১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

বিএমইটি কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি, হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রবাসী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একটি কাজ অপরিহার্য তা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি। আপনার দরকার ডেটাবেইজ, প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবসা জরুরি নয়। ডেটাবেজ হবে এনআইডি ও পাসপোর্ট উভয়ের ডেটার সমন্বয়ে। কোন নাগরিক কোন দেশে, কোন নিয়োগকর্তার অধীনে আছেন, এই তথ্য থাকলে প্রবাসী শ্রমিকের অসুস্থতা, কর্মহীনতা, সিরিয়াস দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুতে তাকে বা তার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়া যায়।

পাশাপাশি লাশ ফেরানো, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতে সরিয়ে আনা, মজুরি না পেলে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ইত্যাদির জন্য নিখুঁত রেজিস্ট্রেশন দরকার। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ ও বিএমইটি কি সব কাজ ঠিকঠাক করছে? যদি না করে, তাহলে রেজিস্ট্রেশনের নামে তাদের হয়রানির অধিকার কে দিয়েছে?

তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, প্রবাসীদের ক্রমাগত হয়রানি থামাতে, BMET-কে গেটকিপার থেকে রেজিস্ট্রারে রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ শ্রমিকদের নিবন্ধন প্লাস্টিক কার্ড থেকে সরিয়ে ডেটাবেসভিত্তিক করতে হবে। সঠিক ডেটাবেজের জন্য দরকার-

১। পাসপোর্ট, এনআইডি তথ্য সঠিকতা। এসব তথ্য ম্যানুয়াল ফিল হবে না, সার্ভার থেকে অটোমেটিক আসবে সিকিউর এপিআই করে।
২। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা (শিক্ষা বোর্ডের ও TTC-র সাথে সরাসরি এপিআই করা ভেরিফিকেশন)। এখানে হার্ড কপি সার্টিফিকেট যাচাই পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
৩। ভিসা যাচাই এবং প্রবাসী এমব্যাসির এন্ডোর্সমেন্ট। এটা শতভাগ অনলাইন ও এপিআইভিত্তিক হতে হবে।
৪। হেলথ চেক। এখানেও ভিন্ন ভিন্ন দেশের অ্যাপ্রুভড ক্লিনিকের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা ভেরিফিকেশন রাখতে হবে।
এর পরে আসবে- দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও লাশ ফেরানোর মত বীমার তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স সুবিধাদির তথ্য। বিদেশে কর্মহীন থাকার তথ্য এবং নেসেসারি সাপোর্ট।

সাবেক ও বর্তমান সরকার এপিআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে হয় জ্ঞান রাখে না, নচেৎ দুর্নীতি ও ঘুষচক্র জারি রেখে দালালচক্র পালাই তাদের উদ্দেশ্য। ফলে তারা এখনও হার্ডকপি পেপার ভেরিফিকেশনের একটা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। একের পর এক নিম্নমান সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেবার নামে হয়রানি চলছে।

বিএমইটির কার্ডের পুরো জাস্টিফিকেশনটাই করা হয়েছিল প্রি-ডিপার্চার ট্রেইনিংকে, আর অথেন্টিক ডকুমেন্টস (জব, ভিসা) বাধ্যতামূলক করতে। অথচ বিএমইটি কার্ড দিয়ে ঘুষ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। শুধুমাত্র বৈধ ভিসা যাচাই এবং মেডিক্যাল, কিংবা লাশ ফেরানো ও বীমা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিএমইটির জাস্টিফিকেশন থাকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টিটিসি (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার)গুলার সার্টিফিকেশন রিয়েল-টাইম এপিআই ভেরিফিকেশনও করা যায়। যেহেতু হেলথ করানো হয় বিদেশি এমব্যাসিগুলোর ট্রাস্টেড পার্টনার থেকে, তাই এসব ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট অনলাইন এপিআই দিয়ে যাচাই করা সহজ হবার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশে বিএমইটি ভিসার বৈধতা, দক্ষতার সনদ, পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট কিংবা মেডিক্যাল সনদ ইত্যাদির রিয়েল-টাইম ডেটাবেজ সাপেক্ষে যাচাই করতে পারে না। ফলে এখানে জাল ডকুমেন্টের ছড়াছড়ি। এমতাবস্থায় বিএমইটি থাকার যৌক্তিকতা কোথায়? বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি করা আর ম্যানপাওয়ার ব্যবসার নামে দালাল পোষার জন্য?

