১৯ আগস্ট ২০২৬

জিন্নাহর প্রাণঘাতী ব্যাধির খবর গোপন রাখা ভারতীয় ডাক্তার পাচ্ছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
জিন্নাহর প্রাণঘাতী ব্যাধির খবর গোপন রাখা ভারতীয় ডাক্তার পাচ্ছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির খবর গোপন রাখায় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার নিশান-ই-ইমতিয়াজ পেতে যাচ্ছেন বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) দুই পারসি চিকিৎসক। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার তথ্য গোপন রাখার জন্য চিকিৎসক ডা. জল রতনজি প্যাটেল ও রেডিওলজিস্ট ডা. জল ধাইভো-কুকে এই সম্মান দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছে ইসলামাবাদ।

পুরস্কার কমিটির প্রধান এবং ফেডারেল মন্ত্রী ফর প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস আহসান ইকবাল জানান, জিন্নাহর মরণব্যাধির তথ্য তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে ‘নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা’ করেছিলেন দুই চিকিৎসক।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আহসান ইকবাল জানান, ১৯৪৬ সালে ডা. প্যাটেল ও ডা. ধাইভো-কু জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তার যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তিনি আর মাত্র এক বা দুই বছর বাঁচতে পারেন। তবে অসুস্থতার গুরুতরতা সম্পর্কে তারা পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রাখেন।

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, জিন্নাহর অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ পেলে দেশভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির সময়সূচি বদলে যেতে পারতো।

আহসান ইকবাল লিখেছেন, পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বোম্বের পারসি সম্প্রদায়ের দুই অসাধারণ চিকিৎসক- একজন চিকিৎসক ও একজন রেডিওলজিস্ট-কে নিশান-ই-ইমতিয়াজের জন্য মনোনীত করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তারা কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির গোপনীয়তা বিশ্বস্ততার সঙ্গে রক্ষা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সম্পূর্ণ পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চিকিৎসকরা নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা করেছিলেন। পেশাগত শপথের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, যা পাকিস্তান সৃষ্টিকে সম্ভব করে তুলেছিল।

জিন্নাহর মৃত্যুর ৭৮ বছর পর ডা. প্যাটেল ও ডা. ধাইভো-কুকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

জিন্নাহর শারীরিক অবস্থা

পাকিস্তানি মন্ত্রী আহসান ইকবাল জানান, ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরে স্বীকার করেছিলেন, জিন্নাহর অসুস্থতার মাত্রা সম্পর্কে তিনি জানলে হয়তো দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন। এতে ইতিহাসের গতিপথও বদলে যেতে পারতো।

ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ আকবর আহমেদ তার ‘জিন্নাহ, পাকিস্তান অ্যান্ড ইসলামিক আইডেন্টিটি: দ্য সার্চ ফর সালাদিন’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ১৯৩০-এর দশক থেকেই জিন্নাহ যক্ষ্মায় ভুগছিলেন। এ তথ্য তার বোন ফাতিমা জিন্নাহসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিই জানতেন। সে সময় যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও ছিল না। নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় জিন্নাহ তার অসুস্থতার খবর জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলে জানা যায়।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। দেশভাগের মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের যক্ষ্মায় মারা যান তিনি।

‘আবারও ভারতের অংশ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান’: রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্য

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
‘আবারও ভারতের অংশ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান’: রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্য

একদিন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের অংশ হয়ে উঠবে এবং এ জন্য সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে বলেছেন যোগ গুরু রামদেব। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভারতে কোনও ধর্মই হুমকির মুখে নেই, বরং হুমকির মুখে পড়েছে দেশের সম্মান ও মর্যাদা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামদেব এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ধর্মান্তরকরণ, সনাতন ধর্ম, শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য করেন। গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা সাংবিধানিক ও নৈতিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রামদেব অভিযোগ করেন, এই দুই দেশে হিন্দুরা ব্যাপক অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে অত্যাচার ও অন্যায় হয়েছে তা মানব সভ্যতার অন্যতম বড় নিষ্ঠুরতা। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রামদেব বলেন, এমন একদিন আসবে যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।

