১৪ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৯, ২০২৬
পাকিস্তানে ৫ আরোহীসহ নিখোঁজ কার্গো বিমান

পাকিস্তানের করাচি উপকূলে ৫ জন ক্রু সদস্যসহ একটি কার্গো (মালবাহী) বিমান নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে বিমানটিতে নেভিগেশন ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের এভিয়েশন (বিমান চলাচল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর বুধবারেও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী। প্রায় ২০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো বিমানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে (১৬:২১ জিএমটি) বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সাথে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিমানটি করাচি-ভিত্তিক একটি বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন ‘কে-টু এয়ারওয়েজ’ দ্বারা পরিচালিত হতো। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বুধবার এক বিবৃতিতে কে-টু এয়ারওয়েজ বিমানে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম (ফ্লাইট ট্র্যাক করার মাধ্যম) ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খাড়াভাবে নিচে নেমে আসার আগে বিমানটির উচ্চতায় তীব্র ওঠানামা রেকর্ড করা হয়েছিল।

পাকিস্তানে সর্বশেষ বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইটে। ওই ঘটনায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করাচি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ঠিক আগে বিধ্বস্ত হয়, যাতে বিমানে থাকা ৯৯ জন আরোহীর মধ্যে দুজন ছাড়া বাকি সবাই নিহত হন।

হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের প্রতি শোক জানাল ইরান

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের প্রতি শোক জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। যারমধ্যে ছিল কাতারের রাজধানী দোহার আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি। এখানে ইরানি সেনারা মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে কাতার জানিয়েছে, সবগুলো মিসাইলই তারা প্রতিহত করেছে। যদিও প্রতিহত করা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে।

এমন অবস্থার মধ্যেই কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইরান। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, রোববার (১২ জুলাই) সকালে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের প্রতি শোক বার্তা পাঠায় ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শোক বার্তায় বলেছে, “গভীর দুঃখ ও বেদনার সাথে আমরা সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সম্মানিত আল থানি পরিবার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আমরা আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের এক লেফটেন্যান্ট নিহত

এদিকে রাতভর চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট নিহত হয়েছেন। আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মেহেরকে বলেছে, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক বাহিনীর নৌ শাখার লেফটেনেন্ট হামিদরেজা দেহঘানি গতকাল রাতে জাস্ক বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন।”

মার্কিনিদের হামলায় এখন পর্যন্ত একজন নিহত হওয়ার তথ্যই দিয়েছে ইরান।

কাতার,জর্ডান,কুয়েত ও বাহরাইনে বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
কাতার,জর্ডান,কুয়েত ও বাহরাইনে বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা নিশানা করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

ইরানে আজ রোববার নতুন দফায় মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার পর আইআরজিসি এমন দাবি করেছে। আজই কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের বাহিনী জর্ডানের বিমানঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার জন্য নির্ধারিত হ্যাঙ্গারগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

আইআরজিসি অপর এক বিবৃতিতে বলেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে তারা।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আজ সকালে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন বাজিয়েছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং প্রশাসনের সব নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আইআরজিসি ওমানের দুকম বন্দরেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। তারা বলেছে, ওই বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ব্যবহৃত রসদ সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মকে নিশানা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার জবাবে ওমানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করছে তারা। নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে এগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে তারা কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি যোগাযোগব্যবস্থা ও একটি রাডার স্থাপনা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

হরমুজে জ্বলছে জাহাজ, উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিলেন নাবিকেরা

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজে জ্বলছে জাহাজ, উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিলেন নাবিকেরা

হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার কনটেইনার জাহাজের নাবিকেরা সেটি পরিত্যাগ করেছেন। তারা জাহাজ থেকে নেমে একটি উদ্ধারকারী নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং আক্রান্ত জাহাজের নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে এই হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ নামের সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সেন্টকম আরো জানিয়েছিল, ওই হামলার পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে জাহাজটি আর তার যাত্রা বজায় রাখতে পারেনি। এ ছাড়া জাহাজের একজন বেসামরিক নাবিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

হরমুজ বন্ধের পর ইরানে তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজ বন্ধের পর ইরানে তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এটি ইরানে তাদের ‘তৃতীয় দফার’ সামরিক হামলা।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। আইআরজিসির দাবি, হরমুজে অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে থামানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পরই প্রণালিটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সেন্টকমের দাবি, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি নামের জাহাজে আইআরজিসি হামলা চালানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা শুরু করেছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ইঞ্জিনরুম গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি। জাহাজটির এক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।

ব্রিটিশ ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজের ক্রুরা হামলার পর জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা একটি লাইফবোটে অবস্থান করছেন।

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির মুখে পড়ার পরও ইরানকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তার মূল্য দিতে হবে।’

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পর ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

এর মধ্যেই গত বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

হরমুজ প্রণালি ফের অনির্দিষ্টকাল বন্ধের ঘোষণা ইরানের

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ফের অনির্দিষ্টকাল বন্ধের ঘোষণা ইরানের

আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, হরমুজে অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে থামানো হয়। ওই ঘটনার পরই হরমুজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও জাহাজটি নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেনি। পরে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে সেটিকে থামানো হয়। এই ঘটনার পর এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে এ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) নতুন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

ইরানের দাবি—আলোচনা ভেস্তে দিতেই হরমুজে হামলা, প্রকাশ্য অঙ্গীকারের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রেরইরানের দাবি—আলোচনা ভেস্তে দিতেই হরমুজে হামলা, প্রকাশ্য অঙ্গীকারের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে এ পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।