৯ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ চুক্তির বিনিময়ে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
হরমুজ চুক্তির বিনিময়ে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, শিগগিরই একটি চুক্তি হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিশ্চিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেবে।

তিনি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ ইরান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে।

মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ চুক্তির বিনিময়ে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
হরমুজ চুক্তির বিনিময়ে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, শিগগিরই একটি চুক্তি হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিশ্চিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেবে।

তিনি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ ইরান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে।

মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফাঁস হলো গোপন তথ্য, খেপে বোম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
ফাঁস হলো গোপন তথ্য, খেপে বোম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ পাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে এই ধরনের তথ্য প্রকাশ ওয়াশিংটনকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফাঁস হওয়া এসব সংবেদনশীল তথ্য ওয়াশিংটনের প্রভাব ও অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে জানিয়ে ট্রাম্প এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে এই ইস্যুটি নিয়ে জোর আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প মিডিয়ার এসব প্রতিবেদন নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েক মাস ধরেই দেশের গোলাবারুদের ঘাটতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন কিন্তু আলোচনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দেশের অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতার খবর এভাবে প্রকাশ্যে চলে আসায় তিনি চরম বিরক্ত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাত-দিন কাজ করে নতুন কারখানা চালু করছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন- কিছু উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষ অস্ত্রের সরবরাহ বেশ সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ প্রায় শেষ হতে চলেছে।

খবর অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে।

মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, তাদের মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোও বেশ আশঙ্কায় পড়েছে, কারণ তারা ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে এসব মার্কিন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রশাসনের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সাথে নতুন সামরিক সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত রাখা যায়। ইতোমধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় ট্রাম্প ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট জারি করেছেন। শীর্ষ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের সাথে জরুরি বৈঠক করে উৎপাদন বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র উৎপাদনের এই নতুন প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

বৃটেনে আর্মি কলেজে ধর্ষণ-যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
বৃটেনে আর্মি কলেজে ধর্ষণ-যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র

বৃটেনের অন্যতম বৃহৎ সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজকে (এএফসি) ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত পাঁচ বছরে সেখানে প্রশিক্ষণ নেয়া অন্তত চার নারী অভিযোগ করেছেন, তারা ১৭ বছর বয়সে কলেজে থাকাকালে গণধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, গোপনে নজরদারি (ভয়্যারিজম) এবং নারীবিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন।

তাদের দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং কলেজটিতে যৌন সহিংসতা ও নারীবিদ্বেষের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা কিছু প্রশিক্ষকের আচরণে আরও উৎসাহিত হয়েছে। বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃটেনের বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
উত্তর ইয়র্কশায়ারের হারোগেটে অবস্থিত আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজ বৃটেনের ১৯ বছরের কম বয়সী সেনা সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর সব ১৬ বছর বয়সী নতুন রিক্রুটকে এখানেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানে কলেজটিতে মোট ৮৮৯ জন রিক্রুটের মধ্যে অন্তত ৭০ জন নারী জুনিয়র সৈনিক রয়েছেন।

দেশটিতে এই অভিযোগগুলো এমন সময় সামনে এলো, যখন বৃটেনে প্রথম সরকারি জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ৬৭ শতাংশ নারী অন্তত একবার কোনো পুরুষ সহকর্মীর দ্বারা সম্মতি ছাড়া যৌন হয়রানি বা যৌন আচরণের শিকার হয়েছেন।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজকে ঘিরে ১৬টি যৌন অপরাধের অভিযোগ পেয়েছে নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশ।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অশ্লীলভাবে নিজেকে প্রদর্শন, গোপনে নজরদারি (ভয়্যারিজম) এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনা। তবে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথিতে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতে বিচারের পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা, তা উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে বৃটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কলেজটিতে অনুপযুক্ত যৌন আচরণের ১৭৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ছিল স্থায়ী স্টাফদের বিরুদ্ধে এবং ১৪৪টি ছিল জুনিয়র সৈনিকদের বিরুদ্ধে।

‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাকে গণধর্ষণ করা হয়’
পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ব্যবহার করা টিলি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়, যখন কলেজে একাধিক সহপাঠী সৈনিক তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্ষণ করে।

তিনি বলেন, ওরা আমাকে বলেছিল, ‘রুমে আসবে?’ আমি তখন ১৭ বছরের সরল একটি মেয়ে। আমি রাজি হই। এরপর তারা আমার কাপড় খুলে ফেলে এবং আমার সম্মতি ছাড়াই নানা ধরনের যৌন নির্যাতন শুরু করে। তারা অনেকজন ছিল। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করছিল, অশালীন মন্তব্য করছিল। আমাকে মেয়ে নয়, একটি বস্তু হিসেবে দেখছিল। পরে একই বয়সী একাধিক জুনিয়র সৈনিক আমাকে ধর্ষণ করে। এটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলেছিল। তখন নিজেকে যেন এক টুকরো মাংস মনে হচ্ছিল। ঘটনার দুই সপ্তাহ পরই তিনি সেনাবাহিনী ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন, আমি সেখানে থাকতে পারিনি। মা আমাকে বলেছিলেন, চলে আসো। না হলে সবাই আমাকে সেই মেয়ে হিসেবেই চিনত, যে নাকি অনেকের সঙ্গে শুয়েছে। অথচ বাস্তবে তা ঘটেনি।

টিলির অভিযোগ, ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এক প্রশিক্ষক অন্যদের কাছে তাকে নিয়ে বলেছিলেন, শুনেছ, সেই মেয়েটার কথা, যে এতগুলো ছেলের সঙ্গে শুয়েছে?
তার ভাষায়, একজন প্রশিক্ষকের কাছ থেকে এমন কথা শোনা ভয়াবহ। এতে ছেলেদের শেখানো হয় যে নারীরা শুধু একটি কাজের জন্যই আছে।
তিনি ঘটনাটি পুলিশের কাছে জানিয়েছিলেন। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পরে নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশের সঙ্গে তিনি আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান, যদিও পুলিশ কোনো দায় স্বীকার করেনি।
আরেক ভুক্তভোগী মোনিকা (ছদ্মনাম) বলেন, এক সহকর্মী সৈনিক তাকে একটি কক্ষে আটকে যৌন নিপীড়ন করে।

তার ভাষায়, সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল, যাতে আমি বের হতে না পারি। এরপর আমাকে জড়িয়ে ধরে মুখে চুমু খেতে শুরু করে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে। কোনোভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে সক্ষম হই।
পরে অন্য একটি স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে কলেজ ছাড়তে হয়। তিনি বলেন, সেই বিদায় ছিল তার জন্য “স্বস্তির”।
আরেক ভুক্তভোগী অ্যামির ঘটনা তুলে ধরেছেন তার মা শেরিল। তার দাবি, প্রশিক্ষণ চলাকালে অ্যামি প্রায় প্রতিদিনই যৌন হয়রানির শিকার হতেন। শেরিল বলেন, মেয়ের কক্ষের দরজার তালা নষ্ট থাকায় পুরুষ সৈনিকদের ঢোকা ঠেকাতে তাকে দরজার সামনে শুয়ে রাত কাটাতে হতো।

এছাড়া প্রশিক্ষকরাও তাকে নিয়মিত নারীবিদ্বেষী গালিগালাজ করতেন।
শেরিল বলেন, করিডরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে প্রশিক্ষকরা তাকে ‘বড় বেশ্যা’ বা ‘স্ল্যাপার’ বলে ডাকত। তারা বলত, ছেলেরা তার দিকে তাকায়, সেটাও নাকি তার দোষ। এমনও বলা হয়েছিল, প্রতি বছর একজন মেয়েকে ছেলেরা পছন্দ করে, মনে হচ্ছে এ বছর সেই মেয়েটি তুমি। তিনি বলেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মানুষ ভুলে যায় যে সে আসলে এখনো একটি শিশু।

যুক্তরাজ্যের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়।
চতুর্থ ভুক্তভোগী এলি জানান, কলেজের প্রথম সপ্তাহেই এক প্রশিক্ষক নতুন রিক্রুটদের বলেছিলেন, সবকিছুই নির্ভর করে কতটা নারীকে পাওয়া যায় তার ওপর। তার অভিযোগ, প্রশিক্ষকরা মেয়েদের সৌন্দর্য ১০-এর মধ্যে নম্বর দিতেন এবং দরজায় না নক করেই ডরমিটরিতে ঢুকে পড়তেন।
এলি বলেন, আমরা তখন শুধু অন্তর্বাস পরে থাকতাম। তারা দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। তিনি বলেন, কলেজে যা দেখেছেন, তার পর সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছাই নষ্ট হয়ে যায়।

স্টাফদের বিরুদ্ধেও দণ্ডের নজির
গত পাঁচ বছরে কলেজটির একাধিক প্রশিক্ষক সামরিক আদালতে যৌন ও শারীরিক সহিংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালে করপোরাল ড্যানিয়েল কনওয়ে ঘুমন্ত এক সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড পান।
একই বছরে করপোরাল সাইমন বার্ট্রাম যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ মাসের সামরিক কারাদণ্ড পান। বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে বৃটিশ সেনাবাহিনী অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অগ্রহণযোগ্য ও অপরাধমূলক আচরণের কোনো স্থানই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নেই। মানুষ একটি ভালো ক্যারিয়ারের আশায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং সেনাবাহিনীর মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
দেশটির সেনাবাহিনী আরও জানায়, যারা এ ধরনের যৌন নিপীড়ন বা অপরাধের শিকার হয়েছেন বা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের সামনে এসে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় ডিফেন্স সিরিয়াস ক্রাইম কমান্ড গঠনসহ বেশ কয়েকটি সংস্কার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যাতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকেও তারা বিচারিক সহায়তা ও বিশেষায়িত সেবা পেতে পারেন।

