৬ আগস্ট ২০২৬

মোসাদের কাছে তথ্য পাচার, ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
মোসাদের কাছে তথ্য পাচার, ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে রাষ্ট্রের অতিগোপনীয় সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এবং চলতি বছরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচার করেছিলেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান, ছবি এবং অন্যান্য গোপন সামরিক তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে এসব স্পর্শকাতর তথ্য তারা সরাসরি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করতেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির এই চরম অপরাধে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও, তাদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এছাড়া, ঠিক কবে বা কীভাবে তাদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে গোপন সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

ট্রাম্পকে কেন ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটার আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
ট্রাম্পকে কেন ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটার আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর আর নতুন করে হামলা না চালাতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) অনুরোধ জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

শনিবার এক ফোনালাপের সময় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলেছে, জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার পর ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সাময়িকী নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ বিন ফারাহ আল-শায়া বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি একটি বৈচিত্র্যময় ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করার সর্বাত্মক জাতীয় প্রকল্প।

সৌদি আরব এই কারণে উদ্বিগ্ন যে, ইরানের ওপর যেকোনো বড় ধরনের হামলার পরিণতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য গুরুতর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইতোমধ্যে দিয়ে রেখেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে; সেই আলোচনায় নিজেদের প্রভাব বজায় রেখে চলেছে রিয়াদ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডানা স্ট্রোল বলেছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি নস্যাৎ করার জন্য কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগই যে যথেষ্ট নয়; সৌদি আরব তা অনুধাবন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বারবার চালানো সামরিক অভিযানও হুথিদের হুমকি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তার মতে, সৌদি আরব যদি হুথিদের সঙ্গে পুনরায় কোনো বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা তাদের ভিশন ২০৩০ এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজউইককে স্ট্রোল বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি আরব শিখেছে, ইয়েমেন থেকে আসা হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য কেবল সামরিক শক্তিই যথেষ্ট নয়। এটি কেবল সৌদির সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; বরং হুথি হুমকির ধরন, ইরানের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্ত সহায়তা এবং ইয়েমেনে তাদের শক্ত অবস্থানের বিষয়টির সঙ্গেও এটি জড়িত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের যেকোনো হামলা অথবা এসব হামলায় অন্য কোনো দেশের সমর্থন পেলে ইরান তার কঠোর জবাব দেবে।

এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উপায় খুঁজতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কাতারের কর্মকর্তারা।

কেন ইসরায়েল ছাড়ছেন লাখো মানুষ? গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
কেন ইসরায়েল ছাড়ছেন লাখো মানুষ? গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার জন দীর্ঘমেয়াদের জন্য ইসরায়েল ছেড়েছেন। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রবণতা ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য ৮৬ হাজার ৫০৯ জন ইসরায়েল ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৪৯৯ জনে এবং ২০২৫ সালে দেশ ছাড়েন আরও ৯০ হাজার ৯২২ জন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার জন দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরায়েল ছেড়েছেন। অর্থাৎ, বছরে গড়ে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ইসরায়েল ত্যাগ করেছেন। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই গড় ছিল বছরে প্রায় ৬০ হাজার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন, যা সাম্প্রতিক তিন বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ তাদের আগের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক, পিএইচডিধারী, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উচ্চ আয়ের অন্যান্য পেশাজীবীদের ইসরায়েল ত্যাগও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

পত্রিকাটির মতে, ইসরায়েলের অর্থনীতি মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি খাত ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দক্ষ জনশক্তির ইসরায়েল ত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।

এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানেও দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৬৬ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, বর্তমানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা প্রায় এক কোটির বেশি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ইউক্রেন!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ইউক্রেন!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ওপর সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখলেও সংঘাতের অবসান ঘটেনি বলে মনে করছেন সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে—তবে কি এবার ইউক্রেনও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টে পরিণত হচ্ছে?

গত ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংযুক্ত একটি জাহাজে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকে প্রশ্ন উঠছে, ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের দ্বিতীয় ধাপে কাস্পিয়ান অঞ্চল কি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে? সংবাদবিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার প্রচলিত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে কৌশলগত অস্ত্রের মজুদ কমে আসা এবং যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কৌশলগত বিরতির পথ বেছে নিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট এবার একই সুতোয় গাঁথা হচ্ছে।

কাস্পিয়ান সাগরে হামলার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তেহরানকে তাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত ও সমুদ্রসীমায় বাড়তি সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন বহর ও গোয়েন্দা সক্ষমতার একটি বড় অংশ উত্তর ফ্রন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মূল রণক্ষেত্রে তেহরানের সামরিক মনোযোগ ও একক সামর্থ্য কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য এটিই বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের মাধ্যমে ইরানকে সরাসরি পরাজিত করা নয়; বরং ইরানকে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা, যাতে দেশটি এক জায়গায় সামরিক শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে না পারে।

এদিকে কাস্পিয়ান সাগরে ওই আক্রমণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। একই দিনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পৃথকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টি জোর পায়। অন্যদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের সামরিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়ানোর দিকটি প্রাধান্য পায়।

এর আগেই অবশ্য ন্যাটোর মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি ম্যাথিউ হুইটেকারের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন জেলেনস্কি। পরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘রেথিয়ন’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একই বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিষয়টি কেবল ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইউক্রেনকে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ বানিয়ে নিতে চাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অভিজ্ঞতা অর্জন করা ইউক্রেনের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিকে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রাশিয়ার সঙ্গে টানা যুদ্ধে ইউক্রেন ইতোমধ্যে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা, ছদ্মবেশী নাশকতা, গোয়েন্দা অভিযান এবং শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের পরিচালনা করা ‘অপারেশন স্পাইডার ওয়েব’-এর মতো অভিযানের সাফল্য প্রমাণ করে, হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।

তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ শুরু হলেও তা প্রচলিত স্থলযুদ্ধ বা ট্যাংক যুদ্ধের রূপ নেবে না। বরং দূরপাল্লার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ছায়াযুদ্ধ ও গোপন গোয়েন্দা অভিযানই হবে এর মূল হাতিয়ার।

তবে এই নতুন সমীকরণ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট একীভূত হলে তা একটি অনিয়ন্ত্রিত বিশ্ব সংকটে রূপ নিতে পারে। এর ফলে কৃষ্ণসাগর, ককেশাস ও কাস্পিয়ান অঞ্চলজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক মেরুকরণ তৈরি হবে, যার সরাসরি প্রভাব তুরস্কসহ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে।

ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে ‘বড় ধরনের’ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা তিনি স্থগিত করেছেন।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হামলার ব্যাপকতা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল, কারণ তারা দেখেছিল যে প্রস্তুতি চলছিল। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল বিকেল থেকে তা শুরু হবে।’

এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তির ‘রূপরেখা’ বা মৌলিক কাঠামো তৈরিতে রাজি হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাঁকে হামলা থেকে ‘বিরত থাকতে’ অনুরোধ করেছে।

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের বিষয়ে ইরান অবশ্য এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান খুবই কাছাকাছি। তবে প্রতিবারই এরপর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই প্রস্তুত...আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাঁকে সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না করতে বলেছে, কারণ তাদের ধারণা, একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতেও একটি চুক্তি হবে।’

সোমবারের আলোচনাটি কোথায় হবে কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে সেটি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ হতো এবং এতে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে অবসানের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারত।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না এ প্রশ্নেরও জবাব দেননি ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়ব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’

এর আগেও ট্রাম্প তেহরানের উদ্দেশে ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে পরে আবার তিনি বলেছেন, কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলার (৬২ দশমিক ২৬ পাউন্ড)। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭৪ ডলার (৫৯ দশমিক ৮৫ পাউন্ড)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দামে ওঠানামা করছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

কয়েক দিনের বিরতির পর ইরানে আবারও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর চেষ্টার কঠোর প্রতিশোধ নিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হামলার পর আবাদান, বন্দর আব্বাস, বুশেহর ও কেশমসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ‘হামলার চেষ্টার’ জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টা (ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টা) থেকে ইরানে এ হামলা শুরু হয়।

সেন্টকমের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর গতকালের ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে এটি শক্তিশালী জবাব।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুব কঠোর’ জবাব দেয়ার ঘোষণা দেন। মিশরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব, কারণ এবার আমাদের পালা। তারা জানে, এটি আসছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের সর্বশেষ হামলার পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের আবাদানে কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে।

এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে আবু মুসা, কিশ ও কেশম দ্বীপেও। তবে হরমোজগান প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিক শহরে কোনও হামলা হয়নি।

আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শহরের ভেতরে তিনটি বিস্ফোরণ হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে সংস্থাটি জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এতে হতাহতের কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি স্থানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।