১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক ভিসায় ঘুরে দেখা যাবে কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতসহ ছয় দেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
এক ভিসায় ঘুরে দেখা যাবে কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতসহ ছয় দেশ

ইউরোপের যেমন ‘শেনজেন ভিসা’ আছে, যার মাধ্যমে একটি ভিসা দিয়েই একাধিক দেশে ঘুরে আসা যায়—ঠিক তেমনই এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ ঘুরে দেখার অসাধারণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত এই ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই।

৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে আয়োজিত এক সম্মেলনে জিসিসি মহাসচিব জানান, এই নতুন ব্যবস্থাটি চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ অনেক সহজ হবে। একটি মাত্র ভিসা হাতে থাকলে পর্যটকরা বিনা বাধায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—এই ছয়টি দেশে যেতে পারবেন।

ভিসার ফি, মেয়াদ বা চালুর একদম সঠিক তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এটি দ্রুত চালু করতে একযোগে কাজ করছে।

এই যুগান্তকারী উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে, যখন ছয় দেশের পর্যটন মন্ত্রীরা এক বৈঠকে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেন। পরের মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে চূড়ান্ত সায় দেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিশ্বের মানুষের কাছে একটি একক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

শুধু পর্যটকদের জন্যই নয়, নিজেদের দেশের নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন—আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে একটি নতুন বিমান ভ্রমণ সুবিধা চালু হয়েছে। সেখানে যাত্রীরা প্রথম বিমানবন্দরেই সব ধরনের ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশন শেষ করে ফেলেন। ফলে অন্য দেশে নেমে তাদের আর দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট চেক করানোর লাইনে দাঁড়াতে হয় না।

সব মিলিয়ে, মুক্ত বাণিজ্য ও সহজ যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে এক সুতোয় বাঁধার যে বড় পরিকল্পনা চলছে, এই সমন্বিত ভিসা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি চালু হলে বিশ্বজুড়ে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দুয়ার আরও সহজ ও সুন্দরভাবে খুলে যাবে।

আরও পড়ুন

পারিবারিক পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার শীর্ষে কাতার

মানব পাচার রুখতে ‘হিউম্যান ট্র্যাফিকিং’ চালু করেছে কাতার

গ্রীষ্মে কাতারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সমুদ্র ভ্রমণ ও ওয়াটার স্পোর্টস

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’: এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

দোহার ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ামে বিরল হজ-দলিলসহ ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী

৩ দেশে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
৩ দেশে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এ ঘোষণা দেন।

গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও যুক্তরাজ্যকে আর অংশ নিতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।

পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসরায়েলের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে এ পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান গিডিয়ন সার।

এর আগে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। ৩ দেশের নেতারা বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ উদ্যোগের পক্ষে তারা প্রচার চালাবেন।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তার মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এ লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট ও খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল
ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বছর থেকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে ছয়টি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এটি হবে বড় পরিবর্তন। গত ২৫ বছরে অঞ্চলটি থেকে সরে আসার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে বারবার সেখানে ফিরে এসেছে ওয়াশিংটন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরি, ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে। তবে ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে এসব ঘাঁটির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি কতটা রাখা হবে, তা নিয়ে কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়াই কিছু স্পর্শকাতর অভিযান পরিচালনার বিষয় রয়েছে।

কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভে নেওয়ার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু সামরিক স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জরুরি পদক্ষেপ নেয়নি।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে সংঘাত চলমান থাকায় বিমান হামলা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

৯/১১-এর পর বেড়েছিল উপস্থিতি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধ এবং পরে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য সেখানে বড় ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকে আগ্রাসনের সময় ২০০৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।

২০১১ সালে বারাক ওবামা আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে সেনা কমানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু ইরাকে আইএসের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা পাঠাতে হয়। এরপরও মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেছে।

পুনর্নির্মাণ নিয়েও অনিশ্চয়তা
ইরানের হামলায় বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা আর পুনর্নির্মাণ করা হবে না— এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। এর পেছনে বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব স্থাপনা কীভাবে বা আদৌ পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।

পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ শুরু হয়নি। কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কত দিনে শেষ হবে, তারও কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে তাদের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা কম।

স্বল্প মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সেনারা ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা ‘শিগগিরই’ ফিরছেন না।

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

তুরস্ককে ঘিরে শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে দখলদার ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টা আঙ্কারা নীরবে দেখবে না। তবে কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তুরস্কের শত্রুতা নেই বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হচ্ছে। ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে জানান এরদোগান।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে গাজা যুদ্ধ , অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এসব বিষয় প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে । তাই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

আই২৪নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তা সঠিক ছিল বলে অহংকার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে, সাহায্যের নামে গাজায় পাঠানো কোটি কোটি ডলার অন্যত্র ব্যববহৃত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

ওই সাক্ষাৎকারে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি এবং বোমা মেরেছি। গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ক্ষমতা নেই।

সাক্ষাৎকারে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তত্তবাধায়নে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে, নেতানিয়াহুর সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।

এদিকে, হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ গত বছর দোহা ফোরামে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ দিয়ে হামাসকে অর্থায়নের দাবি ভিত্তিহীন। কাতারের সব সহায়তা গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগেই, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। সে সময় হামাসের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন দোহায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ওই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানান।

পরে ইরান ও পাকিস্তানসহ অঞ্চলটির কয়েকটি দেশও ওই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দেশটিতে সফর করেছিলেন।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার অন্যান্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন।

ইরানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইরানে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু
ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেকিং ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ছবি: নিউজকর্ড

ইরানে জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকার বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ খবর জানিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার দেশটির পশ্চিমে হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় ট্যাংকারটি। এরপর ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানান্দাজের গভর্নরের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকার বহনকারী গাড়িটির ব্রেকিং ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

গভর্নর আরও বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা আর কোনো তথ্য দেননি।

ইরানে ট্যাংকার ও বাসের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। সড়কের বেহাল অবস্থা, পুরোনো যানবাহনের বহর এবং ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে দেশটিতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

২০১৮ সালে সানান্দাজের কাছে যাত্রী তুলতে থেমে থাকা একটি বাসকে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ধাক্কা দিলে অন্তত ১৩ জন নিহত হন।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বের গড়ের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি দেশটির নিম্নমানের সড়কব্যবস্থা ও দুর্বল ট্রাফিক আইন প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছে।

তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউনের ২০১৭ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ মানুষ আহত হন।