১৯ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এক নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রণালিকে সরাসরি ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপের পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, এলাকাটিকে ইরানি সামুদ্রিক মাইন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে আপাতত কোনো ধরনের আলোচনার পরিকল্পনা বা দিনক্ষণ নির্ধারিত নেই।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মানচিত্র প্রকাশের পেছনে ট্রাম্পের আগের কিছু মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল। এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি বা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে এনেছিলেন।

নিউইয়র্কের গভর্নর ও কংগ্রেস নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণাকালে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘোষণা দেন, ইরানকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এর পরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‌‘নিজস্ব ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

আমেরিকান জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প তার এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পক্ষে চরম অনড় মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। নিউইয়র্কের ওই একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

আর এই বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির স্বার্থে যদি মার্কিন জনগণকে পেট্রল বা জ্বালানির জন্য কিছুটা অতিরিক্ত অর্থ গুনতেও হয়, তবে তা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত।

ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন যে, এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি কখনো কারও কাছে ক্ষমা চাইবেন না, কারণ তিনি যা করেছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই একেবারে সঠিক পদক্ষেপ ছিল।

মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) শেষ হওয়ার পরপরই নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের বদল এনে এখন আরও আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানান, দেশ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত।

মে মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান 'ইসলামাবাদ স্মারক' সই করেন। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই এই চুক্তি হয়েছিল। পরমাণু কর্মসূচির মতো ইস্যুগুলোকে পরে আলোচনার জন্য রেখে চুক্তিতে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্মারকে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হবে। এই চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কোনো পক্ষই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়নি।

জাভানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আগে যুদ্ধ শুরু করেছে। এত দিন আমরা আত্মরক্ষা করেছি। এখন আমরা আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারি।’

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি। প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের চমক (স্ট্র্যাটেজিক সারপ্রাইজ) অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে গত সপ্তাহে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি জানান, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থায় আক্রমণ হবে।

ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা স্থল হামলা চালানো হতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকরা এমন অভিযানের বাস্তবায়ন ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানে কোনো স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি গত সপ্তাহে আইআরজিসির পুরোনো ও বিশ্বস্ত কমান্ডারদের সামরিক ও নিরাপত্তার শীর্ষে বসিয়েছেন। সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরই আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (অফেন্সিভ ডিট্যারেন্স) গড়ে তোলার ঘোষণা আসে।

আইআরজিসির নতুন প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা। নির্দেশনায় শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি রাখার কথা বলা হয়েছে।

ওয়াহিদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইরান হেরে গেছে। সাগরে নৌ-অবরোধ দিয়ে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। হরমুজকে খুব দ্রুত আমেরিকার ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস পরে দাবি করে এই কথা ট্রাম্প ‘কৌতুক’ করে বলছেন।

জবাবে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন, তাঁদের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা নামলে তাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ অর্থ দেওয়া হবে।

হাতামি বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের আঘাত করার সব পথ খোলা রয়েছে।’

সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ভিন্ন দাবি করেছেন। রেজাইয়ের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল অভিযানের কথা ভাবছিল। অপরিপক্ব পরিকল্পনার কারণে তারা পিছিয়ে গেছে।

রেজাই জানান, জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের উত্তেজনার সময় মার্কিন বাহিনী তেহরান বা উত্তরাঞ্চলে হামলা করেনি। ১৫টি প্রদেশের প্রায় ৫০টি শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। দক্ষিণ ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। সড়ক, সেতু, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, রাডার ও উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

রেজাইয়ের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দখল এবং ইসফাহানের পরমাণু কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থল হামলার পথ তৈরিই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

রেজাই বলেন, ‘হরমুজে সেনা নামাতে অন্তত এক লাখ সৈন্যের প্রয়োজন। চল্লিশ বা পঞ্চাশ হাজার সৈন্য দিয়ে সম্ভব নয়। জাগ্রোস পর্বতমালা ও ফার্স প্রদেশ পার হওয়া সহজ নয়।’

ইরানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল ও দ্বীপগুলো রক্ষায় বড় প্রস্তুতি নিয়েছে। খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। হরমুজের চারপাশে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বিশেষ সেনা পাঠানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ-রেজা আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমাদের মাটিতে বিদেশি সেনাদের নামতে দেওয়া হবে না। মার্কিন বাহিনী আমাদের কোনো দ্বীপে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে আঘাত করা হবে।’

অন্যদিকে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা সশস্ত্র দলগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আইআরজিসি।

সোমবার আইআরজিসির রাজনৈতিক প্রধান জাভানি জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতার শর্ত যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মানে তবেই কেবল হরমুজ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমঝোতা চুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে যুদ্ধের জন্য বড় সংকট মনে করছে না তেহরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, কোনো হুমকি বা আল্টিমেটামে ইরান নীতি পরিবর্তন করে না। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার হিসাব মাথায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং কিছু পক্ষের বাধা সৃষ্টির কারণে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এক নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রণালিকে সরাসরি ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপের পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, এলাকাটিকে ইরানি সামুদ্রিক মাইন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে আপাতত কোনো ধরনের আলোচনার পরিকল্পনা বা দিনক্ষণ নির্ধারিত নেই।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মানচিত্র প্রকাশের পেছনে ট্রাম্পের আগের কিছু মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল। এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি বা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে এনেছিলেন।

নিউইয়র্কের গভর্নর ও কংগ্রেস নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণাকালে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘোষণা দেন, ইরানকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এর পরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‌‘নিজস্ব ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

আমেরিকান জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প তার এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পক্ষে চরম অনড় মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। নিউইয়র্কের ওই একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

আর এই বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির স্বার্থে যদি মার্কিন জনগণকে পেট্রল বা জ্বালানির জন্য কিছুটা অতিরিক্ত অর্থ গুনতেও হয়, তবে তা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত।

ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন যে, এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি কখনো কারও কাছে ক্ষমা চাইবেন না, কারণ তিনি যা করেছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই একেবারে সঠিক পদক্ষেপ ছিল।

ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যানের পর কায়রোতে হামাসের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যানের পর কায়রোতে হামাসের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোয় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত মাসে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ জানায়, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে। পরিকল্পনাটিতে ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে প্রত্যাহার এবং নতুন একটি বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে গাজা পুনর্গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

রোববার আটটি মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছে।

এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মিসরে হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার। এরপর এক বিবৃতিতে হামাসের মধ্যস্থতাকারী বোর্ড অব পিসের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন ইসরায়েলকে পরবর্তী পদক্ষেপের রোডম্যাপ অনুমোদনে ‘বাধ্য’ করে।

তবে নেতানিয়াহুর সামনে রয়েছে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে তাকে। তার জোটে এমন কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন, যারা গাজা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে।

অন্যদিকে, হামাস সত্যিই নিরস্ত্র হতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়েও অনেক ইসরায়েলি সন্দিহান।

গত বছর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হামাসের নেতা হাইয়ার সঙ্গে কুশনারের বৈঠকটি এই পর্যায়ের প্রথম বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।

বোর্ড অব পিসের দূত নিকোলায় ম্লাদেনভ ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও বৈঠকে ছিলেন বলে জানা গেছে। মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। দেশ তিনটি শান্তি প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

বৈঠক নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বৈঠকে হামাসের অস্ত্রসম্ভার নিষ্ক্রিয় করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিসরে অবস্থানকালে কুশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্লাদেনভ ও ব্লেয়ারও সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়াই তাদের বৈঠকের লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের আগে হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে।

গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল বোর্ড অব পিসের গাজার জন্য ১৫ দফা নথি প্রত্যাখ্যান করছে। হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।

এ অবস্থানের মাধ্যমে ইসরায়েল তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেরও বিরোধিতা করছে।

