসর্গগুলো দেখা দেয়, সেগুলো সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণ বলেই মনে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন ধূমপায়ীরা?

মুখে ঘা

মুখ বা ঠোঁটে এমন কোনো ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা দুই থেকে তিন সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় ধরে সারবে না। সাধারণ ওষুধ ব্যবহার করেও যদি ক্ষত ভালো না হয়, তবে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জিহ্বায় আলসার

জিহ্বার নিচে বা গোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী আলসার দেখা দিতে পারে। সাধারণ আলসার ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে গেলেও ক্যানসারের ক্ষেত্রে ক্ষত দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি জিহ্বা সাদা বা লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। খাবার চিবানো, গিলতে বা কথা বলতে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

মাড়ির সমস্যা

মাড়িতে ফোলা, ফোস্কার মতো ক্ষত, বারবার সংক্রমণ বা রক্তপাত হলে সতর্ক হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি।

গলার স্বরের পরিবর্তন

কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি গলার স্বর বদলে যায় বা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা ব্যথা ও স্বর ভাঙা থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

কানে অকারণ ব্যথা

এক বা দুই কানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, কিংবা কান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হওয়াও মুখ ও গলার ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

দীর্ঘদিনের শুকনো কাশি

দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বা দুর্গন্ধযুক্ত কফ বের হওয়া উদ্বেগজনক লক্ষণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

করণীয় কী?

এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গগুলো যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ বা মুখগহ্বরের রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা করে আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
রঙ চায়ে কেন দুধ মেশাল ব্রিটিশরা? জানুন সেই অদ্ভুত কারণ

বাঙালির দিন শুরু হয় এক কাপ দুধ-চা দিয়ে। এ যেন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই দুধ-চায়ের পেছনে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর এক ইতিহাস, যেখানে জড়িয়ে আছে আভিজাত্য, কৌশল আর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।

চায়ের জন্মভূমি চীন। সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই চা পান করা হতো নিখাদভাবে শুধু গরম পানি আর চা-পাতার সংমিশ্রণে। এটি ছিল এক ধরনের ঔষধি পানীয়, পরে যা ধীরে ধীরে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। চিনি বা দুধ মেশানোর ধারণা তখনো সেখানে অজানা ছিল।

১৭শ শতকে চা ইউরোপে পৌঁছালে যুক্তরাজ্যে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে তখনকার চীনামাটির কাপগুলো খুব নাজুক ছিল। ফুটন্ত গরম চা ঢাললেই ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যা এড়াতে ব্রিটিশরা কাপে আগে ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে তারপর গরম চা যোগ করতে শুরু করে। এতে কাপ রক্ষা পেত, পাশাপাশি চায়ের তিক্ততাও কিছুটা কমে যেত।

এই অভ্যাস ধীরে ধীরে সামাজিক পরিচয়ের অংশে পরিণত হয়। ধনীরা তুলনামূলক বেশি চা ও কম দুধ ব্যবহার করলেও, নিম্নবিত্তরা খরচ বাঁচাতে দুধ বেশি দিয়ে অল্প চা মিশিয়ে পান করত।

পরবর্তীতে ১৯শ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতীয় উপমহাদেশ-এ চা চাষ শুরু করে। আসাম, দার্জিলিং ও সিলেট হয়ে ওঠে চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। শুরুতে এসব চা ইউরোপে রপ্তানি হলেও স্থানীয় মানুষ তখনো চা পানে অভ্যস্ত ছিল না।

২০শ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনা করে। তারা লক্ষ্য করে, উপমহাদেশের মানুষ দুধ ও মিষ্টিতে অভ্যস্ত। তাই রেলস্টেশন, কলকারখানা ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দুধ-চা বানানো শেখানো শুরু হয়। এই বিপণন কৌশল দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।

তবে উপমহাদেশীয় মানুষ ব্রিটিশদের শেখানো নিয়মে থেমে থাকেনি। বরং তারা দুধ-চাকে নিজের মতো করে বদলে নেয় যোগ করে আদা, এলাচসহ নানা মসলা। ফলে জন্ম নেয় এক নতুন স্বাদ, যা আজকের ‘মসলা চা’ বা ‘দুধ চা’ হিসেবে পরিচিত।

চায়ের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে, এক কাপ দুধ-চা শুধু পানীয় নয় এতে মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের বহুস্তরীয় গল্প।