ধর্মান্তরকরণ এবং ছত্তিশগড়ে এটি রোধে প্রণীত আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দু, খ্রিস্টান বা মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগগুলো মূলত ‘রাজনৈতিক বাকপটুতা’ বা বক্তব্যের অংশ। তিনি বলেন, অতীতে যে পরিবর্তনই ঘটুক না কেন, নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ নির্যাতিত না হয়। হিন্দুধর্ম, ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম- কোনোটার জন্যই কোনও হুমকি নেই। যা হুমকির মুখে রয়েছে তা হলো ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।

রামদেব ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং এর নাগরিকদের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলেন, আমি দেখতে চাই ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের সেরা হবে, রূপির মান অন্তত ডলার ও পাউন্ডের সমান হবে এবং ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হবে যাতে ভারতীয়দের বিশ্বের কোথাও ভিসার প্রয়োজন না হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ প্রতিটি দেশে ভারতের সমান সম্মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সনাতন ধর্ম নিয়ে রামদেব বলেন, এই ধর্মে এমন কোনও ঘাটতি নেই যা মানুষকে ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করবে। তিনি দাবি করেন, সনাতন সংস্কৃতি ও প্রাচীন ধর্ম। এতে এমন কী অভাব ছিল যে আমাদের মুসলিম বা খ্রিস্টান হতে হবে? একদল লোক তলোয়ার, প্রলোভন, অলৌকিক ঘটনা এবং নানা ভুল ধারণা ছড়িয়ে আমাদের নিজস্ব সনাতনী হিন্দু ভাইদের ইসলামে রূপান্তরিত করেছিল। আমরা তখনও নীরব ছিলাম। এমনকি খ্রিস্টানরা যখন মানুষকে ধর্মান্তরিত করেছিল তখনও আমরা নীরব থেকেছি।

সামাজিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে কোনও ত্রুটি নেই। কেবল কিছু বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি এসব বৈষম্য চর্চা করে। তিনি আরও বলেন, সনাতনী হওয়ার অর্থ হলো শ্রী রামের মর্যাদা, শ্রী কৃষ্ণের যোগ ও কর্ম এবং শিবের পবিত্রতা ও সত্যতাকে গ্রহণ করা। এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করা হলে ধর্মান্তরের কোনও প্রশ্নই থাকে না।

ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা যেন কোনও ষড়যন্ত্র ছাড়া সঠিকভাবে চলে, সে বিষয়ে সরকারের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান রামদেব। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কৃষিতে যাতে কোনও অনিয়ম না হয় তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। এগুলোর উন্নতি ঘটিয়েই ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা সম্ভব।

পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির এক মন্তব্যের জবাবে রামদেব বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অরাজকতা’ ছড়ানোর শামিল। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সকলের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, তবে সেই স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই দেশ ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত না হয়।

নেপাল সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতের সেনাপ্রধান

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
নেপাল সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতের সেনাপ্রধান

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। সোমবার কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

নেপাল সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে নেপালে রয়েছেন জেনারেল শেঠ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি নেপাল সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

১৯৫০ সালে শুরু হওয়া একটি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নেপাল ও ভারত পরস্পরের সেনাপ্রধানকে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট পৌডেলের সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রবিবার নেপালে পৌঁছান জেনারেল শেঠ।

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতের সেনাপ্রধানের নেপাল সফর দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সেনা-টু-সেনা সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনন্য ও পরীক্ষিত প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে পুনর্ব্যক্ত করে।

জেনারেল শেঠ ভারতীয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

সোমবার নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জামও হস্তান্তর করেন জেনারেল শেঠ। নেপাল সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি সেনা সদর দফতর প্রাঙ্গণে একটি চারা রোপণ করেন এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন।

নেপাল সেনাবাহিনী বলেছে, জেনারেল শেঠের এই সফর নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মানসূচক পদমর্যাদা প্রদান, সামরিক বৈঠক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সরঞ্জাম হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে জেনারেল শেঠের এই সফরে ভারত ও নেপালের চলমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ধারাবাহিকতাই উঠে এসেছে।

