২৯ আগস্ট ২০২৬

লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখলেন ট্রাম্প

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ হ্রদ লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে হ্রদটির নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য করার ক্ষমতা এই আদেশের নেই।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ থেকেই আমরা লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করছি। এটি এমন একটি পরিবর্তন, যা নিয়ে আমি আসলে অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম। ‘

কানাডার স্পষ্ট আপত্তি

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়ে দেন, তারা নাম পরিবর্তন করবেন না।

কার্নি বলেন, লেকটির নাম কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ারও ৪০০ বছরের বেশি আগে থেকে প্রচলিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আমেরিকা পরিবর্তিত হচ্ছে—তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ও জলভৌগোলিক নামও পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু কানাডীয়রা জানেন, বাস্তবতাকে তার সঠিক নামেই ডাকতে হয়—লেক অন্টারিও, তখন, এখন এবং সবসময়। ’

লেক অন্টারিওর জলভাগের প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডায়, আর বাকি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘নিউইয়র্ক এটিকে ওই নামে ডাকবে না।’


আরও পড়ুন

হরমুজে ইরানের সঙ্গে মাইন সরাবে কাতার


কানাডা ও নিউইয়র্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর ফিল স্কটও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

তিনি এটিকে ‘তুচ্ছ ও হতাশাজনক’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন।

কুইবেকের ওয়েন্ডাট জাতির গ্র্যান্ড চিফ পিয়ের পিকার্ডও নাম পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, ‘অন্টারিও’ নামটি ওয়েন্ডাট ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘হ্রদটি সুন্দর ও বিশাল।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন।’

বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

লেকের নাম পরিবর্তনের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ইতোমধ্যে উত্তপ্ত।

গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। তিন দিন ধরে তীব্র আলোচনা চলার পর উভয় পক্ষই আলোচনার অচলাবস্থার জন্য একে অপরকে দায়ী করে।


আরও পড়ুন

৮ হাজার মুসলিম হত্যার দায়ে দণ্ডিত ‘বসনিয়ার কসাই’ ম্লাদিচের মৃত্যু


এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যে দশ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্যে প্রভাব পড়েছে।

৯/১১ হামলা মামলা: ২৭ বছর পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
৯/১১ হামলা মামলা: ২৭ বছর পর খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সঙ্গে অভিযুক্ত আরও তিনজনের বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালতের বিচারক বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা বুধবার এই বিচারসূচি নির্ধারণ করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই আদেশ এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ওই সমঝোতা চুক্তি আটকে দিয়েছে, যার ফলে খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহআসামি দোষ স্বীকারের বিনিময়ে মৃত্যু দণ্ড এড়াতে পারতেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বিশেষ করে সিআইএর কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় সংগৃহীত প্রমাণ এবং নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আইনি বিরোধের কারণে।

প্রসিকিউশন চাইছিল ২০২৭ সালের শুরুতে বিচার শুরু হোক। তবে বিচারক বলেন, ওই সময়সীমায় প্রাক-বিচার পর্যায়ের প্রমাণসংক্রান্ত ও নিয়ম-মান্যতা নিশ্চিত করার আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। তার আদেশে তিনি লিখেছেন, ‘বাস্তবসম্মত বিচার-তারিখ নির্ধারণে প্রাক-বিচার পর্যায়ে প্রমাণসংক্রান্ত শুনানি এবং নিয়ম-মান্যতা নিশ্চিত করার আবেদনের নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’

খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে যে তিন আসামির বিচার হবে, তারা হলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, মুস্তফা আল-হাওসাওয়ি এবং আলী আবদুল আজিজ আলী।

আদেশ অনুযায়ী, প্রথমে সামরিক সদস্যদের নিয়ে জুরি নির্বাচন হবে। এরপর ৩০ দিন পর শুরু হবে উদ্বোধনী বক্তব্য। প্রসিকিউশন তাদের মামলা শেষ করার ৬০ দিন পর প্রতিরক্ষা পক্ষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করবে। বিচার শেষে সাজা নির্ধারণের ধাপ থাকবে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহআসামি ২০২৪ সালে দোষ স্বীকারের বিনিময়ে মৃত্যু দণ্ড এড়াতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। তবে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন কয়েক দিনের মধ্যেই সেই চুক্তি বাতিল করে দেন। পরে গত মাসে আপিল আদালত অস্টিনের ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করে। তিনি ২০০৬ সালে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে নেয়ার আগে তিন বছর সিআইএর গোপন কারাগারেও ছিলেন।

