৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিসা আবেদনে ভুয়া নথির ছড়াছড়ি:

আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট

বছর দুই আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান বাংলাদেশী তরুণ আকিব হোসেন (প্রকৃত নাম নয়)। ভিসার জন্য তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জোগান দেয় গুলশানের একটি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কনসালট্যান্সি ফার্ম। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এ তরুণের পক্ষে ব্যাংকে ৬০ লাখ টাকার আমানত স্থিতি দেখানো সম্ভব ছিল না।

সেজন্য ওই ফার্মটির মধ্যস্থতায় দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা জমা দেয়া হয়। বিনিময়ে ওই ব্যাংক থেকে দেয়া হয় ৬০ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। এজন্য জমাকৃত টাকা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সার্ভিস ফি কেটে নেয় ব্যাংকটি।

আকিব হোসেনের মতো উচ্চ শিক্ষার জন্য গত বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান রাফসান আহমেদ। স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে ব্যাংক স্টেটমেন্টও কম দেখাতে হয়। তার প্রয়োজন ছিল ১২ লাখ টাকার সলভেন্সি সার্টিফিকেট। তবে সেই সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য রাফসান আহমেদকে কোনো ব্যাংকেই যেতে হয়নি। উত্তরার একটি স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং সেন্টার তাকে ওই স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দিয়েছিল। এজন্য তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যান। এ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেখাচ্ছেন। ব্যাংকে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আমানত আছে, এমন স্টেটমেন্ট দেখানোর জন্য দেশের অনেক ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এটি ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা ও কনসালট্যান্সি ফার্মের বড় ব্যবসা হয়ে উঠেছে। ভুয়া স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতারণামূলক এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস উদ্বেগ জানিয়েছে। নিজেরা বিবৃতি দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে অনেক দেশের দূতাবাস। আর এসব দেশে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীসহ ভ্রমণ ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

চলতি বছরের ৭ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সাক্ষাৎ করেন। ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়ার বিষয়টি সেই সাক্ষাতে তুলে ধরেন সারাহ কুক।

উদ্বেগজনক এমন প্রেক্ষাপটে গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর পরও ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক স্টেটমেন্ট দেয়ার কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।

বরং অভিনব কৌশলে বিদেশগামী শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের নামে ঋণ সৃষ্টি করে, পরবর্তী সময়ে সে অর্থই আমানত দেখিয়ে ব্যাংকগুলো সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিচ্ছে। বেশকিছু ব্যাংক নানা মাধ্যমে এ ধরনের ঋণ দেয়ার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। উচ্চ শিক্ষাবিষয়ক কনসালট্যান্সি ফার্মসহ ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ বিদেশ গমনেচ্ছুদের সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থী, কনসালট্যান্সি ফার্ম, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে বণিক বার্তা। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা নিরুপায় হয়ে অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন। আর কনসালট্যান্সি ফার্ম ও ব্যাংকগুলোর বক্তব্য হলো, গত এক দশকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের স্টেটমেন্ট কিংবা সার্টিফিকেট ইস্যু করা অনেকটা ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

এক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকগুলো কিছু নীতি মেনে চললেও করপোরেট সুশাসন উপেক্ষা করে চলা ব্যাংকগুলো এটিকে অনেকটা সার্টিফিকেট ব্যবসায় রূপান্তর করেছে। এ কারণে বেশকিছু দূতাবাস এখন নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের স্টেটমেন্ট প্রত্যাখ্যান করছে। বণিক বার্তার অনুসন্ধানে এ ধরনের বেশকিছু ব্যাংকের নামও উঠে এসেছে।

চতুর্থ প্রজন্মের একটি ব্যাংকের একজন শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ একেবারেই স্থবির। এজন্য স্টুডেন্ট ফাইল খোলা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট দেয়া “‍কাঁচা টাকা আয়ের” বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনেই এটি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দূতাবাসগুলো থেকে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে প্রধান কার্যালয় থেকে সত্যায়ন সার্টিফিকেট দেয়া হয়।’

ভুয়া কিংবা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইস্যুকে নৈতিকতা বিরুদ্ধ ও অপরাধ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