আকাশে মুখোমুখি ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০২৬
আকাশে মুখোমুখি ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ এবং একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে আকাশে বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সংস্থা। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। প্রায় একই সময়ে ওয়াশিংটনের রিগান ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে ‘এনভয় এয়ার’ পরিচালিত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি এমব্রেয়ার ই-১৭০ যাত্রীবাহী বিমানও আকাশে ওঠে।

সাধারণ নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বা বিমান চলাচলের সময় আশপাশে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে সীমিত রাখার কথা। তবে যোগাযোগে অস্পষ্টতা ও সমন্বয়ের বিলম্বের কারণে দুই উড়োজাহাজের মধ্যকার আনুভূমিক দূরত্ব এক মাইলেরও নিচে নেমে আসে।

ফেডারেল নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, আকাশে চলমান দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল আনুভূমিক অথবা ৫০০ ফুট উল্লম্ব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো সময়ই সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বৈমানিকরা মেরিন ওয়ান পরিচালনা করেন এবং পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এফএএ জানিয়েছে, দুই উড়োজাহাজের মধ্যে দূরত্ব নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার নিচে নেমে এলেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পুরো সময় উভয় বিমানের পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের একই বিমানবন্দর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান ও সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর ওই আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। সর্বশেষ ঘটনায় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণে ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

‘কেউ উঠবেন না, সিটবেল্ট বাঁধুন’—মাঝ আকাশে চরম আতঙ্কে যাত্রীরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০২৬
‘কেউ উঠবেন না, সিটবেল্ট বাঁধুন’—মাঝ আকাশে চরম আতঙ্কে যাত্রীরা

তীব্র ঝাঁকুনিতে (টার্বুলেন্স) মাঝ আকাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে। এ সময় বিমানবালাদের চিৎকার করে যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধতে এবং কেউ যেন আসন ছেড়ে না ওঠেন, সেই নির্দেশ দিতে দেখা যায়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এয়ার ইন্ডিয়ার AI379 ফ্লাইটটি থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে নয়াদিল্লি যাচ্ছিল। পথে বিমানটি তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে। এতে বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে বিমানবালাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে সিটবেল্ট বাঁধুন। কেউ আসন থেকে উঠবেন না। সিটবেল্ট বাঁধুন।’

ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ওপরের লাগেজ রাখার কয়েকটি বক্সের ঢাকনা খুলে গেছে। কিছু ঢাকনা খুলে করিডোরের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিমানের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে যাত্রীদের লাগেজ। কেবিনের ছাদে ফাটল এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্নও দেখা গেছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকজন যাত্রী একে অপরের হাত ধরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করেন। একজন নারীকে মাথা নিচু করে দুই হাতে মাথা ধরে বসে থাকতে দেখা যায়।

ভিডিও ধারণ করা এক যাত্রী মিনচেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ দুই ঘণ্টা’ বলে বর্ণনা করেন। বিমানে সিটবেল্টের সংকেত বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের সব সময় সিটবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী—যাদের মধ্যে তিনজন শিশু—এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বিমানবন্দরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের উচ্চতায় হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায় অনেকে আসন থেকে ছিটকে পড়েন। এক যাত্রী জানান, তিনি বিমানের ছাদে মাথায় আঘাত পান এবং পরে নিচে পড়ে যান।

ইতালির নাগরিক ভিভিয়ানা নামের এক যাত্রী জানান, টার্বুলেন্স শুরু হওয়ার পর তাঁর বোনকে আসন থেকে ছিটকে ওপরে উঠে যেতে দেখেন। তাঁর মা মাথায় আঘাত পান। পেছনের সারিতে থাকা কয়েকজন যাত্রীও আহত হন। একজন পুরুষ যাত্রীর মুখে রক্ত দেখতে পান বলেও জানান তিনি।

ভিভিয়ানা বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আমরা মনে করেছিলাম বিমানটি হয়তো আর নিরাপদে নামতে পারবে না, আর বাঁচবো না। আতঙ্কে আমি কাঁদছিলাম এবং ঘটনার পর আমার শুনতেও সমস্যা হচ্ছিল।’

ঘটনার পর আটজন যাত্রী ও চারজন কেবিন ক্রুকে হাসপাতালে নিয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাদের সবাই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে।