২৭ আগস্ট ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমাতে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমাতে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হচ্ছে। তেহরানে আজ কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি সফর করছেন। তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। গত এক সপ্তাহে ইরান ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ বেড়েছে। প্রথমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেন। এরপর ইরানে যান ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কাতারের আশা, এসব আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে।

এরই মধ্যে ওমান ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে তারা একমত হয়েছেন। বর্তমানে অঞ্চলটির সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর একটি হলো এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল। সমুদ্রপথটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

কাতার মনে করছে, এসব আলোচনা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ফের আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো পার্থক্য রয়েছে।

তার পরও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাসের সামরিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ তৈরি হয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, এসব আলোচনাকে দুই দেশের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ, বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের মধ্যে এটিই অন্যতম বড় পার্থক্য। বর্তমান সংঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত কোনো বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা এখনো খুব বেশি নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই আশা করছে, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংলাপের নতুন একটি ভিত্তি তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

তুরস্ক-কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে ৫৩ গুণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
তুরস্ক-কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে ৫৩ গুণ

গত ২১ বছরে তুরস্ক-কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫৩ গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আঙ্কারায় কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত এসব কথা বলেন।

তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী সোমবার এ লক্ষ্য ঘোষণা করেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্মাণকাজের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য একসময় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। এখন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (টিইপিএ) মাধ্যমে বাণিজ্য আরও বাড়ানোর আশা করছে দুই দেশ। চুক্তিটি গত বছর কার্যকর হয়েছে।

কাতারে তুরস্কের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোরও বড় উপস্থিতি রয়েছে। বোলাত জানান, দেশটির তুর্কি ঠিকাদাররা কাতারে মোট ২০৬টি প্রকল্পে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের কাজ করেছে। অন্যদিকে কাতারের প্রায় ২৫০টি কোম্পানি তুরস্কে মোট ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগের মধ্যে অর্থ, ব্যাংকিং, জ্বালানি, লজিস্টিকস, গণমাধ্যম ও কৃষি খাত রয়েছে।

এদিকে কাতারে প্রায় ১ হাজার ১১৬টি তুর্কি কোম্পানি নির্মাণ, সেবা ও উৎপাদন খাতে কাজ করছে।

হরমুজ সংকটে বিকল্প বাণিজ্যপথ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প বাণিজ্যপথের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বোলাত। তিনি বলেন, শুধু সমুদ্রপথ ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পথ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তুরস্ক বর্তমানে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভোক্তা পণ্যের চাহিদা পূরণে কাজ করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কার্যকর হওয়া একটি ট্রানজিট পরিবহন চুক্তির আওতায় তুরস্কের পণ্যবাহী যান সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরব হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাচ্ছে। ইরাক ও সৌদি আরব হয়েও পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে।

বোলাত বলেন, ভবিষ্যতে এসব বিকল্প ট্রানজিট ও বাণিজ্য করিডোর আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার জন্য তুরস্ক ও কাতার একসঙ্গে কাজ করবে।

এদিকে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রতিনিধি। এ বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বোলাত।

দুই দেশের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তুরস্ক-কাতারের সুপ্রিম স্ট্র্যাটেজিক কমিটির বৈঠকেও নিকট ভবিষ্যতে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।

মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ"

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ

বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন নামের একটি নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র।

সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।

কাতারের এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বা অতীত থেকে চলে আসা কাজের ধারাগুলোকে নথিবদ্ধ করা। এ উদ্যোগের আওতায় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একটি যৌথ বিশ্বকোষ তৈরিতে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে “ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন”—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। এর বিপরীতে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব, রাজনীতি, অর্থনৈতিক জীবন ও পরিবারে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি এবিষয়ে বলেন, আজকালকার তরুণীদের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়—এ নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই এই উদ্যোগের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আলফু মুসলিমাহ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসব ইতিহাসকে আরো সহজলভ্য করে তোলা এবং ‘রিআয়া’ (رعاية) বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা।”