আমরা এরই মধ্যে ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তার পরও কেউ বিদেশী দূতাবাসগুলোকে বিভ্রান্ত করতে প্রতারণামূলক সার্টিফিকেট ইস্যু করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরিফ হোসেন খান আরো বলেন, ‘ব্যাংক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো ব্যবসাই যেন অনৈতিক না হয়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। আইন দিয়ে অনেক সময় সব অপরাধ দমন করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে নৈতিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি ব্যাংক নির্বাহীদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।’

বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এ খাতে ব্যয়ও গত কয়েক বছরে দ্বিগুণ থেকে ত্রিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশগামী উচ্চ শিক্ষার্থীরা ব্যয় করেছেন ৮৯ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক দেশের ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বরাদ্দের সমান।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান বলছে, কেবল ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য ৫৫টি দেশে গিয়েছেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভুয়া বা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়া এবং বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা না করা শিক্ষার্থীদের হার বেড়ে যাওয়ার প্রভাব ভিসা ইস্যুর ওপর পড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার নামে দেশে শতাধিক কনসালট্যান্সি ফার্ম গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কনসালট্যান্সি ফার্মগুলোর জাতীয় সংগঠন হলো ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডি-সিএবি)।

সংগঠনটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলংকার শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈধ উপায়ে ঋণ নেয়া কিংবা ব্যাংক সলভেন্সি দেখানোর সরকারি ব্যবস্থা আছে। এমনকি নেপালের শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষায় বিদেশযাত্রার জন্য অনৈতিক নানা উপায় অবলম্বনে বাধ্য হচ্ছেন।’

শিক্ষার্থীদের জন্য ভুয়া বা প্রতারণামূলক ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এফএসিডি-সিএবির সদস্যভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত কিনা জানতে চাইলে জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, ‘কনসালট্যান্সি ফার্মের পক্ষে তো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করে দেয়া সম্ভব নয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারাই যুক্ত।

অনেক ব্যাংক ও ব্যাংকার ফেসবুকে এ ধরনের স্টেটমেন্ট জোগাড় করে দেয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। নিজেদের মোবাইল নাম্বার বা ভিজিটিং কার্ড ফেসবুকে দিয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে অনিয়ম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে।’

বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ‘ফান্ড সাপোর্ট’ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জোগাড় করে দেয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। এ ধরনেরই একটি পেজের নাম ‘হলিডে হ্যাভেন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’। পেজটিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ফান্ড সাপোর্ট নিয়ে চিন্তিত? ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করবেন, কিন্তু ২০-৪০ লাখ টাকার ফান্ড নেই? তাহলে পরামর্শ পেতে এ নম্বরে যোগাযোগ করুন।’ ওই বিজ্ঞাপনে তহবিল জোগানো বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের ছয়টি ব্যাংকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ধরনের সহযোগিতার কথা বলে বিজ্ঞাপন দেয়া বেশকিছু পেজ ও আইডি খুঁজে পাওয়া যায় ফেসবুকে। এর মধ্যে রয়েছে টিম এডুকেশন, ব্যাংক সাপোর্ট ফর বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, বিডি ব্যাংক স্পন্সর সাপোর্ট, ফাইন্যান্স এইড বিডি, ব্যাংক সাপোর্ট, স্টাডি সাপোর্ট বিডি, ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক সাপোর্ট বিডি, ব্যাংক সাপোর্ট অ্যান্ড স্পন্সর বিডি প্রভৃতি।

বিডি ব্যাংক স্পন্সর সাপোর্ট নামে ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে গতকাল ফোন করা হয়। এ সময় সুমন নামের এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দরকার—এমন সহযোগিতা চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, তারা যেকোনো অংকের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে তিনি ১২টি ব্যাংকের নাম উল্লেখ করে কোন ব্যাংকের সার্টিফিকেট পেতে কত টাকা লাগবে, সে তথ্যও জানান। একই সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ডও এ প্রতিবেদককে পাঠিয়েছেন। একইভাবে অন্য কয়েকটি ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা নম্বরে যোগাযোগ করলে তারাও বিভিন্ন অংকের অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট জোগাড় করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

কিছু ব্যাংক প্রতারণামূলক স্টেটমেন্ট ইস্যু করলেও এক্ষেত্রে কেউ কেউ অভিনব কৌশল বের করেছেন। এ বিষয়ে কথা হয় দেশের অন্তত ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা জানান, প্রক্রিয়াটি এমন—কোনো শিক্ষার্থী ৫ লাখ টাকা ব্যাংকে আমানত হিসাবে জমা রাখেন। ব্যাংক ওই টাকা জামানত দেখিয়ে, তার বিপরীতে আরো ৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়। এতে আমানতের অর্থের পরিমাণ বেড়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। আর এ টাকা আবারো জামানত দেখিয়ে নতুন করে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেয়। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখে।

এভাবে একই অর্থ কয়েক দফায় জামানত দেখিয়ে টাকার স্থিতি ৫০-৬০ লাখে উন্নীত করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ওই ব্যাংক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ পান না। বরং পুরো হিসাবটি পরিচালনা করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এভাবে অনেকটা বৈধ উপায়ে ব্যাংকের সিভিএস থেকে শিক্ষার্থীর নামে সলভেন্সি ও স্টেটমেন্ট ইস্যু করা হয়। পরে শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার পর প্রথমে জমাকৃত ৫ লাখ টাকা থেকে সুদ ও সার্ভিস চার্জ কেটে রেখে পুরো ঋণটি সমন্বয় বা আদায় দেখানো হয়।

এ বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর এ ধরনের অনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়াকে অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখি। যদি কোনো ব্যাংক প্রকৃত আমানত না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর নামে ৫০-৬০ লাখ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইত্যাদি তৈরি করে দেয় এবং এর বিনিময়ে অর্থ নেয়, তাহলে সেটা শুধু অনৈতিক ব্যবসা নয়, সেটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার অপব্যবহার। তবে কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার বৈধভাবে অর্থ ব্যাংকে জমা দিলে তার ভিত্তিতে স্টেটমেন্ট বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করলে তাতে সমস্য নেই।’

সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘কেবল কিউআর কোড ব্যবহার করে এ ধরনের সমস্যার সমধান হবে না। এর সঙ্গে কার্যকর ভেরিফিকেশন আর্কিটেকচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেটের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইযোগ্য ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োজন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে কমন ভেরিফিকেশন গেটওয়ে চালু করা যেতে পারে।’

কয়েক বছর ধরেই ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ জাল নথি ব্যবহার করে ভিসা আবেদনের অভিযোগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় অবস্থানরত ১৩টি পশ্চিমা দেশের মিশন গত বছর যৌথভাবে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের ভুয়া নথি ব্যবহার না করার আহ্বান জানায়। ওই সময় বলা হয়, জাল নথি ব্যবহার করলে শুধু ভিসা বাতিল নয়, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা ও সীমান্তে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

চলতি বছরের ৭ মে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় সারাহ কুকের পক্ষ থেকে ভিসা আবেদনের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেয়াসহ জাল নথিপত্রের বেশকিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। এসব প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্রিটিশ দূত। এক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ নথিপত্র যাচাইয়ে কিউআর কোডভিত্তিক পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রস্তাব আসে। ওইদিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারীকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটসহ সংশ্লিষ্ট নথিতে অনলাইন যাচাইযোগ্য কিউআর কোড থাকতে হবে। ওই কোড স্ক্যান করে ন্যূনতম পাঁচটি তথ্য যাচাই করা যাবে।

এগুলো হলো অ্যাকাউন্ট নাম্বার, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্ট শুরুর স্থিতি (ওপেনিং ব্যালান্স), স্টেটমেন্টের শেষ স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালান্স) ও স্টেটমেন্ট তৈরির তারিখ। এসব তথ্য কমপক্ষে ছয় মাস সংরক্ষণ ও যাচাইযোগ্য রাখার নির্দেশও দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা কার্যকরে ব্যাংকগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যদিও এখনো নির্দেশনা অনুযায়ী কিউআর কোড চালু করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই ধরনের ঋণ চালু করেছি। শিক্ষার্থীরা রীতিনীতি মেনেই এসব ঋণসেবা নিয়ে বিদেশে যেতে পারছেন। সারা বিশ্বেই শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ নেয়ার সুযোগ আছে। সমস্যা হলো, অনেক ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার পর লেখাপড়া চালিয়ে যান না। আর ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না। এ কারণে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, জাল নথিপত্রের ব্যবহার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশী পাসপোর্টের মানেও অবনমন হচ্ছে। গ্রহণযোগ্যতার বিচারে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া।

আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যুগের অবসান ঘটিয়ে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশে। বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট নিচ্ছেন।

এ অবস্থায় যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে এমআরপি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব মিশনে পর্যায়ক্রমে এমআরপি সেবা গুটিয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর অগ্রগতি এবং বিতরণ করা ই-পাসপোর্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে।

দেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর একটি বড় অংশ তখনো এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিয়ে তৈরি অনেক এমআরপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডির তথ্যের অমিল ছিল। আবার অনেক প্রবাসীর এনআইডিই ছিল না। ফলে হঠাৎ এমআরপি সেবা বন্ধ করা হলে বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতে অনেকের দেশে ফিরে আসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারত। এ কারণে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পরও প্রবাসীদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল।

পর্যালোচনা সভায় বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার জানান, বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে এমআরপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এর পুরনো যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও মেরামত করা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে আর এমআরপি সিস্টেম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে অর্থাৎ ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ১টি ই-পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। ওই এমআরপিটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তাদের মতে, চাহিদা প্রায় না থাকায় এমআরপি ব্যবস্থা চালু রাখার কার্যকারিতাও এখন অনেকটাই কমে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধে ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে বিদেশের যেসব বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেসব মিশনে এমআরপি সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ পরিবর্তনের সুযোগে প্রবাসীরা যাতে হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার মস্কো মিশনের ধারাবাহিকতায় ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব সার্ভার এবং এমইকের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে যাদের হাতে এমআরপি রয়েছে কিন্তু ই-পাসপোর্ট নেয়া হয়নি, তাদের জন্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন করে আর এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবাসীদের সুবিধার্থে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমআরপি সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যে বয়সের অমিল থাকলে সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ আট বছরের ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এটি এনআইডি অনুবিভাগের নিজস্ব নীতি নয়; বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আট বছরের সংশোধনের এ সুযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সার্কুলার অনুযায়ী দিয়েছে। এটি এনআইডি অনুবিভাগের সার্কুলার নয়।

আমাদের ক্ষেত্রে বয়স সংশোধন বা তথ্য যাচাই সবসময় এসওপি অনুযায়ী করা হয়। জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদ, পারিবারিক সনদ এবং ভাই-বোন বা পিতা-মাতার এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’ এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট রূপান্তর প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের হাতে এমআরপি আছে তারা যেকোনো সময় ই-পাসপোর্ট করতে পারবেন। শর্ত হলো, এনআইডির তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমআরপি বন্ধের বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। দুই বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে এমআরপি ইস্যু বন্ধ রয়েছে। বিদেশে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এর ব্যবহার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশের মিশনগুলোকে এমআরপি বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

তবে অনেক প্রবাসীর এনআইডি ও অন্যান্য নথির তথ্যে গরমিল থাকায় এবং সরাসরি মিশনে গিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করাকে ঝামেলাপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা এখনো এমআরপি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’ ওই কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মিশনে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে ই-পাসপোর্ট সেবার গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলেই এমআরপি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

জামায়াত আমিরকে ১৫০ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
জামায়াত আমিরকে ১৫০ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক পর্যায়ে তৈরি হয় হাস্যরসাত্মক ও আন্তরিক পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন ও স্বল্পমূল্যের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আওতায় ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা চলছিল। আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়ী জীবনযাপনের প্রসঙ্গ ওঠে।

বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প খরচের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে এ বিষয়টি তাকে উৎসাহিত করে। এত কম খরচে তিনিও খেতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত নেড়ে ইশারায় তাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই বিরোধীদলীয় নেতাকে ওই খাবার খাওয়ানোর কথা জানান।

জবাবে শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একা খেতে চান না; বরং ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে খেতে চান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পোশাক ও জীবনযাপনের প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও সাদাসিধে জীবনযাপন করেন, যা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। জাঁকজমক ও বিলাসিতা এড়িয়ে সাধারণভাবে চলাফেরার বিষয়টিও ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তার অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, দলের কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার প্রশংসা করলেও নিজেদের জীবনে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। তারা অনেক ক্ষেত্রে বিলাসী জীবনযাপন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হয়ে থাকেন, তাহলে তার জীবনযাপনের আদর্শের প্রতিফলন অন্যদের মধ্যেও থাকা উচিত।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ হিসেবে মানার দাবি করার আগে সবাইকে সংযত হতে হবে এবং তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং ভুলের ঊর্ধ্বে নন এ কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। তাই সব বিষয়ে অন্ধভাবে সম্মতি না দিয়ে যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

শেখ রেহানা নয়, ‘আওয়ামী লীগের হাল ধরতে’ কেন শেখ সেলিম?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
শেখ রেহানা নয়, ‘আওয়ামী লীগের হাল ধরতে’ কেন শেখ সেলিম?

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাঁর বোন শেখ রেহানা আসছেন না। দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

দ্য ওয়ালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।”

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে দেবেন—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা ছিল।

তবে দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, শেখ রেহানা সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।”

এরপর দলের নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের জ্যেষ্ঠতম সদস্য।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই অবশ্য ভিন্নমত সামনে এসেছে। দলের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমমে আপত্তির কথা জানিয়েছেন।

তাঁদের একজনের অভিযোগ, শেখ সেলিমের বাসায় বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়, সেগুলো দ্রুতই বাইরে চলে যায়।

আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছেন।

শেখ সেলিমের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম বিয়ে করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বোন ন্যান্সি জাহারাকে।

অন্যদিকে শেখ সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমের বিয়ে হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদের সঙ্গে।

আরও পড়ুন

কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা

দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারেও তিনি একই পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে কেন দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষায়, “আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে।”

দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে তিনি কাউকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।

তিনি বলেন, “প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।”

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের অভিযোগ

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, দেশে ‘জঙ্গিবাদী শক্তির’ উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।”

তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষায়, “তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।”

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।”

তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

‘দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশের অবস্থা দেখে তাঁর কষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সম্ভাব্য ভূমিকা, শেখ রেহানার রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তাঁর অবস্থান উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনির্বাণ দাসগুপ্তের নামে লেখা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

আনন্দবাজারের তথ্যমতে, প্রায় এক মাস আগে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিনিধিদলটি হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান জানিয়েছে। তারা বলেছে, তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করা উচিত নয়। আটক করা হলে তার নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনকে জোরালোভাবে জানিয়েছে, ভারত কোনো অবস্থাতেই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী। ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা বারবার জানিয়েছেন। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি কীভাবে ফিরবেন তা আওয়ামী লীগ এখনো ঠিক করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ছয়জন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন। যাদের মধ্যে চারজন পূর্বে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

নরসিংদীতে ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসাপড়ুয়া মেয়েকে প্রায় ছয় মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই বাবা হালিম মিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে। ধর্ষণের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণও করতেন । বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত হালিম মিয়া পেশায় মিশুকচালক। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়েটিই দীর্ঘদিন ধরে তার নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে সৎ মা বাসার বাইরে থাকলে খালি বাসায় মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন বাবা। ধর্ষণের পর ঘটনার ভিডিও নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় হালিমের মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তিনি ধর্ষণের ভিডিও দেখতে পান। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত হালিম মিয়াকে আটক করার জন্য তার বাড়িতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ ভূইয়া বলেন, “জীবিকার তাগিদে ভুক্তভোগীর মা প্রবাসে যান। সৎ মা বাসা থেকে বের হলে খালি বাসায় সুযোগ পেয়ে হালিম প্রায় সময়ই ১৪ বছরের শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। প্রায় ৬/৭ মাস ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর সে নিজেই ছোট ছোট ভিডিও করে রাখত।

ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে হালিমের ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে এসব ভিডিও দেখতে পায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা হালিমকে ধরতে যাই, তবে সে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, “মেয়েটি প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আবার ধর্ষণের ভিডিও করেও রাখত। হালিম যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা ১০০টি হত্যার চেয়েও ভয়ংকর। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মুসা বলেন, “এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই। এমন বাবা যেন কারও না হয়।”

নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর আল মামুন বলেন, “ভুক্তভোগী মেয়েকে আমরা উদ্ধার করেছি। আগামীকাল তার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। তার বাবা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির