৯ আগস্ট ২০২৬

মক্কায় সই হলো সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
মক্কায় সই হলো সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি!
সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। । ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তি সইয়ের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি। তবে প্রতিটি দেশ কী ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা কী দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সুন্নি-প্রধান দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এফ-১৫সহ মার্কিন বিমানের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জনসম্মুখে আনল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
এফ-১৫সহ মার্কিন বিমানের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জনসম্মুখে আনল ইরান

ভূপাতিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বিমানের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শনে রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের গুলিতে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অংশবিশেষও রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত একটি টিজারে প্রদর্শনীর বিভিন্ন সামগ্রী তুলে ধরা হয়েছে। এতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটের ইজেকশন সিট, বিমানের ককপিটের ক্যানোপির একটি অংশ এবং লেজের একটি অংশ দেখা যায়।

প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যান্য সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি ভূপাতিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন অংশও রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ এবারই প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর আগে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেবি জানিয়েছিলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সকে নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তার দাবি, দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয় এবং এর মাধ্যমে একটি নতুন দেশীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের সময় ওই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

মোহেবি আরও দাবি করেন, সংঘাতের সময় ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

এদিকে, আইআরজিসি অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসের দাবি করেছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এডব্লিউএসিএস) বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, চালকসহ ও চালকবিহীন যুদ্ধবিমান এবং বিমান রাখার সুরক্ষিত স্থাপনাও রয়েছে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।

মক্কায় সই হলো সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
মক্কায় সই হলো সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি!
সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। । ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তি সইয়ের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি। তবে প্রতিটি দেশ কী ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা কী দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সুন্নি-প্রধান দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মক্কা চুক্তি নিয়ে ইরানি আইনপ্রণেতার সতর্কতা

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
মক্কা চুক্তি নিয়ে ইরানি আইনপ্রণেতার সতর্কতা

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। তিনি দাবি করেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করলেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সই হয়। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করাই চুক্তিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

চুক্তি সইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সৌদি আরবকে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।

ইব্রাহিম রেজাই এক্সে লিখেছেন, 'সৌদিদের অবশ্যই জানা উচিত তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কাগুজে চুক্তি তাদের নিরাপত্তা দেবে না। যেমনটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বছরের পর বছর একপাক্ষিক সম্পর্ক তাদের কোনো নিরাপত্তা এনে দেয়নি।'

তিনি আরও বলেন, 'আপনারা (সৌদি আরব) নিজেদের নীতিতে সংস্কার আনুন যেন অন্যদের কাছে নিরাপত্তা ভিক্ষা না চাইতে হয়।'

ইব্রাহিম রেজাই ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য।

দুই সীমান্ত থেকেই একযোগে ইরানি মিত্রদের সামরিক হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
দুই সীমান্ত থেকেই একযোগে ইরানি মিত্রদের সামরিক হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

সৌদি আরব। রিয়াদের জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে এই সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মূল ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্য মিলেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ও শর্ত:

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ নিয়ে আলোচনা ছাড়া প্রণালিটি উন্মুক্ত করা হবে না। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হামলার মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ ছাড়া ইরানি পার্লামেন্টে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের একটি খসড়া বিল পর্যালোচনারধীন রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য:

এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী অস্ত্রের সীমাহীন মজুত যুক্তরাষ্ট্রের থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রের ভান্ডার সীমিত।

ইয়েমেনে হুতিদের হামলা ও নিহত ৩০:

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সৌদি সমর্থিত সরকারি সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ সেনা নিহত হয়েছেন। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

জেদ্দায় আজ সই হচ্ছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি!

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
জেদ্দায় আজ সই হচ্ছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করবে বলে জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এমন দুটি আঞ্চলিক সূত্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জেদ্দায় অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করবেন।

তবে ওই দুই প্রতিবেদনে চুক্তিটির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এতে কী ধরনের শর্ত বা বিধান থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই তিন দেশের এই তিন নেতা বৈঠকে বসছেন।

একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ‘বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। আর সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এর গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

গত মাসে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছিলেন এরদোয়ান ও শাহবাজ শরিফ। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও উঠে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে অবদান রাখে—এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি। বর্তমান ইসরায়েলি সরকার, যে যুদ্ধের প্রতি আসক্ত, তাকে আবারও আমাদের অঞ্চলকে বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’

প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পাকিস্তান বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের একটি। ওই চুক্তিতে বলা হয়, দুই দেশের যেকোনো একটির ভূখণ্ডে হামলা হলে সেটিকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন। সে সময় এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। কারণ, ইসরায়েল কাতারের ওপর একটি নজিরবিহীন হামলা চালানোর এক সপ্তাহ পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। একই সময়ে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী একমাত্র দেশ পাকিস্তান।

এদিকে ইয়েমেনে কয়েক ডজন সেনা নিহত হওয়ার পর রাতভর সৌদি আরবের নাজরান শহরে বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পক্ষে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সৌদি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। শিশুটির আঘাত মাঝারি মাত্রার বলে জানানো হয়েছে।

হামলায় ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিরাও আহত হয়েছেন।

এই হামলার আগে সৌদির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। এসব সতর্কবার্তায় অর্থনৈতিক ও বেসামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর এবং বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।