১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিনামূল্যে পর্যটক ভিসা চালু করছে ওমান

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
বিনামূল্যে পর্যটক ভিসা চালু করছে ওমান

বিদেশি নাগরিকদের আবাসন আইনের কার্যনির্বাহী বিধিমালার সংশোধনী হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

নতুন এই নিয়মের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশের যোগ্য নাগরিকেরা কোনো ফি ছাড়াই ১৪ দিন মেয়াদী পর্যটন ভিসা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।

আকর্ষনীয় বিষয় হলো, এই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীরা চাইলে প্রযোজ্য নিয়ম ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে এটিকে অন্য যেকোনো পর্যটন ভিসা ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করতে পারবেন।

কার্যনির্বাহী বিধিমালার ধারা ১০ এবং এন্ট্রি ভিসার অফিসিয়াল শিডিউলের ধারা ২৯-এ এই নতুন ভিসা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এর ফি শূন্য ওমানি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কোন কোন দেশের নাগরিকেরা এই ফ্রি ভিসার সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি ওমান কর্র্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটিতে প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাবলীল করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওমানে অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ওমানে অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

ওমানে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাস্কাটে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি কর্মীদের জন্য আকাবা-ব্যবস্থার বৈধকরণ ও নিয়মিতকরণ বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে। গৃহকর্মীসহ ওমানে অবস্থানরত সব অবৈধ বিদেশি কর্মী এ সুবিধার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি ভিজিট ভিসায় আগতরাও এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পরিবারবর্গ এ সুবিধার আওতায় থাকবেন না।

এ ব্যবস্থার আওতায় কর্মস্থল বা কফিল পরিবর্তন করা যাবে। এ জন্য আগের নিয়োগকর্তার অনুমতি বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হবে না।

দূতাবাস জানিয়েছে, যারা বর্তমানে এএসইজেডএ জোনে কাজ করছেন, তারা বর্তমান বা নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বিলম্বজনিত কোনো জরিমানায় থাকলে তা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ পাবেন। এ জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে হবে।

এ ছাড়া যারা জর্দান একেবারেই ছেড়ে চলে যেতে চান, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য জরিমানা মওকুফের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অবৈধ বিদেশি কর্মীদের সুবিধা দিতে এএসইজেডএ তাদের নিয়মিত অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় সেবা দিচ্ছে। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে। আগে যারা এ ধরনের সুবিধা নিয়েছেন, তারাও পুনরায় এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এ বিষয়ে আরো তথ্যের প্রয়োজন হলে সরাসরি এএসইজেডএ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দূতাবাসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

ওমানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাক ও গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৬, আহত ১৮

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ওমানে  মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাক ও গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৬, আহত ১৮

ওমানের সামাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

রয়্যাল ওমান পুলিশ জানিয়েছে, সামাইলের ওয়াদি বানি রাওয়াহা এলাকায় মাস্কাটগামী সুলতান থুওয়াইনি বিন সাঈদ সড়কে একটি ট্রাক ও বেশ কয়েকটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ শুরুতে ওই এলাকার দিকে আসা গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেও তখন হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে শনিবার সকালে দেওয়া পরবর্তী এক হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ ছয়জনের মৃত্যু ও ১৮ জনের আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

পরবর্তী বিবৃতিতে দুর্ঘটনার স্থানটি সামাইলের আল মাহাল এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ এখন পর্যন্ত সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সাউথ আল বাতিনাহ গভর্নরেট নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী শিপিং করিডর চালুর আলোচনায় ইরান ও ওমান

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী শিপিং করিডর চালুর আলোচনায় ইরান ও ওমান

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী শিপিং করিডর চালু এবং প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খোলার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের অবস্থান থেকে তেহরান সরে আসেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ছয় মাসের দিকে গেলেও আলোচনার গতি ধীর বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমান—দুই দেশই সরাসরি সংশ্লিষ্ট। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই যেত।

কেন ওমান গুরুত্বপূর্ণ

মাঝ জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তাতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো ঠিক করার দায়িত্ব ইরান ও ওমানের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল—এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ে।

এখন আলোচনায় কী আছে

ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার তেহরানে আলোচনায় একটি কাঠামো প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেছেন—যার মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী করিডর ও মাইন অপসারণের প্রকল্প। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, অস্থায়ী করিডর এবং ‘নিরাপদ নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ দ্রুত ঘোষণার আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, এরপর প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে কাজ হবে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে। আর উপসাগর থেকে বের হওয়া জাহাজ ওমানের জলসীমা হয়ে পরে আবার ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী করিডর নিয়ে সমঝোতা হলে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী রুটের খুঁটিনাটি ঠিক করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যুক্ত আছে এবং ব্যবহৃত মানচিত্র সশস্ত্র বাহিনী করেছে।


এদিকে আইআরজিসি বুধবার বলেছে, প্রণালিতে ফি আরোপ করা হলে সেই রাজস্ব ইরান ও ওমান কীভাবে ভাগ করবে—সে বিষয়েও তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই ধরনের ফি আরোপের ধারণার বিরোধিতা করে আসছে।

কেন গতি ধীর

তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ তুলে নেয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া প্রণালি পুরোপুরি খোলার সিদ্ধান্ত হবে না। গারিবাবাদি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভঙ্গ করা সব অঙ্গীকার পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইয়েমেন পরিস্থিতির সমাধানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে।’

অন্যদিকে ওমান চাইছে নৌচলাচলের বিষয়টি যতটা সম্ভব বৃহত্তর সংঘাত থেকে আলাদা রাখতে। এএফপিকে ওমানি গবেষক আবদাল্লাহ বাবউদ বলেন, ওমান ও ইরান মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির শাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছে—এ কারণেই গতি ধীর।

ওয়াশিংটনের অবস্থান

ইরান-ওমানের যৌথ বিবৃতির পর যুক্তরাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান এই দাবি মানে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প ওমানকে বোমা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন—যদি দেশটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পথে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ায়’।

এই অবস্থায় তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকা ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করা—দুই দিক সামলাতে হচ্ছে মাস্কাটকে।

বিপাকে ওমান প্রবাসী বয়স্ক কর্মীরা: নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিপাকে ওমান প্রবাসী বয়স্ক কর্মীরা: নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর

৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসী কর্মীদের নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া ও বিদ্যমান পারমিট নবায়ন বন্ধ ঘোষণা করেছে ওমান। এরই মধ্যে কয়েকজন প্রবাসীর পারমিট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহে নিয়োগদাতাদের করা পারমিট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রবাসী। বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হচ্ছে না।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত অনেক প্রবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওমান সরকার ৬০ বছর পার হওয়ার পরও প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সুযোগ দিয়েছিল। অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখাই ছিল ওই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই নীতির কার্যত বিপরীত অবস্থানে ফিরল ওমান। তবে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সেবা চালু থাকলেও, সেখানে বর্তমানে বয়সসীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোলাজ ছবি : গেটি ইমেজেস/রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে নৌপথ ও নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানকে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে, আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে 'পূর্ণ আক্রমণাত্মক' (Fully Offensive) নীতি গ্রহণ ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে তৈরি হওয়া নতুন সংঘাত ও উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরা হলো:

ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি ও মাস্কাট-তেহরান আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ও মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত ওমানের বিরুদ্ধে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঠোর হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

  • ট্রাম্পের মন্তব্য: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌঅবরোধ বা বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণে ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে বোমাবর্ষণের হুমকি দেন ট্রাম্প।

  • ওমান-ইরান নৌরুট সমঝোতা: বিপরীতে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে তেহরান ও মাস্কাট একটি স্বাধীন রূপরেখা ও 'শিপিং ম্যাপ' চূলচেরা বিশ্লেষণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • সরাসরি যোগাযোগের দাবি প্রত্যাখ্যান: ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে যোগাযোগ করছে, তবে আইআরজিসির মুখপাত্র তাসনিম নিউজ এজেন্সির কাছে এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের 'পূর্ণ আক্রমণাত্মক' নীতি ও সময়সীমা

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন নৌঅবরোধ ভাঙতে ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় তেহরান কৌশলগত নীতি পরিবর্তন করেছে।

  • সামরিক হামলা ও অবরোধ ভঙ্গ: কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার চুক্তি প্রয়োগ না করলে ইরান হরমুজ প্রণালীসহ পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে সুনির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলা চালাবে।

  • কয়েক সপ্তাহের সময়সীমা: পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কয়েক সপ্তাহের সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিচ্ছে ইরান।

৬০ দিনের স্মারকের মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বর্তমান সংকট

গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার ওপর একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

তবে সোমবার এই চুক্তিটির নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হলেও চূড়ান্ত কোনো নিষ্পত্তি অর্জিত হয়নি। ওয়াশিংটন এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও তেহরান দাবি করেছে এই স্মারক কোনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেনি। বিশ্বমানের জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে জ্বালানি খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।