৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকার একটি বাসায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রেমিকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাব বলছে, ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দে সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। এছাড়াও, এই ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও (২৩) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিফাত উল্লাহ একজন কাতার প্রবাসী। গত দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে চলে আসেন। তার সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, গ্রেফতার সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না।

গত (২৫ আগস্ট) নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারে, সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানার পর নেহার সঙ্গে সাজিদের প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে।

অন্যদিকে, একসঙ্গে লেখাপড়ার সুবাদে গ্রেফতার আল আমিন হোসেন জয়ের সঙ্গে নেহার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যিনি একই এলাকার বড় ভাই এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, নেহা অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট ভাড়া নিয়ে তার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ওই বাসায় সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে নেহার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন নেহার বাসায় আসেন। ওই সময় জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। তারা ওই বাসায় ঢুকলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে ইয়াসিন ও রাজু আহত হয়। তখন তারা নিচে নেমে আসে।

তাদের পিছন পিছন সিফাতও নিচে নেমে এসে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করে। তখন জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পিছন থেকে ইট ছুঁড়ে মারে। এতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে এবং অন্যরা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয়রা সিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।

আরও পড়ুন

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হন কাতার প্রবাসী সিফাত, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার ৩

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকার একটি বাসায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রেমিকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাব বলছে, ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দে সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। এছাড়াও, এই ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও (২৩) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সিফাত উল্লাহ একজন কাতার প্রবাসী। গত দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে চলে আসেন। তার সঙ্গে নাফিজা শেখ নেহার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, গ্রেফতার সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না।

গত (২৫ আগস্ট) নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারে, সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি জানার পর নেহার সঙ্গে সাজিদের প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে।

অন্যদিকে, একসঙ্গে লেখাপড়ার সুবাদে গ্রেফতার আল আমিন হোসেন জয়ের সঙ্গে নেহার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যিনি একই এলাকার বড় ভাই এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, নেহা অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট ভাড়া নিয়ে তার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ওই বাসায় সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে নেহার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন নেহার বাসায় আসেন। ওই সময় জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। তারা ওই বাসায় ঢুকলে সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে ইয়াসিন ও রাজু আহত হয়। তখন তারা নিচে নেমে আসে।

তাদের পিছন পিছন সিফাতও নিচে নেমে এসে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করে। তখন জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পিছন থেকে ইট ছুঁড়ে মারে। এতে সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় তার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে এবং অন্যরা তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয়রা সিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।

আরও পড়ুন

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণার অভিযোগে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে গবেষণা করা হয়েছে। প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন।

নোটিশে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা ম্যাডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তাসহ ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য ওনাকে স্টাডি করতে হয়েছে, এক প্রকার রিসার্চ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা— এই বিষয়টি আমাদের একটি বড় অগ্রাধিকার।

এক সপ্তাহে ১২ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠাল সৌদি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
এক সপ্তাহে ১২ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠাল সৌদি

সৌদি আরবে আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ১৬৫ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ১২ হাজার ৩৬৩ জনকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ১২১ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৬৩৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪০৮ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩১৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪১ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। দেশ থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৩৭ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ২৪০ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া কিংবা কাজে নিয়োজিত করার অভিযোগে আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৯ হাজার ৭৭৩ জন প্রবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৮৪৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯২৮ জন নারী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাতার প্রবাসী যুবক খুন

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে সিফাত উল্লাহ (৩০) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছে।

আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বান্ধবী নাজিফা শেখ (২৩) জানিয়েছেন, বিকেলে তার বন্ধু সিফাত বাসায় দেখা করতে এসেছিলেন। সেখানে ওই এলাকার জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ৬-৭ জন তাদের বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোরপূর্বক ধরে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে রাজিব ও ইয়াসিন নামে দুজনও আহত হয়।

তিনি বললেন, গুরুতর আহত সিফাত উল্লাহকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত দুই যুবকও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

আহত রাজিব ওরফে রাব্বি জানিয়েছেন, বড়ইতলার ওই বাসায় অনৈতিক কাজ চলছিল, এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তিনি বলেন, ঐ বাসায় গেলে এক যুবক আমাদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা এগিয়ে গেলে সে ছুরিকাঘাত করে। সেখানে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আমরা আহত হই।

এদিকে নাজিফা শেখ বলেছেন, ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তার দুই বছর ধরে সম্পর্ক। সামনে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা চলছে। নিজেকে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী দাবি করে নাজিফা বলেন, ঘটনাস্থলের ওই বাসাটি আমার এক বড় বোনের। জয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে ওই বাসায় মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করত। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাদের ওই বাসায় না আসতে বলেছিলেন। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল।

হাসান নামে নিহতের এক বন্ধু হাসপাতালে এসে বলেন, সিফাত উল্লাহ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে তিনি ব্যবসা করতেন। নিহতের পরিবারের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত ছিলেন ছোট।

সিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান।

সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, কাতার প্রবাসী এই যুবক তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে আসলে মহল্লার বখাটে কয়েকজন যুবক মিলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে দিলে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তিনি জানান, লাস্ট ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল মার্কেট রাখা হয়েছে। আজ সোমবার ময়না তদন্ত শেষ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করা তরুণীকে গ্রেফতার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ৬ দিন অনশন করার পর রাহেনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত ৩টায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে ২টি বিয়ে হয়েছে। ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা যায়, ওই তরুণী মূলত একজন পেশাদার প্রতারক। ধনী যুবকদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা। তার প্রকৃত নাম: রাহেনা আক্তার, পিতা: নুরুল আলম, বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, উপজেলার উত্তর পায়ুং গ্রামের বাসিন্দা।

বিভিন্ন সময় ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত আরো কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি একাধিকবার বিয়েও করেছেন এবং ধনী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার কৌশল ছিল।

গ্রেপ্তার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।

রাহেনার আরও দাবি করে, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।

অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এর আগে ইমন হোসেনের মা বলেন, তার ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। প্রবাসে অবস্থানকালে কিছু দিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছে।

ইমনের মা আরও বলেন, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা আক্তার তাদের বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছে। এতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। সবশেষ কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ৫ দিন অনশনে থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাহেনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।