১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত্যুর ১১ মাস পর অবশেষে দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
মৃত্যুর ১১ মাস পর অবশেষে দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ

কম্বোডিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ প্রায় ১১ মাস পর দেশে ফিরেছে। আর্থিক অনটনে দীর্ঘদিন মরদেহ আনতে না পারা পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসে উইটনেস ফাউন্ডেশন। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অবশেষে দেশে ফেরানো হয় মরদেহ।

মৃত্যুর এগারো মাস পর দেশে আনা হলো কম্বোডিয়ায় মারা যাওয়া বাংলাদেশি প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ। আর্থিক অনটনে মরদেহ আনতে পারছিল না তার পরিবারের সদস্যরা। সহায়তায় এগিয়ে আসে বেসরকারি সংগঠন উইটনেস ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে রোববার বাংলাদেশে পৌঁছায় মিন্টু মিয়ার মরদেহ।

প্রবাস জীবন মানেই পরিবারের জন্য স্বপ্ন বোনা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই অনেকের জীবন থেমে যায় ভিনদেশের মাটিতে। দুই বছরের মাথায় কম্বোডিয়ায় প্রবাস জীবন থমকে যায় মিন্টু মিয়ার। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মিন্টু মিয়ার স্ত্রী জানান, সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। সহযোগিতা নেন বেসরকারি সংগঠন উইটনেস ফাউন্ডেশনের। এক বছরের অপেক্ষা ও চেষ্টার পর বোরবারে দেশে আনা হয় মিন্টু মিয়ার মরদেহ।

প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দীর্ঘসূত্রিতা, আবারো সামনে নিয়ে এলো মিন্টু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের দুঃসহ অপেক্ষা ও মরদেহ ফিরিয়ে আনার ঘটনায়।

প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসা থেকে কবীর হোসেন (২৫) নামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন প্রবাসী উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে।

উজ্জল হোসেন ওমানে থাকেন। প্রায় দুই বছর ধরে শিরিন আক্তারের ছেলেকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন কবীর হোসেন।

গত বৃহস্পতিবার শিরিন আক্তার ময়মনসিংহ শহরে তাঁর বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার সময় কবীর হোসেনকে বাসায় থাকার জন্য চাবি দিয়ে যান।

এরপর শুক্রবার কোনো এক সময় বাসার ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।


তবে নিহতের মা জোসনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ছেলে বাড়িতে গেলে উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ফোন করে তাঁকে বাসায় ডেকে নিতেন। তাঁর দাবি, শিরিনা আক্তারের কারণেই তাঁর ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার আজাদ

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফুলবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং সেখানেই প্রবাসীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

লিবিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ মাস পর সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক প্রবাসী যুবকের মরদেহ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। নিহত তরিকুল ইসলাম ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে।

​নিহতের স্বজনরা জানান, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ও জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তরিকুল। প্রবাসে অবস্থানকালে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হঠাৎই তার করুণ মৃত্যু হয়।

তবে মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পথটি মসৃণ ছিল না। নানা কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা পার করতে করতেই পার হয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি মাস।

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

অবশেষে শনিবার দুপুরে বিমানযোগে কফিনবন্দি হয়ে তরিকুলের মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিজ গ্রামে আনা হয় তার কফিন।

দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর তরিকুলের কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের কফিন জড়িয়ে ধরে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রবাসীরা চাইলে বাড়ি পাহারায় মিলবে আনসার

শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

মৃত্যুর ১১ মাস পর অবশেষে দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও  প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

নারী কন্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব, এরপর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চলতো নানা ধরনের কথোপকথন। এক পর্যায়ে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। সংবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘ দিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবে প্রতারণা করে আসছিল। ওই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া ভাঙাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জব্দ করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ বলছে, লালপুরের প্রতারক চক্র ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া (ভাঙাপাড়া) গ্রামের সাজদার প্রামাণিকের ছেলে কাউসার আলী (২০), একই গ্রামের মিজানুর রহমান বিশুর ছেলে সোহাগ আলী (২৩) ও টুটুল প্রামাণিকের ছেলে ইমন আলীকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে প্রতারণা করা হতো

প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ নিতেন। এক পর্যায়ে স্বজন সেজে প্রবাসীর পিতা মাতা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ফোনে টাকা দাবি করতেন আকামার (ভিসা) মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

চক্রটি কখনও কখনও বিদেশের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির মতো গুরুতর খবর দিতো পরিবারের কাছে। আবার বিদেশি পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে এমন খবরও দেওয়া হতো। চিকিৎসা বা সমস্যা সমাধানে চাওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো বলছে, শুধু ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার হ্যাকিংই নয়, ব্যাংক রসিদ জালিয়াতি করেও টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি। এ ছাড়া নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। সম্মানের ভয়ে প্রবাসীরাও টাকা দিয়ে দিতেন।

তারা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ইমো হ্যাকিং চক্র এখন জেলা বিভিন্ন এলাকায় বিস্তার লাভ করেছে। এ পর্যন্ত বহু প্রবাসী এই প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন এসব চক্রকে নির্মূল করতে পারেনি। এ ধরনের প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে তারা প্রশাসনের জোর তৎপরতা দাবি করেন।

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মো. আল আমিন (৩০) নামে এক যুবককে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব ১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় জনি নামে এক আসামি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে বাইরে থাকা আল আমিন তাকে গলা ধরে আবার বাথরুমে নিয়ে যায়। এ সময় জনি ওই নারীর ভিডিও ধারণ করে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর আসামিরা সেটি অন্যত্র স্থানান্তর করে এবং ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। তারা তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও চাপ দেয়। গত ২ আগস্ট মামলার অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইলে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

র‌্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১৩ এর সদর কোম্পানি ও র‌্যাব ১ এর সিপিএসসি গাজীপুরের যৌথ অভিযানে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামালার আরও ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানায় র‌্যাব।

চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।পরে অভিযুক্ত নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আকবরশাহ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার (৩৯) এবং নুরুন্নবী মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। আর কাজী পারভীন আক্তার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী জহির শাহ সৌদি আরবপ্রবাসী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে পারভীনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে পারভীনের সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও পারভীনকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে, পারভীন তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।News

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন, জহির শাহের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি পারভীনকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন পারভীনকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আটক হন। পরে জানা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রবাসী জহির একই এলাকার এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।

ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।