১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।পরে অভিযুক্ত নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আকবরশাহ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার (৩৯) এবং নুরুন্নবী মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। আর কাজী পারভীন আক্তার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী জহির শাহ সৌদি আরবপ্রবাসী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে পারভীনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে পারভীনের সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও পারভীনকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে, পারভীন তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।News

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন, জহির শাহের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি পারভীনকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন পারভীনকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আটক হন। পরে জানা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রবাসী জহির একই এলাকার এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।

ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরে চালক সেজে প্রবাসীদের ছিনতাই, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিমানবন্দরে চালক সেজে প্রবাসীদের ছিনতাই, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

সাজতেন গাড়িচালক। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের গাড়িতে তুলে সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করতেন। পরে তাদের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়া হতো। এমন একটি ছিনতাই চক্রের সদস্য আলামিন শেখকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে গোপালগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ।

গ্রেপ্তার আলামিন শেখ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামের মো. কালাম শেখের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আলামিন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি চাইজিন কুড়াল, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, বিভিন্ন মডেল ও ব্র্যান্ডের ১৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, তিনটি আইফোন, চারটি ট্যাব, সাতটি বাটন ফোন, ১০টি হাতঘড়ি, ১১টি মানিব্যাগ, ৭৭টি বিদেশি নোট এবং বাংলাদেশী এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার আলামিনের বিরুদ্ধে ছয়টি মাদক মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, তিনি একজন ছিনতাইকারী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রবাসীদের ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম ও আপস) মোঃ হাসানুর রহমান, ওসি ( ডিবি) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ সিরাজুল ইসলামস পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ফেরার পথে প্রবাসী যুবক নিহত

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ফেরার পথে প্রবাসী যুবক নিহত

বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে গিয়েছিলেন প্রবাসী হৃদয় হোসেন (২৭)। রাতভর ঘোরাঘুরি শেষে ভোরে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। সড়কের রেলিংয়ে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর বন্ধু ও মোটরসাইকেলের আরোহী সাজ্জাদ (২৪) আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের প্রয়াত সায়েদ মিয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় চার মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তাঁর সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আহত সাজ্জাদ সিরাজদিখানের উত্তর ঘোড়ামারা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম রবিউল আউয়াল।

আরও পড়ুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

প্রবাসীর ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে অনলাইন সত্যায়ন ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ ব্যবস্থা

ফায়ার সার্ভিস ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চারটি মোটরসাইকেলে করে হৃদয়সহ আট বন্ধু মাওয়া ঘুরতে যান। সেখানে রাতে ঘোরাঘুরি ও খাওয়াদাওয়া শেষে ভোরে তাঁরা কেরানীগঞ্জের দিকে ফিরছিলেন। কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে পৌঁছালে দ্রুতগতির কারণে হৃদয়ের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় হৃদয় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের রেলিংয়ে গিয়ে আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টা ২১ মিনিটে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার খবর আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে হৃদয়কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত সাজ্জাদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে নিহত হৃদয়ের মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।

হৃদয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বিবাহিত ছিলেন। তাঁর ২২ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়।

হৃদয়ের বোনের স্বামী শাহীন আলম বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর হৃদয় সংসারের হাল ধরে। মা, স্ত্রী ও সন্তানের সবকিছুর দেখভাল সে করত। কিছুদিন পর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। ঘুরতে গিয়ে যে আর ফিরবে না, কে জানত।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. জামাল মিয়া (৪০) নিহত হয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামাল মিয়া উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামের মো. ছিডু মিয়া বেপারীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক। তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে বায়েজিদের বয়স ৮ বছর, মেয়ে সিনথিয়ার ৩ বছর এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তারের বয়স ২ বছর।

স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান জামাল। সেখানে নিজ উদ্যোগে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ গড়ে তোলেন তিনি। দোকানে একজন কর্মচারী রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