চাচাতো-খালাতো-মামাতো বোনকে বিয়ে করলে কী হয়, গবেষকদের সতর্কবার্তা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
চাচাতো-খালাতো-মামাতো বোনকে বিয়ে করলে কী হয়, গবেষকদের সতর্কবার্তা
চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে বিশ্বের অনেক সমাজেই দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখা, সম্পদ ধরে রাখা কিংবা সামাজিক রীতিনীতির কারণে চাচাতো, মামাতো, খালাতো বা ফুফাতো ভাইবোনের (ফার্স্ট কাজিন) মধ্যে বিয়ের প্রচলন পৃথিবীর বহু সমাজেই বেশ পুরনো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণা এই ধরনের বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের এই পারিবারিক সিদ্ধান্তটি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে অনাগত সন্তানের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত 'বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড' নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় এই বিষয়ে কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ১৩ হাজার শিশুর ওপর করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এমন দম্পতিদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জিনগত বা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানোর আশঙ্কা সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ দম্পতিদের ক্ষেত্রে যেখানে এই ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ, সেখানে ফার্স্ট কাজিনদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে প্রায় ৬ শতাংশে দাঁড়ায়।

বংশগত রোগের মূল কারণ হলো মা ও বাবা উভয়ের শরীর থেকে একই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ জিনের সন্তানের শরীরে প্রবেশ করা। যেহেতু কাজিনদের পূর্বপুরুষ একই, তাই তাদের মধ্যে একই ধরনের জিনগত ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, কাজিনদের বিয়ে করলেই সব সন্তান অসুস্থ হবে এমন নয়; অনেক পরিবারেই সম্পূর্ণ সুস্থ-সবল শিশু জন্ম নিচ্ছে।

সমস্যার গভীরতা শুধু রক্তের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে ‘এন্ডোগামি’ বা সমগোত্রীয় বিবাহ প্রথাও বড় ভূমিকা রাখে। যখন একটি নির্দিষ্ট জাতি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিজেদের মধ্যেই বিয়ের রীতি ধরে রাখে, তখন রক্তের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও জিনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই ঝুঁকির কারণে ইউরোপের নরওয়েতে ইতিমধ্যেই কাজিনদের মধ্যে বিয়ে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সুইডেনও একই পথে হাঁটছে।

যুক্তরাজ্য অবশ্য আইনগত নিষেধাজ্ঞার চেয়ে সচেতনতা ও ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’ বা বিয়ের আগে জিন পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। এদিকে আধুনিক শিক্ষা ও সচেতনতার প্রভাবে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের ভাবনাতেও বড় পরিবর্তন আসছে।

তারা এখন পারিবারিক ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সতর্কতা বিবেচনা করে আত্মীয়দের বাইরে জীবনসঙ্গী বাছতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
স্ত্রী থেকে স্বামী কতদিন দূরে থাকতে পারেন? জানুন ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান

পবিত্র ও নির্মল এক সম্পর্কের নাম দাম্পত্য জীবন। সুস্থ সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও মানুষের চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের বিকল্প নেই। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী সর্বদা কাছাকাছি থাকবে এটাই স্বাভাবিক ধারা এবং ইসলামী শরিয়তেও এটিই কাম্য। তবে জীবিকার প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনো কারণে (যেমন: ব্যবসা, প্রবাস বা জরুরি সফর) স্বামী যদি দূরে যান, তবে কতদিন দূরে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে দূরে থাকলেও চার মাসের মধ্যে অন্তত একবার স্ত্রীর কাছে ফিরে আসতে হবে। কারণ, নারীরা সাধারণত তাঁদের স্বামী থেকে সর্বোচ্চ চার মাস পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।

এই বিধানের ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসন আমলে। এক রাতে প্রজাদের খোঁজখবর নেওয়ার সময় তিনি বিরহকাতর এক নারীর কবিতা শোনেন, যার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদের ময়দানে ছিলেন। পরদিন খলিফা তাঁর কন্যা হযরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, নারীরা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারে? হযরত হাফসা (রা.) জানান, সর্বোচ্চ চার মাস। এরপর থেকে হযরত ওমর (রা.) কোনো মুজাহিদকে চার মাসের বেশি বাড়ির বাইরে রাখতেন না।

তাই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দূরে থাকা শরিয়ত সমর্থন করে না। তবে কোনো স্বামী যদি বিশেষ প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সময় দূরে থাকতে চান, তবে অবশ্যই স্ত্রীর স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। স্ত্রী যদি সানন্দে অনুমতি দেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে উভয়েরই চরিত্র ও পবিত্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে, তবেই চার মাসের বেশি দূরে থাকা জায়েজ হবে।

প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা তাকি উসমানী তাঁর ‘ইসলাহী খুতবাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, চার মাসের কম সময়ের সফরে স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন না হলেও, চার মাসের বেশি সময় হলে সফরটি যতই বরকতপূর্ণ (যেমন: হজ বা দ্বীনি দাওয়াত) হোক না কেন, স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

তবে চার মাসের কম সময় হলেও, যদি স্বামী বা স্ত্রীর কোনো একজনের গুনাহ বা পাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে চার মাসের কম সময়ও দূরে থাকা যাবে না। ইসলামে স্ত্রীর ওপর স্বামীর অভিভাবকত্ব থাকলেও স্বামীর ব্যাপারে স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।