গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফার পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে কোনো সেনা সরাবে না ইসরায়েল।
রোববার (৯ আগস্ট) এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু জানান যে ইসরায়েল এই ১৫ দফার নথি প্রত্যাখ্যান করছে এবং তাদের বাহিনী গাজায় যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করা অব্যাহত রাখবে। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কথা স্বীকার করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু বিষয় মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। তবে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তারা পূর্বের এই পরিকল্পনা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাতে না যায়, সে বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টর দেশগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এর আগে গত জুনে হামাস ট্রাম্পের এই ১৫ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পর ৩০ জুলাই ট্রাম্প এই চুক্তিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করেন। বোর্ড অব পিসের আওতায় হওয়া এই পরিকল্পনায় গাজার প্রশাসনকে একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ফিলিস্তিনি কমিটির হাতে হস্তান্তরের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
রোববারের বৈঠকে নেতানিয়াহু দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন, তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন সময়ে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে দেওয়া হবে না। তিনি কেবল ভারী অস্ত্র নয়, বরং হালকা অস্ত্রসহ হামাসের সর্বাত্মক ও প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ দাবি করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক প্যাটি কালহেন জানান, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অন্যদিকে গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রতিবেদক হাওয়া ও ওদে জানান যে নেতানিয়াহুর এই অবস্থানে সেখানে শান্তি ও গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত অক্টোবরের পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৮৬ জনে।