পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল থানায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন।
রবিবার (২ আগস্ট) সোয়াত পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল কারিমি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডন-কে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
মালাকান্দ বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অফ পুলিশ ফিদা হুসাইন জানান, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
সোয়াত জেলার পুলিশ অফিসার (ডিপিও) উমর খান জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী প্রবেশদ্বার দিয়ে থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে থামান এবং তল্লাশি করতে যান। ঠিক তখনই সে শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা কর্ডন করে ঘিরে ফেলেছে এবং আলামত সংগ্রহে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় কাবাল থানার কাছেই ‘কাবাল চক’-এ সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে শত শত মানুষ একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিচ্ছিলেন। সমাবেশের শেষ বক্তার বক্তব্য চলাকালীন এই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজি জানিয়েছেন, ৯ জন ভিকটিমের মরদেহ সাইদু শরীফ সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং ৫ জনের মরদেহ কাবাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এ ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এবং মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তারা ঘটনাটির তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।