৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামম্পের সঙ্গে উপসাগরীয়দেশগুলোর প্রধান। ছবি: সংগৃহীত।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করতে পারে না বরং তাদের আরো স্বনির্ভর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার জন্য এগুলোই যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়াই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু তাদের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

পারিবারিক পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার শীর্ষে কাতার

মানব পাচার রুখতে ‘হিউম্যান ট্র্যাফিকিং’ চালু করেছে কাতার

গ্রীষ্মে কাতারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সমুদ্র ভ্রমণ ও ওয়াটার স্পোর্টস

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং দেশটি ইরানের ব্যাপক আক্রমণের শিকারও হয়েছে, বিশেষ করে এর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে মার্কিন আক্রমণের জবাব দিয়েছে।

ছয় মাসের সংঘাতের পর শত্রুপক্ষ দুটি একটি অচলাবস্থায় রয়েছে, যেখানে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল ব্যাহত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

এর আগে গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেন। এর আগে হরমুজ প্রণালির দুই তীরের দেশ ইরান ও ওমান অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হজ নিবন্ধন: কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হজ নিবন্ধন: কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

আসন্ন ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অফিসিয়াল হজ ওয়েবসাইটের (hajj.gov.qa) মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে হজ ও ওমরাহ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আলি সুলতান আল-মুসাইফ্রি এই ঘোষণা দেন। বিগত বছরগুলোতে আগাম নিবন্ধনের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে হজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (কাফেলা) তাদের চুক্তি ও অপারেশনাল প্রস্তুতি অনেক আগেই সম্পন্ন করতে পারে, যা সেবার মান বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত আগাম সময়সীমা এবং কোটা বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৪৪৮ হিজরিতে কাতার থেকে হজের কোটা ও যোগ্যতা

আসন্ন হিজরি সেশনের জন্য কাতার থেকে হজের মোট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৪০০ জন। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মানদণ্ড অনুযায়ী এবারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আবেদনের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

কাতারি নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীকে অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। প্রধান আবেদনে সর্বোচ্চ তিনজন সঙ্গী যুক্ত করা যাবে।

প্রবাসী ও জিসিসি (GCC) নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ৪৫ বছর হতে হবে এবং ইতিপূর্বে কখনো হজ পালন করেননি এমন হতে হবে। তারা কেবল একজন সঙ্গী যুক্ত করতে পারবেন এবং কাতারে অন্তত ১৫ বছর একটানা বসবাস করার শর্ত পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে ২০২৭ সালের হজের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু: বিনা মূল্যে সনদ পাবেন যারা

উন্নত অনলাইন পেমেন্ট ও ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থা

হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবার অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও নমনীয় ও ব্যবহারকারী-বান্ধব পেমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। সফলভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে একটি নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম ফি প্রদান করতে হবে (যার পরিমাণ পরবর্তীতে জানানো হবে)। এটি কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, বরং এটি চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের অংশ হিসেবে কাটা হবে এবং আবেদনকারীদের আন্তরিকতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা সঠিক ক্যাফেলাইন্টি নির্বাচন এবং ইলেকট্রনিক চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সহজে জানতে পারবেন। নিবন্ধিত সব অনুমোদিত কাফেলা ওয়েবসাইটের তালিকাও সেখানে পাওয়া যাবে। যেকোনো জিজ্ঞাসা বা অভিযোগের জন্য অফিশিয়াল হটলাইন নম্বরে (১৩২) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

নিবন্ধন পরবর্তী স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিক স্ক্রিনিং শুরু হবে এবং অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে সফল আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে অনুমোদনের বার্তা পাঠানো হবে।

এদিকে কাতারি হজ মিশনের মেডিকেল ইউনিটের প্রধান ডা. হামাদ আল-রুহাইহি জানিয়েছেন, হজে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করাই প্রথম এবং অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এর ফলাফল ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হজ ও ওমরাহ বিভাগের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হজ পালন নিশ্চিত করতেই এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ নিরাপত্তা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ নিরাপত্তা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় ও নিখুঁত করার লক্ষে স্পেনের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাতার।

স্পেন সফররত কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লখুইয়া’-র কমান্ডার হিজ এক্সিলেন্সি শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা গোমেজের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

বৈঠকে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও প্রসারিত ও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের মন্ত্রী।

বৈঠক শেষে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথভাবে একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। আগামী ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নত প্রযুক্তির যৌথ ব্যবহারের লক্ষ্যেই কাতার ও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রামম্পের সঙ্গে উপসাগরীয়দেশগুলোর প্রধান। ছবি: সংগৃহীত।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করতে পারে না বরং তাদের আরো স্বনির্ভর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার জন্য এগুলোই যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়াই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু তাদের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

পারিবারিক পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার শীর্ষে কাতার

মানব পাচার রুখতে ‘হিউম্যান ট্র্যাফিকিং’ চালু করেছে কাতার

গ্রীষ্মে কাতারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সমুদ্র ভ্রমণ ও ওয়াটার স্পোর্টস

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং দেশটি ইরানের ব্যাপক আক্রমণের শিকারও হয়েছে, বিশেষ করে এর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে মার্কিন আক্রমণের জবাব দিয়েছে।

ছয় মাসের সংঘাতের পর শত্রুপক্ষ দুটি একটি অচলাবস্থায় রয়েছে, যেখানে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল ব্যাহত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

এর আগে গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেন। এর আগে হরমুজ প্রণালির দুই তীরের দেশ ইরান ও ওমান অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

কাতার ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক ৫ বছরের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতার ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক ৫ বছরের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষর

কাতার ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কাতার মিউজিয়ামস (QM) এবং উজবেকিস্তানের আর্ট অ্যান্ড কালচার ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ACDF)-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতদিন দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ মূলত বিচ্ছিন্ন প্রদর্শনী, অনুদান ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করলেও এই চুক্তির ফলে তা একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এলো।

কাতারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার মিউজিয়ামস বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের সদস্য ড. মারিয়াম বিনতে আলি বিন নাসের আল মিসনাদ এবং এসিডিএফ-এর চেয়ারপারসন গায়ানে উমেরোভা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

কাতারের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং ‘ইয়ার্স অব কালচার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ, যৌথ গবেষণা, শৈল্পিক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে।

কাতার মিউজিয়ামসের চেয়ারপারসন হিজ হাইনেস শেখা আল-মায়াসা বিনতে হামাদ বিন খলিফা আল থানি এই চুক্তি সম্পর্কে বলেন, “সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ মানে মূলত মানুষের মেধা ও দক্ষতায় বিনিয়োগ।” ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রতিভা বিকাশকে একসাথে যুক্ত করে এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, উজবেকিস্তানের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সভ্যতার কথা উল্লেখ করে গায়ানে উমেরোভা একে শিল্পী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের টেকসই ভবিষ্যতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

চুক্তির আওতায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ: যৌথ কর্মশালা, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি।

শিল্পী আবাসন ও বিনিময় কর্মসূচি: উভয় দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক যাতায়াত এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ।

সৃজনশীল শিল্প খাত: ডিজাইন, কারুশিল্প , চলচ্চিত্র, ফ্যাশন, সঙ্গীত এবং রন্ধনশিল্পে যৌথ উদ্যোগ ও গবেষণা।

ইসলামিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ: বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি এমন এক সময়ে এলো যখন দোহার মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে ‘উজবেকিস্তান: হেরিটেজ ইন মোশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলছে, যা আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

একই সাথে সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘একতাশাফ উজবেকিস্তান’ প্রদর্শনীটি, যেখানে তাসখন্দ, সমরকন্দ এবং বুখারার সিল্ক রোডের ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাতারী শিল্পীদের তৈরি মূল শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে থেকেই দেশ দুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার রয়েছে। ইতিপূর্বে প্রথম ‘ডিজাইন দোহা বিয়েনিয়াল’-এ অংশ নিয়েছিল উজবেকিস্তান।

এছাড়া সমরকন্দের ঐতিহাসিক এবং তৈমুরি আমলের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য বিবি খানম মসজিদ কমপ্লেক্স পুনরুদ্ধারের জন্য কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (QFFD)-এর পক্ষ থেকে ৪ দশমিক ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদান করা হয়েছিল। নতুন এই পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তির ফলে দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব আরও বেশি গতিশীল ও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম স্থায়ী প্রতিনিধি সভায় কাতারের অংশগ্রহণ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম স্থায়ী প্রতিনিধি সভায় কাতারের অংশগ্রহণ

মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত আরব লিগের সাধারণ সম্পাদক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো আরব লিগ কাউন্সিলের ১৬৬তম সাধারণ অধিবেশন। স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যায়ের এই বৈঠকের মাধ্যমে মূলত মন্ত্রিপর্যায়ের আসন্ন অধিবেশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিশরে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত এবং আরব লিগে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ জাসিম বিন আবদুর রহমান বিন মোহাম্মদ আল থানি।

বৈঠকের মূল এজেন্ডায় রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ফিলিস্তিন ইস্যু, আরব-ইসরায়েল সংঘাত, অধিকৃত জেরুজালেমে ইসরায়েলি লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের টিকে থাকা ও তাদের বাজেট সহায়তার বিষয়টি। এছাড়া আরব দেশগুলোতে ইরানের বেআইনি হামলা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইরানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

এজেন্ডায় আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিবাদ। পাশাপাশি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও কোমোরোসের বর্তমান পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদকের দুটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের কার্যক্রম এবং বিগত দুটি সাধারণ সেশনের (১৬৪ ও ১৬৫) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া কাউন্সিলের ৩৫তম সাধারণ শীর্ষ সম্মেলনের খসড়া এজেন্ডাও এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।