বাংলাদেশ ভারত-নেপালের প্রবাসী শ্রমিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ভারতের মডেলটিই সবচেয়ে শিক্ষণীয়, এবং কারণটি ফি নয় বরং সেবার পরিধি। ভারতে ছাড়পত্র লাগে কেবল তাঁদের, যাঁদের পাসপোর্টে ECR সিল আছে, অর্থাৎ যাঁরা দশম শ্রেণি পাস করেননি।

মাধ্যমিক পাস করলেই ECNR ক্যাটাগরি, কোনো ছাড়পত্র লাগে না। এবং ছাড়পত্র লাগলেও তা কেবল নির্দিষ্ট ১৮টি দেশের জন্য। পুরো প্রক্রিয়া( emigrate ডট gove ডট in) এ অনলাইন, ফি ₹২০০, আবেদনের দিনই POE ছাড়পত্র দেন। অনলাইনে এবং হয়রানি ছাড়া।

অর্থাৎ ভারত প্রবাসী সেবা অনলাইন ও পলিসিভিত্তিক সহজ ও উন্মুক্ত করে সংস্থার আওতা সংকুচিত করেছে। শিক্ষার একটি ন্যূনতম মান পার হলেই রাষ্ট্র ধরে নিচ্ছে, নাগরিক নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। বাস্তবে এটা কাজ করছে।

২০১৫ সাল থেকে নেপাল তাদের ‘ফ্রি ভিসা, ফ্রি টিকিট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে, যেখানে সাতটি প্রধান গন্তব্যে ভিসা ও বিমানভাড়া নিয়োগকর্তার দায়। এর ফলে নেপালের প্রবাসী শ্রমিকও বেড়েছে, দালালের দৌরাত্ম্য ও খরচ দুটোই কমেছে।

ভারতে POE / eMigrate (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এর মাধ্যমে দূতাবাস-সত্যায়িত চুক্তিপত্র এবং নিয়োগকর্তার নিবন্ধন করে থাকে। কেবল ECR পাসপোর্টধারী, কেবল ১৮টি দেশের জন্য ছাড়পত্র লাগে। অদক্ষ শ্রমিক ও নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক।

ফলে যাচাইয়ের একটি প্রকৃত ভিত্তি থাকে। বাংলাদেশে সেই ভিত্তিটিই দুর্বল, ফলে ছাড়পত্র হয়ে দাঁড়ায় একটি সিল, যাচাই নয়। চাইলে ইমিগ্রেশনের ফোর-ট্র্যাক সফটওয়্যারেও একটি প্রবাসী সাপোর্ট ডেটা ফিল্ড খোলা যায়। এখানে ভিসা-পাসপোর্ট ম্যাপিং ডেটাবেজ, মেডিক্যাল রেকর্ড এবং TTC-র সনদের রিয়েল-টাইম API যাচাই সম্ভব। কোনো নতুন প্রকল্প লাগে না, বিদ্যমান সিস্টেমের ইন্টারঅপারেবিলিটি করলেই হয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় প্রায় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ-সৌদি আরব, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ-কাতার, বাংলাদেশ-আরব আমিরাত, বাংলাদেশ-কুয়েত করিডোরে BBS-এর হিসাবে গড় খরচ ৪.১৭ লাখ টাকা, যা তুলতে লাগে ১৭.৬ মাস।

বাস্তবে ঘুষ দালালচক্র এবং এয়ারপোর্ট কমিশনের পরে লাগে ৫ লাখের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ।
প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে, ফালতু সফটওয়্যারের হয়রানিমূলক নিবন্ধন সিস্টেম আমূল সংস্কার করুন। বিএমইটি কার্ডের হয়রানি থেকে প্রবাসীদের মুক্ত করুন।

স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে নারীর অবস্থান

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে নারীর অবস্থান

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে সৌদিআরব প্রবাসী এনামুল হকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান করছেন হ্যাপি আক্তার (২৭) নামের এক নারী।