এদিকে, গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য নেতানিয়াহু নিজ সরকারের ভেতর থেকেও চাপের মুখে রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ট্রাম্পের খসড়া পরিকল্পনাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে বেন-গভিরের একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ১৫ আগস্ট প্রচারিত হয়। সেখানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কমানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার মতপার্থক্য রয়েছে, এটা কোনো গোপন বিষয় নয়।’ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেন-গভির আরও বলেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড’ চালানো উচিত এবং ‘প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা’ করা উচিত। তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করে এমন ব্যক্তিদের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সেখানে এমন লোকও আছে যারা ‘বেঁচে থাকার যোগ্য নয়’। তারা ‘মানুষও নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও টাইমস অব ইসরায়েলও তার এসব মন্তব্যের খবর প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েল ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার পর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাময়িক বিরতি দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এই বিরতি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে পরে আবারও হামলা শুরু হয়েছে।

রোববার মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের এই প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

গত বছরের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। তবে এরপরও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে। ইউনিসেফের হিসাবে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩০০ শিশু রয়েছে।

১৫ দফা পরিকল্পনা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করার পরও হামলায় কিছুটা বিরতি দেখা গিয়েছিল। তবে পরে ইসরায়েলি হামলা আবার শুরু হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রোববার জানিয়েছে, তারা খান ইউনিস ও নুসেইরাতে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, খান ইউনিসের একটি তাঁবু শিবিরে বসবাসকারী কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরপর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২১ হাজার ২৮০ শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকেও নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

জাতিসংঘের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গাজায় প্রতিদিন ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি বলেছেন, হামলা শুধু তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত একটি পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যটি পরে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বেন-গভির বলেন, গাজার মানুষদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাদের বেঁচে থাকাই উচিত নয়। এমনকি তাদের মানুষও মনে করা উচিত নয়।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ নিয়ে বেন-গভিরের এমন বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চলে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় গাজায় সামরিক হামলা কমানোর সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছেন বেন-গভির। তার মতে, ইসরায়েলের উচিত আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড শুরু করা এবং হামলা শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা।

তবে বেন-গভিরের হাতে সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি অবশ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য। এই মন্ত্রিসভাই দেশটির যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।

আলাপচারিতায় সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজে নিজে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য তিনি নিজ হাতে কাজটি করতে চান।

জবাবে বেন-গভির তাকে এ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার বিষয়েও সমর্থন জানান। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেন। তিনি গাজাকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে দেখেন বলেও মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, কোনো ভূখণ্ড থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোর করে বা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া জাতিগত নির্মূলের আওতায় পড়তে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য বেন-গভির আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত। ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ইসরায়েলি কারাগারে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠোর করার কথা বলার কারণেও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন।

তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ তার অবস্থান বা কর্মকাণ্ডে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলই প্রধান বাধা: সৌদি, কাতারসহ ৮ দেশের যৌথ বিবৃতি

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ।

গতকাল রবিবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

এতে বলা হয়, “ইসরায়েলের এই অবস্থান শান্তি পরিকল্পনায় সরাসরি অস্বীকৃতি জানানোর সমতুল্য। এতে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নস্যাৎ হচ্ছে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গোড়া থেকেই ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

“এই ধরনের প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হল যে, গাজা এবং বাদবাকী অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে শান্তি আনার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার জন্য এখন ইসরায়েলই দায়ী।”

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর ১৫ দফা পরিকল্পনা গত সপ্তাহেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস পুরোপুরি অস্ত্রসমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত বছর ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই এ পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছিল, যার সূচনা হয়েছিল যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে। এই শান্তি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে।

বিবৃতিতে ৮ মুসলিম দেশ বলেছে, “এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার মানে হল, শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি। তাছাড়া, এটি গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং স্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরিতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা বিপথগামী করার সরাসরি হুমকিস্বরূপও।"

দেশগুলোর মন্ত্রীরা শান্তি পরিকল্পনা এবং এর রোডম্যাপ অনুযায়ী ইসরায়েল যেন সব প্রতিশ্রুতি ও শর্ত মেনে চলে এবং আর কোনও বাধা সৃষ্টি করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই ও সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

শান্তি পরিকল্পনা অনবরত প্রত্যাখ্যান, বাধা দেওয়া, মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা বিলম্ব করা, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি অবনতি এবং গাজা যুদ্ধ অবসানে বিঘ্নসহ যে কোনও পরিণতির জন্য ইসরায়েল সরাসরি ও পরিপূর্ণভাবে দায়ী থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।