১০ আগস্ট ২০২৬

সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের পরিবারের সম্মতি অনুসারে মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোরের নলডাঙ্গার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।

গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। তারা সবাই ওই কারখানায় কাজ করতেন।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবরে আত্রাই ও নলডাঙ্গা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ সরকারের!

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের পরিবারের সম্মতি অনুসারে মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোরের নলডাঙ্গার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।

গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। তারা সবাই ওই কারখানায় কাজ করতেন।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবরে আত্রাই ও নলডাঙ্গা উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারা পরিবারগুলোর আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামে আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: হেফাজতের ৯ দফা দাবি উত্থাপন

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
চট্টগ্রামে আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: হেফাজতের ৯ দফা দাবি উত্থাপন

চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঐতিহাসিক হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিয়ারতে অংশ নেন।

এর আগে বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

হাটহাজারী মাদ্রাসায় জিয়ারত ও প্রবীণ আলেমদের সাথে কুশল বিনিময়

রোববার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সড়কপথে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি মরহুম শাহ আহমেদ শফীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

কবর জিয়ারত শেষে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলীল আহমেদ কাসেমী প্রধানমন্ত্রীকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও আলেমদের সাথে মতবিনিময় ও কুশল বিনিময় করেন।

(উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমেদ শফী ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।)

বাবুনগরী মাদ্রাসায় হেফাজত আমিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

হাটহাজারী যাওয়ার আগে বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত 'আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা'য় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ এই ইসলামী পণ্ডিতের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময় করেন। এ সময় মাদ্রাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোবারকবাদ জানালে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের কাছে গিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ কুশল বিনিময় করেন।

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত নয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো—
১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং ভারতের মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা ও টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল

  • জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম

  • অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন

  • স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন

  • সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান

  • কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী

  • মাওলানা মহিউদ্দিন।

  • কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর এই চট্টগ্রাম সফর এবং দেশের শীর্ষ আলেম সমাজের সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আলী আকবর ওরফে কাইল্লা (৭৫) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই রায় পেয়ে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগীর পরিবার।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম ফারাজ।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভিকতলা মিজি বাড়ি এলাকায় সাত বছরের ওই শিশু গোসল করতে যায়। এ সময় আলী আকবর তাকে নিজের ঘরের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত আলী আকবরকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর শিশুটিকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা নুরুন নাহার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় আলী আকবর ওরফে কাইল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার আদালত আসামি আলী আকবরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।

শিশুটির মা নুরুন নাহার বলেন, ‘দ্রুত মামলার রায় হয়েছে। এসব ঘটনায় যদি দ্রুত রায় পায় অপরাধীরা তাহলে আর কেউ এগুলো করতে সাহস করবে না।’

জনশক্তি রপ্তানিতে বোয়েসেলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
জনশক্তি রপ্তানিতে বোয়েসেলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড!

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ১৯ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কর্মী প্রেরণ এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ১৩১ জন বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

বোয়েসেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৬ হাজার ৬৬ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করেন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ১৯৭ জনে পৌঁছেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৫৪৩ জন কর্মী জর্ডানে গেছেন। এছাড়া ব্রুনাইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন, রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন, হংকংয়ে ৪ জন, কুয়েতে ৫ জন এবং ফিজিতে ৫ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ‘গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে বোয়েসেলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া।’

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় জনশক্তি রফতানির বাজার একটি মাত্র সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্রের দখলে ছিল। ফলে স্বল্প খরচে বিদেশে যেতে আগ্রহী সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর সেই সুযোগ আবার ফিরে এসেছে। শুধু ফিরে আসেনি, যেসব বাজারে সিন্ডিকেট ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে বোয়েসেল সফল হয়েছে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের তৎপরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি শ্রমবাজার বোয়েসেলের উদ্যোগে আবার উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, বোয়েসেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি করে। বিশ্বাস ও আস্থার এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে বোয়েসেল একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারবে।

সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বোয়েসেলের মাধ্যমে ঠিক কতজন কর্মী বিদেশে যেতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে অতীতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বোয়েসেলের মাধ্যমে গেছেন।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে মুক্ত করে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়াতে চায়, তাহলে বোয়েসেলকে কার্যকর করার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যত ভালোভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারব, ততই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন শ্রমবাজারও চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিদ্যমান, বন্ধ এবং সম্ভাবনাময়— এই তিনটি শ্রেণিতে বাজারগুলোকে ভাগ করে কোথায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি রফতানির নতুন সম্ভাবনা তৈরির ওপর।

জানতে চাইলে বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. শওকত আলী বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোয়েসেল।

বোয়েসেলের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্য পূরণ হলে বোয়েসেল গত অর্থবছরের রেকর্ড ভেঙে দ্বিগণের বেশি জনশক্তি রফতানি করে অনন্য রেকর্ড করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ বলেন, গত জুলাই মাসে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন করে বাজার বর্ধিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় বাজার বর্ধিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট। এ জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত এ জোটের নেতৃত্বে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বহুজাতিক এ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জোট গঠনের এক সপ্তাহ পর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এ জোটের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আল-শেহরি যৌথ নৌ-প্রতিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করবেন, সদস্য দেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে, আবার কেউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার আগে ঘোষণাপত্র ও সনদে সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সৌদি এ মন্ত্রণালয় জোটটিকে ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যেসব দেশ এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।

আল জাজিরা বলছে, আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা হবে। সেখানে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। আরও দেশকে এতে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হবে।

জোট গঠনকারী ১৪ দেশ জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষিত রাখাই এ জোটের মূল লক্ষ্য। ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এ সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।