৮ আগস্ট ২০২৬

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান

জুলাই গণ-আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি জাতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রেমিটেন্স যোদ্ধা, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শহীদদের রুহের মাগফেরাত, আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের আরোগ্য এবং বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরকার প্রযোজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বক্তারা শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে মানবতার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রদূত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখায় কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো অব্যাহত রাখতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি ন্যায়বিচার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সব বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানান।

আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দেশে ফিরলেন আরও ৩৪০ লিবিয়া প্রবাসী

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশে ফিরলেন আরও ৩৪০ লিবিয়া প্রবাসী

লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট লিবিয়া সরকারের ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয় করেন।

আরও পড়ুন<<>> ছাত্রী হলে গোপনে ছবি তুলে প্রবাসীকে পাঠানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। এ সময় তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী অনেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), প্রথম সচিব (শ্রম)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন<<>> সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

মানবিক কারণে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।

ছাত্রী হলে গোপনে ছবি তুলে প্রবাসীকে পাঠানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছাত্রী হলে গোপনে ছবি তুলে প্রবাসীকে পাঠানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রীদের আবাসিক ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গোপনে সহপাঠী ও হলের অন্যান্য ছাত্রীদের আপত্তিকর ও অশালীন ছবি তুলে লন্ডন প্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তত ১০ জন ছাত্রীর এমন ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি সামনে আসে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একই হলের আবাসিক ছাত্রী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযোগ ওঠা ঐ ছাত্রীর সঙ্গে একাধিক ছেলের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে আবিদ নামে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে সে নিয়মিত হলের মেয়েদের গোপন ছবি পাঠাতো। এমনকি বোরকা-নিকাব পরিহিত ও পর্দানশীল ছাত্রীরও বিভিন্ন সময়ের ছবি তুলে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই প্রবাসী যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্রতিশোধ নিতে আবিদ তার কাছে থাকা ছবিগুলো বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করে। এতে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত ছবি তার কাছে পৌঁছেছে। একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাদের ঘুমন্ত অবস্থায়, ব্যক্তিগত মুহূর্তে কিংবা স্বাভাবিক পোশাকে থাকা অবস্থায় গোপনে ছবি তোলা হয়েছে, যা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের ভেতরে আমরা নিজেদের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি। এখানে বাইরের কারো প্রবেশাধিকার নেই। সেই জায়গায় গোপনে ছবি তুলে বাইরে পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিজের রুম আমাদের নিরাপদ জায়গা। সেখানে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ থাকব?’

ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ বিষয়ে শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।’

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান

জুলাই গণ-আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি জাতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রেমিটেন্স যোদ্ধা, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শহীদদের রুহের মাগফেরাত, আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের আরোগ্য এবং বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সরকার প্রযোজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বক্তারা শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে মানবতার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রদূত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখায় কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো অব্যাহত রাখতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি ন্যায়বিচার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সব বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানান।

আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দেশে না থেকেও ঝটিকা মিছিলে আসামি কাতার ও সৌদির প্রবাসীরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০২৬
দেশে না থেকেও ঝটিকা মিছিলে আসামি কাতার ও সৌদির প্রবাসীরা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে হওয়া একটি ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত তিন প্রবাসীকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিনজন বিদেশে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি; তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

রোববার দেবিদ্বার থানার এসআই অপু বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা চলে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলে ১০-১২ জনের বেশি দেখা যায় না। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি মামলার তিন আসামির বিদেশে অবস্থান করার তথ্যও সামনে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৬ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর আসামি পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাওন রয়েছেন সৌদি আরবে।

সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জানান, তাঁর ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরবে যান। দেশে না থেকেও মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে।

কাতার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ইকবাল হোসেন রুবেল দাবি করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে এবং আরও দুই প্রবাসীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ যে ভিডিওর ভিত্তিতে আসামি শনাক্তের কথা বলছে, সেখানে তাঁরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদিকে, শাওনের মা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, তাঁর ছেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে গেছেন। বিদেশে অবস্থানরত ছেলেকে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আসামি করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আবু তাহের মামলার ৮ নম্বর আসামি এবং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাঁর পরিবারের দাবি, ভিডিওতে তাঁকে দেখা না গেলেও পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা করতে হয়েছে। তাই আসামিদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ
প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বা প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে জুলাই মাসে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের প্রথম পাঁচ দিনে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ২১ দিনে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, ২৭ দিনে তা বেড়ে হয় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং মাস শেষে তা পৌঁছে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

তবে জুলাই মাসে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।

এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।