৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনির্বাণ দাসগুপ্তের নামে লেখা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

আনন্দবাজারের তথ্যমতে, প্রায় এক মাস আগে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিনিধিদলটি হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান জানিয়েছে। তারা বলেছে, তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করা উচিত নয়। আটক করা হলে তার নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনকে জোরালোভাবে জানিয়েছে, ভারত কোনো অবস্থাতেই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী। ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা বারবার জানিয়েছেন। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি কীভাবে ফিরবেন তা আওয়ামী লীগ এখনো ঠিক করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ছয়জন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন। যাদের মধ্যে চারজন পূর্বে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
আবেদনের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট, এমআরপি যুগের অবসান

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যুগের অবসান ঘটিয়ে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশে। বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের প্রায় ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট নিচ্ছেন।

এ অবস্থায় যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেখানে এমআরপি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব মিশনে পর্যায়ক্রমে এমআরপি সেবা গুটিয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় এমআরপি, ই-পাসপোর্ট ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী দেশের ৭১টি পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের ৭১টি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর অগ্রগতি এবং বিতরণ করা ই-পাসপোর্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমআরপি সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে।

দেশে ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও বিদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর একটি বড় অংশ তখনো এমআরপির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিয়ে তৈরি অনেক এমআরপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডির তথ্যের অমিল ছিল। আবার অনেক প্রবাসীর এনআইডিই ছিল না। ফলে হঠাৎ এমআরপি সেবা বন্ধ করা হলে বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতে অনেকের দেশে ফিরে আসার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারত। এ কারণে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পরও প্রবাসীদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল।

পর্যালোচনা সভায় বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার জানান, বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় ই-পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে এমআরপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এর পুরনো যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও মেরামত করা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে আর এমআরপি সিস্টেম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে অর্থাৎ ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার ১টি ই-পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র একটি এমআরপি ইস্যু হয়েছে। ওই এমআরপিটিও বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তাদের মতে, চাহিদা প্রায় না থাকায় এমআরপি ব্যবস্থা চালু রাখার কার্যকারিতাও এখন অনেকটাই কমে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, এমআরপি সেবা পুরোপুরি বন্ধে ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে বিদেশের যেসব বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোপুরি চালু হয়েছে, সেসব মিশনে এমআরপি সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ পরিবর্তনের সুযোগে প্রবাসীরা যাতে হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীকে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা দিতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার মস্কো মিশনের ধারাবাহিকতায় ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব সার্ভার এবং এমইকের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে যাদের হাতে এমআরপি রয়েছে কিন্তু ই-পাসপোর্ট নেয়া হয়নি, তাদের জন্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন করে আর এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবাসীদের সুবিধার্থে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমআরপি সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যে বয়সের অমিল থাকলে সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ আট বছরের ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র কর্তৃপক্ষের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এটি এনআইডি অনুবিভাগের নিজস্ব নীতি নয়; বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আট বছরের সংশোধনের এ সুযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সার্কুলার অনুযায়ী দিয়েছে। এটি এনআইডি অনুবিভাগের সার্কুলার নয়।

আমাদের ক্ষেত্রে বয়স সংশোধন বা তথ্য যাচাই সবসময় এসওপি অনুযায়ী করা হয়। জন্মসনদ, শিক্ষাগত সনদ, পারিবারিক সনদ এবং ভাই-বোন বা পিতা-মাতার এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’ এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট রূপান্তর প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে এমআরপি করা যাবে না। তবে যাদের হাতে এমআরপি আছে তারা যেকোনো সময় ই-পাসপোর্ট করতে পারবেন। শর্ত হলো, এনআইডির তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমআরপি বন্ধের বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। দুই বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে এমআরপি ইস্যু বন্ধ রয়েছে। বিদেশে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এর ব্যবহার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশের মিশনগুলোকে এমআরপি বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

তবে অনেক প্রবাসীর এনআইডি ও অন্যান্য নথির তথ্যে গরমিল থাকায় এবং সরাসরি মিশনে গিয়ে ই-পাসপোর্টের আবেদন করাকে ঝামেলাপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা এখনো এমআরপি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’ ওই কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মিশনে কনস্যুলার সার্ভিস সেন্টার ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে ই-পাসপোর্ট সেবার গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলেই এমআরপি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

জামায়াত আমিরকে ১৫০ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
জামায়াত আমিরকে ১৫০ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক পর্যায়ে তৈরি হয় হাস্যরসাত্মক ও আন্তরিক পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন ও স্বল্পমূল্যের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আওতায় ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা চলছিল। আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়ী জীবনযাপনের প্রসঙ্গ ওঠে।

বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প খরচের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে এ বিষয়টি তাকে উৎসাহিত করে। এত কম খরচে তিনিও খেতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত নেড়ে ইশারায় তাকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই বিরোধীদলীয় নেতাকে ওই খাবার খাওয়ানোর কথা জানান।