জিন্নাহর প্রাণঘাতী ব্যাধির খবর গোপন রাখা ভারতীয় ডাক্তার পাচ্ছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
জিন্নাহর প্রাণঘাতী ব্যাধির খবর গোপন রাখা ভারতীয় ডাক্তার পাচ্ছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির খবর গোপন রাখায় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার নিশান-ই-ইমতিয়াজ পেতে যাচ্ছেন বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) দুই পারসি চিকিৎসক। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার তথ্য গোপন রাখার জন্য চিকিৎসক ডা. জল রতনজি প্যাটেল ও রেডিওলজিস্ট ডা. জল ধাইভো-কুকে এই সম্মান দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছে ইসলামাবাদ।

পুরস্কার কমিটির প্রধান এবং ফেডারেল মন্ত্রী ফর প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস আহসান ইকবাল জানান, জিন্নাহর মরণব্যাধির তথ্য তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে ‘নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা’ করেছিলেন দুই চিকিৎসক।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আহসান ইকবাল জানান, ১৯৪৬ সালে ডা. প্যাটেল ও ডা. ধাইভো-কু জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তার যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তিনি আর মাত্র এক বা দুই বছর বাঁচতে পারেন। তবে অসুস্থতার গুরুতরতা সম্পর্কে তারা পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রাখেন।

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, জিন্নাহর অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ পেলে দেশভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির সময়সূচি বদলে যেতে পারতো।

আহসান ইকবাল লিখেছেন, পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বোম্বের পারসি সম্প্রদায়ের দুই অসাধারণ চিকিৎসক- একজন চিকিৎসক ও একজন রেডিওলজিস্ট-কে নিশান-ই-ইমতিয়াজের জন্য মনোনীত করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তারা কায়েদ-ই-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির গোপনীয়তা বিশ্বস্ততার সঙ্গে রক্ষা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সম্পূর্ণ পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চিকিৎসকরা নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা করেছিলেন। পেশাগত শপথের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, যা পাকিস্তান সৃষ্টিকে সম্ভব করে তুলেছিল।

জিন্নাহর মৃত্যুর ৭৮ বছর পর ডা. প্যাটেল ও ডা. ধাইভো-কুকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

জিন্নাহর শারীরিক অবস্থা

পাকিস্তানি মন্ত্রী আহসান ইকবাল জানান, ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরে স্বীকার করেছিলেন, জিন্নাহর অসুস্থতার মাত্রা সম্পর্কে তিনি জানলে হয়তো দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন। এতে ইতিহাসের গতিপথও বদলে যেতে পারতো।

ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ আকবর আহমেদ তার ‘জিন্নাহ, পাকিস্তান অ্যান্ড ইসলামিক আইডেন্টিটি: দ্য সার্চ ফর সালাদিন’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ১৯৩০-এর দশক থেকেই জিন্নাহ যক্ষ্মায় ভুগছিলেন। এ তথ্য তার বোন ফাতিমা জিন্নাহসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিই জানতেন। সে সময় যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসাও ছিল না। নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় জিন্নাহ তার অসুস্থতার খবর জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলে জানা যায়।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। দেশভাগের মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের যক্ষ্মায় মারা যান তিনি।

স্পেনের সেউতা দ্বীপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিক্ষোভ, আছেন বাংলাদেশিরাও

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
স্পেনের সেউতা দ্বীপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিক্ষোভ, আছেন বাংলাদেশিরাও
সেউতার এক সৈকতে বিক্ষোভ করছেন শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী। ছবি: এওএল

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। এরপর থেকে দুই বছর ধরে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া পাড়ি দিয়েছেন। এর অধিকাংশই হেঁটে পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। মরুভূমিতে তৃষ্ণায় প্রাণ হারাতে দেখেছেন অনেক সহযাত্রীকে। এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায়। চাচ্ছেন আশ্রয়।

