৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

তুরস্ককে ঘিরে শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে দখলদার ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টা আঙ্কারা নীরবে দেখবে না। তবে কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তুরস্কের শত্রুতা নেই বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হচ্ছে। ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে জানান এরদোগান।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

তুরস্ককে ঘিরে শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে দখলদার ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টা আঙ্কারা নীরবে দেখবে না। তবে কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তুরস্কের শত্রুতা নেই বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হচ্ছে। ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে জানান এরদোগান।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে গাজা যুদ্ধ , অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এসব বিষয় প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে । তাই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

আই২৪নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তা সঠিক ছিল বলে অহংকার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে, সাহায্যের নামে গাজায় পাঠানো কোটি কোটি ডলার অন্যত্র ব্যববহৃত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

ওই সাক্ষাৎকারে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি এবং বোমা মেরেছি। গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ক্ষমতা নেই।

সাক্ষাৎকারে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তত্তবাধায়নে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে, নেতানিয়াহুর সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।

এদিকে, হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ গত বছর দোহা ফোরামে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ দিয়ে হামাসকে অর্থায়নের দাবি ভিত্তিহীন। কাতারের সব সহায়তা গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগেই, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। সে সময় হামাসের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন দোহায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ওই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানান।

পরে ইরান ও পাকিস্তানসহ অঞ্চলটির কয়েকটি দেশও ওই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দেশটিতে সফর করেছিলেন।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার অন্যান্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন।

ইরানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইরানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু
ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেকিং ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ছবি: নিউজকর্ড

ইরানে জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকার বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ খবর জানিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দেশটির পশ্চিমে হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় ট্যাংকারটি। এরপর ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানান্দাজের গভর্নরের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেকিং ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

গভর্নর আরও বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা আর কোনো তথ্য দেননি।

ইরানে ট্যাংকার ও বাসের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। সড়কের বেহাল অবস্থা, পুরোনো যানবাহনের বহর এবং ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে দেশটিতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

২০১৮ সালে সানান্দাজের কাছে যাত্রী তুলতে থেমে থাকা একটি বাসকে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ধাক্কা দিলে অন্তত ১৩ জন নিহত হন।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড়ের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি দেশটির নিম্নমানের সড়কব্যবস্থা ও দুর্বল ট্রাফিক আইন প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছে।

তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের ২০১৭ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ মানুষ আহত হন।

‘আমি কাতারে হামলা করেছি!’ নেতানিয়াহুর বিতর্কিত স্বীকারোক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
‘আমি কাতারে হামলা করেছি!’ নেতানিয়াহুর বিতর্কিত স্বীকারোক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড়
কাতারে হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো কোটি কোটি ডলার ইসরায়েলই অনুমোদন করেছিল এবং এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ একটি দেশ। গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। বৈঠকটির আলোচ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব।
হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলাটিকে গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছিলেন।
এদিকে সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও সাফাই দেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের এই অর্থ।
তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সব সহায়তাই গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির মধ্যে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এসব অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কে অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত; নির্বাচনে এসব বিষয়ই বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের

মেক্সিকো উপসাগর ও লেক অন্টারিওর পর এবার ট্রাম্পের নজর হরমুজ প্রণালিতে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের

এবার হরমুজ প্রণালির নাম বদলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুধু তাই নয়, প্রণালির নামটি নিজের নামে করতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুমুল বিরোধ চলছে এই হরমুজ প্রণালি নিয়ে। আর এর মধ্যেই ট্রাম্প এই প্রস্তাব রাখলেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এখন যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, আমাদের কি হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প প্রণালি করা উচিত??? আমেরিকার মতোই এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও “উত্তপ্ত” হবে!’

ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব এটি। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি এ প্রস্তাব দিলেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ওঠার প্রথম দিনেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখেন ট্রাম্প।

এর আগে ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের অনেক উদ্যোগই ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের আপাতদৃষ্টিতে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরে তিনি সেগুলো বাস্তবায়নেও উদ্যোগ নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করার হুমকি বারবার দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি একটি মানচিত্রও পোস্ট করেছেন, যেখানে এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

ইরান নতুন করে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করছে বলে ট্রাম্প দাবি করার পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম।

এর আগে স্থানীয় সময় গত সোমবার ইরানকে কঠোরভাবে আঘাতের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান একটি ‘ব্যর্থ’ ও ‘মৃত’ দেশ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের সহায়তায় প্রতি রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ‘অত্যন্ত ভালো অবস্থায়’ রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছি। গত রাতে অনেক, অনেক জাহাজ পার হয়েছে। আপনারা জানেন, নৌবাহিনীর সহায়তায়। আর আমরা গড়ে প্রতি রাতে ৩০টি জাহাজ পার করাচ্ছি।’