জবাবে শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একা খেতে চান না; বরং ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে খেতে চান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পোশাক ও জীবনযাপনের প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও সাদাসিধে জীবনযাপন করেন, যা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। জাঁকজমক ও বিলাসিতা এড়িয়ে সাধারণভাবে চলাফেরার বিষয়টিও ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তার অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, দলের কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার প্রশংসা করলেও নিজেদের জীবনে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। তারা অনেক ক্ষেত্রে বিলাসী জীবনযাপন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হয়ে থাকেন, তাহলে তার জীবনযাপনের আদর্শের প্রতিফলন অন্যদের মধ্যেও থাকা উচিত।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ হিসেবে মানার দাবি করার আগে সবাইকে সংযত হতে হবে এবং তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং ভুলের ঊর্ধ্বে নন এ কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। তাই সব বিষয়ে অন্ধভাবে সম্মতি না দিয়ে যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

শেখ রেহানা নয়, ‘আওয়ামী লীগের হাল ধরতে’ কেন শেখ সেলিম?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
শেখ রেহানা নয়, ‘আওয়ামী লীগের হাল ধরতে’ কেন শেখ সেলিম?

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাঁর বোন শেখ রেহানা আসছেন না। দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশে ফেরার পরিকল্পনা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

দ্য ওয়ালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।”

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে দেবেন—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা ছিল।

তবে দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, শেখ রেহানা সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।”

এরপর দলের নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের জ্যেষ্ঠতম সদস্য।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই অবশ্য ভিন্নমত সামনে এসেছে। দলের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমমে আপত্তির কথা জানিয়েছেন।

তাঁদের একজনের অভিযোগ, শেখ সেলিমের বাসায় বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়, সেগুলো দ্রুতই বাইরে চলে যায়।

আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছেন।

শেখ সেলিমের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও আওয়ামী লীগের ভেতরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম বিয়ে করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বোন ন্যান্সি জাহারাকে।

অন্যদিকে শেখ সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমের বিয়ে হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদের সঙ্গে।

আরও পড়ুন

কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা

দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারেও তিনি একই পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে কেন দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষায়, “আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে।”

দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে তিনি কাউকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।

তিনি বলেন, “প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।”

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের অভিযোগ

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, দেশে ‘জঙ্গিবাদী শক্তির’ উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।”

তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষায়, “তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।”

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।”

তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

‘দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশের অবস্থা দেখে তাঁর কষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সম্ভাব্য ভূমিকা, শেখ রেহানার রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তাঁর অবস্থান উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কোনো শর্তেই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনির্বাণ দাসগুপ্তের নামে লেখা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

আনন্দবাজারের তথ্যমতে, প্রায় এক মাস আগে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিনিধিদলটি হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান জানিয়েছে। তারা বলেছে, তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করা উচিত নয়। আটক করা হলে তার নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনকে জোরালোভাবে জানিয়েছে, ভারত কোনো অবস্থাতেই হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী। ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা বারবার জানিয়েছেন। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি কীভাবে ফিরবেন তা আওয়ামী লীগ এখনো ঠিক করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ছয়জন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন। যাদের মধ্যে চারজন পূর্বে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
৬ মাস ধরে মেয়েকে ধর্ষণ, ভিডিও করে রাখতেন বাবা

নরসিংদীতে ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসাপড়ুয়া মেয়েকে প্রায় ছয় মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই বাবা হালিম মিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে। ধর্ষণের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণও করতেন । বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত হালিম মিয়া পেশায় মিশুকচালক। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়েটিই দীর্ঘদিন ধরে তার নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে সৎ মা বাসার বাইরে থাকলে খালি বাসায় মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন বাবা। ধর্ষণের পর ঘটনার ভিডিও নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় হালিমের মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তিনি ধর্ষণের ভিডিও দেখতে পান। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত হালিম মিয়াকে আটক করার জন্য তার বাড়িতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ ভূইয়া বলেন, “জীবিকার তাগিদে ভুক্তভোগীর মা প্রবাসে যান। সৎ মা বাসা থেকে বের হলে খালি বাসায় সুযোগ পেয়ে হালিম প্রায় সময়ই ১৪ বছরের শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। প্রায় ৬/৭ মাস ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর সে নিজেই ছোট ছোট ভিডিও করে রাখত।

ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে হালিমের ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে এসব ভিডিও দেখতে পায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা হালিমকে ধরতে যাই, তবে সে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, “মেয়েটি প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আবার ধর্ষণের ভিডিও করেও রাখত। হালিম যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা ১০০টি হত্যার চেয়েও ভয়ংকর। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মুসা বলেন, “এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই। এমন বাবা যেন কারও না হয়।”

নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর আল মামুন বলেন, “ভুক্তভোগী মেয়েকে আমরা উদ্ধার করেছি। আগামীকাল তার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। তার বাবা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস

বাংলাদেশের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে তদারকির আহ্বান জাতিসংঘের

দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির