২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতারের অভিযোগ উড়িয়ে এএফসি সভাপতির কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
কাতারের অভিযোগ উড়িয়ে এএফসি সভাপতির কঠোর হুঁশিয়ারি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইস্যুতে এশিয়ান ফুটবলে বাড়ছে বিভাজন। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অবস্থান নেওয়া নিয়ে গত সপ্তাহে তীব্র আপত্তি জানায় কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কিউএফএ)। কিউএফএ সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতিকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন, শেখ সালমান নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। থানি আরও অভিযোগ করেন, তিনটি কনফেডারেশনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এএফসি তার সঙ্গে কিংবা কিউএফের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি।

কাতারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা চিঠিতে কঠোর জবাব দিয়েছেন শেখ সালমান। এএফসি সভাপতি বলেন, ‘এশিয়ান ফুটবলের মৌলিক গুরুত্বের কোনো বিষয়ে এএফসি ও এশিয়ান ফুটবলের অবস্থান রক্ষায় সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব—দুটিই আমার রয়েছে।’

শেখ সালমান আরও বলেন, এএফসির গঠনতন্ত্র তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে এবং সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এশীয় ফুটবলের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা তার দায়িত্ব। ‘যে পরিস্থিতির কারণে ওই যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে এএফসির নীরব থাকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হতো।’

গত সপ্তাহের চিঠিতে আল-থানি জানতে চেয়েছিলেন, এএফসি কী ভিত্তিতে তার ৪৭টি সদস্য দেশের হয়ে কথা বলার অধিকার নিজেদের বলে মনে করেছে। এর জবাবে শেখ সালমান উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি এবং এএফসির অন্য সভাপতিরা এশীয় ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের প্রতি এএফসির সমর্থনের কথা তুলে ধরেন, যখন বিশ্বজুড়ে কাতারকে নিয়ে ব্যাপক চাপ ও সমালোচনা চলছিল।

শেখ সালমান বলেন, ‘সেই সময় প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া কিউএফএর তাৎক্ষণিক স্বার্থের অনুকূলে থাকায় তারা কোনো প্রক্রিয়াগত আপত্তি তুলেছিল বলে আমার মনে পড়ে না।’

তিনি আরও বলেন, অতীতের এসব ঘটনায় কিউএফএ একই ধরনের প্রক্রিয়া মেনে নিয়েছিল এবং তা থেকে সুবিধাও পেয়েছিল। তাই এবার তাদের হঠাৎ ও বেছে বেছে তোলা আপত্তির সঙ্গে আগের অবস্থানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

কাতার ও এএফসির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শুরু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর। গত মাসের শেষদিকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠনের একটি প্রস্তাব দেন ফিফা সভাপতি। প্রস্তাবটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল এফএফইর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তীব্র সমালোচনার মুখে এই পরিকল্পনা বাতিল করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো।

গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। তিন কনফেডারেশন দাবি করেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি।

ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয় কাতার, লেবানন, মরক্কো, সুদান, মিশর এবং মৌরিতানিয়ার জাতীয় ফেডারেশন। এরপর এএফসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে চিঠি দেয় কাতার।

নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার দেশ।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রী আল-থানি বলেন, সম্প্রতি কাতার তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এ ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন হামলা মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আল-থানি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৌলিক বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে।’

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তার দাবি, চলমান সংঘাতের সময় যৌথ অভিজ্ঞতা ও কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগের ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

তার আশঙ্কা, আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে এর আরও প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে।

গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আল থানি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম।

তবে ওই ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। এই নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার : ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দোহা বলে জানিয়েছেন আল থানি। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন।

এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কাতার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। চলমান সংঘাতের সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল।

কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব। তবে এ উদ্যোগে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজেদের ভূখ- রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

লেবাননের দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সমাধানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লেবানন ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনে তাঁরা একমত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবাননের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এটি পুরোনো একটি উদ্যোগ হলেও এখন বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের এই উদ্যোগ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দেশটির জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডন