অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টারম্যাকে এক ভয়াবহ মুখোমুখি দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে দুটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ। শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজ দুটি থামানো সম্ভব হলেও এই আকস্মিক ঘটনায় একজন কেবিন ক্রু আহত হয়েছেন এবং কাতার এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার সিডনি বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (ATSB)। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী:
অস্ট্রেলীয় বিমান সংস্থা জেটস্টারের (Jetstar) একটি এয়ারবাস এ৩২০ (A320) উড়োজাহাজ কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছিল। রানওয়ে অতিক্রমের সময় ক্রসিং ট্যাক্সিওয়েতে ফ্লাইট ক্রুরা একটি এয়ারক্রাফট টাগ (Tug) দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া কাতার এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ৭৭৭-এর মুখোমুখি চলে আসেন। বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে উভয় উড়োজাহাজকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ব্রেক কষে আকস্মিকভাবে থামানো হয়।
আকস্মিক ও জোরে ব্রেক করার ঝাঁকুনিতে জেটস্টারের একজন কেবিন ক্রু সদস্য আহত হন। অন্যদিকে, কাতার এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটির সামনের চাকা এবং সেটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া টাগবোটের মধ্যকার সংযোগ অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস (Qantas) তদন্ত শুরু করেছে।
জেটস্টারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁদের পাইলটরা সম্পূর্ণভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) নির্দেশনা অনুসরণ করছিলেন। তবে অন্য উড়োজাহাজটি বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে আসায় দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করতে বাধ্য হন তাঁরা।
এ বিষয়ে কাতার এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশাল দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে এমন মুখোমুখি পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সিডনি বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড ট্রাফিক কন্ট্রোল ও এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেফটি ব্যুরোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর ঘটনার আসল কারণ স্পষ্ট হবে।
(তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো)