সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে বলেন যে, সৌদি আরবের সাথে একটি যুগান্তকারী চুক্তি হয়েছে। এটি রিয়াদকে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দিচ্ছে। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশটি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের শর্তে রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কী
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’।
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাব্য শর্ত হিসেবে "সব দেশকে অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করার" আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে করা একগুচ্ছ চুক্তি, যা ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
এর আগে বুধবার চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অবশ্য বলেননি যে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমঝোতা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের স্বাক্ষরকারী দেশ।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। সৌদি আরবের যোগদান হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।