৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ক্রিস রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও হামলার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরান যেন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারে, সে পথও বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, তেলবাহী জাহাজ আটক এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘খুব সামান্য একটা ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করার প্রয়োজন নেই এবং মাঠপর্যায়ের লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে আরও মিত্রদেশ ওয়াশিংটনের পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ক্রিস রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও হামলার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরান যেন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারে, সে পথও বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, তেলবাহী জাহাজ আটক এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘খুব সামান্য একটা ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করার প্রয়োজন নেই এবং মাঠপর্যায়ের লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে আরও মিত্রদেশ ওয়াশিংটনের পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ফিলিস্তিন থেকে ইরান—মার্কিন বোমাবর্ষণে নিরীহ প্রাণহানির ঘটনায় সোচ্চার মার্কিন এমপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ। একই সঙ্গে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেলিয়া রামিরেজ বলেন, ফিলিস্তিন থেকে ইরান—যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘একটি দম্পতির নতুন জীবনের শুরুর সময়টি উদযাপনে ভরা থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেটিই পরিণত হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞে। ফিলিস্তিন থেকে ইরান— আমাদের বোমায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।’
ট্রাম্প ও হেগসেথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রামিরেজ বলেন, ‘কংগ্রেস ট্রাম্প ও হেগসেথের যুদ্ধাপরাধের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। যুদ্ধবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনার সময় এখনই।’
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ পাস করতে হবে, নিজেদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং এই ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ অবসান ঘটাতে হবে।

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্র বদল, বিশ্বকে নতুনভাবে দেখাবে জাতিসংঘ

বিশ্বকে দেখার প্রচলিত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক চিত্র আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে বড় এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা আগের চেয়ে ছোট দেখাবে।

শুক্রবারের (৪ সেপ্টম্বর) ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর সমুদ্রপথে নৌ চলাচল সহজ করার উদ্দেশ্যে যে মানচিত্র তৈরি করেছিলেন, সেটিই বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বিশ্ব মানচিত্রের অন্যতম ভিত্তি।

নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপন করে না; মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণা তৈরিতেও এর প্রভাব রয়েছে।


তার ভাষ্য, মানচিত্র পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর কোনো বিকৃত চিত্র দীর্ঘদিন প্রচলিত থাকলে তা মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং সেই ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে যেতে পারে।

তবে জাতিসংঘের এ উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ সমালোচনা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যায় মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের একটি মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’ নিয়ে আলোচনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কেন বদলানো হচ্ছে মানচিত্র
মারকেটর প্রজেকশনের বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এতে মহাদেশগুলোর আকৃতি ও কোণ মোটামুটি ঠিক থাকলেও প্রকৃত আয়তনের অনুপাত বজায় থাকে না। গোলাকার পৃথিবীকে সমতল পৃষ্ঠে উপস্থাপন করতে গিয়ে এ ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়।

এর প্রভাবে বিষুবীয় অঞ্চলের তুলনায় উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলোকে অনেক বড় দেখায় প্রচলিত মানচিত্র। ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় বেশি মনে হয়। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা তুলনামূলক ছোট দেখায়।

২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনকে বাস্তবের কাছাকাছি রেখে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

মানচিত্রটির অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেন, ইকুয়াল আর্থ মহাদেশগুলোর পারস্পরিক আয়তনের অনুপাত ধরে রাখে এবং পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠে তাদের প্রকৃত আকৃতি যতটা সম্ভব সঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে।

প্রচলিত মানচিত্র বাদ দিচ্ছে ফ্রান্সও
নতুন প্রজেকশনের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স। শুক্রবার দেশটি জানিয়েছে, তারা আর মারকেটর প্রজেকশন ব্যবহার করবে না।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখায়। একইভাবে গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় বলে মনে হয়।

তার মতে, মানচিত্র পরিবর্তন করলেই পৃথিবী বদলে যাবে না। তবে দীর্ঘদিনের বিকৃত উপস্থাপনাকে সংশোধন করা বাস্তবতাকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। ফলে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে দেশটির বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গেও সম্পৃক্ত করে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

‘মরিচায় জীর্ণ’ মার্কিন রণতরী দেখে বিস্মিত থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
‘মরিচায় জীর্ণ’ মার্কিন রণতরী দেখে বিস্মিত থাইল্যান্ডের বাসিন্দারা

দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। বন্দরে প্রবেশের সময় জাহাজটির গায়ে বড় বড় মরিচার দাগ ও রং উঠে যাওয়ার দৃশ্য নজর কেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান ও কঠিন সামরিক কার্যক্রমের পর জাহাজটির এমন চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে রণতরীটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অনেকেই বিশাল রণতরীটি দেখতে বন্দরের ভিড় জমান।

মার্কিন সংবাদমাধ্য সিএনএনের প্রকাশিত ছবিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হালের বিভিন্ন অংশে মরিচার বড় দাগ এবং রং উঠে যাওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে পানির ঠিক ওপরের অংশ ও ফ্লাইট ডেকের কিনারায় মরিচার ছাপ স্পষ্ট।

শুধু জাহাজের বাইরের চেহারাই নয়, দীর্ঘ এই মোতায়েনের সময় রণতরীতে থাকা নাবিকদের জীবনযাপন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাবার ও স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রীর ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে আব্রাহাম লিংকন। এরপর দীর্ঘ ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে রণতরীটি। সমুদ্রে এত লম্বা সময় ধরে থাকায় এটির নিচের অংশে মরিচা ধরেছে। তবে ব্যাপক মরিচা ও ক্ষয় মেরামতের জন্য রণতরীটিকে বন্দরে নিয়ে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল স্কুসজার, বলেছেন, ‘একটি জাহাজ যখন সমুদ্রে ৬০ দিন বা তার বেশি নিয়োজিত থাকে তখন এটির পানির অংশে মরিচা ধরা অস্বাভাবিক কোনো কিছু নয়। সমুদ্রে, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন অভিযানের সময়, মরিচার সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব না’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা দেখছি, তাতে সমস্ত মরিচা দূর করতে প্রায় ৩০ দিনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ লাগবে।’

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ২৮৬ দিনের এই মোতায়েন শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, বরং দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করা একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার ক্রুদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে।

এদিকে থাইল্যান্ডে পৌঁছে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যেররাকয়েক দিনের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন। রণতরীটি লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে, আর নাবিকদের বড় একটি অংশ কাছের পর্যটন শহর পাতায়ায় সময় কাটাবেন।

এক সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও নাবিকের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও অর্থনৈতিক সুবিধা হবে বলে আশা করছে থাই কর্তৃপক্ষ।

ফকল্যান্ড সংকট, মুখোমুখি যুক্তরাজ্য-আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ফকল্যান্ড সংকট, মুখোমুখি যুক্তরাজ্য-আর্জেন্টিনা

ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত ভাষণে মিলেই জানিয়েছেন, ফকল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ব্রিটিশ তেল কোম্পানিগুলোর খনিজ সম্পদ উত্তোলনের পরিকল্পনা থামাতে তার সরকার কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপে আমেরিকার ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার আভাস দেওয়ার পরপরই আর্জেন্টিনার তরফ থেকে এই নতুন উত্তাপ তৈরি হলো।

গভীর সমুদ্রে 'সি লায়ন' তেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে এর সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। তিনি পরিষ্কার করে জানান, স্বাবলম্বী সামরিক শক্তি ছাড়া সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব নয়।

তাই নিজস্ব ব্যয়সংকোচন নীতির মাঝেই দেশটির সর্বদক্ষিণের তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে নতুন একটি আধুনিক নৌঘাঁটি নির্মাণে বাড়তি তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দেন মিলেই। তিনি এই তেল প্রকল্পকে জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন।

মিলেইয়ের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ওয়াশিংটনের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ফকল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নিরপেক্ষ অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মন্তব্যকে নিজের সরকারের বড় পররাষ্ট্রনৈতিক সাফল্য বলে দাবি করেন মিলেই।

এদিকে, বিতর্কিত দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ব্রিটেনের হাতেই থাকবে এবং দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সিদ্ধান্তই এতে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।