১৩ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ২ সেনাসদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ২ সেনাসদস্য মারা গেছেন। গত বুধবার রাজ্যটির বেল কাউন্টির একটি উন্মুক্ত মাঠে আঘাত হানার পর সামরিক যানটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তৎক্ষণাৎ আশপাশের ঘাসের জমিতে তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

রাজ্যটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলেই সামরিক হেলিকপ্টারে থাকা দুজন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান রয়টার্সকে জানান, টেক্সাসের রাজধানী অস্টিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বেল কাউন্টির একটি ফাঁকা মাঠে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বেল কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনাস্থলেই বিমানে থাকা দুই আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ওই স্থানে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়।

ক্লিফ কোলম্যানের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে পোড়া ঘাসের বিশাল অংশ এবং পুরো এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। ঘটনার পর স্থানীয় বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ফোর্ট হুড ঘাঁটির নিয়মিত সামরিক অভিযান চলাকালে বেল কাউন্টিতে আজ একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দুই বীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ফোর্ট হুড ঘাঁটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের ঘাঁটির অধীনস্থ একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক সামরিক হেলিকপ্টার নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। মৃত সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় করা সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মতি জানিয়েছে।

আনাদোলুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই নতুন করে সংঘাত এড়াতে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের সম্মতির কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল স্থায়ী একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালু রাখা। কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ছিল না। গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে হামলা চালায় বলে জানানো হয়।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি দেখো দিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ২ সেনাসদস্য নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ২ সেনাসদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে ২ সেনাসদস্য মারা গেছেন। গত বুধবার রাজ্যটির বেল কাউন্টির একটি উন্মুক্ত মাঠে আঘাত হানার পর সামরিক যানটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তৎক্ষণাৎ আশপাশের ঘাসের জমিতে তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

রাজ্যটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাস্থলেই সামরিক হেলিকপ্টারে থাকা দুজন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান রয়টার্সকে জানান, টেক্সাসের রাজধানী অস্টিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার উত্তরে বেল কাউন্টির একটি ফাঁকা মাঠে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বেল কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্ঘটনাস্থলেই বিমানে থাকা দুই আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ওই স্থানে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়।

ক্লিফ কোলম্যানের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে পোড়া ঘাসের বিশাল অংশ এবং পুরো এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। ঘটনার পর স্থানীয় বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ফোর্ট হুড ঘাঁটির নিয়মিত সামরিক অভিযান চলাকালে বেল কাউন্টিতে আজ একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দুই বীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন সেনাবাহিনীর ফোর্ট হুড ঘাঁটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের ঘাঁটির অধীনস্থ একটি এএইচ-৬৪ আক্রমণাত্মক সামরিক হেলিকপ্টার নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং এতে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। মৃত সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
যৌন হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে ৪০ কোটি টাকা গুনছে এয়ারলাইন্স

কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নারী কেবিন ক্রুদের দায়ের করা এক দশকের পুরোনো একটি মামলা ৪.৫ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারে নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সোমবার সমঝোতার শর্ত অনুমোদন করেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি আদালত।

২০১৬ সালে ওয়েস্টজেটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সাবেক কেবিন ক্রু ম্যান্ডালেনা লুইস।

তার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালে হাওয়াইয়ে একটি লে-ওভারের সময় ওয়েস্টজেটের এক পাইলট তাকে যৌন নির্যাতন করেন। তার দাবি, একই পাইলট এর আগে ২০০৮ সালে আরেক নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকেও যৌন নির্যাতন করেছিলেন।

লুইস অভিযোগ করেন, তিনি ঘটনাটি ওয়েস্টজেটকে জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট পাইলটকে কাজে বহাল রাখা হয়। এমনকি তিনি দাবি করেন, পুলিশ যাতে হাওয়াইয়ে ওই পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে, সে জন্য তাকে অন্য রুটে পাঠানো হয়েছিল।

পরে ২০১৬ সালে লুইসকে ‘চরম অবাধ্যতার’ অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে লুইস ও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২০১৮ সালে ইউএস অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কেবিন ক্রুর ওপর একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মজীবনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, সাবেক কেবিন ক্রু লুইসের নিপীড়নের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতা কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওয়েস্টজেট।

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট বলেছে, ‘উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা ওয়েস্টজেটের প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পদত্যাগ করছেন ট্রাম্পের আলোচিত মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
পদত্যাগ করছেন ট্রাম্পের আলোচিত মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট!

পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্পের মুখপাত্র
ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই সাংবাদিকদের প্রতি তীক্ষ্ণ ও কড়া মন্তব্যের জন্য পরিচিত হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট তার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার(১২ আগস্ট) এ ঘোষণা দিয়ে জানান, লেভিট এরপরও একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

২৮ বছর বয়সী লেভিট মার্কিন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ মুখপাত্র হিসেবে এ যাবৎকালের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি ট্রাম্পের একজন অত্যন্ত অনুগত ও জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত। প্রায়শই উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাবলীল ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের চমৎকার প্রেস সেক্রেটারি এবং আমার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ক্যারোলিন লেভিট এই মাসের শেষে তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। ক্যারোলিন এখন আমার শীর্ষস্থানীয় বাইরের উপদেষ্টাদের একজন এবং রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন।

গত মে মাসে লেভিট তার দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানা নামের এক কন্যাসন্তান প্রসবের কথা ঘোষণা করেন। এর ঠিক কয়েক দিন আগেই তিনি তার মাতৃত্বকালীন ছুটি পিছিয়ে দিয়েছিলেন। ওই সময় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক বন্দুকধারী ট্রাম্পকে হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কাজে ফেরার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা আসলো। যখস দেশটিতে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে আসার পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিদায়ের ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে তার হয়ে কথা বলার বিশেষ সুযোগ ও দায়িত্ব আমাকে দেওয়ার জন্য আমি প্রেসিডেন্টের কাছে কৃতজ্ঞ। উদারপন্থী বা লিবারেল মিডিয়াকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাফল্য সম্পর্কে আমেরিকান জনগণ যাতে সত্যটা জানতে পারে তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত উপভোগ করেছি।

লেভিট পোস্টে লেখেন, কন্যাসন্তানের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফিরে তিনি অনুভব করেছেন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মনোযোগ ও সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা দিতে গিয়ে আমি আমার দুই ছোট সন্তানের জন্য সেরা মা হয়ে উঠতে পারছি না।

লেভিট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার প্রেস অফিসে এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে তার সময়ে নিয়মিত ব্রিফিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়। যা প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাংবাদিকদের চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন, কোনো স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন নয়, বরং হোয়াইট হাউস নিজেই ঠিক করবে কোন সাংবাদিকরা ওভাল অফিস এবং ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ট্রাম্পের কার্যক্রম সরাসরি কভার করার সুযোগ পাবেন।

তিনি ডানপন্থী, ট্রাম্প-পন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন পেতেও সহায়তা করেছিলেন, যার ফলে ব্রিফিং রুমে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ে, যারা সাধারণত আরও কঠিন প্রশ্ন করে থাকে। নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠা লেভিট, যেখানে তার পরিবার একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। ২০১৭ সালে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদপত্রে একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানান, একজন অধ্যাপক ক্লাসে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন।

২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর তিনি ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনের জন্য ট্রাম্প-পন্থী ও বন্দুকের মালিকানা-পন্থী প্ল্যাটফর্মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হন। এরপর ২০২৪ সালের পুনঃনির্বাচনী প্রচারণার সময় টেলিভিশনে তার দৃঢ় উপস্থাপনার জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রশংসা অর্জন করেন।

তিনি একটি রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দেশ ক্রমবর্ধমান চরমপন্থী ডেমোক্র্যাট পার্টির কাছ থেকে অস্তিত্বের সংকটের সম্মুখীন, যারা আমেরিকার সমস্ত মহৎ জিনিস ধ্বংস করতে চায়।আমার লড়াই একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, কিন্তু এটি এখনও শেষ হয়নি।

ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক যুদ্ধসহ গত কয়েক দশকে ইরানের হামলা ও বিভিন্ন সংঘাতে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ দাবির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় অচলাবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের এই দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের আলোচকরা সাম্প্রতিক পাঁচ মাসের যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করায় তিনিও পাল্টা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, সড়কপথে পেতে রাখা বোমা ও বিভিন্ন সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত ও গুরুতর আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর মধ্যে সাবেক ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহতদের পরিবারসহ আরও হাজারো নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গত ৫০ বছরে ইরানে নিহত ‘শত শত হাজার’ নিরপরাধ বিক্ষোভকারীর পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গত পাঁচ মাসে নিহত ৫২ হাজার মানুষের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এসব দাবি ইরানের নেতৃত্ব সহজে মেনে নেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ইতোমধ্যেই জটিল হয়ে উঠেছে।

যদিও ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে তারা। তবে এখন পর্যন্ত সেই চুক্তি বাস্তবে রূপ নেয়নি।