বুধবার রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জামালের দোকানে হামলা চালিয়ে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় দোকানে থাকা এক কর্মচারীও গুলিবিদ্ধ হন। আহত ওই কর্মচারীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জামালের বাবা ছিডু মিয়া বেপারী বলেন, ‘আমার ছোট ছোট নাতিগুলো অল্প বয়সেই এতিম হয়ে গেল। ছেলের লাশটাও ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলাম না। বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্ট আর কী হতে পারে।’

তিনি দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে এনে নিজ গ্রামে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন মিয়া জানান, জামাল নিহত হওয়ার বিষয়টি মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তাৎক্ষণিক দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেছি। নিহত জামাল মিয়ার বৈধ কাগজপত্র পেলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সেটিও করা হবে।’

ওমানের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা রাজপরিবারের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ওমানের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা রাজপরিবারের

ওমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করেছেন দেশটির রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইয়্যিদ।

একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও ওমানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন তিনি।

ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ দেশটির উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরো প্রসারিত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং ওমানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকা যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফাথিয়া আহমেদ আল বালুশি এবং প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
তিন মাসে সৌদি আরবে ৩৪ বাংলাদেশী প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের লাখো মানুষের উপস্থিতি। জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের অনেকেরই কর্মস্থল নির্মাণশিল্প, কারখানা, পরিবহন, দোকান কিংবা কৃষিখাত। কিন্তু চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে ১২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৪ বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকাটি সরকারি কোনো পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর পরিসংখ্যান না হলেও সংবাদমাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে তৈরি একটি ন্যূনতম হিসাব। একই ঘটনার একাধিক প্রতিবেদন বাদ দিয়ে ঘটনাগুলো আলাদা করে হিসাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আগস্ট মাসে। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায়। আগুনে মারা যান ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিক। এর বাইরে সড়ক দুর্ঘটনা, নির্মাণকাজের দুর্ঘটনা এবং দুটি হত্যাকাণ্ডও রয়েছে।

তিন মাসের হিসাব বলছে কী?
মাসভিত্তিক হিসাব করলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট। তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসে ৩টি ঘটনায় অন্তত তিনজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসে পৃথক ৪টি ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে গণমাধ্যমগুলো। গেল আগস্ট মাসে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গণমাধ্যমগুলো বলছে, ৪টি ঘটনায় ১৯ জন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত ১টি ঘটনায় অন্তত ৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশীর প্রাণহানি ঘটে।

অর্থাৎ তিন মাসে মোট ১২টি ঘটনায় ৩৪ জন। মৃত্যুর ধরন বিশ্লেষণ করলে অন্তত ১৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, ১৮ জন কর্মস্থল বা কারখানা-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় এবং ২ জন হত্যাকাণ্ডে মারা গেছেন।

কর্মক্ষেত্রের মৃত্যুর বড় অংশই এসেছে একটি ঘটনা থেকে, রিয়াদের সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ড। সেখানে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন।

জুনেই শুরু, জুলাইয়ে বাড়ে প্রাণহানি
১৭ জুন আল-জউফে কৃষি খামারে কাজ শেষে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান ফরিদপুরের গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০)। এর মাত্র তিন দিন পর, ২০ জুন সৌদি আরবে একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মহিন উদ্দিন ভুঁইয়া।

২১ জুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী নাহিদ হাসান শান্ত।

জুলাইয়ে প্রাণহানির পরিমাণ আরও বাড়ে!
৪ জুলাই রিয়াদের অলাইয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা শ্যাফটে পড়ে মারা যান জয় আহমদ ও মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন। দুজনই একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মরদেহ ১৭ জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছায়। ১৩ জুলাই বাহদাহ এলাকায় ডিউটি শেষে ফেরার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান কুমিল্লার তোফায়েল হোসেন (৩২)।

১৫ জুলাই রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। ২৮ জুলাই তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর, ২৩ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে থাকা একটি পরিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। পেছন থেকে একটি ভারী যান তাদের গাড়িকে ধাক্কা দিলে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫) এবং তার দুই সন্তান তাসবিক ও জারা মারা যায়। আহত হন পরিবারের অন্য সদস্যরা।

আগস্টে এক ঘটনাতেই ১৬ মৃত্যু
আগস্টের ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ৯ আগস্টের অগ্নিকাণ্ড। রিয়াদের শিফা/মানফুয়া এলাকার একটি সোফা কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা বলা হয়েছিল।

এই ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত করতেও সময় লেগেছে। প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের মরদেহ ২৭ আগস্ট বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আত্রাইয়ের সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারার একজন ছিলেন।

বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশ্য সংবাদে বাকি সাতজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরানোর নির্ভরযোগ্য তারিখ পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও নজরে আসে, ঘটনার শুরুর দিকের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও জেলা পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পার্থক্য ছিল। পরবর্তী সরকারি/দূতাবাস-ভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে ১৬ জনের সংখ্যা নিশ্চিত হয়।

দুর্ঘটনার বাইরে দুই হত্যাকাণ্ড
এই সময়ের সব মৃত্যু যে দুর্ঘটনাজনিত, তা নয়। ৪ আগস্ট রিয়াদের হারা এলাকায় নিজ বাসায় গাজী জাকির হোসেনকে গলা কেটে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে থাকা অর্থ লুটের কথাও জানানো হয়। ঘটনার ২২ দিন পর, ২৭ আগস্ট তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।

আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে ৩০ আগস্ট তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায়। সেখানে এক সৌদি তরুণের গুলিতে নিহত হন কামরুল জামান। পরে ওই হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কামরুলের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

আগস্টের আরও দুটি সড়ক দুর্ঘটনা
১০ আগস্ট জিজানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ইলেকট্রিক বাইকে থাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাকির হোসেনকে পেছন থেকে একটি মালবাহী গাড়ি ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৫ আগস্ট মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চট্টগ্রামের রাউজানের নুরুল মোস্তফা রাফাত (২৮)। তিনি একটি গ্রোসারি দোকানে কাজ করতেন।

দেশে ফেরার পথেও মৃত্যু
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ঘটনাটি এই তালিকায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশী মারা যান। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে; অপর দুজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছিল।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, তারা সৌদি আরবে দীর্ঘদিন থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং বিমানবন্দরের পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।

মৃত্যুর পরও আরেক লড়াই: মরদেহ ফেরত
এই তিন মাসের ঘটনাগুলো শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই দেখায় না; মরদেহ দেশে ফেরানোর জটিলতাও সামনে আনে। কোনো কোনো মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরেছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। জাকির হোসেনের মরদেহ দেশে পৌঁছাতে ২২ দিন লেগেছে। সোফা কারখানার আগুনে নিহত ১৬ জনের ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্ত করতেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছে।

আবার জুন ও জুলাইয়ের কয়েকটি ঘটনায় প্রকাশ্য সংবাদে মরদেহ দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি।

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি, মৃত্যুর তারিখ এবং মরদেহ দেশে ফেরার তারিখ এক নয়। ফলে শুধু দেশে মরদেহ আসার খবর ধরে প্রবাসী মৃত্যুর সময়কাল হিসাব করলে প্রকৃত চিত্র বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যে প্রশ্নগুলো থেকে যায়
এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে হয়তো প্রতিটি ঘটনার আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ঘটনাগুলো পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? কর্মস্থলে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে? সড়কে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী প্রবাসীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আর বড় কোনো দুর্ঘটনার পর মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কোথায় কোথায় সময় লাগছে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই মৃত্যুগুলোর কতগুলো নিছক অনিবার্য দুর্ঘটনা, আর কতগুলো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এড়ানো সম্ভব ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা গোনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবহনব্যবস্থা, দুর্ঘটনার তদন্ত এবং দূতাবাসের সহায়তা ব্যবস্থার আরও গভীর অনুসন্ধান। কারণ ৩৪টি মৃত্যু শেষ পর্যন্ত শুধু ৩৪টি সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত জীবন এবং দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।