৩১ আগস্ট ২০২৬

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

গত জুলাই মাসের শেষের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ফের তীব্র সহিংস সংঘাত শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলার জেরে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আগ্রাসনের শাস্তি” নামের এই সমন্বিত অভিযানে জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানসহ প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে হামলার পরপরই জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উভয় পক্ষের সূত্র অনুযায়ী, জর্ডানের কোনো ঘাঁটিতেই হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। লারাক দ্বীপে রবিবারের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সংঘাতের পটভূমি

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে রবিবারের মার্কিন হামলাকে “আগ্রাসী কার্যকলাপ” হিসেবে অস্বীকার করেছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীকে মাইন স্থাপন করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল “সীমিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ” নিয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরানকেই দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে যে এই মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চলমান যুদ্ধ বর্তমানে সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তেল পরিবহন বজায় রাখার দাবি করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লারাক দ্বীপ ও জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়ায়ী সামরিক সংঘাতকে আরও বেশি উস্কে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও তেলের দামেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যেকোনো মরিয়া প্রচেষ্টার জবাব আরও বিধ্বংসী উপায়ে দেওয়া হবে এবং তারা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে লড়তে প্রস্তুত।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে রাতভর গোলাবর্ষণ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে রাতভর গোলাবর্ষণ

মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী সামরিক সংঘাতের উত্তাপের মাঝেই এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (NNA) বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার রাতভর এবং সোমবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানসুরি ও বেইত আল-সায়াদ এলাকায় ইসরায়েলি কামান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে।

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন সীমান্তে এই নতুন হামলা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার মধ্যেই লেবানন সীমান্তে এই গোলাবর্ষণ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের এই সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের হতাহত বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হলো সুপারট্যাংকার

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হলো সুপারট্যাংকার

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ রুট দিয়ে অতিক্রম করার সময় সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে একটি বিশাল সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার খবর জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি জলমগ্ন মাইনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী এক কঠোর সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, “যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের পরিণতি এর চেয়ে আলাদা কিছু হবে না। পারাপার এবং নৌ চলাচলের জন্য আইআরজিসি নৌবাহিনীর জারি করা নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক।”

যদিও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ করে রেখেছে, তবুও মার্কিন সহায়তায় ওমান উপকূলের কাছাকাছি তুলনামূলক নিরাপদ জলপথ দিয়ে মাঝে মাঝে কয়েকটি জাহাজ যাতায়াত করার চেষ্টা করছে। তেহরান এই রুটগুলোকে ‘অনুমোদিত নয়’ বা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “শিপিং কোম্পানিগুলোর উচিত মার্কিন সেনাবাহিনীর উসকানিতে বিভ্রান্ত না হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তাদের জাহাজ ও ক্রুদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেওয়া।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং জলপথটি উন্মুক্ত রাখার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে জর্ডান ও আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ সরকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (২৯ আগস্ট) ডনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘জায়নবাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ যারা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে চায়, ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলের গণহত্যা সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের আইনহীন নীতি এবং সমস্ত নিয়ম, নীতি ও সীমানা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বক্তব্যে এরদোয়ান অভিযোগ করেন, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় যারা কাজ করছে, ইসরায়েল তাদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের আইনবহির্ভূত নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েলের তথাকথিত গণহত্যার নেটওয়ার্ক নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও সীমারেখা উপেক্ষা করে চলেছে।

এরদোয়ান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই এরদোয়ানের এই মন্তব্য এলো। তুরস্ক এর আগেও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসেছে এবং আঞ্চলিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে এই অঞ্চলে আর কেউ তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, আমেরিকান বাহিনী হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ওই দাবির জবাবে গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পুরোনো একটি বার্তা পুনরায় প্রকাশ করেন গালিবাফ।

এই যুদ্ধের সমীকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, ‘হয় সবাই তেল বিক্রি করবে, নয়তো কেউ পারবে না। যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কারও পক্ষে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি আরও সতর্ক করেন, ‘যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।’

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

সরকার সপ্তাহ প্রতিবছর পালিত হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।

বার্তায় রাজাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন খামেনি। পাশাপাশি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি, যিনি প্রায় দুই মেয়াদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সরকারের সক্রিয় কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খামেনি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি শত্রুদের নানা বিধিনিষেধ ও ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের মধ্যেও তৃতীয় দফার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।

গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ইরানের জনগণ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার সেবা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরে তিনি মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন।

খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধী অর্থনীতির নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো যতটা সম্ভব দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা। যেখানে পর্যাপ্ত দেশীয় উৎপাদন নেই, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনি এই বার্তা দিলেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে।

খামেনি বলেন, যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া এবং নতুন সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের আগেও বহু বছর ধরে ইরান ও এর সম্পদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে এর বিপরীত চিত্রই পাওয়া যায়।

তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন খামেনি। তিনি বলেন, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অগ্রগতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, জনগণের মনোবল ও জাতীয় উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন যে কোনো হতাশাজনক বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন, যেমন যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা, সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব; আগেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক সংহতির ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে খামেনি বলেন, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে। সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।