সেউতার এক সৈকতে বিক্ষোভ করছেন মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের মতো শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে তাঁদের স্পেনে আশ্রয় দিতে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মাত্র ৮০ হাজার জনগোষ্ঠীর এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটিতে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অনধিকার প্রবেশ করে। পরবর্তী কয়েক দিনে তাঁদের বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও রয়ে গেছেন আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী।

শহরের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় অধিকাংশ অভিবাসী মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় এল ত্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছি। এখানে মারাত্মক ঠান্ডা আর দুর্গন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে আছি। পুলিশও শহরে দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।’

স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যানারে লেখা, ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। তাঁরা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ এমন স্লোগানও দেন।

বিক্ষোভকারীদের পেছনে দেখা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ পাথুরে তীরে কাপড় ধুচ্ছিলেন, আবার কেউ বাঁশের তৈরি ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

এদিকে সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা ওন্দা সেরো রেডিওকে জানান, শহরের সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

রোভিরাল্তা আরও বলেন, ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও হু হু করে বাড়ছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানান, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ রয়েছে তবে তা ভেঙে পড়েছে এ কথা সত্য নয়। আর অভিবাসনের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করা অন্যায্য ও জেনোফোবিক। অভিবাসীদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাঝারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে তা কম।

সেউতায় অপেক্ষমাণ অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীই মরক্কোর। তাঁরা রয়টার্সকে জানান, তাঁদের দেশে কাজের পরিবেশ খারাপ হওয়ায় তাঁরা ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের অনেকেরই উচ্চতর যোগ্যতা রয়েছে।

ফেজ শহরের ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার বলেন, মাসে গড়ে ৩ হাজার দিরহাম (৩২৪ ডলার) আয় করে তাঁর পক্ষে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মাটিতে পৌঁছানোর পর আমার মনে হয়েছে, আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি। ফিরে যাওয়ার চেয়ে আমি বরং মরতে চাই।’

সংঘাতকবলিত উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সী ইমানুয়েল পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সন্তানদের অপহরণের আশঙ্কায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নাইজার, আলজেরিয়া ও মরক্কো হয়ে চার মাসের একটি ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জন্য আরও ভালো জীবনের লড়াই করছি।’ তিনি আরও জানান, যে কাজই তাঁকে দেওয়া হোক, তিনি তা করতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ সেনেগালের উসমান জানান, তাঁর যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন। তবে তিনি যেসব স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর পাননি। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সারাদিন কিছুই না করে বসে বসে ইমেইল চেক করা এবং উত্তরের অপেক্ষা করা।’

ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
ইমরান খানের মৃত্যুর খবর: গুজব না সত্য? যা বলল সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, ইমরান খান জীবিত আছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।

গুজবের সূত্রপাত
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দুটি ভিডিও প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এই গুজবের সূত্রপাত হয়। ‘ইজ খান স্টিল উইথ আস’ এবং ‘হোয়াট হ্যাপেন্স আফটার খান’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে ওয়াজাহাত দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের (জিএইচকিউ) তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ইমরান খান আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে খোদ সেনাবাহিনীর ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি ওই কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান।

এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে পরে সাংবাদিক ওয়াজাহাত নিজেই স্পষ্ট করেন, ইমরান খানের মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। তাঁর সূত্রগুলো মূলত ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তার কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের কথাই তাঁকে জানিয়েছিল।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইএসপিআর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করে। অন্যদিকে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোও তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এক সাক্ষাৎ পর্বে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়, যেখানে ইমরান খানকে নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

মৃত্যুর গুজব থামলেও ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে পিটিআই নেতাদের উদ্বেগ কাটেনি। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বোন ও আইনজীবীদের অবাধে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইমরান খানের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দলের কর্মী-সমর্থকদের রাওয়ালপিন্ডিমুখী মিছিলের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন নেতারা।

এরই মধ্যে পিটিআইয়ের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে ইমরান খানের চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা এবং কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত আবেদনের দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছেন।