যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না-ও হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ক্রিস রাইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও হামলার পথ বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরান যেন নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করতে না পারে, সে পথও বন্ধ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, তেলবাহী জাহাজ আটক এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতিকে ‘খুব সামান্য একটা ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনই যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করার প্রয়োজন নেই এবং মাঠপর্যায়ের লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একা থাকতে হবে না। ভবিষ্যতে আরও মিত্রদেশ ওয়াশিংটনের পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।