৮ হাজার মুসলিম হত্যার দায়ে দণ্ডিত ‘বসনিয়ার কসাই’ ম্লাদিচের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
৮ হাজার মুসলিম হত্যার দায়ে দণ্ডিত ‘বসনিয়ার কসাই’ ম্লাদিচের মৃত্যু

‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত সাবেক বসনীয় সার্ব সামরিক কমান্ডার রাটকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যুর খবর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ম্লাদিচ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

২০১১ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি দ্য হেগের জাতিসংঘের আটককেন্দ্রে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগে স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
স্রেব্রেনিৎসা হত্যাযজ্ঞ

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সামরিক কমান্ডার ছিলেন ম্লাদিচ। তার নেতৃত্বাধীন বসনীয় সার্ব বাহিনী ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে স্রেব্রেনিৎসায় হাজার হাজার বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করে।

পরবর্তী সময়ে ওই হত্যাযজ্ঞে নিহতের সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উঠে আসে। স্রেব্রেনিৎসার হত্যাকাণ্ডকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতার একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্রেব্রেনিৎসা জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকা’ ছিল। সেখানে বসনিয়াক মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ম্লাদিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বলা হয়, তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করে।

সারায়েভো অবরোধেও ভূমিকা

ম্লাদিচের বাহিনী বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো দীর্ঘদিন অবরোধ করে রাখে। শহরটিতে গোলাবর্ষণ ও অন্যান্য সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে সারায়েভো অবরোধ ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার দায়ও প্রতিষ্ঠা করে।

১৬ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার

যুদ্ধ শেষে ম্লাদিচ দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য সাবেক যুগোস্লাভিয়ার (ICTY) তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করার পরও প্রায় ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলেন। অবশেষে ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার লাজারেভো গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে ম্লাদিচকে এক অভিযোগে গণহত্যা, পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং চারটি যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে তার আপিলও খারিজ করে ওই সাজা বহাল রাখা হয়।

ম্লাদিচের মৃত্যু বসনিয়া যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি বহুল আলোচিত ব্যক্তির জীবনের অবসান ঘটাল। তবে স্রেব্রেনিৎসাসহ ওই যুদ্ধের হত্যাকাণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিচার ও স্মৃতির বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

হাসপাতালে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: নবজাতক ইউনিটে পুড়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
হাসপাতালে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: নবজাতক ইউনিটে পুড়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের খ্যাতনামা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের নবজাতক ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালটির তৃতীয় তলায় অবস্থিত মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য (এমসিএইচ) বিভাগের ওই সংবেদনশীল ইউনিটে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ভেতরে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরিত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ইউনিটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় নবজাতক ওই ইউনিটে মোট ১৬ জন শিশু ভর্তি ছিল। তবে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনের ভয়াবহতা চরম রূপ নেয়। ফলে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১৪ শিশু পুরোপুরি পুড়ে মারা যায়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং পরবর্তীতে কুলিং অপারেশন পরিচালনা করেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি পুড়ে যায়।

এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পুরো হাসপাতাল চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।

এদিকে এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্ত কমিটি আগুনের সঠিক সূত্রপাত এবং পুরো দুর্ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি-বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আগস্টের ভিসা বুলেটিনে এসেছে বড় ধরনের অগ্রগতি। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার এফ-২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে ভিসা পাওয়ার সুযোগ।

এফ-২এ ক্যাটাগরির আওতায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ-২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এগিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই কাট-অফ তারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এই পরিবর্তনের ফলে যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬-এর আগে, তাদের জন্য অভিবাসন ভিসা ইস্যু বা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ নির্ধারণ করে কোন অগ্রাধিকার তারিখের আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যু করা সম্ভব হবে। আর জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগতভাবে সীমিত পরিবারভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ কার্যকর অবস্থায় থাকতে হয়।

ফলে আগস্টের এই অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আশার খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১৫৭, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১৫৭, নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, নেপালের পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে বলেও জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ এই ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

নেপালি পুলিশের নিশ্চিত করা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা এখন ৫৭৯-এ দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি ভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক।

তারা বলছে, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি, ৫৪ জন মার্কিন নাগরিক এবং নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জন।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন রয়েছেন।

ট্যুর অপারেটরদের তথ্য উদ্ধৃত করে পর্যটন বোর্ড বলছে, অধিকাংশ যাত্রী ভারত ও নেপালের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত মানসারোভরের পথে ছিলেন।