এছাড়াও বলেন, “মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও জ্ঞান হস্তান্তর, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনৈতিক জীবন এবং পরিবারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ করে আসছে।”

মুসলিম নারীদের এসব অবদান নথিবদ্ধ করা ইসলামের আরও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অর্ধেকই নারী।

ইতিহাসের যেসব অংশ এতদিন উপেক্ষিত ছিল, এই উদ্যোগ সেসব অংশকে সামনে আনতে, নতুন প্রজন্মকে মুসলিম নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের চিনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বিস্তৃত ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব অঞ্চল ও সময়ের নারীদের, যারা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং যাদের নিয়ে একাডেমিক গবেষণা বা জনপরিসরে আলোচনা কম হয়েছে।

আলফু মুসলিমাহ ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্ব ও মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে—আরবি ভাষাভিত্তিক ও ফার্সি-প্রভাবিত বিশ্ব, তুর্কি অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশগুলো, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

ব্যক্তিবিশেষ নারীদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মুসলিম নারীদের কীভাবে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে নথিবদ্ধ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো ও বর্ণনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তাও এই প্রকল্পে পর্যালোচনা করা হবে।

আল মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ আরো বলেন, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।” তিনি জানান, মুসলিম নারীদের ইতিহাস কীভাবে সংরক্ষিত ও এর ব্যাখ্যা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্যোগটি সেটিও পর্যালোচনা করতে চায়।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাছে একটি উন্মুক্ত প্রস্তাবনাও চাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডির বাইরে গিয়ে প্রত্যেক মুসলিম নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, নেতৃত্বের ধরন ও উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সময়কাল এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে।

একই সময়ে, আকর্ষণীয় লেখা, গল্প বলা, মৌখিক ইতিহাস এবং ভিজ্যুয়াল উপকরণের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

আল মুজাদিলাহ জানায়, এই গবেষণায় ৫০০টির বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং বিপুলসংখ্যক ধ্রুপদি ও সমকালীন উৎস ব্যবহার করা হবে।

ড. নাজাহর মতে, এই বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের উদ্দেশ্য হলো ‘আলফু মুসলিমাহকে’ শুধু পৃথক নারীদের জীবনী সংকলনের উৎস হিসেবে নয়, মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বহু সংখ্যক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আর বৃহত্তর পাঠকসমাজের জন্য এর লক্ষ্য হলো, আরো বিস্তৃত পরিসরের নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সহজবোধ্য বিবরণ তুলে ধরা।

ড. নাজাহ বলেন, “কাতার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রস্তাবনা আরবি ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে যেকোনো নারীকে বেছে নিতে পারবেন অথবা নিজেদের অঞ্চল কিংবা গবেষণার ক্ষেত্র থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।” প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা জমা দিতে পারবেন।

উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ড. নাজাহ জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, মুসলিম নারীদের অবদানের আরো সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করা এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা।

সূত্র: দ্যা পেনিনসুলা

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো ব্যক্তিকে সাড়ে চার লাখ রিয়াল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো ব্যক্তিকে সাড়ে চার লাখ রিয়াল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে গুরুতর আহত হওয়া এক ব্যক্তিকে ৪ লাখ ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বহাল রেখেছে আদালত। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আদালতের আপিল বিভাগ এই রায় দেন। গাড়ি চালক এবং সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে যৌথভাবে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

স্থানীয় পত্রিকা আল শার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক দিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তির পা ভেঙে যায়। চালকের অবহেলা ও ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এর আগে ট্রাফিক আদালত ওই চালককে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা করেছিল, যা পরে আপিলের মাধ্যমে কমিয়ে ৫ হাজার রিয়াল করা হয়।

তবে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট এবং চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য চালক ও বীমা কোম্পানির কাছে মোট ১০ লাখ রিয়াল ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলায় ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনজীবী রওদা বেহজাদ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনি যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করেন।

আদালত শুনানিতে দেখেন যে গাড়ি চালকের ভুলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং নিয়মানুযায়ী বীমা কোম্পানিকেও এর আইনি দায় নিতে হবে। প্রাথমিক আদালত উভয়পক্ষকে মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে বীমা কোম্পানি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে আগের রায়ই বহাল রাখেন।

আদালত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের সময় আহত ব্যক্তির বয়স, পেশা, চিকিৎসার খরচ এবং মানসিক কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে।

(তথ্যসূত্র: আল শার্ক পত্রিকা)

বিশ্বমঞ্চে দ্যুতি ছড়াচ্ছে কাতারের পুলিশ একাডেমির চৌকস দল

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় শুরু হওয়া বিশ্বখ্যাত সামরিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘রয়্যাল এডিনবরা মিলিটারি ট্যাটু ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে কাতার। গত ৭ আগস্ট শুরু হওয়া এই বর্ণিল উৎসব চলবে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক ও কুচকাওয়াজ দলগুলোর এই জমকালো আয়োজনে কাতারের প্রতিনিধিত্ব করছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত শেখ আবদুল্লাহ বিন মোহাম্মদ বিন সৌদ আল থানি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি উপদেষ্টা ও পুলিশ একাডেমির জেনারেল সুপারভাইজার মেজর জেনারেল ড. আবদুল্লাহ ইউসুফ আল মাল।

আন্তর্জাতিক এই বড় আসরে কাতারের উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে দেশটির সক্রিয় ভূমিকা এবং অন্যান্য দেশের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে। একই সাথে কাতার পুলিশ বাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার দক্ষতার চমৎকার প্রদর্শনী ঘটছে এই উৎসবে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ একাডেমির চৌকস দল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক ও ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এই উৎসবকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।

ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই কাতারে সাউইস্ট গাড়ি কেনার সুবর্ণ সুযোগ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

কাতারে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়া উপলক্ষে গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করেছে গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট লেক মোটরস। ‘লার্ন. ড্রাইভ. এক্সপ্লোর’ স্লোগানে সাউইস্ট (SOUEAST) ব্রান্ডের বিভিন্ন জনপ্রিয় এসইউভি গাড়ির ওপর এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই অফারটি চালু থাকবে।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় সাউইস্ট এস০৬, এস০৭ এবং এস০৯ মডেলের গাড়িগুলো বেশ সহজ কিস্তিতে কিনতে পারবেন গ্রাহকরা। মডেলভেদে মাসিক কিস্তি শুরু হচ্ছে মাত্র ১,৩৯৯ কাতারি রিয়াল থেকে। এর মধ্যে এস০৬ মডেলের কিস্তি ১,৩৯৯ রিয়াল, এস০৭ মডেলের কিস্তি ১,৫৯৯ রিয়াল এবং বড় মডেলের এস০৯ গাড়িটি নিতে মাসিক কিস্তি দিতে হবে ১,৯৯৯ রিয়াল।

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও থাকছে দারুণ কিছু উপহার ও সুবিধা। অফার চলাকালীন প্রতিটি গাড়ি ক্রয়ের সাথে একটি করে নতুন আইফোন ১৭ উপহার দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন কোনো ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই গাড়ি কেনার সুযোগ, চার বছরের জন্য শূন্য লাভ বা সুদ, ফ্রি রেজিস্ট্রেশন, দুই বছর বা ২০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিনামূল্যে সার্ভিসিং এবং ইঞ্জিনের ওপর ১০ বছর বা ১০ লাখ কিলোমিটারের বিশাল ওয়ারেন্টি সুবিধা।

ওয়েস্ট লেক মোটরসের প্রধান অপারেটিং অফিসার মনসেফ আহাবচানে জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ মানেই পরিবারগুলোর জন্য নতুন রুটিন ও নতুন প্রস্তুতি। এই সময়ে পরিবারের দৈনন্দিন চলাফেরা সহজ করতে এবং সাধ্যের মধ্যে একটি ভালো গাড়ি উপহার দিতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং আরামদায়ক যাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে এই অফারটি গ্রাহকদের অনেক উপকারে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।