৮ আগস্ট ২০২৬

ভিআইপি-সাধারণ সবাই সমান! বিমানবন্দরে ফিরছে কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
ভিআইপি-সাধারণ সবাই সমান! বিমানবন্দরে ফিরছে কড়া নিরাপত্তা

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিআইপি ও সিআইপিসহ সব শ্রেণির যাত্রীর জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’র প্রথম সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

সভায় মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী সবাই সমান। তাই বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে প্রবাসী যাত্রীদের সুবিধা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কমিটির সহসভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধে ‘এন্টি ড্রোন সিস্টেম’ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্ক্যানার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তাকে বিশ্বমানের করতে এবং নানা রকম ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম ও অবৈধ লাগেজ র‍্যাপিং বন্ধ করতে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি

আগামী ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে সরকার। উদ্বোধনের দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচির সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম শুরু হবে। তবে একযোগে সারা দেশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকাভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।

এটি একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা, যেখানে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করা হবে না। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে পৃথক তদারকি ব্যবস্থা থাকবে।

পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন।

বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, গঠিত হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, গঠিত হচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুনভাবে গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া জনসাধারণের মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া আইনে র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে বাহিনীটির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি গঠনের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জনমত গ্রহণের পর খসড়াটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান বহাল থাকবে।

ড. ইউনূসের চেয়ে হাজারগুণ ভালো দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী
খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যে কোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে সদস্য নিয়ে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাহিনীটির জন্য সরকার নির্ধারিত পৃথক লোগো, পতাকা ও নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে বলেও খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিআইপি-সাধারণ সবাই সমান! বিমানবন্দরে ফিরছে কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
ভিআইপি-সাধারণ সবাই সমান! বিমানবন্দরে ফিরছে কড়া নিরাপত্তা

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিআইপি ও সিআইপিসহ সব শ্রেণির যাত্রীর জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’র প্রথম সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

সভায় মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী সবাই সমান। তাই বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে প্রবাসী যাত্রীদের সুবিধা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কমিটির সহসভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধে ‘এন্টি ড্রোন সিস্টেম’ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্ক্যানার ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তাকে বিশ্বমানের করতে এবং নানা রকম ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম ও অবৈধ লাগেজ র‍্যাপিং বন্ধ করতে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিরাট সুখবর, আকামা নবায়নে দূর হলো বাধা!

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিরাট সুখবর, আকামা নবায়নে দূর হলো বাধা!
সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সাথে প্রবাসী মন্ত্রী আরিফুল হকের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ছবি- সংগৃহীত

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সাথে প্রবাসী মন্ত্রী আরিফুল হকের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি, ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। বৈঠকে প্রবাসী প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ সুখবর জানিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে, দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন এবং এতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।’

আরও পড়ুন: বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্কবার্তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের

বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সৌদি আরব
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- তিনটি গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব।

একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান এবং গমনাপূর্ব ওরিয়েন্টেশন প্রদানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি এবং হসপিটালিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ, উচ্চ-দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের নিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব করা হয়। একই সাথে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট (ওয়ার্ক ভিসা) ও আকামা ইস্যু ও নবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয় এবং ওয়ার্ক পারমিটের বর্ধিত ফি-র দোহাই দিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব ঘটাচ্ছে, তা সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতা আবেদন করা হয়।

এসময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের সার্বিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ পারদর্শী; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশেষভাবে আহবান জানান।

বৈঠকে প্রবাসী প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠাতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্ধিত কর্মী চাহিদায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে গমনকারী নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

আরও পড়ুন: কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষ্যে সৌদি আরবের জেলে আটক থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের প্রস্তাবনার জবাবে সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হলে তাদের ক্ষমার বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকার গুরুত্বের সাথে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্কবার্তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্কবার্তা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের


বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং কর্মরত দেশের আইন-কানুন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান ও স্থানীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

করণীয়

কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।

পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।

চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হবে। কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে

বর্জনীয়

সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য কিংবা প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে কর্মরত দেশের আইন লঙ্ঘন করতে পারে-এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার করা যাবে না।

কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া যাবে না।

যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) দেওয়া যাবে না।

কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ কিংবা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।

ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে-এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন কিংবা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়ানো যাবে না।

কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে না।