দেবিদ্বার পৌরসভার বারেরা গ্রামের বদুরুদ্দি হাজী বাড়িতে গত বুধবার থেকে তিনি অবস্থান নিয়েছেন । হ্যাপি আক্তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। এনামুল হকের সঙ্গে এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে।

ভুক্তভোগী হ্যাপী আক্তার জানায় , দেবিদ্বার পৌরসভার বারেরা গ্রামের মৃত মনু মিয়ার প্রবাসী ছেলে এনামুল হকের সঙ্গে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়।

এরপর তাঁরা সৌদির জেদ্দা শহরের আলকোমরা এলাকার হোটেল জিম্মসহ বিভিন্ন স্থানে একসাথে বসবাস করতেন। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হ্যাপিকে দুই বছর আগে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন এনামুল।

বাবার বাড়ি হ্যাপী একটি ছেলে হয়। স্ত্রী সন্তানের সাথে এনামুল নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং ভরন পোষনের খরচ পাঠাতেন। তবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে নিজ ঘরে তুলে না নিয়ে দীর্ঘ দিন তালবাহানা করায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্বামীর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন তিনি।

হ্যাপি অভিযোগ করেন, "তার বাড়িতে আসার কারণে স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে আমাকে এবং আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে ঘরে তুলে না নিলে সন্তানকে নিয়ে এখানেই আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।"

এদিকে এনামুলের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে অবস্থানরত এনামুলের দেশে অপর একটি সংসার রয়েছে এবং সেই সংসারে তাঁর দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

বিষয়টি জানতে প্রবাসী এনামুলের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, হ্যাপীর সাথে তার বিয়ে হলেও বর্তমানে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তাই তাকে স্ত্রী হিসেবে সে গ্রহণ করবে না। তবে ইকরামুল তার ছেলে বলে স্বীকার করেন এনামুল।

এনামুলের ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন বলেন, "আমার ভাই দেশে এলে সন্তান ও বিয়ের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আমরা ছেলের ডি এন এ টেস্ট করাবো, যদি সে আমার ভাইয়ের ছেলে হয় তবে তাকে আমরাই লালন পালন করবো।

যোগাযোগ করা হলে বৃহস্পতিবার রাত আটটায় দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি এবং ম্যানপাওয়ার ব্যবসার তীব্র সমালোচনা হাসনাত আবদুল্লাহর

বিএমইটি কার্ডের নামে প্রবাসীদের হয়রানি, হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রবাসী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একটি কাজ অপরিহার্য তা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি। আপনার দরকার ডেটাবেইজ, প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবসা জরুরি নয়। ডেটাবেজ হবে এনআইডি ও পাসপোর্ট উভয়ের ডেটার সমন্বয়ে। কোন নাগরিক কোন দেশে, কোন নিয়োগকর্তার অধীনে আছেন, এই তথ্য থাকলে প্রবাসী শ্রমিকের অসুস্থতা, কর্মহীনতা, সিরিয়াস দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুতে তাকে বা তার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়া যায়।

পাশাপাশি লাশ ফেরানো, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতে সরিয়ে আনা, মজুরি না পেলে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ইত্যাদির জন্য নিখুঁত রেজিস্ট্রেশন দরকার। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ ও বিএমইটি কি সব কাজ ঠিকঠাক করছে? যদি না করে, তাহলে রেজিস্ট্রেশনের নামে তাদের হয়রানির অধিকার কে দিয়েছে?

তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, প্রবাসীদের ক্রমাগত হয়রানি থামাতে, BMET-কে গেটকিপার থেকে রেজিস্ট্রারে রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ শ্রমিকদের নিবন্ধন প্লাস্টিক কার্ড থেকে সরিয়ে ডেটাবেসভিত্তিক করতে হবে। সঠিক ডেটাবেজের জন্য দরকার-

১। পাসপোর্ট, এনআইডি তথ্য সঠিকতা। এসব তথ্য ম্যানুয়াল ফিল হবে না, সার্ভার থেকে অটোমেটিক আসবে সিকিউর এপিআই করে।
২। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা (শিক্ষা বোর্ডের ও TTC-র সাথে সরাসরি এপিআই করা ভেরিফিকেশন)। এখানে হার্ড কপি সার্টিফিকেট যাচাই পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
৩। ভিসা যাচাই এবং প্রবাসী এমব্যাসির এন্ডোর্সমেন্ট। এটা শতভাগ অনলাইন ও এপিআইভিত্তিক হতে হবে।
৪। হেলথ চেক। এখানেও ভিন্ন ভিন্ন দেশের অ্যাপ্রুভড ক্লিনিকের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা ভেরিফিকেশন রাখতে হবে।
এর পরে আসবে- দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও লাশ ফেরানোর মত বীমার তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স সুবিধাদির তথ্য। বিদেশে কর্মহীন থাকার তথ্য এবং নেসেসারি সাপোর্ট।

সাবেক ও বর্তমান সরকার এপিআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে হয় জ্ঞান রাখে না, নচেৎ দুর্নীতি ও ঘুষচক্র জারি রেখে দালালচক্র পালাই তাদের উদ্দেশ্য। ফলে তারা এখনও হার্ডকপি পেপার ভেরিফিকেশনের একটা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। একের পর এক নিম্নমান সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেবার নামে হয়রানি চলছে।

বিএমইটির কার্ডের পুরো জাস্টিফিকেশনটাই করা হয়েছিল প্রি-ডিপার্চার ট্রেইনিংকে, আর অথেন্টিক ডকুমেন্টস (জব, ভিসা) বাধ্যতামূলক করতে। অথচ বিএমইটি কার্ড দিয়ে ঘুষ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। শুধুমাত্র বৈধ ভিসা যাচাই এবং মেডিক্যাল, কিংবা লাশ ফেরানো ও বীমা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিএমইটির জাস্টিফিকেশন থাকে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টিটিসি (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার)গুলার সার্টিফিকেশন রিয়েল-টাইম এপিআই ভেরিফিকেশনও করা যায়। যেহেতু হেলথ করানো হয় বিদেশি এমব্যাসিগুলোর ট্রাস্টেড পার্টনার থেকে, তাই এসব ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট অনলাইন এপিআই দিয়ে যাচাই করা সহজ হবার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশে বিএমইটি ভিসার বৈধতা, দক্ষতার সনদ, পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট কিংবা মেডিক্যাল সনদ ইত্যাদির রিয়েল-টাইম ডেটাবেজ সাপেক্ষে যাচাই করতে পারে না। ফলে এখানে জাল ডকুমেন্টের ছড়াছড়ি। এমতাবস্থায় বিএমইটি থাকার যৌক্তিকতা কোথায়? বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি করা আর ম্যানপাওয়ার ব্যবসার নামে দালাল পোষার জন্য?

বাংলাদেশ ভারত-নেপালের প্রবাসী শ্রমিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ভারতের মডেলটিই সবচেয়ে শিক্ষণীয়, এবং কারণটি ফি নয় বরং সেবার পরিধি। ভারতে ছাড়পত্র লাগে কেবল তাঁদের, যাঁদের পাসপোর্টে ECR সিল আছে, অর্থাৎ যাঁরা দশম শ্রেণি পাস করেননি।

মাধ্যমিক পাস করলেই ECNR ক্যাটাগরি, কোনো ছাড়পত্র লাগে না। এবং ছাড়পত্র লাগলেও তা কেবল নির্দিষ্ট ১৮টি দেশের জন্য। পুরো প্রক্রিয়া( emigrate ডট gove ডট in) এ অনলাইন, ফি ₹২০০, আবেদনের দিনই POE ছাড়পত্র দেন। অনলাইনে এবং হয়রানি ছাড়া।

অর্থাৎ ভারত প্রবাসী সেবা অনলাইন ও পলিসিভিত্তিক সহজ ও উন্মুক্ত করে সংস্থার আওতা সংকুচিত করেছে। শিক্ষার একটি ন্যূনতম মান পার হলেই রাষ্ট্র ধরে নিচ্ছে, নাগরিক নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। বাস্তবে এটা কাজ করছে।

২০১৫ সাল থেকে নেপাল তাদের ‘ফ্রি ভিসা, ফ্রি টিকিট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে, যেখানে সাতটি প্রধান গন্তব্যে ভিসা ও বিমানভাড়া নিয়োগকর্তার দায়। এর ফলে নেপালের প্রবাসী শ্রমিকও বেড়েছে, দালালের দৌরাত্ম্য ও খরচ দুটোই কমেছে।

ভারতে POE / eMigrate (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এর মাধ্যমে দূতাবাস-সত্যায়িত চুক্তিপত্র এবং নিয়োগকর্তার নিবন্ধন করে থাকে। কেবল ECR পাসপোর্টধারী, কেবল ১৮টি দেশের জন্য ছাড়পত্র লাগে। অদক্ষ শ্রমিক ও নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক।

ফলে যাচাইয়ের একটি প্রকৃত ভিত্তি থাকে। বাংলাদেশে সেই ভিত্তিটিই দুর্বল, ফলে ছাড়পত্র হয়ে দাঁড়ায় একটি সিল, যাচাই নয়। চাইলে ইমিগ্রেশনের ফোর-ট্র্যাক সফটওয়্যারেও একটি প্রবাসী সাপোর্ট ডেটা ফিল্ড খোলা যায়। এখানে ভিসা-পাসপোর্ট ম্যাপিং ডেটাবেজ, মেডিক্যাল রেকর্ড এবং TTC-র সনদের রিয়েল-টাইম API যাচাই সম্ভব। কোনো নতুন প্রকল্প লাগে না, বিদ্যমান সিস্টেমের ইন্টারঅপারেবিলিটি করলেই হয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় প্রায় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ-সৌদি আরব, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ-কাতার, বাংলাদেশ-আরব আমিরাত, বাংলাদেশ-কুয়েত করিডোরে BBS-এর হিসাবে গড় খরচ ৪.১৭ লাখ টাকা, যা তুলতে লাগে ১৭.৬ মাস।

বাস্তবে ঘুষ দালালচক্র এবং এয়ারপোর্ট কমিশনের পরে লাগে ৫ লাখের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ।
প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে, ফালতু সফটওয়্যারের হয়রানিমূলক নিবন্ধন সিস্টেম আমূল সংস্কার করুন। বিএমইটি কার্ডের হয়রানি থেকে প্রবাসীদের মুক্ত করুন।

কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এনামুল। একই সঙ্গে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা ও খলিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা বেগমকে বিয়ে করেন এনামুল ফকির। পরে সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে যান। এনামুলের দাবি, প্রবাসে থাকা অবস্থায় পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করেন।

এনামুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে তিনি তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর কাছে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চান।

তার দাবি, এ সময় তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার দেখানো হয়। পরে স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো সিটি গোল্ড বলে জানানো হয়। টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী ও তার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনামুল।

এনামুল জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা বেগম। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

তানজিলার সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন খলিল। তিনি বলেন, এনামুল যে অভিযোগ করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

খলিলের সাবেক স্ত্রীর দাবি, দাম্পত্য জীবনে খলিল তাকে বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করতেন। তাদের চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক ও নিয়মিত চ্যাটিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এনিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে খলিলকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তানজিলাকে ঘিরে এর আগেও নানা আলোচনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে স্থানীয়দের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ এবং তানজিলা-খলিলকে ঘিরে কথিত সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের তদন্তের পর এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মোবাইল ফোনে ঝগড়ার জেরে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মোবাইল ফোনে ঝগড়ার জেরে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঠালখাই (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তামান্না আক্তার জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ নাসিমা বেগম দম্পতির মেয়ে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে তামান্না আক্তার জলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়াত বেগম নামের ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর তার স্বামী সৌদি আরব চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একাধিকবার বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে গত - দিন আগে জলি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ঘটনার দিন রোববার সারাদিন মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে জলির তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি বসতঘরের শোয়ার ঘরের চালের তীরের লোহার আংটার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

সময় তার ১৩ মাস বয়সী শিশু সন্তান চিৎকার করে উঠলে বাবা আব্দুল মজিদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে ঘরে যান। তারা জলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট জেলার গোয়ালাবাজারস্থ ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী আমিরাতে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে ভিসা বাতিলের কারণ জানতে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কী কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জুলাই থেকে তাদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইল, কারও মোবাইল ফোনে এবং কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ায় আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।

এক প্রবাসী জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগ নেই। আমিরাতে তার ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি দেশে আটকা পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।ই-পেপার সাবস্ক্রাইব করুন

এদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।